খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে পানিবন্দি স্বপ্ননগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৫০ পরিবার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ৬:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পানিবন্দি স্বপ্ননগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৫০ পরিবার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ‘স্বপ্ননগর আশ্রয়ণ প্রকল্প’ এলাকায় বসবাসরত অন্তত ২৫০ পরিবার প্লাবিত হয়েছে। গত একসপ্তাহ ধরে ওই এলাকার অধিকাংশ ঘর পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ঘর ছেড়ে কেউ রাস্তায় কেউ বা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে বসবাসরত সবচেয়ে বেশি সমস্যা পড়েছে বয়স্ক মানুষ ও গৃহপালিত পশুরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বপ্ননগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণ করা জায়গাটি গত ১৫ বছর পূর্বে মধুমতি নদীর পানি প্রবাহ ছিল। পরবর্তীতে সেখানে চর জেগে উঠেছে। জেগে ওঠা চরের মধ্যেই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৫০টি ঘর। তবে ঘর গুলো নির্মাণ করার পর থেকে এই বছরই এলাকাটি মধুমতির পানিতে প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত সরকারের আমলে ২০২০-২১ অর্থ বছরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩ একর জমির ওপর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চরকাতলাসুর গ্রামে নির্মাণ করা হয় টিনসেট ওয়াল বিশিষ্ট ২৫০টি ঘর। এর এই এলাকাটিকে জেলা প্রশাসন ওই সময় ‘স্বপ্ননগর’ আবাসন নামকরণ করা হয়। যাদের জমি নেই, ঘর নেই এমন অসহায় পরিবারগুলোর ঠাঁই মেলে আশ্রয়ণ প্রকল্পে। তবে সরকার ঘোষিত উপহারের এই ঘরগুলো নিচু জায়গায় স্থাপন করাতে সেখানকার বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরকাতলাসুর এলাকায় ‘স্বপ্ননগর’ আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রবেশপথে কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও তার চেয়ে বেশি। সারি সারিতে থাকা ঘরগুলির প্রতিটি গলিতেও পানি প্রায় হাঁটু সমান। বেশির ভাগ ঘরের মেঝেতে ঢুকে পড়েছে নোংরা পানি। পানিতে তলিয়ে গেছে রান্না করার চুলা। এছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে টয়লেটের রিং-স্লাব। এতে নোংরা পানির দুর্গন্ধে অসহনীয় হয়ে পড়েছে পরিবেশ। ছোট শিশুরা ঘর থেকে বের হতে পারছে না। সুপেয় পানির অভাব ও নোংরা-দুর্গন্ধযুক্ত পানির স্পর্শে বেড়েছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব। সেখানে বসবাসরত বাসিন্দারা দিন এনে দিন খায়। পশু পালন, ভ্যানচালানো, কৃষি কাজ, টেইলাসের কাজসহ নানান পেশায় জড়িত তারা। পানিবন্দী হওয়ার কারণে দিন এনে দিন খাওয়া বাসিন্দারা বেকার হয়ে পড়েছে। স্বপ্ননগরের বাসিন্দাদের ঘুম নেই, খাবার নেই, এর মধ্যে আবার সাপের প্রকাপ। প্লাবিত হওয়া ঘরগুলোতে বসবাসকারীদের ঘরে জ্বলছে না তিনবেলা চুলা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৪ নম্বর ঘরের বাসিন্দা জবেদা বেগম বলেন, ‘মধুমতি নদীতে সাতবার বাড়ি ভাঙছে। পরে সরকার এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকার জন্য একটা ঘর দিয়েছে। কিন্তু এখানে এসেও চরম বিপাকে পড়েছি। ঘরের মধ্যে পানি। রান্না ঘর তলিয়ে গেছে। ঠিকমতো রান্নাবান্না করতে পারছি না আমরা। রয়েছে আবার অর্থ সংকট। তিনবেলার রান্না করার জায়গায় এক বেলা করে কোন রকম বেঁচে থাকা লাগছে।

পরনের প্যান্ট থোড়া পর্যন্ত ঘুচানো ক্যামেরা হাতে এ প্রতিবেদককে দেখে বন্যার পানিতে প্লাবিত শাহা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা কাঠের তক্তার ওপর ভর করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তার কাছে পানি আসাতে কি সমস্যা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘরের ভিতর পানি বাবা, খাতি নতি পাইনে কি করবো?, গরু বাচুর বানতি পাইনে, কামাই না হলে কি খাব মনি কও’। এখন আমাদের খাটের উপর বসে থাকতে হচ্ছে।

স্বপ্ননগরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) বলেন, পানি হওয়াতে সব জায়গায় তলায় গেছে। ক্ষেত খামারী যা করছিলাম সব পানির নিচে। ‘দিন না খেয়েও যাচ্ছে, তিনবেলার জায়গায় এক বেলা খাচ্ছি, এখন ঘরে খাটের উপর বসে থাকা ছাড়া কোন উপায় নাই’। তবে এর ভিতর কেউ খোঁজ খবর সরকারি ভাবে কেউ নিচ্ছে না।

ভয়ে আতঙ্কিত থাকতে হয় উল্লেখ করে সেলিনা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি সাপ দেখতে পেয়ে ভয়ে সবাই আতঙ্কিত হয়ে যায়। সাপ, পোকামাকড়ের ভয়ে রাতে না ঘুমিয়েও চোকির উপর বসে থাকতে হয়।

শিখা বেগম নামে অপর নারী বলেন, ‘টয়লেটের ময়লার রিং পানিতে তলিয়ে গেছে। খুব অসুবিধা হচ্ছে। দুর্গন্ধে ঘরে থাকা যায় না। তাছাড়া রান্নার চুলা পানিতে তলিয়ে গেছে।

দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের শিক্ষার্থী মীম খানম ও ফাতেমা খানম। তারা দুইজন স্থানীয় চর কাতলাসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা জানায়, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে স্কুলে যাই। কোন সময় পানি দিয়ে যাওয়া আসার সময় পড়ে গিয়ে জামা-কাপড় ও বইখাতা ভিজে যায়। এদিকে শিখা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েডা সামনে এসএসসি পরীক্ষা দিবে। পানির বাড়ার কারণে পড়ালেখায় সমস্যা হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ প্রাইভেট পড়তে যেতে পারছে না।

কাঁধে পানি ভর্তি বোতল আর হাতে অপরটি বোতল পানি ভেজা অবস্থায় যাচ্ছিলেন টুকু রানী বিশ্বাস (৬১) নামে একজন নারী। টিউবয়েলও পানিতে তলিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘ঘরে পানি, বাইরে পানি, খাটের উপর থাকতে হচ্ছে। এমনকি টিউবয়েল তলায় গেছে। জল খেতে সমস্যা হচ্ছে। গোরস্থানের টিউবয়েল থেকে জল এনে খেতে হচ্ছে। ঘরের সামনে ময়লা নোংরা পানি। রাস্তায় পানি। ময়লা পানিতে হেঁটে সন্তানদের পায়ে ঘা হয়ে গেছে। অনেক দূর থেকে খাবার পানি আনতে হয়।’

চর কাতলাসুর গ্রামের বাসিন্দা ও আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকার মুদিদোকানী ফিরোজ মোল্যা জানান, গত ১০-১৫ বছরের মধ্যে এই এলাকায় এতো বন্যা হয়নি। আমার নিজের ঘরে খাটের উপরও পানি। বউ বাচ্চাদের বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। দোকানে তেমন বেঁচাকেনা নাই। আমার দোকানেও পানি উঠা উঠা ভাব।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল মোল্যা বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পে যারা বসবাস করেন তারা খুব দরিদ্র মানুষ। তারা দিন আনে দিন খায়। তারা সকালে কাজে বের হয়, আর সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। সারাদিন তারা বাইরে থাকেন। কিন্তু এখন তারা ঠিকমতো কাজকর্ম যেতে পারছে না’।

এ ব্যাপারে গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান খান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। দ্রুতই তালিকাটি শেষ করে উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। তবে সেখানে বসবাসকারীদের খোঁজ খবর রাখছি।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘স্বপ্ননগর আশ্রয়ণ প্রকল্পে জলাবদ্ধতার খবর পেয়েছি। মধুমতি নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে সেখানে হাটু সমান পানি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভুক্তভোগীদের তালিকা করছেন।

তিনি বলেন, স্বপ্ননগরের বাসিন্দা ও মধুমতি নদীর ভাঙনে কবলে পড়া বাসিন্দাদের জন্য ৪ মে. চাল ও নগদ দুই লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান পাওয়া গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ইনশাল্লাহ মঙ্গলবার থেকে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হবে সংশ্লিষ্ট এলাকায়।

ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার একটি গ্রামে গভীর রাতে গরু চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে গরুর ডাকেই। গোহালে ঢুকে শিকল কেটে গরু নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও গরুর অস্বাভাবিক ডাক ও শব্দে মালিকের ঘুম ভেঙে যায়।

পরে পরিবারের সদস্যদের ধাওয়ায় চোর গরু রেখেই পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের লাভলু শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সিসিটিভির ৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বড় আকারের লোহার কাটার দিয়ে গোহালের শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর গোহালের দরজার ছিটকিনি খুলতে গিয়ে বিকট শব্দ হয়। এতে গরুগুলো আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে এবং জোরে ডাকতে থাকে। একপর্যায়ে গরুর ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যায় বাড়ির মালিকের। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে চোর গরু ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গরুর মালিক লাভলু হোসেন জানান, বাড়ি ও গোহালজুড়ে নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। রাতের অন্ধকারে চোর তিনটি গরু চুরির উদ্দেশ্যে আসে। প্রথমে একটি সাদা রঙের ছোট বাছুরকে টেনে-হিঁচড়ে গোহাল থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাছুরটির চিৎকার ও অন্য গরুগুলোর ডাকাডাকিতে পরিবারের সদস্যরা জেগে ওঠেন। পরে সবাই ‘চোর-চোর’ বলে চিৎকার করলে চোরের দল বাছুরটি রেখেই পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। ফলে খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, রাতের টহল জোরদার এবং গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই গৃহপালিত পশুর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরছেন। স্থানীয়দের আশা, ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও সাপ্লায়ারকে ৪ পিস ইয়াবা সহ আটক করে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত অনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ ও জরিমানা প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ও জরিমানা কৃত নুর ইসলাম নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শ্রীরামদিয়া গ্রামের
আলামীন মাতুব্বরের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও ইয়াবা সাপ্লায়ারকে আটক করা হয়।

তল্লাশীকালে তার কাছ থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ এর ৫ ধারা মোতাবেক তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা বড়ি জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য ।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে অবৈধ ডিএনসির অভিযোগ

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে অবৈধ ডিএনসির অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের এক পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে সরকারি কক্ষে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ডিএনসি (ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ) করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ডিএনসির পর এক গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার নাম জাহানারা বেগম। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, রোগীর কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ কান্দী গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হিরামনি দুই মাসের গর্ভধারণজনিত শারীরিক জটিলতা নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে যান। সেখানে গর্ভপাতের উদ্দেশ্যে ডিএনসি করার জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে সরকারি কার্যালয়ের একটি কক্ষেই পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জাহানারা বেগম ডিএনসি করেন।

পরিবারের দাবি, ডিএনসির তিন দিন পর হিরামনির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পুনরায় জাহানারা বেগমের কাছে গেলে তিনি আবারও ডিএনসি করার কথা বলেন এবং এ জন্য আরও এক হাজার টাকা দাবি করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হিরামনিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গত বৃহস্পতিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় এ ধরনের সেবার জন্য রোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিধান নেই। এছাড়া একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ডিএনসি করার আইনগত বা প্রশাসনিক এখতিয়ারও নেই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী হিরামনি বলেন, “আমি অসুস্থ হওয়ার পর জাহানারা ম্যাডাম টাকা নিয়ে হাসপাতালের কক্ষেই আমার ডিএনসি করেন। পরে আবার অসুস্থ হলে তিনি বলেন, আবার ডিএনসি করতে হবে এবং টাকা নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হতে বলেন।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জাহানারা বেগম বলেন, “আমি হিরামনির কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। তিনি নিজের ইচ্ছায় অন্যত্র চলে গেছেন।”

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহাগ মিয়া বলেন, “ডিএনসির পর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হওয়া রোগী হিরামনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. ইব্রাহীম খলিল বলেন, একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ডিএনসি করার কোনো সুযোগ বা বিধান নেই। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।