ভাঙ্গায় মহাসড়কে ৫ জন নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত চালক আটক
ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন খানকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা বেগমকে।
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন—ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সঞ্জীপন গাইন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার জ্যোতিময় জ্যোতি এবং নুপুর পাল (ডিআরএস)।
এর আগে ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কনিকা মন্ডল (৩৬) নামে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত কনিকা মন্ডল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলে ও দেড় মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রসবব্যথা শুরু হলে গত ২৯ জুন কনিকা মন্ডলকে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক সংলগ্ন সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর কনিকার পেটে বড় একটি সার্জিক্যাল গজ (মব) রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই তাঁর পেট ফুলে যায়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো হলেও তাঁরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অন্যত্র চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ জুলাই কনিকা মন্ডলকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে সমরিতা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ঘিরে এখন নজর রয়েছে নিহত কনিকার পরিবারসহ স্থানীয়দের। তবে এ ঘটনায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় কার—তা প্রতিবেদনের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে এক দম্পতিকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী দম্পতির মেয়ে বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার গোপালপুর পূর্বপাড়া কাজীবাড়ি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন— গোপালপুর পূর্বপাড়া এলাকার এনামুল হক (৪৫) ও তার স্ত্রী সালমা বেগম (৪০)। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে এনামুল হকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্ত্রী সালমা বেগম আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হকের সঙ্গে তার ভাতিজা ওবায়দুল খান ওরফে হিরা (৪০)-সহ একই বংশের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এনামুল হক মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথা বলে তাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওবায়দুল খান হিরাসহ অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি দিয়ে এনামুলকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এনামুলের ডাক-চিৎকার শুনে তার স্ত্রী সালমা বেগম উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ওবায়দুল খান ওরফে হিরার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রাস্তার দুপাশে রোপণকৃত সরকারি গাছ উজাড়ের তাণ্ডব কোনোভাবেই থামছে না। অপরাধীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে স্থানীয় একটি সক্রিয় ‘গাছখেকো’ চক্র। সামাজিক বনায়নের সুরক্ষায় স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবকেই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন সচেতন মহল।
সম্প্রতি গাছের গোড়ায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক মূল্যবান গাছ। ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের পরিবেশবান্ধব সামাজিক বনায়ন উদ্যোগ এবং হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশের ভারসাম্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার লাঙ্গুলিয়া থেকে বড়ভাগ উত্তরপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মেহগনি গাছের গোড়ায় কিছুদিন আগে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ২০টি গাছের গোড়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৪টি গাছ সম্পূর্ণ কয়লা হয়ে যায়। এ ঘটনার তোলপাড়ের মধ্যেই লাঙ্গুলিয়ার মৃত রুস্তম মোল্যার বাড়ি থেকে বিদ্যাধর আলীম মোল্যার বাড়ি পর্যন্ত রোপণকৃত গাছের ওপর পুনরায় নজর পড়ে সেই চক্রের। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে রাতের আঁধারে বিদ্যাধর কালভার্ট সংলগ্ন একটি বড় আকৃতির আকাশমণি গাছ কেটে সাবাড় করে নিয়ে গেছে তারা।
ক্রমাগত সরকারি সম্পদ ধ্বংসের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। লাঙ্গুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা খিজির মোল্যা আক্ষেপ করে বলেন, “দুর্বৃত্তরা এখন কোনো ভীতি ছাড়াই নিয়মিত সরকারি গাছের ওপর তাণ্ডব চালাচ্ছে। কখনও গাছের গোড়া পুড়িয়ে মারছে, আবার কখনও গোড়াসুদ্ধ কেটে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। সব দেখেও আমরা অসহায়, গাছের সঙ্গে মানুষের এমন বর্বর শত্রুতা মেনে নেওয়া যায় না।”
আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সৈয়দ শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গাছখেকোদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠিন ও দৃশ্যমান আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে এ অঞ্চলের সরকারি বনায়ন ও বৃক্ষসম্পদের অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি—অনতিবিলম্বে এ চক্রকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বনায়নের গাছ ধ্বংসকারী চক্রকে চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যেই তারা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তদন্তে লাঙ্গুলিয়া-বিদ্যাধর এলাকায় গাছ কাটার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুজনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে বন বিভাগ।
অভিযুক্তরা হলেন—বিদ্যাধর গ্রামের হাসান গাজীর ছেলে মো. রিয়াজ গাজী (২৬) এবং একই এলাকার মৃত সৈয়দ ওমর আলীর ছেলে সৈয়দ বাবু আলী (৩২)।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন বলেন, “সরকারি সম্পদ বিনষ্টকারী ও সামাজিক বনায়ন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুজনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন রেঞ্জ অফিসে পাঠানো হবে এবং পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।”
আপনার মতামত লিখুন
Array