ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিক্ষোভ
দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসই অনেক সময় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা আমরা অনেকে খেয়ালই করি না। ঠিক তেমনই একটি সাধারণ অভ্যাস হলো, গোসলের পর ব্যবহৃত তোয়ালে বাথরুমের রডে ঝুলিয়ে রেখে দেওয়া। অধিকাংশ মানুষই মনে করেন, তোয়ালে শুকিয়ে গেলেই তা আবার ব্যবহারের জন্য নিরাপদ।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাথরুমের স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখা তোয়ালে অজান্তেই হয়ে উঠতে পারে জীবাণুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস থেকে ত্বকের নানা সমস্যা থেকে শুরু করে সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই তোয়ালে ব্যবহারের পর কীভাবে সংরক্ষণ করবেন, কতদিন পরপর ধুবেন— এসব বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
বাথরুমে তোয়ালে রাখলে ঝুঁকি কেন বাড়ে
বাথরুমের এমন অনেক জায়গা আছে, যেগুলো জীবাণুর জন্য আদর্শ পরিবেশ। টাওয়েল রডও তার মধ্যে একটি। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, কম আলো-বাতাস— এসব কারণে সেখানে সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে।
অনেকে মনে করেন, তোয়ালে থেকে দুর্গন্ধ বের হলে তবেই তা নোংরা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বোঁটকা গন্ধ না থাকলেও তোয়ালের ভেতরে ক্ষতিকর জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে। ভেজা তোয়ালে দীর্ঘ সময় বাথরুমে পড়ে থাকলে তাতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে সেই তোয়ালে ব্যবহার করলে জীবাণু ত্বকে পৌঁছে যেতে পারে।
কী ধরনের সমস্যা হতে পারে
এভাবে জীবাণুযুক্ত তোয়ালে ব্যবহার করলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেমন—
১. ফাঙ্গাল ইনফেকশন (দাদ)
২. ব্যাকটেরিয়াল স্কিন ইনফেকশন
৩. ব্রণ বাড়ার প্রবণতা
৪. ত্বকে চুলকানি বা অ্যালার্জি
এ ছাড়া পরিবারের একাধিক সদস্য একই তোয়ালে ব্যবহার করলে সর্দি-কাশি বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে। চোখ বা মুখ মুছলে কনজাঙ্কটিভাইটিসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
কোথায় রাখবেন তোয়ালে
১. তোয়ালে শুকানোর জন্য সবচেয়ে ভালো হলো এমন জায়গা বেছে নেওয়া, যেখানে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস আছে।
২. বাথরুমের বাইরে আলাদা টাওয়েল বার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. সম্ভব হলে রোদে শুকানো সবচেয়ে ভালো, কারণ সূর্যের আলো জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়।
৪. পুরোপুরি না শুকালে তোয়ালে ভাঁজ করে বা মুড়ে রাখা উচিত নয়। প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় শুকাতে দেওয়া যেতে পারে।
কতদিন পরপর তোয়ালে ধোয়া উচিত
অনেকেই একই তোয়ালে দীর্ঘদিন ব্যবহার করেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সাধারণভাবে ৩-৪ বার ব্যবহারের পর তোয়ালে সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। আর বর্ষাকাল বা আর্দ্র পরিবেশে ২-৩ বার ব্যবহারের পরই ধোয়া ভালো।
মনে রাখা দরকার, শরীর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ব্যবহৃত তোয়ালের পরিচ্ছন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ছোট এই অভ্যাসে সচেতনতা আপনাকে অনেক ধরনের সংক্রমণ ও ত্বকের সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে।
সূত্র : এই সময় অনলাইন
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার মজুরদিয়া এলাকায় রাজনৈতিক প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এক ভ্যানচালকের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা করায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই ভ্যানচালককে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মজুরদিয়া বাজারে। আহত ভ্যানচালকের নাম মো. জাহিদ। তিনি ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বাচ্চু শেখের ছেলে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভ্যান চালিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট ও প্রচারণার কাজ করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফরিদপুর-১ আসনের এমপি প্রার্থীর প্রচারণা চালাতে ভ্যান নিয়ে মজুরদিয়া বাজারে আসেন জাহিদ। এ সময় বাজারে অবস্থিত একটি দোকানের সামনে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত দুই ভাই মো. আনোয়ার ও মো. মনোয়ার তাকে আটকান। তারা বেড়াদিয়া গ্রামের মৃত রাজ্জাক শেখের ছেলে এবং বিএনপি মনোনীত ফরিদপুর-১ আসনের এমপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দোকান থেকে হাতুড়ি বের করে জাহিদের ওপর হামলা চালান আনোয়ার ও মনোয়ার। চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর একজন অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমন শেখ বলেন, “জাহিদ খুব সাধারণ একজন ছেলে। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়। সে কোনো দল করে না। যার কাছ থেকে কাজ পায়, তারই প্রচারণা করে। চোখের সামনে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়েছে, এটা খুবই নির্মম।”
মজুরদিয়া বাজারের এক দোকান কর্মচারী তারিকুল ইসলাম বলেন, “দুই ভাই মিলে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে। একজন মারধর করে দ্রুত পালিয়ে যায়। বাজারে তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”
ঘটনার খবর পেয়ে সাতৈর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, “একজন ভ্যানচালকের ওপর হামলার বিষয়টি জানতে পেরে আমি সঙ্গে সঙ্গে এখানে এসেছি। বর্তমানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
আহত জাহিদকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী ও স্থানীয় সাবেক একজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার বিষয়ে মুখ খুললেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তায় এ প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ভিডিওবার্তায় শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশে আমাকে হেয় করার জন্যই নিক্সন চৌধুরী বিভিন্নভাবে ফোনালাপের মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে একজন চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত ফোনালাপ যদি নিরাপদ না হয়? তাহলে লাখ লাখ মানুষ কিভাবে নিরাপদ হবে? এমন ঘটনাটি তার জন্য একটা ধৃষ্টতা।’
তিনি জানান, আলগি ও হামিরদী ইউনিয়ন কর্তনের বিষয়ে যে সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তার অর্থদাতা তিনি নিজেই সেই বিষয়টিও তিনি (নিক্সন চৌধুরী) নিজেই স্বীকার করেছেন।
বিএনপি প্রার্থী বলেন, ‘নিক্সন চৌধুরী দুটি ইউনিয়নকে কিভাবে ফেরত এনে দিয়েছেন বিষয়টি পারলে জনসম্মুখে প্রকাশ করুক। আর আমি তার প্রমাণ নিজেই ফেরত এনে দিয়েছি, তার প্রমাণ হচ্ছে-আমি নিজেই হাইকোর্টে রিটকারী এবং রিট না করলে আদৌ ফেরত আনা সম্ভব হতো না। আমি জনগণকে ওয়াদা দিয়েছিলাম সেই ওয়াদা আমি পূরণ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ফোনালাপে আমাকেও জড়িয়েছেন। আমার পরিবার থেকে তুই-তুকারি একজনকে অসম্মান করে কথা বলা, এসব আমি পরিবার থেকে শিখি নাই। আমার জীবনে এক হাজারের বেশি টকশো করেছি, হাজার হাজার ফোনালাপ করেছি, ব্যক্তিগত কারো ফোনালাপ নিয়ে অসম্মান করা শিখি নাই। জনগণ ভোট দিলে সেবা করব, না দিলে নাই। প্রতিহিংসার রাজনীতি আমি করি না। ফরিদপুর-৪ আসনের জনগণের জ্ঞাতার্থে আমার এই বার্তা।’
যার সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে সেই সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে যে কথা ভেসে বেড়াচ্ছে, সেগুলা সুপার এডিট করা, আমার সঙ্গে এক দুই মাসের মধ্যে কোনো কথা হয় নাই। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আগে আমি তার দল করেছি, কথা বলতেই পারি। কিন্তু বর্তমান যে কথাগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে এ বিষয়টি সম্পূর্ণ সুপার এডিট।’
আপনার মতামত লিখুন
Array