খুঁজুন
, ,

গাড়ির ভেতরেই মাথা ঘোরে, বমি আসে? এর আসল কারণ জানেন কী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ
গাড়ির ভেতরেই মাথা ঘোরে, বমি আসে? এর আসল কারণ জানেন কী?

ধরুন আপনি কোথাও ভ্রমণে যাচ্ছেন। গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পরে বমি বমি ভাব দেখা দিল। এমন অনেকের ক্ষেত্রেই হয়, যদিও সবার এমন হয় না।

এমন অনেকেই আছেন, গাড়িতে ওঠার পরই শুরু হয় অস্বস্তি। কেউ কেউ দীর্ঘযাত্রার পর বমি বমি ভাবে ভোগেন। উঁচু-নিচু সড়ক, পাহাড়ি পথ, যানবাহনে ক্রমাগত ঝাঁকুনি এবং যানবাহনের ভেতরে থাকা বাজে গন্ধ এ সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যদিও গাড়িতে চলার সময়ে বমি হওয়া খুব পরিচিত একটি সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এটিকে মোশন সিকনেস বলা হয়ে থাকে। ভ্রমণ করার সময়ে এমনটি কেন হয়? মন, চোখ ও শরীরের ভারসাম্যের মধ্যে সম্পর্ক কী? এটি কী প্রতিরোধ করা সম্ভব?

আমাদের মস্তিষ্কে ফ্লুইড রয়েছে। ভ্রমণের সময়ে এই ফ্লুইড যখন নাড়া খায়, তখন এটিতে কম্পন তৈরি হয়, যা গলায় পৌঁছায়। গলা নড়াচড়ার ফলে সেই কম্পনগুলো চলে যায় মাথার খুলিতে। এ প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ব্যালেন্স বাধাগ্রস্ত করে এবং এর ফলে বমি বমি ভাব, মাথাঘোরা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা তৈরি করে। যখন তা সহ্য করার মতো থাকে না, তখন বমি হয়।

এ বিষয়ে দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, ভ্রমণের সময়ে পাকস্থলীর অবস্থাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যারা খালি পেটে বা কিছু না খেয়ে ভ্রমণ করেন, পাকস্থলীতে থাকা ভেগাস নার্ভ (যেটি হৃৎপিণ্ড ও গলার নার্ভের সঙ্গে সম্পৃক্ত) আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারি খাবারের পর যারা ভ্রমণ করেন, তাদের বমি হতে পারে।

তিনি বলেন, মোশন সিকনেস সব সময় কেবল ভ্রমণ সম্পর্ককৃত সমস্যা নয়। কখনো কখনো এটি হতে পারে মস্তিষ্কের কোনো ব্যাধির একটি উপসর্গ কিংবা ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ব্রেন টিউমারের উপসর্গ পর্যন্ত হতে পারে মোশন সিকনেস।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—মোশন সিকনেস কী? মোশন সিকনেস হচ্ছে— এমন এক অবস্থা, যখন কোনো ব্যক্তি গাড়িতে ভ্রমণ করার সময়ে মাথাঘোরা, মাথাব্যাথা বা অস্থিরতায় ভোগেন ও বমি করেন। এ সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয় কার, বাস, ট্রেন, জাহাজ বা উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময়ে। কিছু মানুষ এ সমস্যায় আরও বেশি ভোগেন পাহাড়ি রাস্তায়। আর সাগর কিংবা আকাশে ভ্রমণের সময়ে যে ধরনের সমস্যা হয়, সেটির সঙ্গে যানবাহনে সৃষ্ট সমস্যার মিল রয়েছে।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, আপনি যদি গাড়ি বা বাসে বসে থাকেন, নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিংবা কোনো বই পড়তে থাকেন, তাহলে আপনার চোখ মস্তিষ্ককে বোঝাবে যে আপনি নড়ছেন না। কিন্তু আপনার কানের ব্যালেন্স সিস্টেম মস্তিষ্ককে ঠিকই জানাবে যে শরীরটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরছে। এ ধরনের সংকেতগুলো শরীরকে বোঝায় যে, বিষাক্ত কিছু শরীরে প্রবেশ করেছে। আর শরীর জানে যে বিষাক্ত কিছু বের করার একমাত্র উপায় হলো বমি করা। আর এটি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো জানালা দিয়ে বাইরে দূরে তাকানো। এটি চোখ ও কান থেকে পাওয়া সংকেতের সঙ্গে মেলে এবং অস্বস্তি কমায়।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, প্রাথমিক কারণটি হলো রক্তচাপ। নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় রক্তচাপ বেশি। অনেক নারী গৃহস্থালী কাজে, বিশেষ করে রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এভাবে টানা দাঁড়িয়ে থাকা রক্তচাপ কমার কারণ হতে পারে। এটিকে পোশ্চারাল হাইপোটেনশন বলা হয়ে থাকে। এর ফলে মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব এবং মোশন সিকনেসের উপসর্গ বাড়তে পারে। নারীদের শরীরে নিয়মিত হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এটিও অন্যতম একটি কারণ। মেন্সট্রুয়েশন বা মাসিকের সময়ে শরীরে লবণ, পানি ও ইলেকট্রলাইটের ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। মাসিকে বেশি রক্ত গেলে শরীরে রক্তচাপ আরও কমতে পারে। এতে মোশন সিকনেসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।

তিনি বলেন, নারীদের মস্তিষ্ক পুরুষদের তুলনায় গড়ে ১৫০ মিলিলিটার ছোট। তিনি মনে করেন, এটি সম্ভবত মস্তিষ্কে বাইরের প্রভাবে নারীদের সহজেই প্রভাবিত করে। নিম্ন রক্তচাপ, পোশ্চারাল হাইপোটনেশন, হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের গঠন – সবকিছুই নারীদের মধ্যে মোশন সিকনেসের প্রবণতা বেশি হওয়ার কারণ।

এ বিষয়ে বিবিসির সংবাদদাতা কাটিয়া মস্কভিচের করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোশন সিকনেস একটি ব্যাধি। এতে ভোগেন প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন। মোশন সিকনেসে কে, কখন প্রভাবিত হবেন সেটির ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয় এবং এর কোনো নিরাময় নেই। আর মোশন সিকনেসের কারণ হলো— আমাদের শরীরের ব্যালেন্স সিস্টেম সঠিকভাবে সমন্বয় বা তাল মেলাতে পারে না। মূলত কানের অভ্যন্তরে থাকা ব্যালেন্স অরগানের (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) সঙ্গে শরীরের এই ব্যালেন্স সিস্টেম সংযুক্ত।

আবার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের ডা. মানজারি ত্রিপাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, যখন আমরা বাস, কার, ট্রেন বা উড়োজাহাজে ভ্রমণ করি, সে সময়ে চোখ, কান ও শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে যে তথ্য যায়, সেগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি মেলে না। এ বিষয়টি ব্যালেন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত রিসেপটরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে ব্রেনস্টেম বা হাইপোথ্যালামাসের মতো মস্তিষ্কের কিছু অংশ উদ্দীপিত হয় এবং এতে করে মাথা ঘোরায় ও বমি হয়।

তিনি বলেন,  আপনার শরীরের নড়াচড়া বোঝে যে, রিসেপটরগুলো, সেগুলোর সঙ্গে কানের অভ্যন্তরীণ ব্যালেন্স সিস্টেমে ব্যাঘাতই হলো মোশন সিকনেসের কারণ। আপনার চোখ যা দেখছে এবং ভেতরের কান ও পেশি থেকে আসা সংকেতের মধ্যে মিল খুঁজে পায় না।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আমাদের শরীরের বিশেষ কিছু সেন্সর রয়েছে, যেগুলোকে আমরা রিসেপটর বলি। রিসেপটরগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলো বুঝে নিয়ে মস্তিষ্ককে সেগুলো জানায়।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আর পুরুষদের চেয়ে নারীরা মোশন সিকনেসে বেশি ভোগেন। এর নেপথ্যে বিভিন্ন শারীরিক ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে। নারীদের জীবনযাত্রা পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন এবং এই কারণে এই সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি।

ভ্রমণের সময়ে আপনার যা করণীয়

১. খালি পেটে ভ্রমণ করবেন না। সামান্য হালকা খাবার বা স্ন্যাক্স খান।

২. ভারি খাবার এড়িয়ে চলা। ডা. মহসীন ওয়ালি ভ্রমণের একদম আগ দিয়ে খুব বেশি না খেতে পরামর্শ দিয়েছেন।

৩. সামনে দেখা যায় এমন আসনে বসুন কিংবা সামনের আসন পছন্দ করুন; যদি সম্ভব হয় নিজে গাড়ি চালান।

৪. শরীরের অবস্থান স্থিতিশীল রাখুন। মাথা, কাঁধ, কোমর ও হাঁটুর নড়াচড়া কমান।

৫. প্রয়োজনে বমি প্রতিরোধকারী ওষুধ সেবন করুন।

৬. বমি বমি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন– সড়কের পাশে যানবাহন থামান। উল্টো দিকে যান এবং এরপর পুনরায় যাত্রা শুরু করুন।

৭. চলন্ত যানবাহনে ঘুমাবেন না। ঘুমন্ত অবস্থায় ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকে না এবং বমির আশঙ্কা বাড়ে।

৮. নিকোটিন এড়িয়ে চলুন। যারা ধূমপান করেন, বমি করার সম্ভাবনা তাদের বেশি।

এমন অনেকেই আছেন, গাড়িতে ওঠার পরই শুরু হয় অস্বস্তি। কেউ কেউ দীর্ঘযাত্রার পর বমি বমি ভাবে ভোগেন। উঁচু-নিচু সড়ক, পাহাড়ি পথ, যানবাহনে ক্রমাগত ঝাঁকুনি এবং যানবাহনের ভেতরে থাকা বাজে গন্ধ এ সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যদিও গাড়িতে চলার সময়ে বমি হওয়া খুব পরিচিত একটি সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এটিকে মোশন সিকনেস বলা হয়ে থাকে। ভ্রমণ করার সময়ে এমনটি কেন হয়? মন, চোখ ও শরীরের ভারসাম্যের মধ্যে সম্পর্ক কী? এটি কী প্রতিরোধ করা সম্ভব?

আমাদের মস্তিষ্কে ফ্লুইড রয়েছে। ভ্রমণের সময়ে এই ফ্লুইড যখন নাড়া খায়, তখন এটিতে কম্পন তৈরি হয়, যা গলায় পৌঁছায়। গলা নড়াচড়ার ফলে সেই কম্পনগুলো চলে যায় মাথার খুলিতে। এ প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ব্যালেন্স বাধাগ্রস্ত করে এবং এর ফলে বমি বমি ভাব, মাথাঘোরা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা তৈরি করে। যখন তা সহ্য করার মতো থাকে না, তখন বমি হয়।

এ বিষয়ে দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, ভ্রমণের সময়ে পাকস্থলীর অবস্থাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যারা খালি পেটে বা কিছু না খেয়ে ভ্রমণ করেন, পাকস্থলীতে থাকা ভেগাস নার্ভ (যেটি হৃৎপিণ্ড ও গলার নার্ভের সঙ্গে সম্পৃক্ত) আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারি খাবারের পর যারা ভ্রমণ করেন, তাদের বমি হতে পারে।

তিনি বলেন, মোশন সিকনেস সব সময় কেবল ভ্রমণ সম্পর্ককৃত সমস্যা নয়। কখনো কখনো এটি হতে পারে মস্তিষ্কের কোনো ব্যাধির একটি উপসর্গ কিংবা ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ব্রেন টিউমারের উপসর্গ পর্যন্ত হতে পারে মোশন সিকনেস।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—মোশন সিকনেস কী? মোশন সিকনেস হচ্ছে— এমন এক অবস্থা, যখন কোনো ব্যক্তি গাড়িতে ভ্রমণ করার সময়ে মাথাঘোরা, মাথাব্যাথা বা অস্থিরতায় ভোগেন ও বমি করেন। এ সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয় কার, বাস, ট্রেন, জাহাজ বা উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময়ে। কিছু মানুষ এ সমস্যায় আরও বেশি ভোগেন পাহাড়ি রাস্তায়। আর সাগর কিংবা আকাশে ভ্রমণের সময়ে যে ধরনের সমস্যা হয়, সেটির সঙ্গে যানবাহনে সৃষ্ট সমস্যার মিল রয়েছে।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, আপনি যদি গাড়ি বা বাসে বসে থাকেন, নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিংবা কোনো বই পড়তে থাকেন, তাহলে আপনার চোখ মস্তিষ্ককে বোঝাবে যে আপনি নড়ছেন না। কিন্তু আপনার কানের ব্যালেন্স সিস্টেম মস্তিষ্ককে ঠিকই জানাবে যে শরীরটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরছে। এ ধরনের সংকেতগুলো শরীরকে বোঝায় যে, বিষাক্ত কিছু শরীরে প্রবেশ করেছে। আর শরীর জানে যে বিষাক্ত কিছু বের করার একমাত্র উপায় হলো বমি করা। আর এটি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো জানালা দিয়ে বাইরে দূরে তাকানো। এটি চোখ ও কান থেকে পাওয়া সংকেতের সঙ্গে মেলে এবং অস্বস্তি কমায়।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, প্রাথমিক কারণটি হলো রক্তচাপ। নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় রক্তচাপ বেশি। অনেক নারী গৃহস্থালী কাজে, বিশেষ করে রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এভাবে টানা দাঁড়িয়ে থাকা রক্তচাপ কমার কারণ হতে পারে। এটিকে পোশ্চারাল হাইপোটেনশন বলা হয়ে থাকে। এর ফলে মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব এবং মোশন সিকনেসের উপসর্গ বাড়তে পারে। নারীদের শরীরে নিয়মিত হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এটিও অন্যতম একটি কারণ। মেন্সট্রুয়েশন বা মাসিকের সময়ে শরীরে লবণ, পানি ও ইলেকট্রলাইটের ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। মাসিকে বেশি রক্ত গেলে শরীরে রক্তচাপ আরও কমতে পারে। এতে মোশন সিকনেসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।

তিনি বলেন, নারীদের মস্তিষ্ক পুরুষদের তুলনায় গড়ে ১৫০ মিলিলিটার ছোট। তিনি মনে করেন, এটি সম্ভবত মস্তিষ্কে বাইরের প্রভাবে নারীদের সহজেই প্রভাবিত করে। নিম্ন রক্তচাপ, পোশ্চারাল হাইপোটনেশন, হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের গঠন – সবকিছুই নারীদের মধ্যে মোশন সিকনেসের প্রবণতা বেশি হওয়ার কারণ।

এ বিষয়ে বিবিসির সংবাদদাতা কাটিয়া মস্কভিচের করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোশন সিকনেস একটি ব্যাধি। এতে ভোগেন প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন। মোশন সিকনেসে কে, কখন প্রভাবিত হবেন সেটির ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয় এবং এর কোনো নিরাময় নেই। আর মোশন সিকনেসের কারণ হলো— আমাদের শরীরের ব্যালেন্স সিস্টেম সঠিকভাবে সমন্বয় বা তাল মেলাতে পারে না। মূলত কানের অভ্যন্তরে থাকা ব্যালেন্স অরগানের (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) সঙ্গে শরীরের এই ব্যালেন্স সিস্টেম সংযুক্ত।

আবার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের ডা. মানজারি ত্রিপাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, যখন আমরা বাস, কার, ট্রেন বা উড়োজাহাজে ভ্রমণ করি, সে সময়ে চোখ, কান ও শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে যে তথ্য যায়, সেগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি মেলে না। এ বিষয়টি ব্যালেন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত রিসেপটরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে ব্রেনস্টেম বা হাইপোথ্যালামাসের মতো মস্তিষ্কের কিছু অংশ উদ্দীপিত হয় এবং এতে করে মাথা ঘোরায় ও বমি হয়।

তিনি বলেন,  আপনার শরীরের নড়াচড়া বোঝে যে, রিসেপটরগুলো, সেগুলোর সঙ্গে কানের অভ্যন্তরীণ ব্যালেন্স সিস্টেমে ব্যাঘাতই হলো মোশন সিকনেসের কারণ। আপনার চোখ যা দেখছে এবং ভেতরের কান ও পেশি থেকে আসা সংকেতের মধ্যে মিল খুঁজে পায় না।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আমাদের শরীরের বিশেষ কিছু সেন্সর রয়েছে, যেগুলোকে আমরা রিসেপটর বলি। রিসেপটরগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলো বুঝে নিয়ে মস্তিষ্ককে সেগুলো জানায়।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আর পুরুষদের চেয়ে নারীরা মোশন সিকনেসে বেশি ভোগেন। এর নেপথ্যে বিভিন্ন শারীরিক ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে। নারীদের জীবনযাত্রা পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন এবং এই কারণে এই সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি।

ভ্রমণের সময়ে আপনার যা করণীয়

১. খালি পেটে ভ্রমণ করবেন না। সামান্য হালকা খাবার বা স্ন্যাক্স খান।

২. ভারি খাবার এড়িয়ে চলা। ডা. মহসীন ওয়ালি ভ্রমণের একদম আগ দিয়ে খুব বেশি না খেতে পরামর্শ দিয়েছেন।

৩. সামনে দেখা যায় এমন আসনে বসুন কিংবা সামনের আসন পছন্দ করুন; যদি সম্ভব হয় নিজে গাড়ি চালান।

৪. শরীরের অবস্থান স্থিতিশীল রাখুন। মাথা, কাঁধ, কোমর ও হাঁটুর নড়াচড়া কমান।

৫. প্রয়োজনে বমি প্রতিরোধকারী ওষুধ সেবন করুন।

৬. বমি বমি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন– সড়কের পাশে যানবাহন থামান। উল্টো দিকে যান এবং এরপর পুনরায় যাত্রা শুরু করুন।

৭. চলন্ত যানবাহনে ঘুমাবেন না। ঘুমন্ত অবস্থায় ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকে না এবং বমির আশঙ্কা বাড়ে।

৮. নিকোটিন এড়িয়ে চলুন। যারা ধূমপান করেন, বমি করার সম্ভাবনা তাদের বেশি।

স্মার্টফোনে বারবার বিজ্ঞাপনের বিরক্তি, এক সেটিংসেই মিলবে সমাধান

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ
স্মার্টফোনে বারবার বিজ্ঞাপনের বিরক্তি, এক সেটিংসেই মিলবে সমাধান

স্মার্টফোনে অ্যাপ ব্যবহার বা ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় হঠাৎ ফুল-স্ক্রিন বিজ্ঞাপন, ভিডিও অ্যাড বা একের পর এক পপ-আপ অনেকের জন্যই বিরক্তির কারণ। শুধু ব্যবহারেই বিঘ্ন ঘটে না, এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফিশিং বা ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশের ঝুঁকিও থাকে।

তবে অ্যান্ড্রয়েড ৯ (পাই) বা এর পরের সংস্করণ ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত কোনো অ্যাপ ইনস্টল না করেই একটি সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে পারেন। এর জন্য ব্যবহার করতে হবে প্রাইভেট ডিএনএস সুবিধা।

প্রাইভেট ডিএনএস ফোনের ইন্টারনেট সংযোগকে নির্দিষ্ট ডিএনএস সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালনা করে। যদি অ্যাডগার্ড ডিএনএস এর মতো বিজ্ঞাপন-ফিল্টারিং ডিএনএস ব্যবহার করা হয়, তাহলে পরিচিত বিজ্ঞাপন, ট্র্যাকিং এবং কিছু ক্ষতিকর ডোমেইন আগেই ব্লক হয়ে যায়। ফলে অনেক অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন লোডই হয় না।

কীভাবে চালু করবেন

এই সুবিধা চালু করতে প্রথমে ফোনের সেটিংস থেকে নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইন্টারনেট বা কানেকশনস মেনুতে যান। এরপর প্রাইভেট ডিএনএস অপশন নির্বাচন করে প্রাইভেট ডিএনএস প্রোভাইডার হোস্টনেম বেছে নিন। সেখানে ডিএনএস ডট অ্যাডগর্ডস ডট কম (dns.adguard.com) লিখে সেভ করুন। এরপর থেকেই অনেক বিজ্ঞাপন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হতে শুরু করবে।

তবে সব স্মার্টফোনে এই অপশনের অবস্থান এক নয়। অনেক ডিভাইসে এটি মোর কানেকশন, অ্যাডভান্সড সেটিংস, কিংবা ডিএনএস নামে থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে সেটিংসের সার্চ বক্সে প্রাইভেট ডিএনএস লিখেও খুঁজে পাওয়া যাবে।

তবে এই পদ্ধতিতে সব ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধ হয় না। যেসব বিজ্ঞাপন সরাসরি অ্যাপের নিজস্ব সার্ভার থেকে আসে, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। তবুও অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন কমানোর পাশাপাশি পরিচিত ট্র্যাকিং, অ্যাডওয়্যার এবং কিছু ফিশিং ও ম্যালওয়্যার-সংশ্লিষ্ট ডোমেইন থেকেও অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। ফলে মাত্র একটি সেটিংস পরিবর্তনেই স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও পরিচ্ছন্ন, দ্রুত ও তুলনামূলক নিরাপদ হতে পারে।

সূত্র : যুগান্তর

সুস্থ দেহ ও প্রশান্ত মনের জন্য ১২টি ইসলামিক অভ্যাস, জেনে নিন এক পলকে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সুস্থ দেহ ও প্রশান্ত মনের জন্য ১২টি ইসলামিক অভ্যাস, জেনে নিন এক পলকে

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত সময়ের পেছনে ছুটছি। একে একে দৈনন্দিন কাজের তালিকা শেষ করতে গিয়ে দিনের শেষে দেখা যায়, নিজের যত্ন নিতেই আমরা ভুলে গেছি। অন্যের সেবা করা বা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের প্রতি এই ক্রমাগত অবহেলা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের শরীর ও মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অথচ প্রতিটি নতুন দিন আমাদের জন্য নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এবং জীবনকে সুন্দর করার এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আসে। ইসলাম আমাদের এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান উপহার দিয়েছে, যেখানে কেবল আধ্যাত্মিক ইবাদত নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি গাছ যেমন রোদ ও পানি ছাড়া বেড়ে উঠতে পারে না, আমাদের জীবনকেও তেমনি মন, শরীর ও আত্মার যথাযথ যত্নের মাধ্যমে সতেজ রাখতে হয়।

যেকোনো পরিবর্তন শুরুর আগে আমরা প্রায়ই দ্বিধায় ভুগি, ‘কীভাবে শুরু করব’ বা ‘কবে শুরু করব’। এই দ্বিধা কাটাতে প্রতিদিন নিজেকে তিনটি সহজ প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে: আজ আমি আমার মন, শরীর এবং আত্মার জন্য কী করেছি?

জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং সুস্থ থাকার জন্য ১২টি কার্যকরী ইসলামিক অভ্যাসের কথা আজ তুলে ধরা হলো—

মনের সুস্থতায়

১. ডায়েরি বা জার্নাল লেখা: প্রতিদিনের প্রাপ্তি ও প্রতিবন্ধকতাগুলো লিখে রাখুন। বিশেষ করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিষয়গুলো ডায়েরিতে স্থান দিন। মেধা ও জ্ঞানের চর্চা: নতুন কিছু শেখা বা জ্ঞান অন্বেষণ করা একজন মুসলমানের দায়িত্ব। নতুন কোনো ভাষা বা বিষয় শিখে নিজের মেধাকে শাণিত করুন।

২. ভালো সঙ্গ: এমন বন্ধুদের সাথে সময় কাটান যাদের সাহচর্য আপনাকে উপকৃত করে। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখা উম্মাহর স্বাস্থ্যের জন্যও জরুরি।

শরীরের যত্নে

৩. প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি: শরীর সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটুন। সুস্থ দেহ আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক।

৪. হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং: সকালে ঘুম থেকে উঠে বা রাতে ঘুমানোর আগে শরীর স্ট্রেচিং বা হালকা ব্যায়াম করে নিন, এতে জড়তা কাটবে ও সতেজ অনুভব করবেন।

৫. সময়মতো ঘুম: শরীর ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস আপনাকে ফজর সালাত সময়মতো পড়তে সাহায্য করবে।

৬. সচেতন খাদ্যাভ্যাস: আপনি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন সেদিকে নজর দিন। খাদ্যতালিকায় নিয়মিত ফলমূল ও শাকসবজি রাখুন, যা আপনার শরীরকে প্রাণবন্ত রাখবে।

৭. পর্যাপ্ত পানি পান: পানিশূন্যতা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই সারাদিন নিয়ম করে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

আত্মার প্রশান্তিতে

৮. সময়মতো সালাত: সালাতের সময় হলে অন্য সব কাজ সরিয়ে রাখুন। শয়তানের প্ররোচনায় সালাতে দেরি করা উচিত নয়, কারণ সালাতেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত সাফল্য।

৯. কোরআনের সাথে সময় কাটানো: প্রতিদিন কুরআনের একটি অংশ পড়ার জন্য সময় বরাদ্দ করুন। আল্লাহর কালাম হৃদয়ে প্রশান্তি বয়ে আনে।

১০. আল্লাহর জিকির: জিহ্বাকে সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত রাখুন। জিকির পরকালের পাল্লাকে ভারী করবে।

১১. তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা: যেকোনো পরিস্থিতিতে সবার আগে আল্লাহর ওপর ভরসা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

১২. বিশেষ দোয়া

অলসতা ও বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা থেকে বাঁচতে মহানবী (সা.) এই দোয়াটি পাঠ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি অলসতা, অতি বার্ধক্য, গোনাহ এবং ঋণ থেকে।

প্রতিটি দিন আমাদের জন্য নতুন সুযোগ। এই অভ্যাসগুলো অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা গতকালের চেয়ে একটি সুন্দর ও সুস্থ আগামী গড়ে তুলতে পারি।

দ্য মুসলিম ভাইব অবলম্বনে

‘জীবনের অর্থাবলি’

মোহাম্মদ নূরুল্লাহ্
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
‘জীবনের অর্থাবলি’

জীবনের অর্থ যদি কেবল অর্থই হয়,
তবে অর্থের পেছনে ঝাঁপিয়ে পড়ো
আমার আপত্তি নেই।
তবে, জীবনের অর্থ যদি কেবল অর্থ না হয়, তাহলে জ্ঞানের সন্ধানে থাকো।
জ্ঞানীগুণীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো।
প্রশান্তি পাবে মনে;
বিশ্বাস না হলে —
একবার পরীক্ষা করে দেখো।

জীবনকে যদি সার্থক করতে চাও —
দু’কলম লিখো, বপন করো শব্দাবলি,
রোপন করো সাহিত্যের কানাকড়ি।

জীবনে যদি সফল হতে চাও
ভালোবাসার ডালি নিয়ে বসো;
মানুষকে ভালোবাসো, প্রাণিকুলকে মমতার বন্ধনে আবদ্ধ করো।

জীবনকে যদি কল্যাণকামী করতে চাও
প্রভুর ধ্যানে নিমগ্ন হও।
নিজেকে চেনো, প্রভুকে জানো,
প্রভুর দেয়া প্রকৃতির মাঝে শতকোটি নেয়ামত নিয়ে একটু হলেও ভাবো, চিন্তা করো।
তবেই তুমি খুঁজে পাবে জীবনের অর্থাবলি।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ফরিদপুর।