শেখ হাসিনাতেই আস্থা লিফলেট বিতরণ মামলায় সদরপুরে দুই আ’লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ফরিদপুরে ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে সার্বিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩ টার দিকে ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের আড়ুয়া মাঠ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে বেপরোয়া গতির বাসটি ছিটকে রাস্তার পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এতে আহত হন অন্তত ৩০ জন যাত্রী। খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি টিম ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ পর্যন্ত ৩০ জন আহত রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুর্ঘটনা কবলিত বাসের হেলপারের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তাকে সহ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, ঢাকা থেকে মাদারীপুরগামী সার্বিক পরিবহনের একটি বাস ঘটনাস্থল অতিক্রম করার সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুপারি বহনকারী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি ছিটকে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এতে কোন নিহত ঘটনা নেই। তবে অনেক বাস যাত্রী আহত হয়েছেন।
সাবেক ফরিদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার রুমা (৪৬)-এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরে মামলাটি দায়ের করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ২৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৮০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তানিয়া আক্তার তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করেন এবং আয়-উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার ঘোষিত আয়ের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে দুদক আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করে।
তানিয়া আক্তার রুমা ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সাবেক ফরিদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোজাফিজ মামলাটির বাদী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের ফরিদপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রতন কুমার দাস ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, স্থাবর সম্পত্তি ও অন্যান্য আর্থিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তানিয়া আক্তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দুদক বলছে, তদন্তে আরও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকের এ মামলাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রমের ওপরই নির্ভর করবে এর চূড়ান্ত রিপোর্ট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ফরিদপুর অঞ্চলে কঠোর নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অবঃ)। তিনি বলেছেন, এবারের নির্বাচন হবে “উৎসবমুখর ও ফ্রি-ফেয়ার” এবং সহিংসতার কোনো শঙ্কা নেই। তবে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাঁচ জেলার দায়িত্বরত তিন বাহিনীর অধিনায়ক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন— “এই নির্বাচনটা খুবই উৎসবমুখর হবে এবং ফ্রি-ফেয়ার হবে। কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। এবারের মতো এত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতীতে নিয়োগের নজির নেই।”
তিনি বলেন, “আগের নির্বাচনগুলোতে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, এবার এখন পর্যন্ত সেরকম কিছু হয়নি। আমরা আশা করি সামনে আর হবে না। তবে নির্বাচনের দিন যদি কেউ সহিংসতা করে, তাহলে দেখতে পারবেন কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। যেসব কেন্দ্রে স্থায়ী বাউন্ডারি নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে বাঁশের ঘেরা দিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন—“এবার বিশেষ ব্যবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীও ভোট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে। আমাদের জ্যেষ্ঠ সচিব প্রয়োজনীয় সমন্বয় করেছেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সামগ্রিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গণি, বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন
Array