খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

সদরপুরে বিএনপির কমিটি বাতিলের তিনদিন পরই ফের বহাল

শিশির খাঁন, সদরপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৬:১৩ পিএম
সদরপুরে বিএনপির কমিটি বাতিলের তিনদিন পরই ফের বহাল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কাজী বদরুত জামান ও সদস্য সচিব মো. তরিকুল ইসলাম এর সমন্বয়ে গঠিত ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি বহাল রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে নতুন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। এ ঘোষণায় সদরপুর বিএনপিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তবে সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দফায় দফায় সিদ্ধান্ত বদল করে সর্বশেষ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র।

কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত আসছে বলে জেলা কিংবা সদরপুর উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের দ্বিধাহীন চিত্তে তা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে জানিয়েছে জেলা ও ওই উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

জন্মলগ্ন থেকে সদরপুর উপজেলা বিএনপির কমিটির সাথে বিতর্ক ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। জেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট অনুমোদন দেয় বিএনপির মহা সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ও সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন সদরপুর উপজেলা, আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর এবং ভাঙ্গা পৌর কমিটির অনুমোদন দেয়। ৩১ সদস্য বিশিষ্ট সদরপুর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি।

জেলা বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, ওই কমিটি চারটি গঠনের প্রক্রিয়া এবং যোগ্যব্যক্তিদের মূল্যায়ন না করে ‘পকেট কমিটি’ করা হয়েছে মর্মে জেলা বিএনপির কায়েকজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যসহ নয়জন এ অভিযোগ কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে লিখিতভাবে জানালে গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে সদরপুরসহ নব ঘোষিত চারটি কমিটির কাযক্রম স্থগিত করে কেন্দ্র। চলতি বছর ২০২৫ সালের ২০ মার্চ কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্থগিত করা চারটি কমিটির মধ্যে শুধুমাত্র সদরপুর উপজেলা কমিটির স্থগিতাদের প্রত্যাহার করেন।

এর মধ্যে গত ২ জুন এক চিঠিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে একটি চিঠি দিয়ে জানান, জেলার আওতাধীন সকল ইউনিট কমিটি আগামী জুলাই মাসের মধ্যে গঠন করে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সম্মেলন আয়োজন করতে না পারলে ভেঙ্গে দেওয়া হবে চলমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি।

এ প্রেক্ষাপটে গত ১৪ জুন জেলা বিএনপি আগে গঠন করা চারটি ইউনিট কমিটি বাদে জেলার বাকি ১০টি ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত করে ১৬ জুন থেকে ২৫ জুনের মধ্যে কর্মী সভা করে সম্মেলন প্রস্তুত আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। নতুন চারটি কমিটি ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে বিষয়ে কেন্দ্রর সিদ্ধান্ত জানতে চায়। ওই দিন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ার চলমান অবস্থায় গত ২২ জুন ফরিদপুর বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিএনপির পুনর্গঠন সংক্রান্ত সাংগঠনিক টিম প্রধান বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ ও ফরিদপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সহ সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান ও সেলিমুজ্জামান সেলিম স্বাক্ষরিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে দেওয়া চিঠিতে জানান, ‘‘ইতিপূর্বে আলফাডাঙ্গা উপজেলা, আলফাডাঙ্গা পৌর, ভাঙ্গা পৌর এবং সদস্য স্থগিত প্রত্যাহারকৃত সদরপুর উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে কর্মীসভার মাধ্যমে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনে”-এর নির্দেশ দেয়।

এ চিঠি পাওয়ার পর জেলা বিএনপি যখন ওই কমিটিগুলি বিলুপ্ত করে কর্মীসভা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঠিক সেই সময় গত ২৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ফরিদপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক কমিটি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে এক চিঠি দিয়ে জানান, ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলা বিএনপির কমিটি বহাল থাকবে। এছাড়া অন্য উপজেলার নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।

ওই চিঠিতে রুহুল কবির রিজভী জানান, ২৫ জুন বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ফরিদপুর বিভাগীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

রুহুল কবিরের এ নির্দেশনামূলক চিঠিটি শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে জেলা ও সদরপুর উপজেলা বিএনপির হাতে এসে পৌঁছায়।

সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুত জামান বলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এ নির্দেশনামূলক চিঠিটি গত শুক্রবার রাতে আমরা পেয়েছি। আমাদের কমিটি ভাঙ্গা হচ্ছে না এবং আমরা যথারীতি বহাল আছি। এটি আমাদের কাছে একটি আনন্দের সংবাদ। ঘোষিত চারটি কমিটির মধ্যে সদরপুর বহাল রেখে অন্য তিনটি ভেঙ্গে দেওয়ায় ‘এক যাত্রায় দুই ফল হল কেন’-জানতে চাইলে সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুত জামান বলেন, কেন্দ্র যেটা ভালো মনে করেছে সেটা করেছে।

প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া বলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সাথে আমাদের দ্বিমত পোষন করার সুযোগ নেই। আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”