খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

সালথায় কুমার নদে অবৈধ ড্রেজারের দিয়ে বালু উত্তোলন, আতঙ্কে দুই পাড়ের মানুষ

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৩৯ এএম
সালথায় কুমার নদে অবৈধ ড্রেজারের দিয়ে বালু উত্তোলন, আতঙ্কে দুই পাড়ের মানুষ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় কুমার নদ থেকে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীর দুই পাড়ে বসবাসকারী এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। নদীর তলদেশ গভীর হয়ে যাওয়ায় ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে, পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে অদূরে নির্মিত নতুন সেতুসহ আশপাশের স্থাপনা।

শনিবার (০২ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া নতুন ব্রীজের পশ্চিম পাশে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ পাড়ে প্রভাবশালী কামাল মেম্বারের ছত্রছায়ায় মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনে-রাতে সমান তালে ড্রেজার চালিয়ে কুমার নদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একাধিক স্থানে গভীরভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। নতুন নির্মিত সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিসুর রহমান বালী বলেন, আমরা বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। যেখানেই তথ্য মিলছে, সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। দ্রুত ওই এলাকায়ও অভিযান চালানো হবে।

স্থানীয়রা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁরা বলেন, যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে নদী ভাঙন, পরিবেশ দূষণ এবং অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া বাজারে এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে কুমার নদে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু তারপরও বন্ধ হয়নি এ চক্রের দৌরাত্ম্য।

ফরিদপুরে নকল ওরস্যালাইন ও ভেজাল গুড় কারখানায় অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩১ এএম
ফরিদপুরে নকল ওরস্যালাইন ও ভেজাল গুড় কারখানায় অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজারে ভেজাল ও অননুমোদিত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নকল ওরস্যালাইন, ভেজাল চিপস, ভেজাল গুড় এবং বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই সয়াবিন তেল বোতলজাতকরণের মতো নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাদ্যপণ্যের মান, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাগজপত্র যাচাই করেন।

অভিযানে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদন ছাড়াই সয়াবিন তেল বোতলজাত করে বাজারজাত করছে। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করা হচ্ছিল। বিশেষ করে “রুপা ফুড প্রোডাক্টস” নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি ও বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় চারজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে মেসার্স নিমলেন্দ সাহা এন্ড সন্সের প্রোপাইটর নিরঞ্জন সাহাকে ২ হাজার টাকা, রুপা ফুড প্রোডাক্টসের মালিক মো. জাফর মোল্লাকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া কানাইপুর বাজারে ভেজাল গুড় বিক্রির দায়ে মো. সেকেন্দারকে ৫ হাজার টাকা এবং নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান শেষে জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেউ যদি পুনরায় ভেজাল বা অননুমোদিত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে অভিযান, বাস থেকে ৪ হাজার পিচ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২:২৭ এএম
ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে অভিযান, বাস থেকে ৪ হাজার পিচ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ যাত্রীবেশে থাকা দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের সদর উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আটককৃতরা হলেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কলারন (মৃধাবাড়ী) গ্রামের মৃত ইমদাদুল মৃধার ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) এবং একই উপজেলার কলারন উত্তরপাড়া গ্রামের মো. ছাকেন মৃধার ছেলে মো. আল আমিন মৃধা (২৭)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ফরিদপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকাল ৩টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের মুন্সিবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের ধরতে একাধিক যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়।

তিনি জানান, বিকেল ৩টার দিকে ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী বিআরটিসি পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানোর সময় শহিদুল ইসলাম ও আল আমিন মৃধার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তাদের আটক করে দেহ তল্লাশি করলে শহিদুল ইসলামের প্যান্টের পকেট থেকে তিন হাজার পিস এবং আল আমিন মৃধার পকেট থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে বলেও তিনি জানান।

আটক দুই মাদক কারবারিকে পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী নিহত, ৭ দিন পর দেশে ফিরল বেলায়েতের মরদেহ

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী নিহত, ৭ দিন পর দেশে ফিরল বেলায়েতের মরদেহ

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার প্রবাসী মো. বেলায়েত শেখ (৩৪)-এর মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। মৃত্যুর প্রায় সাত দিন পর বুধবার (১১ মার্চ) রাত তিনটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার মরদেহ এসে পৌঁছায়।

পরে লাশবাহী গাড়িতে করে সকাল ৭টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চৌকিঘাটা গ্রামের নিজ বাড়িতে মরদেহ আনা হলে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এ সময় শেষবারের মতো তাকে দেখতে গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের ভিড় জমে। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। নিহত বেলায়েত শেখ চৌকিঘাটা এলাকার মৃত ইউসুফ শেখের বড় ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে সংসারের অভাব দূর করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে রেখে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বেলায়েত। জেলার দিঘলকান্দা এলাকার এক দালালের মাধ্যমে তিনি বিদেশে যান। পরিবারকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে গিয়ে তার ভিসা জটিলতা দূর করে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

এই আশ্বাসে দালাল চক্রের হাতে প্রায় ৬ লাখ টাকা তুলে দেয় বেলায়েতের পরিবার। টাকা জোগাড় করতে তাদের ঋণ নিতে হয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকেও ধার করতে হয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈধ কাজ বা ভিসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবার জানায়, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে হয়েছে তাকে। কখনো সবজি বাগানে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, আবার কখনো দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অবশেষে কিছুদিন আগে তিনি সড়ক নির্মাণের একটি কাজে যোগ দেন।

পরিবারের দাবি, রাতের শিফটে কাজ শেষে ভোরের দিকে বাসায় ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্বামীর মরদেহ ঘরে ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী সাজেদা বেগম। তিনি বলেন, “সংসারের উন্নতির আশায় আমার স্বামী ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে আজ লাশ হয়ে ঘরে ফিরল। এখন দুই মেয়েকে নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব?”

স্থানীয়দের দাবি, দালালদের প্রতারণার কারণে অনেক পরিবার এভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। তারা এ ধরনের দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।