খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

হাশরের মাঠে আরশের ছায়া পাবেন যারা

মুফতি সাইফুল ইসলাম
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৩ এএম
হাশরের মাঠে আরশের ছায়া পাবেন যারা

হাশরের ময়দান যখন থাকবে লোকে লোকারণ্য। লোকদের দাঁড়ানোর জায়গা হবে অতি সঙ্কীর্ণ। সেখানে চল্লিশ হাজার বছর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। দশ হাজার বছরে বিচার করা হবে।

তারা এর মধ্যে কোনো কথা বলতে পারবে না। (তাফসীরে ইবনু কাসির ১৮/৮৩) সেদিন সূর্য থাকবে মাত্র এক মাইল উপরে। ওর তাপ এত তীব্র ও প্রকট হবে যে, মাথার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে, যেমন প্রচণ্ড তাপের কারণে চুলার উপর রাখা হাঁড়ির পানি ফুটতে থাকে। সেই দিন সকল মানুষ নগ্নপায়ে, নগ্নদেহে খাতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত হবে।
সেই দিন হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন, নানা বিপদ-বিভীষিকাময় আপদে পরিপূর্ণ। এমন মহাবিপদসঙ্কুল দিবসে সূর্যের তীব্র ও প্রখর তাপ থেকে বাঁচার জন্য মানুষ ছায়া খুঁজবে কিন্তু কোনোই লাভ হবে না। তবে মহান আল্লাহ মাত্র সাত শ্রেণীর মানুষকে তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। নিচের হাদিসে সেই সাত শ্রেনির বিবরণ পেশ করা হয়েছে- 

 عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَوْ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ إِمَامٌ عَادِلٌ وَشَابٌّ نَشَأَ بِعِبَادَةِ اللَّهِ وَرَجُلٌ كَانَ قَلْبُهُ مُعَلَّقًا بِالْمَسْجِدِ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ حَتَّى يَعُودَ إِلَيْهِ وَرَجُلاَنِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ فَاجْتَمَعَا عَلَى ذَلِكَ وَتَفَرَّقَا وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ حَسَبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) অথবা আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আল্লা (কিয়ামত দিবসে) সাত প্রকারের লোককে তার (আরশের) ছায়াতলে আশ্রয় প্রদান করবেন, যেদিন তার (আরশের) ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়াই (আশ্রয়) অবশিষ্ট থাকবে না।

(তারা হলো) 

(১) ন্যায়পরায়ণ শাসক,

(২) যে যুবক আল্লাহ্ তা’আলার ইবাদাতের মধ্যে বড় হয়েছে,

(৩) যে ব্যক্তি মাসজিদ হতে বেরিয়ে গেলেও তার অন্তর এর সাথে সম্পৃক্ত থাকে, যে পর্যন্ত না সে আবার সেখানে ফিরে আসে,

(৪) এমন দু’ব্যক্তি যারা আল্লাহ্ তা’আলার জন্য পরস্পর ভালোবাসা স্থাপন করেছে, এই সম্পর্কেই একত্র থাকে এবং বিচ্ছিন্ন হয়,

(৫) যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহ্ তা’আলাকে স্মরণ করেছে এবং তার দুচোখ বেয়ে পানি পড়েছে,

(৬) এমন ব্যক্তি যাকে কোন অভিজাত পরিবারের সুন্দরী রূপসী নারী (অশ্লীল কাজে) আহববান করেছে কিন্তু সে তাকে এই বলে প্রত্যাখ্যান করেছেঃ আমি আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় করি এবং

(৭) এমন ব্যক্তি যে এত গোপনে দান-খাইরাত করেছে যে, তার বাম হাতও জানতে পারেনি যে, তার ডান হাত কি দান করেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯১)

হাদিসের ব্যাখ্যা

এই হাদিসে কিয়ামতের দিনের এক বিশেষ মুহর্তে  সাত শ্রেণির মানুষের আল্লাহর আরশের ছায়া লাভ করার কথা বলা হয়েছে। কিয়ামতের দিনকার পরিবেশ এমন ভয়াবহ হবে যে, মানুষের জন্য ছায়া, নিরাপত্তা ও প্রশান্তি হবে সবচেয়ে মূল্যবান অবলম্বন। সে দিনের প্রখরতা, দুশ্চিন্তা, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বিচারভীতির মধ্যে আল্লাহ তাআলা এই সাত শ্রেণির মানুষকে বিশেষ অনুগ্রহে আচ্ছাদিত করবেন। সেই সাত শ্রেণি হচ্ছে-

১. ন্যায়পরায়ণ শাসক

ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা শুধু শাসকের দায়িত্বই নয়; বরং তার ইমানদারিরও পরিচায়ক।

ক্ষমতা মানুষকে সহজেই অত্যাচার ও স্বার্থপরতার দিকে টেনে নেয়; তাই ক্ষমতার আসনে থেকেও ন্যায়পরায়ণ থাকা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। এখানে শাসক বলে শুধুমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান বুঝানো হয়নি । বরং যেকোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যেমন শিক্ষক, জমিদার, নেতাসহ সকলেই যদি অন্যায না করে ন্যায় অনুসরণ করেন তাহলে তিনি এই মর্যাদায় অংশীদার হতে পারেন। 

২. যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে বড় হয়েছে

যৌবন হলো শক্তি ও প্রবৃত্তির সময়। এ বয়সে মানুষ সহজেই পাপের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই যে যুবক এই প্রলোভনের সময়ে, শক্তি ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর আনুগত্যে জীবন গড়ে তোলে; সে আল্লাহর বিশেষ প্রেমের অধিকারী। তার ইবাদত ও আনুগত্যের মূল্য আল্লাহর নিকট অনেক বেশি।

৩. যার হৃদয় মসজিদের সঙ্গে সংযুক্ত

এখানে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যার অন্তর মসজিদের প্রতি এমন আকর্ষণ অনুভব করে যে বাইরে থাকলেও সে মসজিদে ফেরার অপেক্ষা করে। এটি কেবল নামাজ পড়া নয়; বরং মসজিদকে জীবনের কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করা; আল্লাহর ঘরকে ভালোবাসা, সেখানে শান্তি পাওয়া এবং ঈমানের পরিবেশে নিজেকে সঁপে দেওয়ার মানসিকতার কথা বুঝানো হয়েছে।

৪. দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর জন্য পরস্পর ভালোবাসে

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বন্ধুত্ব স্থাপন করা এক বিশেষ ইমানীয় সম্পর্ক। এ ভালোবাসা স্বার্থ, বংশ, উপকার কিংবা লোভের উপর নির্ভর করে না। তারা একত্র হয় আল্লাহর জন্য, বিচ্ছিন্নও হয় আল্লাহর জন্য। এ ধরনের মানসিকতা মাহন আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। তাই তাদের এই আল্লাহর জন্য পারস্পরিক মহব্বত আখিরাতে অসাধারণ মর্যাদার কারণ হবে।

৫. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে চোখের পানি ফেলে

এটি আন্তরিকতার সর্বোচ্চ প্রকাশ। গোপন অবস্থায়, নির্জনে, মানুষের দৃষ্টি ও প্রশংসার বাইরে আল্লাহকে স্মরণ করলে যে কান্না আসে; তা হৃদয়ের পরিশুদ্ধতার নিদর্শন। এ কান্নার মূল্য আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। এটি সেই ভয়, প্রেম ও বিনয় যা কেবল সত্যিকারের মু’মিনের হৃদয়ে জন্মায়। সে জন্য এর প্রতিদান হিসেবে সে হাশরের ভয়াবহ সময়ে আরশের নিছে আশ্রয় পাবে।

৬. যে ব্যক্তি পাপের আহ্বান সত্ত্বেও আল্লাহ-ভীতিতে নিজেকে সংযত রাখে

এ শ্রেণির ব্যক্তির পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন। প্রলোভন যখন সম্মানী, রূপসী, উচ্চবংশীয় কারও মাধ্যমে আসে এবং সুযোগ যখন পুরোপুরি হাতের মুঠোয়; ইচ্ছে করলেই কোনো বাধঅ ছাড়া নিচের কামনা-বাসনা চরিতার্ত্র করা যায়। সেই মুহুর্তে ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’  বলে তা থেকে বিরত থাকা খুব বড় ইবাদত। যা নফস, প্রবৃত্তি, সামাজিক লোভ; সবকিছুকে পরাভূত করার নাম। এটি খূব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব। তার বিনিময়ে তার জন্য মিলবে এই মহাপ্রাপ্তি।

৭. যে ব্যক্তি এত গোপনে দান করে যে তার বাম হাতও জানতে পারে না ডান হাত কী দান করেছে

এটি দানের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা। তোষামুদ, প্রচার, ছবি তোলা, মানুষের প্রশংসা; এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যে ব্যক্তি গোপনে দান করে, সে সেই ইখলাস অর্জন করে যা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। তার দান অন্যের দৃষ্টির জন্য নয়; শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

হাদিসটি মানবজীবনের সাতটি আদর্শ চরিত্র তুলে ধরে; ন্যায়, আনুগত্য, মসজিদের প্রতি ভালোবাসা, নৈতিক বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা, পাপ থেকে দূরে থাকা এবং গোপন দান। হাশরের ময়দানের ভয়াবহতার সময়ে এ চরিত্রগুলো মানুষকে আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান দেবে; যা মানবতার সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক

saofpas352@gmail.com

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।