খুঁজুন
, ,

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফরিদপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ কাঁথা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফরিদপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ কাঁথা

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফরিদপুর থেকেে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ কাঁথা। এই জেলার বিভিন্ন গ্রামের খেটে খাওয়া দিনমুজুর পরিবারের গৃহবধূ, কিশোরীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরী হতো গ্রামীণ কাঁথা। এই কাঁথায় তাদের হাতের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তোলা হতো নানা নকশা।

ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ কাঁথা কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। লেপ, কম্বল ও দামী চাদরের কারণে গ্রামের দারিদ্র পরিবারের সংসারের গ্রামীণ কাঁথা সেলাইয়ের বাড়তি আয়ের উৎসটি এখন আর নেই। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যে মিশে আছে গ্রাচীন শিল্পকলার নিদর্শন এই সুচ শিল্প। সেই সাথে এ শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে গ্রামের আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ড। সুচের ফোঁড়ে স্বপ্ন বুনন পল্লী নারীদের উপার্জন প্রাচীন ঐতিহ্য গ্রামীণ কাঁথা আধুনিকতার স্পর্শে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

গ্রামের বিয়েতে কন্যার শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হতো কিংবা শীত নিবারণের জন্য কাঁথা সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাতো গ্রামাঞ্চলের কিশোরী ও মহিলারা। গ্রামের নারীদের আড্ডা আর খোস গল্পের ছলে কাঁথা সেলাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে সচারচর আর চোখে পড়ে না। পুরাতন শাড়ি, লুঙ্গি বা ওড়না কাপড়ে রং-বেরঙ্গের সুতা দিয়ে সুনিপুণ হাতে তৈরি করা হয় এ কাঁথা। গ্রামের নারীরা মনের মাধুরী মেশানো অনুভুতিতে নান্দনিক রূপ বর্ণ-বৈচিত্রে এই গ্রামীণ কাঁথা বুনন করতেন। নারীদের সুক্ষম হাতে সুচ আর লাল, নীল, সবুজ, বেগুনি, হলুদসহ কয়েক রংয়ের সুতায় নান্দনিকতার বৈচিত্রে সেলাই করা হয়ে থাকে কাঁথা।

ফরিদপুরের এই সুই-সুতার এফোঁড়-ওফোঁড় করার মাধ্যমে ফুল-ফল, গাছ-লতাপাতা, জিরা গাঁথুনি, চেইন গাঁথুনি, মরিচ লাইট গাঁথুনিসহ বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা যায় এই কাঁথায়। এছাড়া আপন মনের ইচ্ছায় দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র কাঁথায় ফুটিয়ে তোলেন কাঁথা শিল্পীরা। তারা নিজেরাই এর শিল্পী, রূপকার এবং কারিগর। এ শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে গ্রামের আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ড।

বর্তমান সময়ের ব্যবধানে নতুনত্বের ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে হাতের সেলাইয়ে গড়া এই কাঁথার ঐতিহ্য। হাতে তৈরি নানা রকমের ফুল-ফল, পশু-পাখি, গাছ-পালা এবং প্রকৃতির নকশায় সজ্জিত হয়ে উঠত কাঁথা। বড় বড় কারখানায় তৈরিকৃত দেশি-বিদেশী রং-বে-রঙ এর রেডিমেট লেপ-কম্বলের চাপায় হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় গ্রামীণ শিল্পটি। কালের বিবর্তনে আজকাল আর চোখে পড়ে না গ্রামীণ এ কাথাঁ সেলাই এর দৃশ্য।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভাবী নারীরা সংসারের সব কাজ শেষে অবসরে কাঁথা সেলাইয়ের কাজ করতেন। জায়গা ভেদে একটি কাঁথা সেলাই করতে ১০ দিন হতে এক মাস সময় লাগে। আর মজুরি হিসেবে মেলে ৬ শ’ হতে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। নিজেদের সংসারে স্বচ্ছলতার পাশাপাশি সন্তানদের বায়না পূরণ, লেখাপড়ার খরচ মেটাতে বেশ ভূমিকা রাখত হাতে তৈরি এই কাঁথা।

স্থানীয়দের দাবি, দারিদ্র পরিবারের মহিলাদের সংসারের বাড়তি আয় ছিল গ্রামীণ এ কাঁথা। তবে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই কাঁথা। অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হিসেবে উৎপাদন, আয় বৃদ্ধি ও নতুন কর্ম-সংস্থান তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে এই খাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি বে-সরকারি সংস্থা এগিয়ে আসলে হারানো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তবে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে ঋণ সহায়তার পাশাপাশি বাজারজাত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

উদ্বোধনের আগেই দখলের কবলে ফরিদপুরের নগরকান্দার স্বপ্নের সেতু, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
উদ্বোধনের আগেই দখলের কবলে ফরিদপুরের নগরকান্দার স্বপ্নের সেতু, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র জুঙ্গুরদী এলাকায় কুমার নদের ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত নতুন সেতুটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। তবে উদ্বোধনের আগেই সেতুর উত্তর প্রান্তে অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সেতুর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন এলাকায় টিনের বেড়া নির্মাণ করে জায়গা দখল করায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর নির্মিত এই সেতু নগরকান্দার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সেতুটি চালু হলে পৌর শহরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই সেতুর নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, সেতুর উত্তর পাশে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্ন রয়েছে। স্থানীয়রা শুরু থেকেই ওই স্থানে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন ও সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে সড়ক বিভাগ সেতুর জন্য ১৪টি ল্যাম্পপোস্ট বরাদ্দ দেয়। বর্তমানে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করা হবে।

কিন্তু এরই মধ্যে সেতুর উত্তর প্রান্তের ইউটার্ন এলাকায় টিনের বেড়া নির্মাণ করে জায়গা দখলের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বেড়া সড়কের দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাঁক ঘুরে আসা কিংবা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন সহজে দেখা যাচ্ছে না। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলায় চালকরা সামনে কী আছে তা বুঝতে পারছেন না। বিশেষ করে রাতে এবং দ্রুতগতির যানবাহনের ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, তারা কোনো সরকারি জায়গা দখল করেননি। সেতুর ওপর থেকে সরাসরি তাদের বাড়ির অভ্যন্তর দেখা যাওয়ায় পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে টিনের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে।

তবে পরিবহন চালক ও স্থানীয়রা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। ট্রাকচালক মুজিবুর রহমান বলেন,
“সেতুর একদিকে খাড়া ঢাল, অন্যদিকে তীব্র বাঁক। এর মধ্যে টিনের বেড়া দেওয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি দেখা যায় না। ফলে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পরে দায় চাপানো হবে চালকদের ওপর।”

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান মোল্যা বলেন,
“এটি শুধু একটি সেতু নয়, নগরকান্দাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেতুর সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি এই বেড়া মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। দ্রুত এটি অপসারণ করা প্রয়োজন।”

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল তালুকদার) বলেন, “সেতুটি অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে এবং এটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে সেতুর সৌন্দর্য ও জননিরাপত্তা দুটিই নিশ্চিত হয়।”

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া জানান, “ঘটনাস্থলে তহসিলদার পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্তরা টিনের বেড়া সরিয়ে নেওয়ার জন্য একদিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু এখনো তা অপসারণ না করায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজোয়ানা আফরিন বলেন, “আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “কেউ সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করলে কিংবা জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে এমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত টিনের বেড়া অপসারণ না করা হলে উদ্বোধনের আগেই স্বপ্নের এই সেতু দুর্ঘটনার ‘ব্ল্যাক স্পট’-এ পরিণত হতে পারে। তাই জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

ফরিদপুরে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটক হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মো. ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং সার্বিক পরিস্থিতি তদন্তের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম এবং ডিআই-১ মো. মোশারফ হোসেন।

এর আগে শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রান্তকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ।

ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, আটকের প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রান্ত শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সিটিস্কানে দেখা যায়, প্রান্ত ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার মাথায় বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার শরীরে কোনো আঘাত বা নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসকদের প্রাথমিক মতামত অনুযায়ী তিনি ব্রেনস্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। তারপরও ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি সব দিক পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।”

এদিকে প্রান্তের মৃত্যুর ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান শেষ হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুরের মধুখালীতে গাঁজাসহ আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে গাঁজাসহ আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকের নাম মো. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্ত (২৮)। তিনি মধুখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত ইসকেন্দার হায়দারের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তথ্যমতে, শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রান্তকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আটকের ঘণ্টা খানেক পর প্রান্ত হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেন, হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও সিটিস্কানে দেখা যায়, প্রান্ত ব্রেনস্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। তার মাথায় বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানের সময় প্রান্তকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, তিনি ব্রেনস্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। তারপরও মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তের বিরুদ্ধে মধুখালী থানায় পূর্বেও মাদক-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেলায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।