খুঁজুন
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

সদরপুরে গাব গাছে ঝুলছিল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
সদরপুরে গাব গাছে ঝুলছিল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুরে স্বর্ণ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার তিনদিন পর জোসনা বিশ্বাস (৪৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (০১ মে) দুপুরে সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর গ্রামের শিকদার বাড়ির পুকুরপাড়ে একটি গাব গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশে খবর দিলে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পারিবারিক ও থানার জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে জোসনা বিশ্বাস নিজ বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ নিয়ে সদরপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নিখোঁজের ঘটনায় তার মেয়ে সাধনা বিশ্বাস ও ছেলে অমিত বিশ্বাস শুক্রবার সকালে সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩০৮) দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে গ্রামের দুই শিশু পুকুরপাড়ের একটি গাব গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। পরে আশপাশের লোকজন এসে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আফজাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং লাশ উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে এসআই মো. আফজাল হোসেন জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, স্বর্ণ নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ এবং তিনদিন পর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবার ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর এলাকায় রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ।

মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে স্থানীয়রা মাদক কারবারীদের এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে রামকান্তপুর বাজার স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে স্থানীয়দের পক্ষে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ না হলে আরও কঠোর সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।”

বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা দাবি করেন, এলাকার তরুণদের সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাদকের বিস্তার রোধ করা এখন সময়ের দাবি।

সমাবেশ থেকে রাত ১২টার পর অকারণে এলাকায় ঘোরাফেরা না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে স্থানীয়দের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছে, রামকান্তপুরবাসীও সেই আন্দোলনের অংশ হতে চায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এলাকায় মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘মাদকমুক্ত সমাজ চাই’, ‘তরুণদের বাঁচাতে মাদক রুখতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকসংগীত পরিবেশন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা জনপ্রিয় লোকশিল্পী লাইলী বাউল তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের স্বীকৃতি ও সফলতার জন্য গণমাধ্যমকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন লাইলী বাউল। এ সময় তাঁর ছেলে আপন শেখসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় আবেগঘন বক্তব্যে লাইলী বাউল বলেন, “গান আমার সাধনা, আমার জীবন। ছোটবেলা থেকেই গান গেয়ে আসছি। মানুষের ভালোবাসা, গণমাধ্যমের সহযোগিতা এবং আপনাদের আন্তরিক সমর্থন না পেলে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। আমার এই স্বীকৃতি মূলত সাধারণ মানুষের ভালোবাসারই প্রতিফলন।”

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকগান পরিবেশন করলেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গান ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। এই ভালোবাসা তাঁকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে লাইলী বাউল বলেন, “আমি মানুষের জন্য গান গেয়ে যেতে চাই। সুযোগ পেলে চলচ্চিত্রেও গান গাওয়ার ইচ্ছা আছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সুস্থ থেকে গানকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারি।”

এ সময় বক্তব্য দেন তাঁর ছেলে আপন শেখ। তিনি বলেন, “আমার মা পৃথিবীর সেরা মা। সারা বিশ্বের মানুষ আজ তাঁকে চিনছে, এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন।”