খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ থেকে কেন বাদ পড়েছিলেন কারিনা?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:২০ এএম
‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ থেকে কেন বাদ পড়েছিলেন কারিনা?

বলিউডে রাকেশ রোশন মানেই এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তারই হাত ধরে নায়ক বনে যান ছেলে হৃতিক রোশন।

২০০০ সালে তার নির্মিত ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ আজও হৃতিকের ক্যারিয়ারের মাইলস্টোন। কিন্তু এই সিনেমায় আমিশা প্যাটেলের বদলে নায়িকা হওয়ার কথা ছিল কারিনা কাপুরের, যা আজও আলোচিত এক অধ্যায়।

 

সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। সিনেমার নায়িকা হিসেবে কারিনার নাম ঘোষণাও হয়ে গিয়েছিল, কয়েকটা দৃশ্যও শুটিং করা হয়েছিল তার সঙ্গে। ঠিক তখনই, শুটিং শুরুর মাত্র চার দিন আগে, হঠাৎ সবকিছু ওলটপালট। রাকেশ রোশন কারিনাকে বাদ দিয়ে কাস্ট করেন নতুন মুখ আমিশা প্যাটেলকে!

রাকেশ রোশন নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন সেই কাহিনি। ২০২০ সালে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিচালক বলেছিলেন, আমরা শুটিং শুরু করতে যাচ্ছিলাম ফিল্মিস্তান স্টুডিওতে, একটা গানের দৃশ্য দিয়ে। ঠিক চার দিন আগে ববিতা শিবদাসানি (কারিনা মা) বললেন, সংলাপ দিয়ে শুরু করা হোক, গান নয়- কারণ কারিনা নাকি এখনই প্রস্তুত নয়।

কিন্তু রাকেশ তাতে রাজি হননি। তার মতে, গানের দৃশ্যেই নতুন অভিনেত্রীর পক্ষে ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ হওয়া সহজ। তবে এতে নাকি ববিতা একটু জেদ দেখিয়েছিলেন। তখন রাকেশ বলেছিলেন- এইভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। আজ এটা বলবেন, কাল ওটা। বন্ধুত্ব থাক, কাজ না হোক।

এরপরই সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। আর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অনেকে বলেছে কারিনাকে নাকি পুরো গল্প বলা হয়নি। এটা একেবারেই ভুল। আমি কোনও অভিনেতাকে সাইন করি না সম্পূর্ণ ন্যারেশন না দিয়ে। বিশেষত নায়িকাকে তো নয়ই। তিন মাস আগেই পুরো গল্প বলা হয়েছিল।

রাকেশ রোশন আরও দাবি করেন, কারিনার মা ববিতা অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছিলেন মেয়ের ক্যারিয়ারে। তার কথায়, ববিতা যদি করিনার ক্যারিয়ারে এতটা হস্তক্ষেপ না করতেন, ওর পক্ষে আরও ভালো হত। কারিনা তখন নবাগত, তাকে সেই জায়গা থেকেই শুরু করতে হত। কারিশ্মার বোন বলে সব সময় নিজের মত চাপিয়ে দেওয়া যায় না।

সবচেয়ে বড় ফাটল ধরেছিল ক্রেডিট কার্ড টাইটেলে কার নাম আগে যাবে তা নিয়ে। ববিতা চেয়েছিলেন, কারিনার নাম যেন সিনেমার টাইটেলে হৃতিকের আগে আসে। কিন্তু রাকেশ তাতে রাজি হননি। যুক্তি দিলেন- সিনেমার নায়কই তো মুখ, বিশেষ করে নিজের প্রযোজনায়।

পরিস্থিতি এমন জটিল হয়ে পড়ে যে রাকেশ রোশন সিদ্ধান্ত নেন গ্রিস উড়ে যাবেন লোকেশন দেখতে এবং ততদিনের মধ্যে কারিনার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত জবাব আসুক। ফিরে এসে দেখেন, কোনও উত্তরই নেই। সেখানেই চূড়ান্ত হয় বিচ্ছেদ।

এরপর কারিনা কাপুরের জায়গায় কাস্ট করা হয় নতুন মুখ আমিশা প্যাটেলকে, আর বাকিটা ইতিহাস। ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ মুক্তি পেয়ে হয়ে ওঠে এক যুগান্তকারী রোমান্টিক হিট সিনেমা। বলিউডের বক্স অফিসে সাফল্য, দর্শকের উন্মাদনা মিলিয়ে বলিউডে নতুন তারকা হৃতিক রোশনের জন্ম হয়।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।