খুঁজুন
, ,

এলো খুশির ঈদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
এলো খুশির ঈদ

বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে আবারো হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সারা মাস সিয়াম সাধনার পর একফালি চাঁদ ঘোষণা দিল ‘এলো খুশির ঈদ’। রোজার মাস জুড়ে সংযম, ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির যে শিক্ষা, তারই পরিণতি এই ঈদ। তাই ঈদের আনন্দ শুধু নতুন পোশাক বা সুস্বাদু খাবারে নয়, বরং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা আর সহমর্মিতায়।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন। আজ শনিবার ঈদের আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে সারা দেশ।

ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ঈদুল ফিতরের আবহ। সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পরপরই রেডিও-টেলিভিশনে বেজে উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সেই গান, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ…।’

ইসলামের ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করা হয় সাধারণত হিজরি বর্ষপঞ্জির চান্দ্র মাসের হিসাবে। ২৯ রমজান (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠক বসে। সেই বৈঠক থেকেই ঈদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে শুক্রবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের কিছু দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের বেশকিছু জেলাতেও ঈদ উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা। তারা দেশটির সঙ্গে মিলিয়ে এক দিন আগে রোজাও রাখেন।

হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে। আমাদের উৎসব হলো ঈদ।

ঈদুল ফিতরের মধ্যে ফিতর শব্দের অর্থ ভঙ্গ করা। ঈদুল ফিতরের অর্থ— রোজার সমাপ্তি ঘটানোর আনন্দ। দীর্ঘ এক মাস তারাবির নামাজ, সাহরি, ইফতার, জাকাত-ফিতরা, এবাদত-বন্দেগিসহ সিয়াম সাধনার মধ্যে দিয়ে পার করার পর মুসলিম উম্মাহ রোজা ভঙ্গ করে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দারা উপহার স্বরূপ পান এই ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ সর্বজনীন। এই আনন্দ আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের সাফল্যের আনন্দ। এই আনন্দ রূপ নেয় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উৎসবে।

ঈদ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক, মোড়সহ গুরত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো।

ঈদের দিনে উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা হবে হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও এতিমখানায়। সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। টিভি চ্যানেলগুলো ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে সাত দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা, ঈদ ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদপত্রগুলো।

ঈদ ঘিরে বাজারে শেষমুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ। নতুন জামার গন্ধ, আতরের সুবাস, সেমাই-চিনির হিসাব-সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্জির দোকানে এখনো শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে, আর শিশুদের চোখে-মুখে শুধুই আনন্দের ঝিলিক-‘ঈদ’।

ঈদ উপলক্ষে পরিবারগুলোতে সাধ্যমতো ভালো খাবার রান্নার চেষ্টা করা হয়। শিশুরা নতুন পোশাক পরে হৈ হুল্লোড় করবে, বেড়াতে যাবে নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে। ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠে গোসল-অজু করে দিনের শুরুতে সেমাই, মিষ্টিমুখ করে মুসল্লিরা যাত্রা শুরু করবেন ঈদের জামাতে অংশ নিতে। নামাজ আদায় শেষে ঈদগাহ ময়দানে বুকে বুক মেলাবেন। নামাজ আদায় শেষ করে মুসল্লিরা যাবেন কবরস্থানে প্রিয়জনের বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করতে। কবরস্থান থেকে মুসল্লিরা বাসায় ফিরে খাবার খেয়ে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করবেন। প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ-আড্ডায় মেতে উঠবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এক মাসের সংযম, ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির পর আসে এই উৎসব। তাই ঈদের আনন্দ শুধু নতুন পোশাক বা সুস্বাদু খাবারে সীমাবদ্ধ নয়এটি একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, ক্ষমা আর সহমর্মিতার প্রকাশ।

সূত্র : কালবেলা

ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তামান্না আক্তার মৌ (২৩) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী।

​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

​নিহত তামান্না আক্তার মৌ নগরকান্দা উপজেলার রামেশ্বর এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে এবং ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় তামান্নাকে দেখতে পান তার স্বামী শাখাওয়াত। পরে দরজা ভেঙে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রীন প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামান্নাকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ রেখেই গা ঢাকা দেন স্বামী শাখাওয়াত।

​নিহতের মায়ের দাবি, তামান্নাকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। দুপুরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

​ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে অবহিতকরণ সভা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে অবহিতকরণ সভা

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোলার সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আশীষ কুমার রায়।

​সভায় স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রুফটপ সোলার সিস্টেম, ক্যাপেক্স ও ওপেক্স মডেল, নেট মিটারিংয়ের আবেদন, রুফটপ সোলার ক্যালকুলেটরের ব্যবহার এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

​পাশাপাশি সোলার সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে তালিকাভুক্তির নিয়ম, ন্যূনতম যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া ও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। পরে মুক্ত আলোচনায় অংশীজনদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

​সভায় বক্তারা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বহুল ব্যবহার নিশ্চিত করতে দক্ষ ও মানসম্মত সেবা প্রদানকারীর বিকল্প নেই। সার্ভিস প্রোভাইডারদের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকরাও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন। এর মাধ্যমে দেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

​অনুষ্ঠানে আলফাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিনিধি, বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ান, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে অনশন, হামলায় জখম ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে অনশন, হামলায় জখম ৩

ফরিদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের মঙ্গলকোটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক তরুণী এবং তার মা ও ভাই। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মঙ্গলকোট গ্রামের ওই শিক্ষকের বসতভিটায় এ ঘটনা ঘটে।

​পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​ভূক্তভোগী তরুণী জানান, পাশের গ্রামের তাজুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাসও করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাজুল ইসলাম স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তার পরিবার অন্যত্র বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি তাজুলের বাড়িতে গেলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে তরুণীসহ তার মা ও ভাইকে মারধর করে জখম করা হয়।

​এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হন ওই পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে তারা উগ্র মেজাজে হুমকি-ধমকি দেন এবং মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। পরে ক্যামেরার সামনে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসা শিক্ষক তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​তবে তাজুলের চাচা রহমতউল্লাহ বলেন, “আমরা ছেলের জন্য মেয়ে দেখছি। এই তরুণীর পক্ষ থেকে আগে কখনোই বিয়ের কথা জানানো হয়নি। হঠাৎ করে বাড়িতে এসে এভাবে বিয়ের দাবি করলে সামাজিকভাবে মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়। আমরা বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”

​হামলার শিকার ওই তরুণীর পরিবার জানায়, তারা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।