খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

জামদানির ‘মিথ’ ভাঙলেন ফরিদপুরের মোস্তাফিজুর

প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:২৪ পিএম
জামদানির ‘মিথ’ ভাঙলেন ফরিদপুরের মোস্তাফিজুর

৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি টিনের ঘর। এর মধ্যে সারিবদ্ধভাবে সাজানো ছয়টি তাঁত। প্রতিটি তাঁতে দুজন করে বসে একসঙ্গে কাজ করছেন ১২ জন। রেশম সুতা, বাইনা সুতা ও জরির বুননে তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য জামদানি শাড়ি।

এভাবেই মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট্ট টিনের ঘরে মাসে ২২ থেকে ২৫টি জামদানি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। সেগুলো বিক্রিও হয়ে যাচ্ছে। তাঁর এই কারখানার অবস্থান ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামে।

অজপাড়াগাঁয় বসেই বাংলাদেশের প্রথম জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া জামদানি বুনছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ‘অনেকে বলেন শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তৈরি জামদানি শাড়ির মান ভালো। এ মিথ আমি ভেঙে দিয়েছি। সঠিক উপকরণের সঠিক ব্যবহার করলে এবং কাজের প্রতি মমত্ববোধ ও একাগ্রতা থাকলে দেশের যেকোনো জায়গা থেকেই ভালো মানের জামদানি শাড়ি প্রস্তুত করা সম্ভব।’

মোস্তাফিজুরের শাড়ির মান ভালো হওয়ার কারণে ক্রেতারা বাড়িতে এসে কিনে নেন। আবার বিভিন্ন পার্বণ উপলক্ষে আগে থেকেও তাঁকে শাড়ির ফরমাশ দিয়ে রাখেন অনেকে। আবার অনেক সময় রূপগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরীতেও পাঠান তাঁর শাড়ি।

প্রথমে শিখেছেন, এখন শেখাচ্ছেন

জামদানির নকশা সুচিকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয় না, ছাপাও হয় না। এর বুনন এক বিস্ময়কর বয়নকৌশল। বাবা থেকে ছেলে, ওস্তাদ থেকে শাগরেদ—শ্রুতি ইতিহাস আর হাতে–কলমে শেখার মধ্য দিয়ে পরম্পরায় প্রবাহিত হয়ে চলেছে এই বয়নশিল্প।

অভাবের সংসারে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর আর পড়াশোনা করা হয়ে ওঠেনি মোস্তাফিজুর রহমানের। এ কারণে শৈশব থেকেই জীবিকার সন্ধানে নিয়োজিত করেন নিজেকে। ১৬ বছর বয়সে ২০০৭ সালে তিনি চলে যান নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার জামদানিপল্লিতে। সেখানেই তিনি জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ শেখেন। এরপর রূপগঞ্জেই একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। সেখানে কাটিয়ে দেন ১৪ বছর।

একসময় মন চায় নিজ এলাকায় ফিরতে। ২০২১ সালে তিনি ফিরে আসেন ফরিদপুরের পানাইল গ্রামের নিজ বাড়িতে। সেখানেই একটি তাঁত বসিয়ে জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন। আগ্রহী অন্যদেরও বুননের কাজ শেখাতে থাকেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁত ও কারিগরের সংখ্যা। এখন তাঁর মোট ছয়টি তাঁত। এতে কাজ করছেন তিনিসহ ১২ জন। ইতিমধ্যে স্ত্রী নিলা বেগম তাঁতের কাজ শিখে নিয়েছেন। তিনিও সংসারের কাজের ফাঁকে স্বামীর সঙ্গে জামদানি বোনায় হাত লাগান।

নিজের কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই মোস্তাফিজুরের। শাড়ি বিপণনের জন্য তিনি একটি নামও দিয়েছেন—‘মুসলিম জামদানি ঘর’। যদিও বাড়ির কোথাও এ নামে কোনো সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়নি। মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শাড়ি উৎপাদনে এখন পর্যন্ত তিনি পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। একটা শাড়িতে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ রেশমি সুতা থাকে। রেশমি সুতা কেনা হয় রাজশাহী থেকে। একটি শাড়িতে সুতা বাবদ ব্যয় হয় অন্তত দুই হাজার টাকা। সুতা কেনা থেকে শুরু করে কারিগরদের বেতন দেওয়ার পরও প্রতি মাসে তাঁর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

মোস্তাফিজুর রহমানের মোট ছয়টি তাঁত। এতে কাজ করেন তিনিসহ ১২ জন
মোস্তাফিজুর রহমানের মোট ছয়টি তাঁত। এতে কাজ করেন তিনিসহ ১২ জন

আছে সংকটও

ফরিদপুর সদর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা লাগোয়া পানাইল গ্রাম। এলাকায় বেকারের সংখ্যা কম নয়। তারপরও মোস্তাফিজুরের কারখানায় জনবলসংকট লেগেই থাকে। কারণ হিসেবে মোস্তাফিজুর জানান, অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করতে পারেন, মানুষ পরিশ্রম করতে চায় কম, কাজের প্রতি ততটা মনোযোগী হতে পারেন না। ধরে রাখতে পারেন না ধৈর্য। এ কারণে শিখতে আসা ব্যক্তিদের ঝরে পড়ার সংখ্যাও কম নয়। এরপরও গ্রামে গ্রামে ঘুরে লোক সংগ্রহ করেন তিনি। মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সারা বছরই জনবলের সংকট থাকে। তারপরও আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

মোস্তাফিজুরের শাড়ির কারখানায় কারিগর হিসেবে কাজ করেন আলফাডাঙ্গার টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামের মোহাম্মদ হোসাইন (২৯)। আগে তিনি রূপগঞ্জে কাজ করতেন। পরে এলাকায় এসে মোস্তাফিজুরের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘এলাকায় যখন এ কাজ শুরু হলো এবং দেখলাম সুযোগ-সুবিধা একই, এ জন্য আমি মোস্তাফিজুর ভাইয়ের কারখানায় এসে যোগ দিয়েছি। ঘরের ভাত খেয়ে কাজ করতে পারছি। এতে আমার লাভই হচ্ছে।’

উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পাতরাইল গ্রামের তরুণ মো. হামীমের (১৮) জামদানি বুননের হাতেখড়ি মোস্তাফিজুরের কাছেই। দরিদ্র কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজুর ভাই আমাকে ধইরা নিয়া আইসা তাতের কাজ শেখান। প্রথম প্রথম কষ্ট হতো, মনও বসত না। কাজ শেখার পর যখন টাকা পাওয়া শুরু করলাম, তখন উৎসাহ বাইড়া গেল। এখন কাজে না এলে ভালো লাগে না।’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন টগরবন্দ ইউনিয়নের লাগোয়া নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা মো. জিহাদ (১৯)।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের ভাঙ্গা বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. মামুনুর রশিদ জানান, দেশের যেসব জেলায় তাঁতির সংখ্যা বেশি, যেমন নরসিংদী, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়াতে সমিতির মাধ্যমে তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। ফরিদপুর অঞ্চলে কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই। তাই এ এলাকার তাঁতিদের তাঁরা প্রশিক্ষণ দিতে পারেন না। মোস্তাফিজুরকে একটা সমিতি তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জামদানির নকশা সুচিকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয় না, ছাপাও হয় না। এর বুনন এক বিস্ময়কর বয়নকৌশল
জামদানির নকশা সুচিকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয় না, ছাপাও হয় না। এর বুনন এক বিস্ময়কর বয়নকৌশল

‘জামদানিতে ফাঁকফোকর নেই’

মোস্তাফিজুরের কারখানায় তৈরি জামদানি শাড়ি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা সারমীন ইয়াছমীনের। তিনি ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই বছরের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা ইউএনও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এই উপপরিচালক বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জ থেকেও বেশ কয়েকটি জামদানি শাড়ি কিনেছি। সেগুলোর থেকে মোস্তাফিজুরের শাড়ির গুণগত মান অনেক ভালো।’ তিনি বলেন, জামদানি শাড়িতে অনেক মারপ্যাঁচ আছে, দৈর্ঘ্যে প্রস্থে এক ইঞ্চি শাড়ি ছোট হলেও বিক্রেতার লাভ। তবে মোস্তাফিজুরের শাড়ির দৈর্ঘ্য যেমন বড়, প্রস্থও তেমন বড়। এককথায় বলা যায়, মোস্তাফিজুরের হাতের কাজ অসাধারণ এবং কোনো ফাঁকফোকর নেই।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর ‘রাজন জামদানি হাউস’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি মোস্তাফিজুরের জামদানি শাড়ি বিক্রি করে। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক নূর আলম বলেন, ‘মোস্তাফিজুরের জামদানি শাড়ি অরিজিনাল জামদানি। ওর কাজ অসাধারণ। এ কাজে ওর দক্ষতা শতভাগ।’

৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি টিনের ঘরে মোস্তাফিজুর রহমানের জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানা। গত সোমবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পানাইল গ্রামে
৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি টিনের ঘরে মোস্তাফিজুর রহমানের জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানা। গত সোমবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পানাইল গ্রামে

মোস্তাফিজুরের শাড়ির ক্রেতা আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের বাসিন্দা দীপ্তি কুণ্ডুও। তিনি বলেন, ‘আমাদের গর্বের বিষয়, আলফাডাঙ্গাতেই উন্নত মানের শাড়ি প্রস্তুত করছেন মোস্তাফিজুর। যে মানের শাড়িতে মোস্তাফিজুর যে টাকা নেন, এ মানের একটি শাড়ি অন্য কোনো দোকানে গিয়ে কিনতে হলে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়। তাই মোস্তাফিজুরের শাড়িই আমাদের ভরসা।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিজের যোগ্যতায় তিনি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। নিজের পুঁজিতে যতটুকু করে যাওয়া সম্ভব, তাই তিনি করে যাচ্ছেন।

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, মোস্তাফিজুর এলাকার গর্ব। তাঁর তৈরি জামদানি শাড়ি সবার প্রিয় ও পছন্দের। তাঁর প্রত্যাশা, মোস্তাফিজকে ঘিরে এ এলাকায় জামদানি শাড়ি তৈরির একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হোক। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।