খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

জামদানির ‘মিথ’ ভাঙলেন ফরিদপুরের মোস্তাফিজুর

প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
জামদানির ‘মিথ’ ভাঙলেন ফরিদপুরের মোস্তাফিজুর

৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি টিনের ঘর। এর মধ্যে সারিবদ্ধভাবে সাজানো ছয়টি তাঁত। প্রতিটি তাঁতে দুজন করে বসে একসঙ্গে কাজ করছেন ১২ জন। রেশম সুতা, বাইনা সুতা ও জরির বুননে তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য জামদানি শাড়ি।

এভাবেই মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট্ট টিনের ঘরে মাসে ২২ থেকে ২৫টি জামদানি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। সেগুলো বিক্রিও হয়ে যাচ্ছে। তাঁর এই কারখানার অবস্থান ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামে।

অজপাড়াগাঁয় বসেই বাংলাদেশের প্রথম জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া জামদানি বুনছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ‘অনেকে বলেন শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তৈরি জামদানি শাড়ির মান ভালো। এ মিথ আমি ভেঙে দিয়েছি। সঠিক উপকরণের সঠিক ব্যবহার করলে এবং কাজের প্রতি মমত্ববোধ ও একাগ্রতা থাকলে দেশের যেকোনো জায়গা থেকেই ভালো মানের জামদানি শাড়ি প্রস্তুত করা সম্ভব।’

মোস্তাফিজুরের শাড়ির মান ভালো হওয়ার কারণে ক্রেতারা বাড়িতে এসে কিনে নেন। আবার বিভিন্ন পার্বণ উপলক্ষে আগে থেকেও তাঁকে শাড়ির ফরমাশ দিয়ে রাখেন অনেকে। আবার অনেক সময় রূপগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরীতেও পাঠান তাঁর শাড়ি।

প্রথমে শিখেছেন, এখন শেখাচ্ছেন

জামদানির নকশা সুচিকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয় না, ছাপাও হয় না। এর বুনন এক বিস্ময়কর বয়নকৌশল। বাবা থেকে ছেলে, ওস্তাদ থেকে শাগরেদ—শ্রুতি ইতিহাস আর হাতে–কলমে শেখার মধ্য দিয়ে পরম্পরায় প্রবাহিত হয়ে চলেছে এই বয়নশিল্প।

অভাবের সংসারে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর আর পড়াশোনা করা হয়ে ওঠেনি মোস্তাফিজুর রহমানের। এ কারণে শৈশব থেকেই জীবিকার সন্ধানে নিয়োজিত করেন নিজেকে। ১৬ বছর বয়সে ২০০৭ সালে তিনি চলে যান নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার জামদানিপল্লিতে। সেখানেই তিনি জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ শেখেন। এরপর রূপগঞ্জেই একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। সেখানে কাটিয়ে দেন ১৪ বছর।

একসময় মন চায় নিজ এলাকায় ফিরতে। ২০২১ সালে তিনি ফিরে আসেন ফরিদপুরের পানাইল গ্রামের নিজ বাড়িতে। সেখানেই একটি তাঁত বসিয়ে জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন। আগ্রহী অন্যদেরও বুননের কাজ শেখাতে থাকেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁত ও কারিগরের সংখ্যা। এখন তাঁর মোট ছয়টি তাঁত। এতে কাজ করছেন তিনিসহ ১২ জন। ইতিমধ্যে স্ত্রী নিলা বেগম তাঁতের কাজ শিখে নিয়েছেন। তিনিও সংসারের কাজের ফাঁকে স্বামীর সঙ্গে জামদানি বোনায় হাত লাগান।

নিজের কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই মোস্তাফিজুরের। শাড়ি বিপণনের জন্য তিনি একটি নামও দিয়েছেন—‘মুসলিম জামদানি ঘর’। যদিও বাড়ির কোথাও এ নামে কোনো সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়নি। মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শাড়ি উৎপাদনে এখন পর্যন্ত তিনি পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। একটা শাড়িতে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ রেশমি সুতা থাকে। রেশমি সুতা কেনা হয় রাজশাহী থেকে। একটি শাড়িতে সুতা বাবদ ব্যয় হয় অন্তত দুই হাজার টাকা। সুতা কেনা থেকে শুরু করে কারিগরদের বেতন দেওয়ার পরও প্রতি মাসে তাঁর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

মোস্তাফিজুর রহমানের মোট ছয়টি তাঁত। এতে কাজ করেন তিনিসহ ১২ জন
মোস্তাফিজুর রহমানের মোট ছয়টি তাঁত। এতে কাজ করেন তিনিসহ ১২ জন

আছে সংকটও

ফরিদপুর সদর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা লাগোয়া পানাইল গ্রাম। এলাকায় বেকারের সংখ্যা কম নয়। তারপরও মোস্তাফিজুরের কারখানায় জনবলসংকট লেগেই থাকে। কারণ হিসেবে মোস্তাফিজুর জানান, অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করতে পারেন, মানুষ পরিশ্রম করতে চায় কম, কাজের প্রতি ততটা মনোযোগী হতে পারেন না। ধরে রাখতে পারেন না ধৈর্য। এ কারণে শিখতে আসা ব্যক্তিদের ঝরে পড়ার সংখ্যাও কম নয়। এরপরও গ্রামে গ্রামে ঘুরে লোক সংগ্রহ করেন তিনি। মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সারা বছরই জনবলের সংকট থাকে। তারপরও আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

মোস্তাফিজুরের শাড়ির কারখানায় কারিগর হিসেবে কাজ করেন আলফাডাঙ্গার টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামের মোহাম্মদ হোসাইন (২৯)। আগে তিনি রূপগঞ্জে কাজ করতেন। পরে এলাকায় এসে মোস্তাফিজুরের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘এলাকায় যখন এ কাজ শুরু হলো এবং দেখলাম সুযোগ-সুবিধা একই, এ জন্য আমি মোস্তাফিজুর ভাইয়ের কারখানায় এসে যোগ দিয়েছি। ঘরের ভাত খেয়ে কাজ করতে পারছি। এতে আমার লাভই হচ্ছে।’

উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পাতরাইল গ্রামের তরুণ মো. হামীমের (১৮) জামদানি বুননের হাতেখড়ি মোস্তাফিজুরের কাছেই। দরিদ্র কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজুর ভাই আমাকে ধইরা নিয়া আইসা তাতের কাজ শেখান। প্রথম প্রথম কষ্ট হতো, মনও বসত না। কাজ শেখার পর যখন টাকা পাওয়া শুরু করলাম, তখন উৎসাহ বাইড়া গেল। এখন কাজে না এলে ভালো লাগে না।’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন টগরবন্দ ইউনিয়নের লাগোয়া নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা মো. জিহাদ (১৯)।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের ভাঙ্গা বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. মামুনুর রশিদ জানান, দেশের যেসব জেলায় তাঁতির সংখ্যা বেশি, যেমন নরসিংদী, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়াতে সমিতির মাধ্যমে তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। ফরিদপুর অঞ্চলে কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই। তাই এ এলাকার তাঁতিদের তাঁরা প্রশিক্ষণ দিতে পারেন না। মোস্তাফিজুরকে একটা সমিতি তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জামদানির নকশা সুচিকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয় না, ছাপাও হয় না। এর বুনন এক বিস্ময়কর বয়নকৌশল
জামদানির নকশা সুচিকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয় না, ছাপাও হয় না। এর বুনন এক বিস্ময়কর বয়নকৌশল

‘জামদানিতে ফাঁকফোকর নেই’

মোস্তাফিজুরের কারখানায় তৈরি জামদানি শাড়ি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা সারমীন ইয়াছমীনের। তিনি ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই বছরের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা ইউএনও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এই উপপরিচালক বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জ থেকেও বেশ কয়েকটি জামদানি শাড়ি কিনেছি। সেগুলোর থেকে মোস্তাফিজুরের শাড়ির গুণগত মান অনেক ভালো।’ তিনি বলেন, জামদানি শাড়িতে অনেক মারপ্যাঁচ আছে, দৈর্ঘ্যে প্রস্থে এক ইঞ্চি শাড়ি ছোট হলেও বিক্রেতার লাভ। তবে মোস্তাফিজুরের শাড়ির দৈর্ঘ্য যেমন বড়, প্রস্থও তেমন বড়। এককথায় বলা যায়, মোস্তাফিজুরের হাতের কাজ অসাধারণ এবং কোনো ফাঁকফোকর নেই।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর ‘রাজন জামদানি হাউস’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি মোস্তাফিজুরের জামদানি শাড়ি বিক্রি করে। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক নূর আলম বলেন, ‘মোস্তাফিজুরের জামদানি শাড়ি অরিজিনাল জামদানি। ওর কাজ অসাধারণ। এ কাজে ওর দক্ষতা শতভাগ।’

৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি টিনের ঘরে মোস্তাফিজুর রহমানের জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানা। গত সোমবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পানাইল গ্রামে
৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি টিনের ঘরে মোস্তাফিজুর রহমানের জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানা। গত সোমবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পানাইল গ্রামে

মোস্তাফিজুরের শাড়ির ক্রেতা আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের বাসিন্দা দীপ্তি কুণ্ডুও। তিনি বলেন, ‘আমাদের গর্বের বিষয়, আলফাডাঙ্গাতেই উন্নত মানের শাড়ি প্রস্তুত করছেন মোস্তাফিজুর। যে মানের শাড়িতে মোস্তাফিজুর যে টাকা নেন, এ মানের একটি শাড়ি অন্য কোনো দোকানে গিয়ে কিনতে হলে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়। তাই মোস্তাফিজুরের শাড়িই আমাদের ভরসা।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিজের যোগ্যতায় তিনি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। নিজের পুঁজিতে যতটুকু করে যাওয়া সম্ভব, তাই তিনি করে যাচ্ছেন।

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, মোস্তাফিজুর এলাকার গর্ব। তাঁর তৈরি জামদানি শাড়ি সবার প্রিয় ও পছন্দের। তাঁর প্রত্যাশা, মোস্তাফিজকে ঘিরে এ এলাকায় জামদানি শাড়ি তৈরির একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হোক। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সকল বন্দির মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল লিচু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লিচু বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন। তারা বন্দিদের খোঁজখবর নেন এবং কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও বন্দিদের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য, চিকিৎসাসেবা, বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মৌসুমী ফল বিতরণও তার একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি প্রদানের স্থান নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

লিচু বিতরণ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফরিদপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণ ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

আপনার প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না কী বলা উচিত। আমরা তাদের সান্ত্বনা দিতে চাই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের বলা কথাগুলো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোক কোনো সহজ বিষয় নয় এবং একে অন্যের জন্য আরামদায়ক করার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই।

নিচে এমন ৭টি কথার তালিকা দেওয়া হলো যা প্রিয়জন হারানো ব্যক্তিকে বলা থেকে বিরত থাকা উচিত:

১. সবকিছুই কোনো না কোনো কারণে ঘটে: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির কষ্টকে ছোট করে ফেলে। কারণ, সব শোকের পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না এবং কোনো কারণই প্রিয়জনকে হারানোর অভাব পূরণ করতে পারে না।

২. আমি ঠিক জানি আপনার কেমন লাগছে: শোক একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা। এমনকি আপনি নিজে কাউকে হারিয়ে থাকলেও, অন্যের শোকের সাথে নিজের তুলনা করা উচিত নয়।

৩. অন্তত আপনি প্রস্তুতির সময় পেয়েছিলেন: দীর্ঘ অসুস্থতার পর কেউ মারা গেলে অনেকেই এটি বলেন। কিন্তু প্রিয়জন চলে যাবে এটা আগে থেকে জানলেও তার চলে যাওয়ার কষ্ট বা ব্যথা একটুও কমে না।

৪. অন্তত আপনার অন্য সন্তান বা পরিবারের সদস্যরা তো আছে: এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে একজনের অভাব অন্যজন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। এটি মৃত ব্যক্তির গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়।

৫. শক্ত হোন: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির ওপর আবেগ চেপে রাখার জন্য এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। শোকের সময় ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক এবং অনেক সময় এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

৬. এখন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: শোক কাটানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাউকে ভুলে যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার নাম শোক কাটিয়ে ওঠা নয়, বরং শোককে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে শিখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।

৭. শুধু ভালো স্মৃতিগুলোর কথা ভাবুন: শোকের শুরুতে ভালো স্মৃতিগুলোও অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ সেই মানুষটির অনুপস্থিতি আরও প্রকটভাবে অনুভূত হয়। শোকাতুর ব্যক্তি কীভাবে শোক পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত নয়।

সঠিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উপায়

সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আপনার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারে। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি জানি না কী বলা উচিত, তবে আমি তোমার পাশে আছি’। এছাড়া শুধু কথা না বলে ঘরের কাজে সাহায্য করা বা নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, লক্ষ্য শোক দূর করা নয়, বরং তাকে অনুভব করানো যে এই কঠিন যাত্রায় তিনি একা নন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড