খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

‘দেশে অন্তঃসত্ত্বা ও নতুন মায়েদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও বিষণ্নতা’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৫১ পিএম
‘দেশে অন্তঃসত্ত্বা ও নতুন মায়েদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও বিষণ্নতা’

দেশে নারীদের মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার পুরুষদের তুলনায় বেশি। অন্তঃসত্ত্বাকালীন ও প্রসবোত্তর সময়ে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়। সম্প্রতি আইসিডিডিআর,বি-র  অ্যাডসার্চ প্রকল্পের গবেষণায়, বাংলাদেশে অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর  আইসিডিডিআর,বি-র  সাসাকাওয়া অডিটোরিয়ামে অ্যাডসার্চ প্রকল্পের ‘এনহ্যানসিং অ্যাক্সেস টু মেন্টাল হেলথ সার্ভিস থ্রু টেলিমেডিসিন হেলথ সার্ভিস অ্যাট ওয়েলবিং সেন্টার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে গবেষকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।  গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্মের পর ৭৭ শতাংশ নারী বিষণ্ণতা কিংবা উদ্বেগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ নারী একইসঙ্গে এই দুই সমস্যার মুখোমুখি হন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের হিসেব অনুযায়ী সারা বিশ্বে ৯৭ কোটির (৯৭০ মিলিয়ন) বেশি মানুষ কোনও না কোনোভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এর মাঝে প্রায় ২৪ কোটি (২৪০ মিলিয়ন) ব্যক্তিই বাস করেন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। বাংলাদেশে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন— এর একটি ধারণা পাওয়া যায় ২০১৯ সালের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপে। যেখানে দেখা গিয়েছিল, দেশের অন্তত ১৯ শতাংশ মানুষ মানসিক রোগে ভুগছেন। বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় মানসিক চিকিৎসকের সংখ্যা একেবারেই অপ্রতূল। দেশে মানসিক চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২৬০ জন। অর্থাৎ প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য ২ জনেরও কম ডাক্তার। দেশে মনোবিজ্ঞানী রয়েছে ৫৬৫ জন, অর্থাৎ প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য ৪ জনেরও কম। এদের বেশিরভাগ আবার শহর এলাকায় থাকেন। এর ফলে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সরাসরি মানসিকসেবা প্রদান করা খুবই চ্যালেঞ্জের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইসিডিডিআরবি জানায়, এই গবেষণার আওতায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই বছরের জুলাই পর্যন্ত ঢাকার বাইরে, দেশের ৭টি জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা সদর হাসপাতালের ৭ হাজার ৫০০ জনকে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যার মধ্যে সেবা গ্রহণকারী ছিলেন ৫ হাজার ৬০০ জন নারী।  বিষণ্ণতায় আক্রান্ত নারীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোন দুঃখবোধ, ঘুমের ব্যাঘাত, কাজের আগ্রহ ও আনন্দ হারানো, ক্লান্তি, নিজেকে দোষারোপ, খাবারে অরুচি, মনোযোগের অভাব এবং কখনও কখনও আত্মহত্যার চিন্তা ইত্যাদি লক্ষণ পাওয়া গেছে। অপরদিকে উদ্বেগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে ছিল স্নায়বিক অস্থিরতা, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, হঠাৎ ভয় পাওয়া ও অস্থিরতা।

যে ৭ হাজার ৫০০ জনকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে— তারা অ্যাডসার্চ প্রকল্পের মনস্বাস্থ্য কেন্দ্র বা ওয়েলবিং সেন্টার থেকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছিলেন।

অ্যাডসার্চ পরিচালিত বাস্তবায়নাধীন গবেষণা প্রকল্প মনস্বাস্থ্য কেন্দ্র বা “ওয়েলবিয়িং সেন্টার” উদ্যোগটি একটি আশাব্যঞ্জক উদাহরণ। ৭টি কেন্দ্রের প্রেক্ষাপটে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় সব স্বাস্থ্যকর্মী এই সেবার বাস্তবায়নকে কার্যকর ও সম্ভাবনাময় মনে করেছেন। একইসঙ্গে ১ হাজার ৯ জন অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসবোত্তর নারী এই সেবাকে গ্রহণযোগ্য, উপকারী এবং নিরাপদ বলে মূল্যায়ন করেছেন।

গবেষণায় ব্যবহৃত মানসিক স্বাস্থ্য নির্ণায়ক দুটি গবেষণা পদ্ধতি থেকে উঠে এসেছে, কাউন্সেলিং সেশনের ফলে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের লক্ষণ উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। গর্ভকালীন সময়ে মহিলারা মনস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে ভিডিওকনফারেন্স কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানী ও মানসিক চিকিৎসকদের থেকে ব্যক্তিগত ও বিশেষায়িত সেবা লাভ করতে পারছেন। সেবা গ্রহণকারী স্বাস্থ্যকর্মীরাও উদ্যোগটিকে কার্যকর ও সম্ভাবনাময় বলে মনে করেন।

প্রজনন বয়সী নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য

বাংলাদেশে প্রজনন-বয়সী নারীদের উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার লক্ষণ মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (বিডিএইচএস)-২০২২ তথ্য ব্যবহার করে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ২০ হাজার ২৯ জন প্রজনন বয়সী নারীদের মধ্যে শতকরা ৪ ভাগ মাঝারি থেকে তীব্র উদ্বেগ এবং শতকরা ৫ ভাগ মাঝারি থেকে তীব্র বিষণ্ণতায় ভুগছেন। উল্লেখ্য, বিডিএইচএস ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো মানসিক স্বাস্থ্য মডিউল অন্তর্ভূক্ত করেছে। ভৌগলিকভাবে দেখা যায় যে, দূর্যোগপ্রবণ বিভাগগুলো যেমন- খুলনা, রংপুর ও সিলেটের নারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার হার বেশি।

সাইবার বুলিং-এ বড় বিপদ

বাংলাদেশ অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিইং সার্ভে (২০১৯-২০২০) এর ৪ হাজার ৯৮৪ জন কিশোরী নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশি কিশোরীদের মধ্যে সাইবার বুলিং ও তীব্র বিষণ্নতার সম্পর্ক নিয়ে এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাইবার বুলিং কিশোরী নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। জরিপে অংশ নেওয়া কিশোরীদের মধ্যে ৮ শতাংশ গত একবছরে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে ১২ শতাংশ কিশোরীর মধ্যে তীব্র বিষণ্নতা রয়েছে

মনস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা মনস্বাস্থ্যের এই মডেল উদ্যোগ বাংলাদেশে অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসবোত্তর নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মতামত প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিডিডিআর,বি-র  মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র ডিভিশন ডিরেক্টর ড. আনিসুর রহমান। বৈজ্ঞানিক সেশনে গর্ভাবস্থায় নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সমাধান উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআর,বি-র সায়েন্টিস্ট ড. আহমেদ এহসানূর রহমান, ও সহকারী সায়েন্টিস্ট ডা. সাহার রাজা।

দ্বিতীয় সেশনে আইসিডিডিআর,বি-র অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আনীকা তাসনিম হোসেন, টেলিমেন্টাল হেলথ সেবার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার উপায় তুলে ধরেন।

নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার তার বক্তৃতায় বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যকে শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। মহিলাদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা আরও ভয়াবহ। জাতি হিসেবে কিংবা অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নতি করতে হলে আমাদের সম্মিলিতভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিতে হবে’।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘অন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মতো আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আশার কথা হলো, সরকার এরই মধ্যে মেন্টাল হেলথ অ্যাক্ট, মেন্টাল হেলথ পলিসি প্রণয়ন করেছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমরা এগুলোকে সবার জন্য কীভাবে স্থায়ীভাবে বাস্তবায়ন করবো, তা নিয়ে  ভাবতে হবে।’ তিনি আইসিডিডিআর,বি মনস্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে গবেষণা থেকে পাওয়া জ্ঞানকে কাজে লাগানোর আহবান জানান।

ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন, লাইন ডিরেক্টর, এনসিডিসি, ডিজিএইচএস এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে। ইভিডেন্স নির্ভর মডেলগুলোকে ইউনিয়ন কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে মানুষের হাতের নাগালে নিতে হবে। মানুষকে জানাতে হবে এখানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়’।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ- এর পরিচালক  প্রফেসর ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার দেশের উপজেলা পর্যায়ের ৬০০ ডাক্তারকে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে  প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তিনি বিপুল জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য মনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের টেলি-মেন্টাল সার্ভিসের মতো উদ্যোগ আরও নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন।

গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার পক্ষ থেকে গবেষণা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান এডওয়ার্ড ক্যাবেরা, ফার্স্ট সেক্রেটারি – ডেভেলপমেন্ট (হেলথ), কানাডিয়ান হাইকমিশন, বাংলাদেশ। তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন, প্রত্যেক মহিলাই তার প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা যেন পেতে পারেন এলক্ষ্যে কানাডা সরকার কাজ করে যাবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাডসার্চ প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. শামস এল আরেফিন।

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”