খুঁজুন
, ,

চর্বি খেলেই কি হৃদরোগ? জানুন সত্যটা

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ
চর্বি খেলেই কি হৃদরোগ? জানুন সত্যটা

খাবারে চর্বি বা ফ্যাটের নাম শুনলেই অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে মনে করেন, ফ্যাট খেলেই হৃদরোগ হবে বা ওজন বেড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। সব ফ্যাট একরকম নয়।

কিছু ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর হলেও কিছু ফ্যাট আবার হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ফ্যাট পুরোপুরি বাদ না দিয়ে কোন ফ্যাট খাবেন আর কোনটি এড়িয়ে চলবেন, সেটাই জানা বেশি জরুরি।

শরীরের জন্য ফ্যাট কেন দরকার

ফ্যাট শরীরের একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এটি শরীরে শক্তি জোগায়, ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে শোষণে সাহায্য করে এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ত্বক ও চুল ভালো রাখতেও ফ্যাট দরকার। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ফ্যাট খেলে ওজন বাড়ে, যা হৃদরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

কোন ফ্যাটগুলো কম খাওয়া উচিত

সব ফ্যাট সমান নয়। কিছু ফ্যাট নিয়মিত বেশি খেলে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে।

স্যাচুরেটেড ফ্যাট

এই ধরনের ফ্যাট সাধারণত প্রাণিজ খাবারে বেশি পাওয়া যায়। যেমন

– গরু বা খাসির চর্বিযুক্ত মাংস

– মুরগির চামড়া

– পুরো দুধ, মাখন, পনির, আইসক্রিম

– নারিকেল তেল ও পাম তেল

স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। এতে ধমনিতে চর্বি জমে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এই ফ্যাট একেবারে বাদ না দিলেও সীমিত রাখা ভালো।

ট্রান্স ফ্যাট

ট্রান্স ফ্যাটকে সবচেয়ে ক্ষতিকর ফ্যাট বলা হয়। এটি সাধারণত প্রক্রিয়াজাত ও ভাজা খাবারে থাকে। যেমন

– ফাস্ট ফুড

– ডিপ ফ্রাই খাবার

– বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি

– কিছু মার্জারিন

এই ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই ট্রান্স ফ্যাট যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো।

কোন ফ্যাটগুলো হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো

সব ফ্যাট খারাপ নয়। কিছু ফ্যাট নিয়মিত ও পরিমিত খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে।

মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট

এই ফ্যাট রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়। পাওয়া যায়

– অলিভ অয়েল

– চিনাবাদাম তেল

– বাদাম

– অ্যাভোকাডো

পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট

এই ফ্যাট শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না, তাই খাবার থেকেই নিতে হয়। এর মধ্যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

ওমেগা থ্রি পাওয়া যায়

– সামুদ্রিক মাছ যেমন সারডিন, স্যামন

– আখরোট

– চিয়া বীজ ও তিসি

ওমেগা সিক্স ফ্যাটও শরীরের জন্য দরকার, তবে সেটিও পরিমিত মাত্রায় খেতে হবে।

পরিমাণের দিকে নজর দিন

ভালো ফ্যাট হলেও বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে। কারণ ফ্যাটে ক্যালরি বেশি। তাই রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে সেদ্ধ, ভাপানো বা হালকা রান্না করা খাবার বেছে নেওয়া ভালো। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল ও মাছের পরিমাণ বাড়ালে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা সহজ হয়।

ফ্যাট মানেই ক্ষতিকর এই ধারণা ঠিক নয়। কোন ফ্যাট ভালো আর কোনটি খারাপ, তা জানা থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ট্রান্স ফ্যাট এড়িয়ে চলা, স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খাওয়া এবং ভালো ফ্যাট পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলেই হৃদযন্ত্র ভালো থাকবে।

সচেতন খাবার নির্বাচনই সুস্থ জীবনের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

সূত্র : Health Line

ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তামান্না আক্তার মৌ (২৩) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী।

​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

​নিহত তামান্না আক্তার মৌ নগরকান্দা উপজেলার রামেশ্বর এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে এবং ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় তামান্নাকে দেখতে পান তার স্বামী শাখাওয়াত। পরে দরজা ভেঙে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রীন প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামান্নাকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ রেখেই গা ঢাকা দেন স্বামী শাখাওয়াত।

​নিহতের মায়ের দাবি, তামান্নাকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। দুপুরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

​ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে অবহিতকরণ সভা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে অবহিতকরণ সভা

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোলার সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আশীষ কুমার রায়।

​সভায় স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রুফটপ সোলার সিস্টেম, ক্যাপেক্স ও ওপেক্স মডেল, নেট মিটারিংয়ের আবেদন, রুফটপ সোলার ক্যালকুলেটরের ব্যবহার এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

​পাশাপাশি সোলার সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে তালিকাভুক্তির নিয়ম, ন্যূনতম যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া ও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। পরে মুক্ত আলোচনায় অংশীজনদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

​সভায় বক্তারা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বহুল ব্যবহার নিশ্চিত করতে দক্ষ ও মানসম্মত সেবা প্রদানকারীর বিকল্প নেই। সার্ভিস প্রোভাইডারদের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকরাও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন। এর মাধ্যমে দেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

​অনুষ্ঠানে আলফাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিনিধি, বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ান, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে অনশন, হামলায় জখম ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে অনশন, হামলায় জখম ৩

ফরিদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের মঙ্গলকোটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক তরুণী এবং তার মা ও ভাই। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মঙ্গলকোট গ্রামের ওই শিক্ষকের বসতভিটায় এ ঘটনা ঘটে।

​পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​ভূক্তভোগী তরুণী জানান, পাশের গ্রামের তাজুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাসও করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাজুল ইসলাম স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তার পরিবার অন্যত্র বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি তাজুলের বাড়িতে গেলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে তরুণীসহ তার মা ও ভাইকে মারধর করে জখম করা হয়।

​এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হন ওই পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে তারা উগ্র মেজাজে হুমকি-ধমকি দেন এবং মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। পরে ক্যামেরার সামনে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসা শিক্ষক তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​তবে তাজুলের চাচা রহমতউল্লাহ বলেন, “আমরা ছেলের জন্য মেয়ে দেখছি। এই তরুণীর পক্ষ থেকে আগে কখনোই বিয়ের কথা জানানো হয়নি। হঠাৎ করে বাড়িতে এসে এভাবে বিয়ের দাবি করলে সামাজিকভাবে মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়। আমরা বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”

​হামলার শিকার ওই তরুণীর পরিবার জানায়, তারা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।