খুঁজুন
, ,

‘ন্যানো ব্যানানা এআই শাড়ি’ ট্রেন্ডে মেতেছে নেট দুনিয়া

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
‘ন্যানো ব্যানানা এআই শাড়ি’ ট্রেন্ডে মেতেছে নেট দুনিয়া

প্রথম ট্রেন্ডের নাম ‘গুগল জেমিনি’র ‘ন্যানো ব্যানানা এআই শাড়ি’ এবং দ্বিতীয়টার নাম ‘ন্যানো ব্যানানা থ্রি-ডি ফিগারিন’ (থ্রি-ডি মূর্তি)। ভারতে তো বটেই, এই ট্রেন্ড থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও।

ঠিক যেমনটা কিছুদিন আগে ‘ঘিবলি আর্ট’র মজেছিল নেট দুনিয়া। জাপানি অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘স্টুডিও ঘিবলি’ থেকে অনুপ্রাণিত ছিল সেই ট্রেন্ড।

 

এই মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নয়া ট্রেন্ড। তার নেপথ্যে রয়েছে গুগলের জেমিনি ন্যানো ব্যানানা ইমেজ জেনারেটিং টুল যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে ছবি তৈরি করে।

এরকম ছবি পেতে হলে ব্যবহার করতে হবে ‘প্রম্প্ট’ বা ইন্সট্রাকশন। যেমন শাড়ির রং কি হবে, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে কেমন থাকবে, আলো কেমন হবে ইত্যাদি।

তারপর আপনার ছবি আপলোড করলেই ‘ন্যানো ব্যানানা ইমেজ জেনারেটর’ ওই ‘প্রম্প্ট’ অনুযায়ী নতুন বানিয়ে দেবে। থ্রি-ডি ফিগারিনের ক্ষেত্রে থাকবে আপনার ছোট মূর্তি এবং পাশে স্কেচ।

‌গত কয়েকদিন ধরে এই ট্রেন্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারদের মধ্যে ভারতে এই নিয়ে উন্মাদনা ক্রমশ বেড়েছে বলেছেন সিমরণ পি কৌর, সোশ্যাল মিডিয়া ও ট্রেন্ড নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি।

মিজ কৌর বলেছেন, ভারতে গত কয়েক দিনে লক্ষ লক্ষ ইউজার এই ট্রেন্ড অনুসরণ করেছেন। সেলেব্রিটি থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেই এই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছেন। মজার বিষয় হলো কীভাবে এই এআই টুল ব্যবহার করে এডিট সম্ভব সেই প্রশ্নও ট্রেন্ড করছে।

‌‌ন্যানো ব্যানানা কী?

গুগল জেমিনাইর এর সাম্প্রতিকতম এআই মডেলের মধ্যে একটা ‘ন্যানো ব্যানানা’ যা ইমেজ জেনারেট করতে পারে।

প্রযুক্তিবিদ সৌম্যক সেনগুপ্ত বলেছেন, বিভিন্ন ধরনের এআই মডেল রয়েছে এবং এদের ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ন্যানো ব্যানানা নামক মডেল এআই ইমেজ জেনারেট করতে পারে। তার জন্য তাকে কিছু প্রম্প্ট দিতে হয়।

প্রম্প্ট হলো ইন্সট্রাকশন। সহজভাবে বলতে গেলে, এআই মডেলকে আরো নির্দিষ্ট ভাবে ইন্সট্রাকশন দিলে সেই অনুযায়ী সে কাজ করে। যেমন ছবিতে শাড়ি কী রঙের, চুল কেমন, ব্যাকগ্রাউন্ড, লাইটিং কেমন হবে ইত্যাদি। প্রম্প্ট যত বিস্তারিত এবং নির্দিষ্ট হবে কাজ তত নিখুঁত হওয়ার সম্ভাবনা।

চ্যাটজিপিটির মাধ্যমেও এআই ইমেজ তৈরি সম্ভব। ন্যানো ব্যানানা নির্দিষ্টভাবে এআই ইমেজ জেনারেট করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

মি. সেনগুপ্ত বলছেন, থ্রি-ডি ফিগারিন এবং এআই শাড়ি এই দুই ট্রেন্ড এই মুহূর্তে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দু’টোর প্রম্প্ট আলাদা।

কোন প্রম্প্ট ব্যবহার করলে ছবি আসবে তা জানার জন্য অনেকেই গুগলে সার্চও করছেন। কারণ যেমন ছবি তারা চাইছেন সেটা পাচ্ছে না। প্রম্প্ট-এর হেরফেরে ছবিও কিন্তু বদলে যেতে পারে।

ব্যবহারকারীরা কী বলছেন?

এই ট্রেন্ডে যারা গা ভাসিয়েছেন তাদেরই একজন আসামের নেহা সিং।

ইনস্টাগ্রাম আর ফেসবুক-এ বন্ধুদের ছবি দেখে বেশ মজা লেগেছিল। আমারও ইচ্ছে হলো, কথাগুলো বলতে বলতে হেসে ফেলেছিলেন তিনি।

তার কথায়, আমি ভেবেছিলাম অনলাইনে ইমেজ এডিটিং টুল ব্যবহার করার মতোই সহজ। কিন্তু পারফেক্ট প্রম্প্ট ব্যবহার করে মন মতো ছবি পেতে সময় লাগে।

কিছুতেই মনের মতো ছবি পাচ্ছিলাম না। ৯০ দশকের বলিউড-এর অনুকরণে ছবি পাওয়ার জন্য সামান্য হেরফের করে বেশ কয়েকবার প্রম্প্ট ব্যবহার করেছি। যেমন চুল কেমন বাঁধা হবে, আলো কেমন হবে ইত্যাদি। সত্যি বলতে কী মজাই লেগেছে, বলছিলেন তিনি।

ট্রেন্ডে মজে ‘থ্রিডি ফিগারাইন’ ইমেজও তৈরি করেছেন তিনি।

অস্মিতা চক্রবর্তী নামে এক শিক্ষার্থী বলছিলেন, আমি সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত ট্রেন্ড ফলো করি। ঘিবলি আর্ট যখন ট্রেন্ড করছিল, সেটাও ব্যবহার করেছি। আমার বন্ধুরাও এই ট্রেন্ড ফলো করেছে।

পেশায় শিক্ষিকা সাগরিকা দাসও বাদ যাননি। তার কথায়, “আমার মেয়ে প্রথমে ছবি এডিট করে দিয়েছিল। তারপর কৌতূহলবশতই আমিও চেষ্টা করি। ”

ভাইরাল হওয়ার নেপথ্যে কী?

ভারতে এই ট্রেন্ডের প্রসঙ্গে সাংবাদিক এ অরবিন্দ বলেছেন, এখানে এআই শাড়ি ট্রেন্ড কিন্তু প্রধানত বলিউড থেকে অনুপ্রাণিত। ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে যে ছবি দেখা যাচ্ছে তার বেশিরভাগই রেট্রো বলিউড হিরোইনদের আদলে।

মি. আরবিন্দ বলেছেন,এখনকার বলিউড অভিনেত্রীরাও এই ট্রেন্ডে মেতেছেন। এই তালিকায় সোনাকশি সিন্‌হাও আছেন। দক্ষিণ ভারতীয় এবং অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির অভিনেত্রীরাও বাদ যাননি।

অভিনেতাদের মধ্যে আবার থ্রি-ডি ফিগারাইন ইমেজ তৈরির প্রবণতা বেশি। এমনকী রাকেশ রোশনও বাদ যাননি। তিনি এআই ইমেজ আর্টিস্টের তৈরি থ্রি-ডি ফিগারিন নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন। এদের দেখে আপামর জনসাধারণ সেদিকে ঝুঁকবে সেটাই তো স্বাভাবিক।

প্রযুক্তিবিদ সৌম্যক সেনগুপ্ত বলেছেন, থ্রিডি ফিগারিনের ছবিসহ পোস্ট কিন্তু মাসখানেক আগেও সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি, যদিও সেটা একটু অন্যরকম ছিল। তখন এটা ভাইরাল হয়নি। কোন ট্রেন্ড কখন ভাইরাল হয় সেটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

একটা ট্রেন্ড জনপ্রিয়তা পেলে বাকিরা সেই পথে হাঁটেন। সাধারণত, অভিনেতা-অভিনেত্রী বা ইনফ্লুয়েন্সাররা কোনো ট্রেন্ড ফলো করলে তাদের লক্ষ লক্ষ অনুগামীদের অনেকেই তা অনুকরণ করেন। যেহেতু শাড়ি, তাই ভারত ও বাংলাদেশ দুই জায়গাতেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে এআই শাড়ি ট্রেন্ড।

নিজস্বতার অভাব

টলিউডের অভিনেত্রী রূপসা মুখোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে ছবি শেয়ার করলেও ট্রেন্ডে গা ভাসাতে রাজি নন। এই অভিনেত্রীর কথায়, আমি সাধারণত ট্রেন্ড অনুরকণ করি না। আমার ফ্যানরা ছবিগুলো এডিট করে পাঠিয়েছেন। আমার ভাল লাগার কারণ এই ছবিগুলো যে আমার সেটা বোঝা যায়।

এআই টুল ব্যবহার করে বানানো ছবির সঙ্গে বাস্তব চেহারার মিল নেই। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমার ভালো লাগে না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এডিট করা ছবির চেয়ে ক্যামেররার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলাতেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ বলে জানিয়েছেন।

তার কথায়, এআই ইমেজ ফ্ললেস (খুঁত নেই)। কিন্তু মানুষের খুঁত থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেই বেশি ভালো লাগে।

কিন্তু যেভাবে এআই প্রযুক্তি দিয়ে ছবি তৈরি শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে ফটোগ্রাফির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?

অপেশাদার ফটোগ্রাফার উজ্জ্বল রায় অবশ্য মনে করেন, ফটোগ্রাফিকে এআই কোনোদিন টেক্কা দিতে পারবে না।

তিনি বলছেন, ক্যামেরার ফোকাস ঠিক করা, আলো অ্যাডজাস্ট, বারবার চেষ্টার একটা মনো মতো ছবি পাওয়ার মধ্যে আলাদা আনন্দ আছে। সেটাকে এআই টেক্কা দিতে পারবে না।

ট্রেন্ড যেমন আসে তেমন চলেও যায়

বিশেষজ্ঞদের মতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ট্রেন্ড ভাইরাল হওয়ার নেপথ্যে বিভিন্ন কারণ থাকে।

সিমরণ পি কৌর ব্যাখ্যা করেছেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বা ইনফ্লুয়েন্সারদের দেখে সাধারণ মানুষও সেই ট্রেন্ড অনুকরণ করেন। তাছাড়া সমাজ মাধ্যমে লাইক পাওয়ার তাগিদও থাকে।

শাড়ি পরা ছবির এই ট্রেন্ড ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ফ্যাশনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলতে গেলে শাড়ি সবসময় ট্রেন্ডিং। আর বলিউড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবি তোলার ট্রেন্ডও বরাবরই জনপ্রিয়। এই দুইই এক্ষেত্রে কাজ করেছে। থ্রি-ডি ফিগারিন-এর বিষয়টা অন্য ট্রেন্ডের চেয়ে আলাদা এবং ইন্টেরেস্টিং তাই নজর কেড়েছে।

তার মতে, এই ট্রেন্ড দীর্ঘস্থায়ী নয়। মিজ কৌর বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ট্রেন্ডি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ঘিবলির মতো এই ট্রেন্ড নিয়েও মাতামাতি কমে যাবে। তখন অন্য ট্রেন্ড আসবে।

উদ্বেগ

এআই জেনারেটেড ছবি যে বাস্তব চেহারার চেয়ে আলাদা, এ বিষয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

সৌম্যক সেনগুপ্ত ব্যাখ্যা করেছেন, প্রাইভেসির কথা মাথায় রেখে এআই মডেলের ক্ষেত্রে কিছু রেস্ট্রিকসন রাখা হয়েছে। তাই জেনারেট করা ছবি আসল ছবির মতো কিন্তু হুবহু এক হবে না।

এআই ব্যবহার করে ত্রুটিযুক্ত ফল আসতে পারে। ঘিবলি আর্টের সময় দেখা গিয়েছিল রেফারেন্স ইমেজে একজন ব্যক্তি ছবি আঁকা টিশার্ট পড়ে আছে। ঘিবলি আর্ট জেনারেট করার সময় এআই আলাদা করতে পারেনি। ছবিতে ওই ব্যক্তির সঙ্গে একজন বাচ্চার ইমেজ জেনারেট করেছে।

অন্যদিকে এআইর অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে মি. সেনগুপ্ত বলেছেন, ইতোমধ্যে নিজেদের অনেক তথ্য ফাঁস হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের প্রচুর ছবি রয়েছে। কাজেই এতে নতুন করে কোনো প্রাইভেসি সংক্রান্ত চিন্তা আছে বলে আমার মনে হয় না।

কপিরাইট লঙ্ঘনের সমস্যাটা বড় বিষয়। এ ছাড়া এআইর সাহায্যে তৈরি ছবি ও ভিডিও অপব্যবহার করে প্রতারণাও কিন্তু চিন্তার কারণ। ডিপ ফেক নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ও ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ পতন উপলক্ষে বিএনপির বিজয় র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর বিএনপির(একাংশ) আয়োজনে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বোয়ালমারী রেলস্টেশন থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে পৌরসদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালীতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। র‍্যালী শেষে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

র‌্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে বাঙালি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি কোনোদিন ভুলবে না। আর কোনোদিন যাতে জুলাইয়ের জঘন্যতম দিন না আসে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, মফিজুর কাদের খান মিল্টন, জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া, সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, পৌর সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মনির হোসেন, জাসাসের সাবেক সভাপতি শাইন আনোয়ার, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব হাসান সজীব, ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক যাকারিয়া মোল্লা সুমন, জুয়েল প্রমুখ।

ফরিদপুরে শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা, বিএনপির বিজয় র‌্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা, বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনার পাশাপাশি জেলা বিএনপির উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (০৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের হাসিবুল হাসান লাভলু সড়কে অবস্থিত ‘শহীদ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ সর্বপ্রথম শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বিএনপি এবং বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকারীদের অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ, জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বন বিভাগ, জেলা তথ্য অফিস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নির্বাচন অফিস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় যুব শক্তি, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার সভাপতিত্বে র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।

র‌্যালিতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, দেলোয়ার হোসেন দিলা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান সবুজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

পথসভায় বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয়ের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে যাতে আর কোনো স্বৈরাচার বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।

এছাড়া ফ্যাসিবাদ পতন দিবস (৫ আগস্ট) উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে বিকাল সাড়ে ৪টায় শহরের থানা রোড়ে (ফলপট্রি) এক বিশাল গন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

ফরিদপুরে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুর অপেক্ষায় দিন গুনছে মা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুর অপেক্ষায় দিন গুনছে মা

ফরিদপুরে রেলস্টেশন থেকে মানুষের ভিড়ের মধ্যেই হারিয়ে যাওয়া তিন বছরের মো. বাপ্পি নামে এক সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন মা শারমীন আক্তার। ঘটনার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি তার কোনো খোঁজ। শেষ আশ্রয় হিসেবে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সন্তানকে ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন শিশুটির মা।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় বুধবার (৫ আগস্ট) করা জিডি সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ শিশু মো. বাপ্পির (৩) গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সিংহ প্রতাপ গ্রামে। পরিবারের সঙ্গে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর (কি পাইলাম মোড়) এলাকায় বসবাস করছিল সে।

শিশুটির মা শারমীন আক্তার বনানী জিডিতে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ফরিদপুর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকে তার একমাত্র ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জিডিতে শিশুটির শারীরিক বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাপ্পির গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, মুখম-ল গোলাকার, মাথার চুল কালো ও ছোট এবং উচ্চতা প্রায় ২ ফুট ৩ ইঞ্চি। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল একটি হাফ প্যান্ট ও বেগুনি রঙের হাফহাতা গেঞ্জি। বয়স কম হওয়ায় সে নিজের নাম ছাড়া অন্য কোনো পরিচয় বলতে পারে না শিশুটি।

মা শারমীন আক্তার বনানী বলেন, “আমার একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য সব জায়গায় খুঁজেছি। এখনও কোনো খোঁজ পাইনি। কেউ যদি আমার ছেলেকে দেখে থাকেন বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তাহলে দয়া করে আমাকে (মোবাইল নম্বর ০১৭২৭-৪৬৬৩৫৪) বা নিকটস্থ থানায় জানাবেন।”

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, জিডি গ্রহণের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিশুটির সন্ধান পেতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি শিশুটির সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।