খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পুরুষদের জন্য শীতকালীন ৮ সেরা আউটফিট আইডিয়া

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
পুরুষদের জন্য শীতকালীন ৮ সেরা আউটফিট আইডিয়া

শীত এখন পুরোপুরি এসেই গেছে! আপনি হয়তো অনেক কাপড়ের লেয়ার পরে থাকছেন, কিন্তু তাই বলে স্টাইলের সঙ্গে আপস করার কোনো দরকার নেই। ঠান্ডা মৌসুম আসলে দারুণ টেক্সচার, ফ্যাব্রিক এবং লেয়ারিং নিয়ে পরীক্ষা করার সেরা সময়।

মিটিং হোক বা সপ্তাহান্তের ট্রিপ, আমাদের আজকের শীতকালীন আউটফিট আইডিয়াগুলো আপনাকে দেবে উষ্ণতা এবং স্টাইল, দুটোই। ক্যাজুয়াল, অফিস কিংবা পার্টি – সব লুকেই থাকুন ট্রেন্ডের এক ধাপ এগিয়ে।

শীতের ফ্যাশন কেবল ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়া নয়, বরং স্টাইল আর ফাংশনকে মিলিয়ে নেওয়ার কৌশল। অফিসের ক্লাসিক পোশাক থেকে শুরু করে ট্রেন্ডি ক্যাজুয়াল লুক এবং এলিগ্যান্ট পার্টি আউটফিট পর্যন্ত, আজকের লেখা আপনাকে যে কোনো অনুষ্ঠানের জন্য স্টাইলিশ শীতের পোশাক বেছে নিতে সাহায্য করবে।

ফরমাল স্যুট ও ওভারকোট

নেভি বা গ্রে রঙের স্লিম-ফিট স্যুটের ওপর লং ওভারকোট, একটি টাইমলেস শীতের লুক। অফিস মিটিং বা কর্পোরেট ইভেন্ট – সব জায়গাতেই মানিয়ে যায়। লেদার জুতো দিয়ে লুকটি সম্পূর্ণ করুন।

হুডি ও বোম্বার জ্যাকেট

হুডির ওপর বোম্বার জ্যাকেট, নিচে স্লিম-ফিট জিন্স বা কার্গো – আরামদায়ক ও স্টাইলিশ ক্যাজুয়াল আউটফিট। বোম্বার দেবে উষ্ণতা, আর হুডি আনবে নরম আরাম। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা সাধারণ আউটিংয়ের জন্য দারুণ।

ওভারশার্ট ও ডেনিম

প্লেইন টি-শার্টের উপর ফ্লানেল ওভারশার্ট, সঙ্গে রিল্যাক্সড-ফিট জিন্স – সহজ, আরামদায়ক এবং শীতের জন্য উপযুক্ত ক্যাজুয়াল লুক। ওভারশার্ট দেবে বাড়তি উষ্ণতা, আর ডেনিম দেবে আরাম।

লেদার জ্যাকেট ও রিপড জিন্স

ক্লাসিক ব্ল্যাক লেদার জ্যাকেটের নিচে গ্রাফিক টি- একেবারে বোল্ড এবং এডজি লুক। রিপড জিন্স ও বুট পরলে পার্টি-রেডি আউটফিট হয়ে যাবে। ক্যাজুয়াল শীতকালীন গেট-টুগেদারের জন্য পারফেক্ট।

ভেলভেট ব্লেজার ও ডার্ক প্যান্ট

পার্টিতে একটু এলিগ্যান্ট লুক চাইলে ভেলভেট ব্লেজারের সঙ্গে ডার্ক চিনো বা ট্রাউজার দারুণ মানায়। পকেট স্কয়ার যোগ করলে আরও স্মার্ট লাগে। সেমি-ফরমাল বা ফরমাল শীতের পার্টির জন্য উপযুক্ত।

ট্র্যাডিশনাল বন্ধগলা ও শাল

ডার্ক টোনের বন্ধগলা স্যুটের সঙ্গে কাশ্মিরি শাল – উষ্ণতা ও ঐতিহ্যের সুন্দর মিশ্রণ। বিয়ের মতো ফরমাল ইভেন্টে Cultural ছোঁয়া যোগ করতে চাইলে এটা সেরা পছন্দ।

টার্টলনেক ও ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার

মডার্ন লুক চাইলে টার্টলনেকের সঙ্গে ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার অসাধারণ মানায়। স্মার্ট-ক্যাজুয়াল এই লুকটি শীতের বিয়েতেও দারুণ চলে। টার্টলনেক দেবে আরাম, আর ব্লেজার আনবে স্ট্রাকচার ও স্টাইল।

পুরুষদের শীতের পোশাক বাছাইয়ের টিপস

ফ্যাব্রিক নির্বাচন : উষ্ণতা ও আরামের জন্য উল, ক্যাশমিয়ার, ফ্লিসই সেরা। হালকা শীতে কটন বা ব্লেন্ড ভালো। বৃষ্টি হলে ওয়াটারপ্রুফ ফ্যাব্রিক বেছে নিন।

লেয়ারিং : প্রথমে থার্মাল, তারপর সোয়েটার/হুডি/শার্ট, আর সবশেষে জ্যাকেট বা কোট – এটাই সঠিক লেয়ারিং।

বহুমুখী পোশাক : ডার্ক ট্রাউজার, নিউট্রাল সোয়েটার, টেইলরড ব্লেজার – এসব বেসিক আইটেম বারবার ব্যবহার করা যায়।

প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ : স্কার্ফ, গ্লাভস, ক্যাপ – উষ্ণও রাখে, স্টাইলও বাড়ায়। লেদার জুতো বা বুট শীতে খুবই কার্যকর।

স্টাইল টিপস

রঙের সমন্বয়

ফরমাল লুকের জন্য গ্রে, নেভি আর ব্ল্যাক সবচেয়ে ভালো। তবে ক্যাজুয়ালে চাইলে উজ্জ্বল রঙ বা প্যাটার্ন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করুন।

অ্যাক্সেসরিজ ব্যবহার করুন

স্কার্ফ বা গ্লাভস সাধারণ জিন্স-সোয়েটারকেও স্মার্ট করে তুলতে পারে।

টেক্সচারের মিক্স

লেদার + উল, ডেনিম + ফ্লিস – এই ধরনের মিক্স মাত্রা বাড়ায় এবং লুককে আকর্ষণীয় করে তোলে।

শীতকালীন স্টাইল আয়ত্তে রাখুন

সঠিক ফ্যাব্রিক, লেয়ারিং আর বহুমুখী পোশাক – এগুলো মিলে শীতেও আপনি একইসঙ্গে উষ্ণ ও স্টাইলিশ থাকতে পারবেন। অফিস মিটিং থেকে শুরু করে ক্যাজুয়াল আউটিং – সব জায়গায় মানিয়ে যাবে আপনার লুক।

শীতের ফ্যাশন মানেই স্টাইল ত্যাগ নয়, বরং আরও সুযোগ নিজের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলার। উলেন ট্রাউজার, কর্ডস, চিনো- এ ধরনের শীতের প্রয়োজনীয় পোশাক আপনার ওয়ার্ডরোবকে সম্পূর্ণ করবে।

শীতকালীন আউটফিট নিয়ে যত প্রশ্ন

কাজ ও ক্যাজুয়াল আউটিং – দুই জায়গায় মানাবে এমন শীতের আউটফিট কী কী

উত্তর : কাজের জন্য টার্টলনেক + ব্লেজার এবং ক্যাজুয়ালের জন্য হুডি + বোম্বার জ্যাকেট দারুণ মানানসই।

শীতে সঠিক লেয়ারিং কীভাবে করবেন

উত্তর : প্রথমে থার্মাল → তারপর সোয়েটার/শার্ট → তারপর জ্যাকেট/কোট। এতে সারাদিন উষ্ণ ও আরামদায়ক লাগে।

শীতের ওয়ার্ডরোবের প্রয়োজনীয় আইটেম কী

উত্তর : উষ্ণ ফ্যাব্রিকের সোয়েটার, স্কার্ফ ও গ্লাভস, ডার্ক ট্রাউজার, ব্লেজার, জ্যাকেট—এগুলো সবচেয়ে জরুরি।

শীতের পোশাকে কি স্টাইল ও ফাংশন দুটোই রাখা সম্ভব?

উত্তর : অবশ্যই! উল বা ফ্লিসের মতো উষ্ণ ফ্যাব্রিক এবং স্মার্ট লেয়ারিং ব্যবহার করলে স্টাইল ও ব্যবহারিকতা দুটোই পাওয়া যায়।

শীতে আরাম ও স্টাইল দুটো কীভাবে ব্যালেন্স করবেন

উত্তর : উষ্ণ ফ্যাব্রিক বেছে নিন, সঙ্গে স্কার্ফ বা গ্লাভস যোগ করুন। ক্লাসিক কম্বিনেশনের সঙ্গে আধুনিক আউটারওয়্যার ব্যবহার করলে লুক আরও সুন্দর হয়।

সূত্র : ব্রাইট সাইড

ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথায় ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এছাড়া একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার সিংহপ্রতাপ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সিংহপ্রতাপ এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে (২২) কাউলিকান্দা স্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউলিকান্দা এলাকার হাবিবুর রহমানের পক্ষের সঙ্গে ইব্রাহিম মোল্যা ও রফিক মাতুব্বর সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এসময় একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে এলাকায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা-এর আটঘর ইউনিয়নের নিভৃত এক জনপদ খোয়াড় গ্রাম। ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, সবুজে ঘেরা এই গ্রাম যেন প্রকৃতির এক শান্ত আশ্রয়স্থল। গ্রামের প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে শতবর্ষী এক বিশাল বটগাছ, যা শুধু একটি গাছ নয়—এলাকার মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আবেগের জীবন্ত সাক্ষী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটগাছ যেন সময়ের নীরব গল্পকথক হয়ে আজও মাথা উঁচু করে আছে।

বটগাছটির বিশাল ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ছাতার মতো। ঝুলে থাকা অসংখ্য শিকড় মাটির সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি নিজের হাতে যেন একটি জীবন্ত ভাস্কর্য তৈরি করেছে। গাছটির নিচে দাঁড়ালেই মন ভরে যায় শীতল ছায়া আর নির্মল বাতাসে। দিনের প্রখর রোদেও এখানে পাওয়া যায় এক অন্যরকম প্রশান্তি।

ভোর হতেই বটগাছের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে। শালিক, দোয়েল, কোকিল আর নানা নাম না জানা পাখির ডাকে গ্রামের সকাল যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। গাছের ডালে ডালে পাখিদের ছোটাছুটি আর কিচিরমিচির শব্দ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অপার মুগ্ধতা তৈরি করে। সন্ধ্যা নামলে আবার পাখিরা ফিরে আসে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে। তখন পুরো পরিবেশজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবেগঘন দৃশ্য।

এই বটগাছ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা দুপুরের ক্লান্ত সময়ে এসে বসেন গাছটির ছায়ায়। কেউ বিশ্রাম নেন, কেউ গল্পে মেতে ওঠেন, আবার কেউ একটু জিরিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে যান। গ্রামের প্রবীণদের কাছেও এটি স্মৃতির এক অমূল্য জায়গা। অনেকে বলেন, ছোটবেলায় তারা এই গাছের নিচেই খেলাধুলা করেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, এমনকি গ্রামের নানা সামাজিক বিচার-আচারও একসময় এই গাছতলাতেই বসত।

বর্ষাকালে বটগাছটির চারপাশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া সবুজ পাতাগুলো তখন আরও সতেজ দেখায়। শীতের কুয়াশামাখা সকালেও গাছটি যেন রহস্যময় সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের বুকজুড়ে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, এই বটগাছ তারই এক উজ্জ্বল প্রতীক।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই শতবর্ষী বটগাছ খোয়াড় গ্রামের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। তাই গাছটিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে, তখনও খোয়াড় গ্রামের এই বটগাছ অতীত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের গল্প শোনাচ্ছে নীরবে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে?

কোরবানির ঈদ এলেই দেশের পশুর হাটগুলোতে বেড়ে যায় গরু কেনাবেচার ব্যস্ততা। এই সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় গরুকে স্টেরয়েড, হরমোন বা বিভিন্ন ক্ষতিকর ইনজেকশন দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে মোটাতাজা করে।

বাইরে থেকে এমন গরু দেখতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব গরুর মাংস খেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসক ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাটে গিয়ে ইনজেকশন দেওয়া গরু চেনার কয়েকটি সহজ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো—

১. আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে দেখুন

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর শরীরে অনেক সময় অতিরিক্ত পানি জমে থাকে। এটি বোঝার সহজ উপায় হলো গরুর শরীরের মাংসল অংশে আঙুল দিয়ে চাপ দেওয়া। গরুর পিঠ বা রানের অংশে জোরে চাপ দিলে যদি জায়গাটি দেবে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় নেয়, তাহলে সেটি সন্দেহজনক হতে পারে। সুস্থ গরুর মাংস সাধারণত শক্ত ও টানটান থাকে। চাপ দিলে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

২. আচরণ লক্ষ্য করুন

স্টেরয়েড বা হরমোন দেওয়া গরু অনেক সময় ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তাদের আচরণেও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

এ ধরনের গরু সাধারণত বেশি অলস থাকে, ঠিকভাবে হাঁটতে চায় না এবং অল্পতেই হাঁপিয়ে যায়। অনেক সময় মাথা নিচু করে ঝিমাতে দেখা যায়। চোখও ঘোলাটে বা ক্লান্ত দেখাতে পারে।

অন্যদিকে সুস্থ গরু তুলনামূলক চঞ্চল হয়। আশপাশে মানুষ দেখলে সাড়া দেয়, কান ও লেজ নেড়ে স্বাভাবিক আচরণ করে।

৩. অস্বাভাবিক ফোলা ও অতিরিক্ত লালা

ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগের কারণে অনেক গরুর শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। বিশেষ করে উরু, রান, থুতনি বা প্রস্রাবের রাস্তার আশপাশের অংশ অতিরিক্ত ফোলা দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া কিছু গরুর মুখ থেকে নিয়মিত লালা বা ফেনা পড়তে দেখা যায়, যা অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।

যে কারণে সতর্ক থাকা জরুরি?

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা গরুর মাংস মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এমন পশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

গরু কেনার সময় যা করবেন

সম্ভব হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা পরিচিত খামারিকে সঙ্গে নিন। গরুর দাঁত, চোখ ও হাঁটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। পরিচিত ও বিশ্বস্ত খামার বা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনার চেষ্টা করুন। কেনার আগে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট গরুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন।

সূত্র : কালবেলা