খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরের আলোচিত রোদেলা হত্যা মামলায় স্বামীর ফাঁসি

রেজাউল করিম বিপুল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৪৪ পিএম
ফরিদপুরের আলোচিত রোদেলা হত্যা মামলায় স্বামীর ফাঁসি

ফরিদপুরে বহুল আলোচিত নববধূ সাজিয়া আফরিন রোদেলা (২০) হত্যা মামলায় ঘাতক স্বামী সোহানুর রহমান সোহানকে (৩৫) মৃত্যুদন্ড দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতব দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক। রায়ে মামলার অন্য সব আসামিকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় দেন।

রায়ে মামলার প্রধান আসামি স্বামী সোহানকে মৃত্যুদন্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমান করা হয়। একই সাথে বিদেশে পলাতক মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি সোহানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। অপরাধ প্রমাণিত না
হওয়ায় মামলার অন্য সাতজন আসামিকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়।

মামলায় খালাস প্রাপ্তরা হলেন, রোদেলার ননদ সুমি বেগম (৪৫), শাশুড়ী আনোয়ারা বোগম (৬০), ভাসুর মো. সুমন (৪৫), ভাসুরের স্ত্রী রেখা বেগম (৩০), শ্বশুর মোমিনুর রহমান (৭০), ননদের স্বামী মো. হাফিজ (৫০), ও সোহানের মামাতো ভাই মো. সাজিদ (৪৫)।

রোদেলা ফরিদপুর শহরের আলিপুর খাঁপাড়া মহল্লার শওকত হোসেন খান ও রুমানা খান দম্পত্তির মেয়ে এবং সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

স্ত্রী রোদেলাকে হত্যার পর পরই বিদেশে পালিয়ে যায় সোহান। সেসময় পুলিশ রোদেলার স্বামীকে গ্রেফতার করতে না পারায় সোহানের বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠে ফরিদপুরবাসী। বেশ কয়েকবার মানববন্ধনও পালন করে তার সহপাঠীরা।সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রভাব পড়ে এই হত্যা মামলা। দীর্ঘদিন এই নিয়ে শহরে আলোচনা সমলোচনা চললে বিষয়টি আলোচিত হয়।

২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামটের নতুন বাজার মহল্লার মমিনুর রহমান সেন্টুর ছেলে সোহানুর রহমান সোহানের সঙ্গে রোদেলার বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বামীর বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ময়নাতদন্ত শেষে রোদেলাকে দাফন করা হয়। ১ মার্চ মা রুমানা
বেগম বাদী হয়ে রোদেলার স্বামী সোহান, শশুর-শাশুড়ী, ননদ-ভাসুর, ভাসুরীরেরমস্ত্রীসহ পরিবারের ৮ জনের নামে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪১৭/১৭।

রোদেলার মরদেহের ভিসেরা রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গাফফার তদন্ত শেষে স্বামী সোহানসহ আটজনের নামে অভিযোগপত্র দেন।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি গোলাম রব্বানী রতন বলেন, আদালেতে স্বাক্ষী প্রমাণে স্বামী সোহান দোষী সাবস্ত হয়েছে এবং আদালত তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ায় আমারা এই রায়ে খুশি। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি সোহান স্ত্রী রোদেলাকে হত্যার পর পরই বিদেশে পালিয়ে যায় বলে জেনেছি। তাই তাকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। বর্তমানে তিনি সুইডেনে আছে। তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সালথায় ঘরের বারান্দার আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল স্কুলছাত্রের লাশ

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
সালথায় ঘরের বারান্দার আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল স্কুলছাত্রের লাশ

ফরিদপুরের সালথায় সিয়াম শেখ (১২) নামে স্কুল ছাত্র গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারী) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

সিয়াম শেখ ফুলবাড়িয়া গ্রামের দুবাই প্রবাসী ওবায়দুর শেখের ছেলে ও ফুলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে ঘরের বারান্দার আড়ার সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে সিয়াম। কি কারণে আত্মহত্যা করেছে, এবিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মারুফ হাসান রাসেল বলেন, এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে প্রবাসীর শীতবস্ত্র পেল পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র পরিবার

রেজাউল করিম বিপুল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২০ পিএম
ফরিদপুরে প্রবাসীর শীতবস্ত্র পেল পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র পরিবার

ফরিদপুরে কাজাখস্তান প্রবাসী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির সভাপতি ফরহাদ আকনের পক্ষে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে জেলার সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুলামেটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জরিপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল ওহাব আকনের ছেলে প্রবাসী ফরহাদ আকনের সহযোগিতায় ও স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের পক্ষে এই আয়োজন করা হয়। এ সময় চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী হিসেবে ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট সরঞ্জাম তুলে দেয়া হয়।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন- ওই প্রবাসীর বাবা আব্দুল ওহাব আকন ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা ফরিদা বেগম। এছাড়া চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান, নাজমুল হোসেন রাজু, যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান মনির ও উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আসাদ মৃধা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ফরহাদ আকন ২০০২ সাল থেকে কাজাখিস্তানে অবস্থান করছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ-কাজাখিস্তান কমিউনিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশটির একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন দেশের হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। নিজ এলাকায় একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

তাঁর বাবা ওহাব আকন বলেন, গরিব-দুঃখী মানুষ যাতে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে পারে সেজন্য আমার ছেলে এই উদ্যোগ নিয়েছে। আজ আমি বাবা হিসেবে গর্বিত যে আমার ছেলে সমাজের হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া সে বিভিন্ন সময়ে এলাকার মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। আমি তাঁর জন্য দোয়া করি, সে যেন মানুষের পাশে সারাজীবন থাকতে পারে।

এ সময় ভিডিওকলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন প্রবাসী ফরহাদ আকন এবং ভবিষ্যতে তাঁর কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখবেন বলে ব্যক্ত করেন। তাঁর এই শীতবস্ত্র পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন হতদরিদ্র এ মানুষেরা এবং মঙ্গল কামনা করেন।

ভাঙ্গায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, মালিকসহ সবাই পলাতক

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
ভাঙ্গায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, মালিকসহ সবাই পলাতক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে রাজ্জাক মাতুব্বর (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর কেন্দ্রটির মালিক মিজানুর রহমানসহ সেখানে কর্মরত সবাই পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার জেরে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা রোগীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া গ্রামের ‘আলোর দিশা’ নামের ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে। নিহত রাজ্জাক মাতুব্বর ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের মৃত ছামাদ মাতুব্বরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। পরিবারের সিদ্ধান্তে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে তাকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্জাকের স্বজনদের ফোন করে জানানো হয়, তিনি গুরুতর অসুস্থ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে স্বজনরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে রাজ্জাকের মরদেহ দেখতে পান।

খবর ছড়িয়ে পড়লে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা কেন্দ্রের ভেতরে জানালা, দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং চিৎকার–চেঁচামেচি শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিস, রোগীদের স্বজন এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা রাজ্জাককে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তারা দাবি করেন, রাজ্জাক সুস্থই ছিলেন, কিন্তু শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর কেন্দ্রের মালিক ও কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।