খুঁজুন
, ,

ভারতে যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ফয়সাল, দেশত্যাগ করেন যে সীমান্ত দিয়ে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
ভারতে যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ফয়সাল, দেশত্যাগ করেন যে সীমান্ত দিয়ে?

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে খুনের মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর গ্রেফতার করা হয়েছে। ভাতের পশ্চিমবঙ্গে তারা গ্রেফতার হয়েছেন।

রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গোপন সূত্রে এসটিএফ খবর পায়- বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনসহ একাধিক গুরুতর অপরাধ করার পর দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা সুযোগ পেলে পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারে বলেও তথ্য পায় পুলিশ।

এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭ মার্চ রাত ও ৮ মার্চ ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), যিনি বাংলাদেশের পটুয়াখালীর বাসিন্দা এবং আলমগীর হোসেন (৩৪), ঢাকার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তারা পালিয়ে যান এবং মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।

পরে ভারতের বিভিন্ন স্থান ঘুরে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আসেন এবং সেখান থেকে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

আটক দুজনকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পর পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। আদালত আটক দুই আসামির ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানা গেছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর যুগান্তর অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে রিকশায় চলন্ত অবস্থায় গুলি করে পালিয়ে যাওয়া দুজন ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে যমুনা টেলিভিশনের ময়মনসিংহের ব্যুরো চিফ হোসাইন শাহিদ রোববার যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ওই দুই শুটার- ফয়সাল ও আলমগীর শুক্রবারই ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে গেছেন। ঘটনার পরপরই একটি প্রাইভেট কারে প্রথমে মিরপুর থেকে আশুলিয়া পরে গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহে ঢুকেন। ময়মনসিংহে এসে সেই প্রাইভেট কার পালটে ফেলেন তারা।

হোসাইন শাহিদ বলেন, তারা অন্য আরেকটি প্রাইভেট কারে উপজেলার ধারাবাজার পেট্রল পাম্পে পৌঁছান। সেখান থেকে স্থানীয় একজন ব্যক্তি তাদের মোটরসাইকেলযোগে ভুটিয়াপাড়া সীমান্তে নিয়ে যান। স্থানীয় ওই ব্যক্তিকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে সেই সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করা অন্য যে দুইজন ছিল তাদের আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের সীমান্ত পার করে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়; পরে আরেকজন রিসিভ করে নিয়ে যায়।

সূত্র : যুগান্তর

ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দিনব্যাপী এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্থানীয় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবা​র (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলা​র পবনবেগ মোহাম্মাদিয়া নূরানী ও এতিমখানা মাদ্রাসায় এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ‘রাসু ফাউন্ডেশন’ (রাসু জুয়েলার্সের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান)।

​মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাবনাজ সুলতানা। দিনভর সেবা নিতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষদের শারীরিক পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্তচাপ পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ‘আলফাডাঙ্গা ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’।

​ক্যাম্প পরিচালনা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার রুমি। এছাড়া মো. হাসান খান, আকিব সিকদার, সিয়াম মোল্যা, রিফাত মোল্যা, রনি মোল্যা, আরাফাত মোল্যা ও ওমর মোল্যাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন।

​সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই উদ্যোগ নিয়ে রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই তাগিদ থেকেই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

ফরিদপুরের সালথায় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে বিসিআইসি’র এক নিবন্ধিত ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান ও আদালত পরিচালিত হয়।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্ত তাঁর নকুলহাটি বাজারস্থ দোকান থেকে গৌড়দিয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা ওহিদের কাছে ২৪ বস্তা সার হস্তান্তর করেন বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে সার নির্ধারিত গন্তব্য গৌড়দিয়ার পরিবর্তে ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের দিকে পরিবহন করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইপুর সড়কে দুপুর ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে নসিমনটি সারসহ আটক করা হয়।

​আটক নসিমনের চালক এরশাদ কোনো বৈধ পরিবহন রশিদ দেখাতে পারেননি। পরে সংশ্লিষ্ট ডিলার সুভাষ দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।

​সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ডিলার সুভাষ দত্তকে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

​অভিযানকালে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, কৃষকদের জন্য সরকার বরাদ্দকৃত সার সুষ্ঠু ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আসামির বাড়ির সামনে খেলা করছিল ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় অভিযুক্ত মিরাজ শেখ সুকৌশলে তাকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামি মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান।

​দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আসামি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে।