খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরের চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভেড়া বিতরণ

তামিম ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:০৪ পিএম
ফরিদপুরের চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভেড়া বিতরণ

ফরিদপুর সদর উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া চর অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে “সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের” অধীনে ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নদী-বিধৌত চর এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ১০৭ জন সুফল ভোগীর মাঝে প্রত্যেকের জন্য দুটি ভেড়ি ও একটি ভেড়া দেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো। ভেড়া বিতরণের পাশাপাশি এই অঞ্চলের মানুষদের দুই দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সঠিকভাবে পশুপালন করতে পারে। এছাড়াও, ভেড়া ও ছাগলের ঘর তৈরির জন্য ১১,০০০ টাকা এবং হাঁস-মুরগির ঘর তৈরির জন্য ৮,৮০০ টাকা করে প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের অধীনে ফরিদপুর সদর উপজেলার মোট ৫৮৩৫ জন সুফল ভোগীকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে ১৩০ জনকে উন্নত জাতের হাঁস, ২৫ জনকে দেশি মুরগি এবং ২৫ জনকে ছাগলও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫৫ জন সুফলভোগী তিন কিস্তিতে মোট ২২৬ কেজি হাঁস-মুরগির খাবার পেয়েছেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রকল্পের পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, “আমাদের এই সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পটি ৭টি জেলার ৩১টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ৬৫,২৯০ জন সুফল ভোগীকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ফরিদপুরে আমরা বিশেষ করে নদী-বিধৌত চর অঞ্চলের মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছি।”

সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম আমজাদ।

তিনি বলেন, “ভেড়া বিতরণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির একটি বড় সুযোগ। আমরা আশা করি, এই ভেড়াগুলো চর এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং স্থানীয় মানুষদের স্বাবলম্বী করে তুলবে।”

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সদর উপজেলার চর এলাকার মানুষের জন্য এই প্রকল্পটি একটি বড় প্রাপ্তি। আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি যে প্রকল্পের সকল সুবিধা প্রকৃত সুফল ভোগীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়।”

এই সহায়তা পেয়ে খুশি চর অঞ্চলের বাসিন্দারা। চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আকবর মোল্লা বলেন, “আমরা চর এলাকার মানুষ, আমাদের জীবন অনেক কষ্টের। এই ভেড়াগুলো পেয়ে আমরা খুব খুশি। শুধু ভেড়াই নয়, তারা আমাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং ঘর বানানোর টাকাও দিয়েছে। এতে আমাদের মতো গরিব মানুষেরা একটু মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে।”

ডিগ্রিরচর ইউনিয়নের মো. হাবিব জানান, “আমাদের আগে ভেড়া পালনের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পেয়ে আমরা এখন ভেড়া পালন করতে পারব। আশা করি, এই ভেড়াগুলো বড় হলে বিক্রি করে আমরা ভালো লাভ পাব এবং আমাদের পরিবারের অভাব কিছুটা হলেও দূর হবে।”

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আসমার আক্তার বলেন, “আমাদের মতো মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প একটি বড় সুযোগ। ভেড়া পালন করে আমরাও পরিবারের আয়ে সাহায্য করতে পারব। এই ধরনের সহযোগিতা পেলে আমরাও স্বাবলম্বী হতে পারব।”

এই প্রকল্প ফরিদপুরের চর অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

নগরকান্দায় সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়েছিল বৃদ্ধার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম
নগরকান্দায় সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়েছিল বৃদ্ধার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে জামেলা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত জামেলা বেগম ওই গ্রামের মৃত জমির ভূইয়ার স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই নিজ বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তিনি নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন করতেন এবং এলাকাবাসীর কাছে একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নিহতের জামাতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, “শাশুড়ি প্রতিদিনের মতো গত রাতেও বাড়িতে একাই ছিলেন এবং রোজা রেখেছিলেন। সকালে খবর পাই, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “তার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল বলে আমাদের জানা নেই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুরাদ হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করতেন। ঘটনাটি রহস্যজনক এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

ফরিদপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
ফরিদপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের

ফরিদপুর সদর উপজেলায় বজ্রপাতে দেলোয়ার হোসেন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেনদিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন মেনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আফসার সরদারের ছেলে। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও তিনি বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে কাজ করতে যান। দুপুরের দিকে হঠাৎ করে আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন তিনি।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে গ্রামের মানুষ একজন পরিশ্রমী ও সাদাসিধে মানুষকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করেছেন। তার পরিবারে স্ত্রী, সন্তানসহ স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ বর্তমানে থানায় রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরণ

মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ২:২২ পিএম
ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরণ

অস্বচ্ছলদের স্বাবলম্বী করতে জাকেরদের মাঝে কর্মসংস্থান সহায়তা হিসেবে পুঁজি ও মূলধন বিতরণ করেছে হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৮ মার্চ) বাদ ফজর ফরিদপুরের সদরপুরে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে এ সহায়তা দেয়া হয়।

চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর জামানার মোজাদ্দেদ হযরত শাহ্ সূফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহ.) পীর কেবলাজানের বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে এই অনুদান বিতরণ করা হয়।

অনুদান প্রদান করেন চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের গদীনশীন পীর ও জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ সূফী সৈয়দ কামরুজ্জামান।

অস্বচ্ছলদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করতে এককালীন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উপকরণ প্রদান করে ফাউন্ডেশনটি।

এদিকে, বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মুরিদ, আশেক-জাকের ও ভক্তরা দরবার শরীফে সমবেত হন। এদিন বাদ জুম ’আ থেকে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, মিলাদ-কিয়াম, জিকির-আজকার ও শরীয়ত-তরিকত সম্পর্কিত ওয়াজ মাহফিল হয়।

শনিবার বাদ ফজর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত ও আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টির সুখ-শান্তি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য কামনা করা হয়।