খুঁজুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরের যৌনপল্লিতে জন্মনিবন্ধন জটিলতায় স্কুলের বাইরে শিশুরা

শ্রাবণ হাসান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের যৌনপল্লিতে জন্মনিবন্ধন জটিলতায় স্কুলের বাইরে শিশুরা
জন্মনিবন্ধনের ডিজিটাল ব্যবস্থায় বাবার পরিচয় দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় বিপাকে পড়েছে ফরিদপুরের যৌনপল্লির শিশুরা। অনেকেরই জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকায় বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। ফলে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
ফরিদপুর শহরের রথখোলা ও সিঅ্যান্ডবি ঘাট এলাকায় দুটি যৌনপল্লি রয়েছে। সেখানে থাকা ৩৮৯ যৌনকর্মীর শিশুসন্তান রয়েছে ২৯৬ জন। এসব শিশুর অধিকাংশের জন্মনিবন্ধন নেই।
এই শিশুদের আবাসিকের পাশাপাশি পড়াশোনার সুবিধা দিয়ে আসছে শাপলা মহিলা সংস্থা। দি ফ্রিডম ফান্ডের সহযোগিতায় শিশুদের জন্মনিবন্ধন নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। এর কর্মকর্তারা জানান, ডিজিটাল হওয়ার আগে নিবন্ধন করা গেছে, কিন্তু বর্তমানে জটিলতা শুরু হয়েছে। জন্মনিবন্ধন করাতে না পারায় শিশুদের স্কুলে ভর্তি নিচ্ছে না।
শাপলা মহিলা সংস্থা শহরতলির গেরদায় শিশুদের আবাসনের জন্য গড়ে তুলেছে ভবন। বর্তমানে সেখানে ৫০ মেয়ে ও ৩৫ ছেলে রয়েছে। সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা জানায়, অনেকেই স্কুলে যাচ্ছে, ক্লাসও করছে, তবে ভর্তি হতে না পারায় হাজিরা খাতায় নাম উঠছে না। পড়াশোনা নিয়ে অনেক স্বপ্ন তাদের; কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জন্মনিবন্ধন।
সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার লক্ষ্মণ বিশ্বাস জানান, তাঁরা সারা দেশের ১১টি যৌনপল্লির মা ও শিশুদের বিভিন্ন অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মা ও শিশুদের জন্মসনদ। বর্তমানে যে অনলাইন সনদ, তা অনেকেরই নেই। এটা করতে যে কাগজপত্র দরকার, তা তাঁদের নেই।
লক্ষ্মণ বিশ্বাস বলেন, ‘২০২৫ সালে আমাদের হোমের ১৮টি শিশুকে এখনো ভর্তি করতে পারিনি। অনলাইন জন্মসনদ না থাকায় কোনো স্কুলই ভর্তি নেয়নি। এর মধ্যে কয়েকজন স্কুলে যাচ্ছে, ক্লাস করছে; কিন্তু ভর্তি হতে পারেনি। আমাদের লিখিত দিতে হয়েছে, স্কুলে কিছুদিনের মধ্যে জন্মসনদ দিতে হবে, তারপর স্কুল কর্তৃপক্ষ ভর্তি নেবে।’
এ নিয়ে কথা হলে সংস্থার উপ-নির্বাহী পরিচালক শ্যামল প্রকাশ অধিকারী জানান, অনেক মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকলেও জন্মনিবন্ধন সনদ নেই। আবার যাঁদের আছে, সেখানে পেশার জায়গায় পতিতা এবং ঠিকানা হিসেবে যৌনপল্লি লেখা রয়েছে। অনেকেই এগুলো ব্যবহার করছেন না। এ কারণে শিশুদের জন্মনিবন্ধন করাতে সমস্যা হচ্ছে। আবার কারও মায়ের এনআইডিতে স্বামীর নাম নেই। ফলে বাবার নাম না থাকায় শিশুদের জন্মনিবন্ধন করা যাচ্ছে না।
শ্যামল অধিকারী বলেন, ‘আগে জন্মনিবন্ধন করা সহজ ছিল। ডিজিটাল পদ্ধতি আসার পর সার্ভারে বাবার নাম ছাড়া শিশুদের জন্মসনদ করা যাচ্ছে না। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, যৌনপল্লির শিশুদের জন্মনিবন্ধন সহজীকরণ করলে তারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে।’
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মণ্ডল জানান, শুধু মায়ের নামে সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করা গেলে শিশুদের স্কুলে ভর্তি করা সহজ হতো।
রথখোলা যৌনপল্লির এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার জন্মসনদ নেই। এনআইডি কার্ড আছে। সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করাতে গেলে বাবার নাম জানতে চায়। আমরা চাই, শুধু মায়ের নামেই জন্মনিবন্ধন করার সুযোগ দেওয়া হোক। এ ছাড়া ঠিকানা যৌনপল্লির স্থলে আশপাশের এলাকার নাম দেওয়ার দাবি জানাই।’
সিঅ্যান্ডবি ঘাট যৌনপল্লি সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নে অবস্থিত। ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হায়দার আলী খান জানান, আগে জন্মনিবন্ধন করা যেত; কিন্তু ডিজিটাল হওয়ার কারণে সার্ভারে বাবার নাম বা মায়ের জন্মসনদ না থাকলে শিশুদের সনদ করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক চৌধুরী রওশন ইসলাম বলেন, ‘আমি শুনেছি যৌনপল্লির শিশুদের জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে কোথাও কোথাও সমস্যা হচ্ছে। সবাইকে বলে দিয়েছি, জন্মসনদ করে দেওয়ার জন্য। শিশুদের বাবার নাম ছাড়া মায়ের নাম দিয়েই জন্মনিবন্ধন করা যাবে, নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সম্প্রতি এ জটিলতা নিয়ে দুই যৌনপল্লির অনিবন্ধিত শিশু ও মায়েদের সঙ্গে সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এ সময় তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টরা যেসব তথ্য দিতে সক্ষম হবেন, এর ওপর ভিত্তি করেই শিশুর জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। শাপলা মহিলা সংস্থার প্যাডে শিশু ও তাঁদের মায়েদের তথ্যের প্রত্যয়ন দেওয়ার এবং ইউপি সচিবকে এর আলোকে জন্মনিবন্ধন দিতে ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।

ফরিদপুরে বাগানের গাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাগানের গাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর, বিষ্ণুদিয়া ও ভবানীপুর তিন গ্রামের সীমানা সংলগ্ন একটি বিলের মাঝখানে বাগান থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম রঞ্জিত সরকার (৬০)। তিনি কোতোয়ালি থানার বিষ্ণুদিয়া গ্রামের মৃত রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

পরবর্তীতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে ভবানীপুর গ্রামের এক কৃষক জমিতে কাজ করার সময় বাগানের ভেতরে একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি রঞ্জিত সরকারের বলে শনাক্ত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার পরিবারকে অবহিত করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ক্রাইম সিন ইউনিটকে অবহিত করেন। পরে ক্রাইম সিন টিমের উপস্থিতিতে মরদেহটি গাছ থেকে নামানো হয় এবং প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কোতোয়ালি থানার এসআই নূর হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ফরিদপুরে সংস্কৃতি মন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সংস্কৃতি মন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নে মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইচগেট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালটির পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছিল। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল এবং বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ বাড়ছিল স্থানীয়দের। খালটি পুনঃখনন করা হলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমে ফলন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাটির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধন উপলক্ষে গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “খাল পুনঃখননের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জায় সাহা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোয়ালমারী-মধুখালী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ এবং বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিজমিতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে, যা এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বঞ্চিত জনগণ: ফরিদপুরে জামায়াতে ইসলামী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বঞ্চিত জনগণ: ফরিদপুরে জামায়াতে ইসলামী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর অঞ্চলের উদ্যোগে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর শহরের মুসলিম মিশন প্রাঙ্গণে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমির মোহাম্মদ বদর উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও অঞ্চল পরিচালক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। এসময় ফরিদপুরসহ আশপাশের পাঁচ জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত অধিকার ও ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, গত এক যুগের বেশি সময় ধরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত ছিল। অনেকেই স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেননি; সত্য কথা বলায় অনেকে হয়রানি, গ্রেপ্তার কিংবা আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাগারে ছিলেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তারা দাবি করেন, জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথাও উল্লেখ করেন বক্তারা।

সম্মেলনে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি, বিদ্যুৎ সংকট ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, অঞ্চল প্রধান শামসুল ইসলাম আল বরাটি, জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এবং জেলা নায়েবে আমির ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।