খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে ইউপি মেম্বারের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:০৪ পিএম
ফরিদপুরে ইউপি মেম্বারের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুরের নগরকান্দায় হরিদাস বিশ্বাস (৪৫) নামে এক ইউপি সদস্যের ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য। একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় সমালোচনা চলছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের ভেতরে খাটের ওপর বসে দুই ব্যক্তি ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করছেন। পাশে বসে এক নারী লাইট জ্বালিয়ে আলো দিচ্ছে। ভিডিওর মধ্যে থাকা একজন নারী ও দুই পুরুষের মধ্যে ফুলসুতি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হরিদাস বিশ্বাস রয়েছেন। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন ইউপি সদস্য হরিদাস বিশ্বাস। এমনকি তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার দুপুরে ফুলসুতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি আমি দেখিছি। একজন ইউপি সদস্য এভাবে ইয়াবা সেবন করতে পারেন না। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তাকে আমরা আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করীম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন বলেন, ভিডিওটি আমি এখনো দেখিনি। তবে ভিডিওটি দেখে এবং তদন্ত করে যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে ওই ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য আবেদন করা হবে।

সালথায় ঘরের বারান্দার আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল স্কুলছাত্রের লাশ

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
সালথায় ঘরের বারান্দার আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল স্কুলছাত্রের লাশ

ফরিদপুরের সালথায় সিয়াম শেখ (১২) নামে স্কুল ছাত্র গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারী) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

সিয়াম শেখ ফুলবাড়িয়া গ্রামের দুবাই প্রবাসী ওবায়দুর শেখের ছেলে ও ফুলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে ঘরের বারান্দার আড়ার সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে সিয়াম। কি কারণে আত্মহত্যা করেছে, এবিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মারুফ হাসান রাসেল বলেন, এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে প্রবাসীর শীতবস্ত্র পেল পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র পরিবার

রেজাউল করিম বিপুল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২০ পিএম
ফরিদপুরে প্রবাসীর শীতবস্ত্র পেল পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র পরিবার

ফরিদপুরে কাজাখস্তান প্রবাসী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির সভাপতি ফরহাদ আকনের পক্ষে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে জেলার সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুলামেটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জরিপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল ওহাব আকনের ছেলে প্রবাসী ফরহাদ আকনের সহযোগিতায় ও স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের পক্ষে এই আয়োজন করা হয়। এ সময় চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী হিসেবে ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট সরঞ্জাম তুলে দেয়া হয়।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন- ওই প্রবাসীর বাবা আব্দুল ওহাব আকন ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা ফরিদা বেগম। এছাড়া চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান, নাজমুল হোসেন রাজু, যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান মনির ও উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আসাদ মৃধা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ফরহাদ আকন ২০০২ সাল থেকে কাজাখিস্তানে অবস্থান করছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ-কাজাখিস্তান কমিউনিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশটির একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন দেশের হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। নিজ এলাকায় একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

তাঁর বাবা ওহাব আকন বলেন, গরিব-দুঃখী মানুষ যাতে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে পারে সেজন্য আমার ছেলে এই উদ্যোগ নিয়েছে। আজ আমি বাবা হিসেবে গর্বিত যে আমার ছেলে সমাজের হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া সে বিভিন্ন সময়ে এলাকার মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। আমি তাঁর জন্য দোয়া করি, সে যেন মানুষের পাশে সারাজীবন থাকতে পারে।

এ সময় ভিডিওকলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন প্রবাসী ফরহাদ আকন এবং ভবিষ্যতে তাঁর কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখবেন বলে ব্যক্ত করেন। তাঁর এই শীতবস্ত্র পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন হতদরিদ্র এ মানুষেরা এবং মঙ্গল কামনা করেন।

ভাঙ্গায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, মালিকসহ সবাই পলাতক

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
ভাঙ্গায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, মালিকসহ সবাই পলাতক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে রাজ্জাক মাতুব্বর (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর কেন্দ্রটির মালিক মিজানুর রহমানসহ সেখানে কর্মরত সবাই পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার জেরে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা রোগীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া গ্রামের ‘আলোর দিশা’ নামের ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে। নিহত রাজ্জাক মাতুব্বর ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের মৃত ছামাদ মাতুব্বরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। পরিবারের সিদ্ধান্তে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে তাকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্জাকের স্বজনদের ফোন করে জানানো হয়, তিনি গুরুতর অসুস্থ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে স্বজনরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে রাজ্জাকের মরদেহ দেখতে পান।

খবর ছড়িয়ে পড়লে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা কেন্দ্রের ভেতরে জানালা, দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং চিৎকার–চেঁচামেচি শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিস, রোগীদের স্বজন এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা রাজ্জাককে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তারা দাবি করেন, রাজ্জাক সুস্থই ছিলেন, কিন্তু শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর কেন্দ্রের মালিক ও কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।