খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে লোক দেখানো নিয়োগ সম্পন্নের অভিযোগ!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে লোক দেখানো নিয়োগ সম্পন্নের অভিযোগ!

Faridpur Protidin

দেশের একমাত্র নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট (নগই) ফরিদপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে চতুর্থ শ্রেণির ১০টি পদে লোকবল নিয়োগে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
লোক দেখানো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও নদী গবেষণার মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে হয়েছে বলে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি আজ বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন।
ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট (নগই) সুত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের প্রথমদিকে চতুর্থ শ্রেণির ১০টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারী নিয়োগে কোঠা সংস্কার হলে ওই বছরের ৩০ জুলাই ওইসব পদে পুনঃ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে ভান্ডার রক্ষক, অডিট সহকারী, কংক্রিট টেকনেশিয়ান, টেলিফোন অপারেটর, মেকানিক, কাঠমিস্ত্রি, ডার্করুম সহকারী, গবেষণাগার বেয়ারার, অফিস সহায়ক পদে একজন করে এবং পাম্প চালক পদে দুইজন উল্লেখ করা হয়। সকল পদে সারাদেশ থেকে ২ হাজারের অধিক প্রার্থী আবেদন করেন। নিয়োগ বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরের গত ১৮ জানুয়ারি ৭০ মার্কের লিখিত ও প্রিলি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পাম্প চালক পদে ১০ জন, গবেষণাগার বেয়ারার পদে ৬ জন, ডার্করুম সহকারী পদে ৪ জন, কাঠমিস্ত্রি পদে ১ জন এবং বাকি পদে ৫ জন করে মোট ৫১ জনকে সুপারিশকৃত প্রার্থী হিসেবে ফলাফল প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর গত ২১ জানুয়ারি ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৫১ জনকে ডাকা হয় এবং তাঁদের সকাল ১০টায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ওইদিনই উপপরিচালক মো. আবুল এহছান মিয়া স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সকল পদে আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে একটি সিন্ডিকেট এবং গোপনে পরীক্ষার পূর্বে নিয়োগ পাওয়াদের প্রশ্নপত্রসহ উত্তর জানিয়ে দেওয়া হয়। আর এতেই লোক দেখানো নিয়োগে তাঁদেরকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ। এছাড়া পূর্বেই প্রশ্নপত্রসহ উত্তর জানিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান।
অফিস সহায়ক পদের প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আটচর নওপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহিম লিংকন, ফরিদপুর জেলার রহিজ আহমেদ, রাজবাড়ীর মৃত্যুঞ্জয় এবং বরিশালের অনুপ হালদার। তারা প্রত্যেকেই মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, মৌখিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অফিস সহায়ক পদে সীমা মালো, পাম্প চালক পদে হামিদুর রহমান নবী, টেলিফোন অপারেটর পদে বন্যা বিশ্বাসের সাথে ওই দপ্তরের ও ব্ইারের একাধিক ব্যক্তি তাঁদের ডেকে নিয়ে গোপনে কথা বলা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় সকাল ১০টায় উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১২ টায় সীমা মালো উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তার সাথে অপরিচিত একাধিক ব্যক্তি বারবার যোগাযোগ করেন। এছাড়া অত্র প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী সীমাকে বারবার বাইরে ডেকে নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়, যা অন্যান্য প্রার্থীদের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে তাকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে সুপারিশ করা হয়।
জানা যায়, সীমা মালোর স্বামী সম্রাট সরকার গত ৬ বছর যাবত একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রজেক্টে চুক্তি অনুযায়ী কাজ করে আসছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় কম মার্ক পেলেও তাকে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত করা হয় বলে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতিও জানান (রেকর্ড সংরক্ষিত)।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর/পরিদপ্তরে যা প্রার্থীর নিয়োগ সংক্রান্ত কাজে মৌখিক পরীক্ষার প্রত্যেক প্রার্থীর সত্যায়িত ছায়ালিপি জমা রাখা হয়। কিন্ত উক্ত মৌখিক পরীক্ষায় কোনো সত্যায়িত ছায়ালিপি জমা রাখা হয়নি। কৌশলে পাম্পচালক পদের প্রার্থী হামিদুল ইসলাম নবী সত্যায়িত ছায়ালিপি ভবনে ফেলে রেখে যায়। তাকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া এই প্রার্থীর সাথে এক ব্যক্তি এসে কৌশলে কাগজপত্র গ্রহণ করেন এবং ওই ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সাথে দেখা যায়।
এছাড়া টেলিফোন অপারেটর পদে সুপারিশকৃত প্রার্থী বন্যা বিশ্বাস মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর থেকে সম্পন্ন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার সাথে অপরিচিত একাধিক ব্যক্তির কথাবার্তা করতে দেখা যায়। যার প্রতিটি দৃশ্য ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে বেরিয়ে আসবে বলে প্রার্থীরা জানান।
বঞ্চিত প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলার ইব্রাহিম লিংকন বলেন, আমি ময়মনসিংহ জেলা থেকে ফরিদপুরে ছুটে গিয়েছিলাম অনেক আশা নিয়ে। আমার মতো অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে এখানে। কিন্তু এই নিয়োগ ছিল সম্পন্ন সাজানো নাটক, আমাদের ধোকা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক কর্মকর্তা জানান, এই নিয়োগের অবৈধ লেনদেনের কলকাঠি নেড়েছেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি পিন্টু কানুনগোয়। যারা টাকা দিয়েছেন, তাঁদের চাকরি হয়েছে। সীমাকে উনি নিজে পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পাঠিয়ে দিয়েছেন।
আজ বুধবার বিকেলে নদী গবেষণার পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি পিন্টু কানুনগোয় বলেন, সম্পন্ন মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। লিখিত পরীক্ষার একঘন্টা পূর্বে প্রশ্নপত্র ছাপা হয়েছে। যা কোনোভাবেই প্রার্থীদের দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, একটি পদের বিপরীতে ৫জন করে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। নিয়োগে যারা বাদ পড়েছেন, তারা এখন মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের (নগই) মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) এস এম আবু হোরায়রা বলেন, অভিযোগকারীরা জিআরএসের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। পরে মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে জানানো হলে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। যথাযথ নিয়ম মেনে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পিন্টু কানুনগোয়। তাঁর সাথে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছিলেন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক পোদ্দার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সিনিয়র সহকারি সচিব মো. মাসুম রেজা, ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. হাশমত আলী খান ও প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক মো. আবুল এহছান মিঞা।

কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

সুস্থ থাকতে ফলের কোনো বিকল্প নেই। তবে যখন প্রশ্ন আসে রক্তে শর্করার বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের, তখন অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান যে কোন ফলটি বেছে নেবেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় দুটি ফল কমলা এবং কলার মধ্যে কোনটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বা যারা চিনি নিয়ে সচেতন তাদের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়ে বিতর্ক অনেক দিনের।

যদিও উভয় ফলেই প্রাকৃতিক চিনি থাকে, কিন্তু পুষ্টিগত গঠন এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের (জিআই) পার্থক্যের কারণে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রায় এদের প্রভাব ভিন্ন হয়।

আজকের ফিচারে আমরা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে খুঁজে দেখব, আপনার শরীরের জন্য এই দুটি ফলের মধ্যে কোনটি বেশি নিরাপদ এবং কীভাবে খেলে আপনার শর্করা থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে কে এগিয়ে?

রক্তে শর্করার ব্যবস্থাপনায় কমলার পাল্লা কিছুটা ভারী বলে মনে করা হয়। কারণ কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) মাত্র ৩৫, যা বেশ কম। অন্যদিকে, একটি পাকা কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণত ৪৮ এর কাছাকাছি থাকে। যেহেতু কমলার জিআই কম, তাই এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কলার তুলনায় ধীরে বৃদ্ধি করে।

পুষ্টির তুলনা: একনজরে

একটি মাঝারি আকারের কলা (১১৮ গ্রাম) এবং একটি মাঝারি কমলার (১৩১ গ্রাম) পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

ক্যালরি: কলায় থাকে ১০৫ ক্যালরি, যেখানে কমলায় থাকে মাত্র ৬১.৬ ক্যালরি।

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা: কলায় শর্করার পরিমাণ ২৬.৯ গ্রাম, অন্যদিকে কমলায় তা ১৫.৫ গ্রাম।

ভিটামিন সি: কমলায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে (দৈনিক চাহিদার ৭৭%), যা কলার (১০.৩ মিলিগ্রাম) তুলনায় অনেক বেশি। শর্করার পরিমাণ কম এবং ভিটামিন সি-এর আধিক্যের কারণে কমলা রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় কিছুটা বেশি সুবিধাজনক।

কলার গুণাগুণ: পাকা নাকি আধাপাকা?

কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে এর পরিপক্কতা বা কতটা পেকেছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম পাকা বা কিছুটা সবুজ কলায় ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ নামক এক ধরণের কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা সহজে হজম হয় না এবং রক্তে শর্করার শোষণকে ধীর করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরণের স্টার্চ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। তবে কলা যত বেশি পাকে, তার জিআই তত বাড়তে থাকে এবং তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে।

কমলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য

কমলায় থাকা সাইট্রাস পেকটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা হেস্পেরিডিন এবং নারিঞ্জিনের মতো ফ্ল্যাভোনয়েডগুলি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে ফল খাওয়ার কিছু কৌশল

আপনি কলা বা কমলা যা-ই পছন্দ করুন না কেন, রক্তে শর্করার প্রভাব কমাতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন:

১. আস্ত ফল খান, রস নয়: ফলের রস করলে এর প্রয়োজনীয় ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়। তাই সব সময় আস্ত ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

২. প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সাথে খান: ফলের সাথে কিছু বাদাম, গ্রিক ইয়োগার্ট বা পনির মিশিয়ে খেলে হজম ধীর হয় এবং সুগার স্পাইক বা শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমে।

৩. পরিমিত মাত্রা: ফল যত উপকারীই হোক না কেন, পরিমাণে বেশি খেলে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই সব সময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৪. কলা কিনুন কিছুটা কাঁচা: ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে খুব বেশি পাকা কলার চেয়ে কিছুটা কম পাকা বা শক্ত কলা বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

শেষকথা

কমলা এবং কলা উভয়ই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। তবে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা আছে, তাদের জন্য কম শর্করার কারণে কমলা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, নিয়ম মেনে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়াও সম্পূর্ণ নিরাপদ।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

 

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।