খুঁজুন
, ,

স্বল্প আয়ে যেভাবে চালাবেন সংসার?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:২০ পূর্বাহ্ণ
স্বল্প আয়ে যেভাবে চালাবেন সংসার?

বর্তমান সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে স্বল্প আয়ের অনেক পরিবার সংসার পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। তবে সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে সীমিত আয়েও একটি পরিবার স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন আর্থিক সাক্ষরতা সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয় ও প্রয়োজনীয় খাতে ভাগ করে ব্যয় পরিকল্পনা করলে পরিবারের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জীবনযাত্রার ব্যয় সংক্রান্ত বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, খাদ্য, বাসাভাড়া ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ই নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারের মোট ব্যয়ের বড় অংশ দখল করে। ফলে সঠিক বাজেট না থাকলে মাস শেষে আর্থিক সংকট দেখা দেয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বল্প আয়ে সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাজেট নিয়ন্ত্রণ ও খরচের অগ্রাধিকার নির্ধারণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একাধিক গবেষণায়ও উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব পরিবার নিয়মিত বাজেট অনুসরণ করে এবং আর্থিক পরিকল্পনা মেনে চলে, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি সঞ্চয় করতে সক্ষম হয়।

বাজেট পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসের শুরুতেই একটি নির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করা উচিত। খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় খাতে প্রথমে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। পরে অন্যান্য খরচ নির্ধারণ করতে হবে।

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো

অর্থনীতিবিদদের মতে, ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় খরচ একত্রে বড় চাপ তৈরি করে। বাহিরে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এবং অতিরিক্ত বিনোদন খরচ কমালে মাসিক ব্যয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সঞ্চয়ের অভ্যাস

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নির্দেশনায় নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্বল্প আয়েও আয়ের একটি ক্ষুদ্র অংশ আলাদা করে রাখার সুপারিশ করা হয়।

অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে পার্ট-টাইম কাজ, ছোট ব্যবসা বা অনলাইন কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব, যা পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, “আয় কম হলেও সঠিক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা এবং সচেতন ব্যয় অভ্যাস থাকলে সংসার পরিচালনা করা সম্ভব।”

মূল বার্তা

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক শৃঙ্খলাই সবচেয়ে বড় শক্তি। আয় বাড়ার অপেক্ষায় না থেকে ব্যয় ব্যবস্থাপনা ঠিক করাই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল জীবন নিশ্চিত করতে পারে।

সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত নির্দেশনা), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জীবনযাত্রা ব্যয় জরিপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের গবেষণা ও বিভিন্ন অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ।

 

ফরিদপুরে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার, মাদকসেবীর ৬ মাসের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার, মাদকসেবীর ৬ মাসের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ চম্পা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। একই অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে মানিক মোল্যা (২৬) নামে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জ বাজার ও সদর বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৃথক এ অভিযান চালানো হয়।

​জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিদর্শক বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে চর হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিথিন প্যাকেটে রক্ষিত ১০৫ পিস ইয়াবাসহ চম্পা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী চরভদ্রাসন থানায় মামলা দায়েরের পর আসামিকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

​অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে উপজেলার সদর বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় মানিক মোল্যাকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জেলাজুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তামান্না আক্তার মৌ (২৩) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী।

​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

​নিহত তামান্না আক্তার মৌ নগরকান্দা উপজেলার রামেশ্বর এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে এবং ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় তামান্নাকে দেখতে পান তার স্বামী শাখাওয়াত। পরে দরজা ভেঙে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রীন প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামান্নাকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ রেখেই গা ঢাকা দেন স্বামী শাখাওয়াত।

​নিহতের মায়ের দাবি, তামান্নাকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। দুপুরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

​ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে অবহিতকরণ সভা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে অবহিতকরণ সভা

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোলার সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আশীষ কুমার রায়।

​সভায় স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রুফটপ সোলার সিস্টেম, ক্যাপেক্স ও ওপেক্স মডেল, নেট মিটারিংয়ের আবেদন, রুফটপ সোলার ক্যালকুলেটরের ব্যবহার এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

​পাশাপাশি সোলার সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে তালিকাভুক্তির নিয়ম, ন্যূনতম যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া ও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। পরে মুক্ত আলোচনায় অংশীজনদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

​সভায় বক্তারা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বহুল ব্যবহার নিশ্চিত করতে দক্ষ ও মানসম্মত সেবা প্রদানকারীর বিকল্প নেই। সার্ভিস প্রোভাইডারদের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকরাও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন। এর মাধ্যমে দেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

​অনুষ্ঠানে আলফাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিনিধি, বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ান, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।