খুঁজুন
, ,

আক্কেল দাঁত কেন ওঠে, উঠলেই কেন এত ব্যথা জমে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
আক্কেল দাঁত কেন ওঠে, উঠলেই কেন এত ব্যথা জমে?

মানুষের প্রায় সব দাঁত কৈশোরের মাঝেই উঠে যায়, তবে মুখের একেবারে পেছনের পেষণ দাঁতগুলো ওঠে সবার শেষে, যখন একজন মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পথে পা বাড়ায়। বয়সের সঙ্গে মানুষের বুদ্ধি ও বিচারবোধ পরিণত হয়—এমন লোকবিশ্বাস থেকেই বাংলায় এই দাঁতের প্রচলিত নাম দেওয়া হয়েছে ‘আক্কেল দাঁত’। একই কারণে ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘উইজডম টুথ’ এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘থার্ড মোলার’ বা তৃতীয় পেষণ দাঁত।

তবে সবার ক্ষেত্রে এই দাঁত যেমন ওঠে না, তেমনি যাদের ওঠে তাদের কারও কারও জন্য তা হয়ে ওঠে তীব্র ব্যথা ও চরম ভোগান্তির কারণ। কেন এত দেরিতে ওঠে এই দাঁত, আর উঠলেই বা কেন এত যন্ত্রণা জমে— এসব বিষয় নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

নামের নেপথ্যে ‘আক্কেল’ ও উঠার বয়স

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত ৩২টি দাঁত থাকে। এর মধ্যে মুখের ওপর ও নিচের চোয়ালের দুই পাশের শেষে প্রতিটি কোণায় একটি করে সর্বোচ্চ চারটি আক্কেল দাঁত থাকতে পারে, তবে সবার চারটি আক্কেল দাঁত থাকে না। কারও একটি, দুটি বা তিনটি থাকতে পারে, আবার কারও একটিও না-ও থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় আট জনের ক্ষেত্রে অন্তত একটি আক্কেল দাঁত গজায়ই না।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে আক্কেল দাঁত উঠতে শুরু করে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) জানায়, সাধারণত কৈশোরের শেষভাগ থেকে ২৫ বছর বয়সের মাঝে এই দাঁত বের হয়; তবে এর চেয়ে বেশি বয়সেও তা উঠতে পারে।

আক্কেল দাঁত কেন থাকে?

আক্কেল দাঁত যদি মাড়ির সঠিক অবস্থানে ওঠে, তবে তা মুখের পেছনের অংশে সমর্থন দিতে পারে এবং চোয়ালের হাড় সংরক্ষণে সহায়তা করতে পারে। তবে বর্তমানে অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এগুলোকে মানবদেহের একটি ‘অবশিষ্টাঙ্গ’ বা অপ্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক জানায়, আমাদের আদিম পূর্বপুরুষদের খাদ্যতালিকায় থাকা কাঁচা উদ্ভিদ, শক্ত বাদাম এবং শক্ত ও আঁশযুক্ত মাংস চিবানোর জন্য আক্কেল দাঁত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু আধুনিক রান্নাবান্না ও খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে এখন আর এই দাঁতের প্রয়োজন পড়ে না। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে বিবর্তনগত মানিয়ে নিতে গিয়ে মানুষের চোয়ালের আকারও আগের চেয়ে ছোট হয়ে গেছে, যার ফলে আধুনিক মানুষের মুখে চারটে আক্কেল দাঁত উঠার পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না।

উঠলেই কেন এত ব্যথা ও যন্ত্রণা জমে?

আক্কেল দাঁত অন্য দাঁতের মতো স্বাভাবিকভাবে ও পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে উঠলে সাধারণত বড় কোনো সমস্যা হয় না। মূল সমস্যাটি তৈরি হয় মূলত জায়গার অভাবে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এটি মাড়ির শেষে সোজা না উঠে পাশের দাঁতের দিকে হেলে যেতে পারে অথবা মাড়ি কিংবা চোয়ালের হাড়ের নিচে আংশিক বা পুরোপুরি আটকে থাকতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ইমপ্যাক্টেড উইজডম টুথ’ বা আটকে থাকা আক্কেল দাঁত।

দাঁতটি আংশিক বের হলে তার ওপর মাড়ির একটি অংশ থেকে যায়, যেখানে সহজে খাবারের কণা ও ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে। এতে দাঁতের চারপাশের মাড়িতে প্রদাহ বা সংক্রমণ দেখা দেয়, যাকে বলা হয় ‘পেরিকোরোনাইটিস’। এছাড়া আংশিক বের হওয়া দাঁতের আশপাশে তরল জমে সিস্ট কিংবা পুঁজ (অ্যাবসেস) জমে মাড়ি ফুলে যাওয়া ও মুখ খুলতে কষ্ট হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিকের মতে, ইমপ্যাক্টেড দাঁত পাশের সুস্থ দাঁতেরও ক্ষতি করতে পারে।

ঢাকার দন্ত চিকিৎসক ডা. এ. কে. এম. হাসানুজজামান বিবিসিকে জানান, দাঁতের অবস্থান ভালো হলে এবং উঠার পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আক্কেল দাঁত স্বাভাবিকভাবে উঠে আসতে পারে, তবে এ সময়ে কয়েক মাস পরপর ব্যথা হতে পারে। তিনি সতর্ক করেন যে, মাড়ির সংক্রমণ দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করে ফেলে রাখলে বিরল ক্ষেত্রে তা মুখ ও গলার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে লুডউইগস অ্যাঞ্জাইনা নামক মারাত্মক রূপ নিতে পারে। এর ফলে শ্বাস নিতে বা খাবার খেতে সমস্যা হয় এবং গুরুতর অবস্থায় শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।

ব্যথা হলেই কি দাঁত তুলে ফেলতে হবে?

আক্কেল দাঁতে ব্যথা হলেই তা সাথে সাথে তুলে ফেলতে হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, দাঁতটি কোনো সমস্যা তৈরি না করলে তুলে না ফেলে নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করাই যথেষ্ট। তবে বারবার মাড়িতে সংক্রমণ, তীব্র ব্যথা, দাঁত ক্ষয়, পাশের দাঁতের ক্ষতি বা সিস্টের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক দাঁতটি তুলে ফেলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সাধারণত দাঁত তোলার আগে মাড়িতে লোকাল অ্যানেসথেটিক ইনজেকশন দিয়ে জায়গাটি অবশ করে নেওয়া হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকরা মাড়ি কেটে বা দাঁতটিকে দুই-তিন টুকরো করে বের করে আনেন এবং সেলাই দেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ হয় এবং এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী এতে ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগার কথা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী একই দিনেই বাড়ি ফিরতে পারেন।

দাঁত তোলার পরবর্তী যত্ন ও সতর্কতা

সাধারণত আক্কেল দাঁত তোলার পরদিন থেকেই স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজে ফেরা যায়। তবে পুরোপুরি সেরে উঠতে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত কিছু ব্যথা, ফোলা ভাব বা মুখ খুলতে অস্বস্তি থাকতে পারে। দ্রুত সেরে উঠার জন্য এনএইচএস কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছে—

করণীয়: ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন সেবন করা, নরম বা তরল খাবার খাওয়া এবং কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে আলতোভাবে কুলি করা। ক্ষতস্থানে জমাট বাঁধা রক্ত (ব্লাড ক্লট) ঘা শুকাতে সাহায্য করে, তাই সেই অংশ সাবধানে রাখতে হবে।

বর্জনীয়: শক্ত বা মচমচে খাবার এবং ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা উচিত, কারণ ধূমপান সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

সম্ভাব্য জটিলতা: ক্ষতস্থানের জমাট রক্ত সরে গেলে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়, যাকে ‘ড্রাই সকেট’ বলে। এছাড়া সংক্রমণ কিংবা স্নায়ু সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠোঁট, থুতনি বা জিহ্বায় অসাড় অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

সালথায় কৃষকদলের আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
সালথায় কৃষকদলের আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সালথা উপজেলা কৃষকদলের পক্ষ থেকে এই আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়।

​বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল সালথা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান (হাফিজ) এবং সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ হোসেন স্বাক্ষরিত প্যাডে এই কমিটি অনুমোদিত হয়েছে।

​অনুমোদিত কমিটিতে মো. আতিকুর রহমান মোল্যাকে সভাপতি এবং মো. শফিকুল ইসলাম (সুফিকে) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

​কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যারা স্থান পেয়েছেন তারা হলেন— ​সিনিয়র সহ-সভাপতি: মো. ইউসুফ মাতুব্বর,​সহ-সভাপতিগণ মো. নাসির হায়দার দরজী, মো. মাহফুজুল রহমান, মো. লাল মিয়া খান, মো. হাফিজুর রহমান, মো. জাহিদ ফকির ও মো. বকুল খান

​সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক: মো. ইউসুফ মোল্লা,​যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
​যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসান মন্ডল ও মো. লাভলু শেখ। ​সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ফজর আলী মাতুব্বর, মো. ছমির মোল্লা ও মো. এনায়েত মোল্লা,​সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গাউস হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকমো. রবিউল মাতুব্বর ও মো. রোকন মাতুব্বর।

​দপ্তর সম্পাদক মো. রাজিবুল ইসলাম সুমন, ​সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. শাকিল মোল্লা, ​প্রচার সম্পাদক মো. লিটন সরকার, ​প্রকাশনা সম্পাদক মো. রাজিব খান,​শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. রকিবউদ্দিন মোল্যা (মঞ্জুর), ​স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম,​কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. বিল্লাল শিকদার।

​এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মো. আসাদ মিয়া, মো. ইউনুস মোল্যা, মো. সেকেন মাতুব্বর, মো. জামাল শেখ, মো. ইলিয়াছ শেখ, মো. আব্দুল করিম, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. উজ্জ্বল মোল্যা ও মো. শাকিল মৃধাকে।

​সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

‘অসভ্যতার ভদ্রবেশ’

শাবলু শাহাবউদ্দিন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
‘অসভ্যতার ভদ্রবেশ’

মানুষের আত্মা আজ পচে গেছে স্তূপে স্তূপে,

সভ্যতার মুখোশটা সে পরে নেয় রোজ খুব মাপে।

রক্তের স্রোত বয়ে যায় মানুষের ভেতরেই সুপ্ত,
মানুষ তো অমানুষ হলো, হৃদয়টা পুরোপুরি লুপ্ত।

শিক্ষার আলোয় আজ চারপাশ ঝলমল করে,

হিসাবের খাতা খোলে শিক্ষিত মানুষ স্বার্থের ঘরে।
ডিগ্রির পাহাড় জমে, সার্টিফিকেট ওড়ে বাতাসে,
কিন্তু মনটা যে পড়ে থাকে পশুপাখি কিংবা লাশের পাশে!

কত না বুলি আওড়ায়, কত নীতি, কত শত বাণী,

ভিতরটা হাহাকার, লোভের আগুনে পুড়ে ছাই জানি।
বইয়ের পাতায় শেখা বিদ্যা মুখে শুধু বুলি ফোটায়,
বিবেকটা মারা গেছে, স্বার্থের মোড়কে মন মোড়ায়।

তবে কি মানুষ তবে সভ্য হলো নাকি হলো অসভ্য?

এই পচা যুগে মানবতা আজ বড়ই নিঃস্ব ও লভ্য।
পোশাকে পরিপাটি, ঠোঁটে হাসি, মনে হিংসার বিষ,
এই আধুনিক পশুপাট্টা—আমাদের বর্তমান দিশা নিশি!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এইচএসসিতে ফেল দুই-তৃতীয়াংশ, শীর্ষে মহিলা কলেজ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এইচএসসিতে ফেল দুই-তৃতীয়াংশ, শীর্ষে মহিলা কলেজ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার চারটি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৯২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ৪৪৮ জন। এতে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

​তবে ফলাফলের এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও ৭০.৯৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ।

​প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার চারটি কলেজ থেকে এবার মোট ৬৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৪৪ জন। চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

​ফলাফলের চিত্রে দেখা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

​অন্যদিকে উপজেলার প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের ফলাফলের চিত্র ছিল হতাশাজনক। এই কলেজ থেকে ৪৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৫৭ জন, পাসের হার ৩২.০৪ শতাংশ। তবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

​এছাড়া আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজ থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছে (পাসের হার ৩৯.৫২% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন)। হাজী আফিজউদ্দিন আলেকজান কলেজ থেকে ৪৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৬ জন (পাসের হার ৩৪.০৪%), এই প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

​চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ হলেও আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাসের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১৬.৮৬ শতাংশ কম। এমন ফলাফলে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কার্যকারিতা কমে যাওয়া এবং পারিবারিক তদারকির অভাবে এমন বিপর্যয় ঘটেছে।

​উপজেলা পর্যায়ে পাসের হারে শীর্ষে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শেখ ফাতেমা অনন্যা বলেন, “সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত পাঠদান, উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ায় আমাদের এই সাফল্য এসেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।”

​সার্বিক বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব জানান, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আগামীতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ মনিটরিং জোরদার করা হবে।