খুঁজুন
, ,

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ফরিদপুরে ওজোপাডিকোর শ্রমিকদের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ফরিদপুরে ওজোপাডিকোর শ্রমিকদের কর্মবিরতি

বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাজস্ব খাতে চাকরি স্থায়ীকরণের এক দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন ওজোপাডিকোর ২১ জেলার অস্থায়ী লাইন সাহায্যকারী (গ্যাটিস) শ্রমিকরা।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ফরিদপুর সার্কেলের আওতাধীন গোয়ালচামট এলাকায় পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (ওজোপাডিকো)-এর অস্থায়ী শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

​কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শ্রমিকরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। দিন-রাত সার্ভিস দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখলেও এখন পর্যন্ত তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়নি।

​ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, “অন্যের বাড়ির অন্ধকার দূর করতে আমরা নিরলস কাজ করি। অথচ নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে আজ আমরা চরম অনিশ্চয়তা ও অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছি।”

​তারা আরও দাবি করেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কাজের অভিজ্ঞতাকে প্রধান মানদণ্ড ধরে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করতে হবে। অবিলম্বে এক দফা দাবি বাস্তবায়ন করে তাদেরকে রাজস্ব খাতের অন্তর্ভুক্ত করার জোর আহ্বান জানান তারা।

​এ সময় উপস্থিত ছিলেন অস্থায়ী শ্রমিক ইমামুল ইসলাম রকি, সাহায্যকারী মো. ফারুকুর রহমান, লাইন সাহায্যকারী আব্দুল বারেক মোল্লা, নিজাম হোসেন, মোহাম্মদ আদেল শেখ ও মো. মেজবাহ সহ ফরিদপুর সার্কেলের অন্য কর্মচারীরা।

ফরিদপুরের গোপালপুর-মৈনট ঘাটে ইজারা কম, ভাড়া বেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের গোপালপুর-মৈনট ঘাটে ইজারা কম, ভাড়া বেশি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর গোপালপুর-মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটে ইজারা মূল্যে ধস নামলেও উল্টো বেড়েছে যাত্রী পারাপারের ভাড়া। সেই সঙ্গে ঘাটের চৌহদ্দি বা সীমানা অস্বাভাবিকভাবে সম্প্রসারণ করা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও বিতর্ক। ২০২২ সালে যেখানে এই ঘাটটির ইজারা মূল্য ছিল ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, সেখানে চলতি বছরে মাত্র ৭০ লাখ টাকায় ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।

গত তিন বছর ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে খাস কালেকশনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া এই ঘাটটি এবার নামমাত্র মূল্যে ইজারা দেওয়া হলেও কমেনি যাত্রী পারাপারের মাশুল, বরং বাড়ানো হয়েছে ভাড়া।

​২০২৫ সাল পর্যন্ত স্পিডবোটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা এবং লঞ্চে ৭০ টাকা। বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পিডবোটে ১৭৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণের কথা বলা হলেও স্থানীয়ভাবে ১৮০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

অন্যদিকে লঞ্চে ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮০ টাকা। শুধু ভাড়াই নয়, ঘাটের সীমানা বাড়িয়ে দুই পাড় মিলিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার পদ্মা পারকে গোপালপুর-মৈনট ঘাটের আওতায় আনা হয়েছে। এতে হাজীডাঙ্গী, এমপি ডাঙ্গী ও টিলারচরসহ আশপাশের একাধিক ঘাটের কার্যক্রম ও সরকারি রাজস্ব আদায় মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

​ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে কম দামে ইজারা নিয়েছেন এবং সীমানা বাড়িয়ে সরকারের অন্যান্য ঘাটের রাজস্ব কমিয়ে দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদারের অংশীদার মো. আজিজ মাষ্টার দাবি করেন, তাঁরা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত হারেই ভাড়া আদায় করছেন।

​এদিকে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, ঘাটটি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সেখান থেকেই স্পিডবোটে ১৭৫ টাকা ও লঞ্চে ৮০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া যাত্রী পারাপার করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তবে ইজারা মূল্য হ্রাসের পেছনে প্রকৃত কারণ ও সীমানা বৃদ্ধির বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুরে জিয়া ও সুতানালী খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে জিয়া ও সুতানালী খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিবিজড়িত জিয়া খাল ও সুতানালী খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে শহরের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনের মহাসড়কে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খাল দুটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ও মাচ্চর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য জলাবদ্ধ পানিতে মিশে কুড়িগাড়া বিল, টেংরামারা বিল, তলাপত্তর বিল ও বাঁশগাড়ি খাদের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।

​বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরাসরি উপস্থিত হয়ে খাল দুটি পুনঃখনন করেছিলেন। এর ফলে অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে গতি এসেছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল দুটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করার দাবি জানান তারা।

​কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে খাল পুনঃখননের পাশাপাশি ফরিদপুরে পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণ ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল স্থাপনসহ আট দফা দাবি জানানো হয়।

​কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ফরিদপুর জেলা কমিটির সভাপতি সুধীন সরকার মঙ্গল, সহ-সভাপতি আবু হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক অজিত বিশ্বাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আব্দুল্লাহ্ সাঈদ, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খাঁন রেজাউল কবীর বাচ্চু, ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি জাহানারা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মল্লিকসহ স্থানীয় কৃষকরা।

সালথায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ১০

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
সালথায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ১০

জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের কোন্দলের জেরে ফরিদপুরের সালথায় দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মোন্তারমোড় বাজারসংলগ্ন বড় বাংরাইল গ্রামে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় বাংরাইল গ্রামের মনির বিশ্বাস ও মিশরু বিশ্বাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একখণ্ড জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে মঙ্গলবার বিকেলে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা ঢাল, সরকি ও রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

​প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ তাণ্ডবে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষ। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

​তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মনির বিশ্বাস ও মিশরু মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।