খুঁজুন
, ,

যে ৮ অভ্যাসে মানুষ আপনাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করবে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
যে ৮ অভ্যাসে মানুষ আপনাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করবে?

মানুষের কাছে গুরুত্ব ও সম্মান পাওয়ার পেছনে সবসময় পদমর্যাদা, অর্থ বা সামাজিক অবস্থান কাজ করে না। বরং প্রতিদিনের আচরণ, কথা ও কাজের সামঞ্জস্য এবং অন্যের প্রতি ব্যবহারের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে তৈরি হয় একজন মানুষের গ্রহণযোগ্যতা।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য থাকা, অন্যকে সম্মান করা, মনোযোগ দিয়ে শোনা, স্পষ্টভাবে কথা বলা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার মতো অভ্যাস মানুষের আস্থা ও সম্মান অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

কর্মক্ষেত্র থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সব জায়গাতেই কিছু অভ্যাস মানুষের প্রতি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উঠে আসা বিষয়গুলোর আলোকে এমন ৮টি অভ্যাস রয়েছে, যা নিয়মিত চর্চা করলে মানুষ আপনাকে আরও গুরুত্ব দিতে শুরু করতে পারে।

১. কথা দিয়ে কথা রাখা: যদি কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তা রক্ষা করুন। কোনো অজুহাত বা গড়িমসি না করে নিজের দায়িত্ব পালন করা বিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করে। আপনি যখন নিয়মিত আপনার কথা ও কাজের মিল রাখবেন, তখন মানুষ আপনাকে নির্ভরযোগ্য মনে করবে এবং আপনার ওপর ভরসা করতে শুরু করবে।

২. অকারণে ক্ষমা চাওয়া বন্ধ করুন: কথা বলার সময় ‘বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত’ বা ‘আমি কোনো বিশেষজ্ঞ নই, তবে…’—এ ধরনের দ্বিধাগ্রস্ত বাক্য এড়িয়ে চলুন। নিজের মতামত সরাসরি এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রকাশ করুন। নিজের অন্তর্দৃষ্টি বা বুদ্ধিকে অন্যদের কাছে বোঝা মনে না করে এর গুরুত্ব তুলে ধরুন।

৩. ব্যক্তিগত সীমানা রক্ষা করা: সীমানা নির্ধারণ করা মানে অভদ্রতা নয়, বরং অন্যরা আপনার সঙ্গে কেমন আচরণ করবে তার একটি নির্দেশিকা। কেউ আপনার সময় নষ্ট করলে বা মূল্যবোধে আঘাত দিলে নির্দ্বিধায় এবং কোনো অপরাধবোধ ছাড়াই ‘না’ বলতে শিখুন। এটি অন্যদের বাধ্য করবে আপনার সময়ের মর্যাদা দিতে।

৪. বলার চেয়ে শোনাকে প্রাধান্য দিন: প্রকৃত আত্মবিশ্বাস থাকে নীরবতায়। কোনো আলোচনা বা সভায় সারাক্ষণ কথা বলে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা না করে মন দিয়ে অন্যের কথা শুনুন। আপনি যখন আবেগীয় পরিপক্বতা নিয়ে কথা শুনবেন, তখন আপনার নিজের প্রতিটি শব্দের গুরুত্ব বা ওজন অনেক বেড়ে যাবে।

৫. সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা: দেরি করে পৌঁছানো আপনাকে ব্যস্ত প্রমাণ করে না, বরং এটি আপনাকে অগোছালো এবং আত্মকেন্দ্রিক হিসেবে তুলে ধরে। সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়া মানে আপনি অন্যের সময়েরও মূল্য দেন। এটি একটি তাত্ক্ষণিক আস্থা তৈরি করে এবং আপনাকে একজন পেশাদার মানুষ হিসেবে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে।

৬. নিজের ভুল স্বীকার করা: ভুল ঢাকতে অজুহাত তৈরি না করে সরাসরি তা স্বীকার করুন এবং ক্ষমা চান। নিজের ইগো রক্ষা করার চেয়ে দায়িত্বশীল হওয়া অনেক বেশি সম্মানজনক। এটি প্রমাণ করে যে আপনি যে কোনো ব্যর্থতা সামলানোর মতো যথেষ্ট পরিপক্ব ।

৭. সংকটে অবিচল থাকা: যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে বা সংকটের সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকাই নেতৃত্বের বড় গুণ। যখন সবাই দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখন আপনি যদি মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে সমাধানের দিকে মনোযোগ দেন, তবে মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই আপনার ওপর নির্ভর করবে এবং আপনার দিকনির্দেশনা খুঁজবে।

৮. ধারাবাহিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া: মাঝে মাঝে দুর্দান্ত কাজ করার চেয়ে প্রতিদিন পরিমিত কিন্তু মানসম্মত কাজ করা অনেক বেশি কার্যকর। আপনার নির্ভরযোগ্যতা যখন একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হবে, তখন সবার চোখে আপনার মূল্য এবং গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যাবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

সালথায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সালথায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই ব্যবস্থা

ক্লাস চলার সময়ে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাস্তাঘাট বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এমন কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন।

​বুধবার (০৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সালথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সালথা উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ক্লাস চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিভাবককে উপজেলা প্রশাসনে বা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে অভিভাবকের কাছ থেকে উপযুক্ত মুচলেকা গ্রহণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

​উপজেলা প্রশাসন জানায়, এই নির্দেশনা অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থেই মূলত এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে সালথা উপজেলা প্রশাসন।

সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় ফসলি জমির সীমানায় বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

​বুধবার (০৪ নভেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মেহেরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​স্থানীয়রা জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও ফসলি জমি নিয়ে মেহেরদিয়া গ্রামের মো. কালাম মুন্সীর সঙ্গে নুর ইসলাম মুন্সীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার দুপুরে কালাম মুন্সী তাঁর ফসলি জমির সীমানায় বেড়া দিতে গেলে নুর ইসলামের সমর্থকরা তাঁকে মারধর করেন।

​এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করে সংঘর্ষকারীরা।

​এ ঘটনায় কালাম মুন্সী ও শাহজাহান মাতুব্বরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

​সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘জমিতে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।’

​এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ৩

ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে একটি আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

​গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সাবেক (চাকরিচ্যুত) দুই সদস্য রয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ডাকাতি হওয়া একটি ১৫০ সিসি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

​বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

​পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া করার ছলে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার তদন্তে নেমে চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে চক্রের মূল হোতা সাবেক পুলিশ সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪) ও তার সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকাকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার লিমন ও সাকার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে লিমন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। পরবর্তীতে ছিনতাই করা ইজিবাইকগুলো মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হতো। লিমনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে।

​পরে লিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক সেনা সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫৫) গ্রেফতার করে ডিবি। খুলনা সদর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বর্তমানে রঘুনন্দনপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

​অভিযানে তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় রূপগঞ্জে ডাকাতি হওয়া মোটরসাইকেলটি। পুলিশের দাবি, জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বড় ধরনের ডাকাতি সংঘটিত করে নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।