খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে নারী শ্রমিককে ভারতের যৌনপল্লীতে পাচার, দুই নারীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নারী শ্রমিককে ভারতের যৌনপল্লীতে পাচার, দুই নারীর যাবজ্জীবন
ফরিদপুরে জুট মিলের নারী শ্রমিককে (২২) সুন্দরবনে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাঁচার করে যৌনপল্লীতে বিক্রির ঘটনায় দুই নারী সহকর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২০১২ সালের ২৯ মে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানব পাচার আইনে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী ওই নারী শ্রমিকের মা।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছে-সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বৈশাখালী গ্রামের আমীর আলী মোল্যার মেয়ে মাকসুদা বিবি (৩৫) ও আটিরোপর এলাকার মতিয়ার পালের মেয়ে মর্জিনা ওরফে সোনালী (২৫)। রায় ঘোষণার সময় আসামীরা পলাতক ছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পারোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ও তাঁর দুই মেয়ে ফরিদপুরের কানাইপুর করিম জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। একই মিলে আসামী মাকসুদা বিবিও কাজ করতেন। কাজের সুবাদে তাঁদের সাথে পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন মাকসুদা বিবি।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, সুম্পর্কের সুবাদে আসামী মাকসুদা তাঁর গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠানের কথা বলে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং সুন্দরবন ঘুরে দেখাবে বলে জানান। এক পর্যায়ে ২০১২ সালের ৮ মে তার বড় মেয়ে (২২) মাকসুদার সাথে চলে যান। পরবর্তীতে তাকে সুন্দরবন দেখানোর কথা বলে ভারতে পাঁচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেয়া হয়। এরপর একটি ভারতীয় নাম্বারে ফোন আসে এবং জানানো হয়- তাঁর মেয়েকে পাঁচার করে কলকাতায় একটি পতিতা পল্লীতে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পরে একই বছরের ১৮ মে কলকাতা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে জিম্মায় রাখেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী পরিষদের মাধ্যমে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। এক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করেন সংগঠনটির সদস্য এবং ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী শামসুন্নাহার নাইম।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর আগে মামলাটি দায়ের করা হয়। শুনানি ও সাক্ষ্য শেষে আজ মামলাটির রায় প্রদান করেন বিচারক।
তিনি আরও জানান, মামলায় দুই নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক। পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তারা পলাতক রয়েছেন, তাদের গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

ফরিদপুরে পৃথক দুটি অভিযানে ২০ কোজি গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পৃথক দুটি অভিযানে ২০ কোজি গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ছয় লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ২০ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০।

বুধবার (১০ জুন) গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত গভীর রাতে মধুখালী উপজেলার বেল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ মনির হোসেন ওরফে রুবেল (২৬) ও আমির হোসেন (২৪) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের থেকে উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর আগে সোমবার (৮ জুন) দিবাগত গভীর রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার বদরপুর এলাকায় ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে আরো সাড়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল (২৭) ও রাশেদুল ইসলাম (২৬) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার উত্তর মিলনপুর এলাকায় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তার চারজনই একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুর, মাগুরা ও আশপাশের জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বিভিন্ন মহাসড়ক ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের প্রবণতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অভিযানের কারণে বড় বড় চালান জব্দ হচ্ছে।

র‌্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি। এটি যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। মাদক নির্মূলে র‌্যাব জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের বুধবার (১০ জুন) আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানা।

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় দেন।

এর আগে বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

মামলাটিতে বাদীপক্ষে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এরপর আসামিরা সাফাই সাক্ষ্য দেন।

মামলাটিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনও শেষ হয়।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়।

তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাদের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এ মামলায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরপর একই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা জজ আদালতে নাসির ও তামিমা অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষ।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ মামলাটির বিচার চলবে বলে আদেশ দেন। এরপর নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সকল বন্দির মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল লিচু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লিচু বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন। তারা বন্দিদের খোঁজখবর নেন এবং কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও বন্দিদের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য, চিকিৎসাসেবা, বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মৌসুমী ফল বিতরণও তার একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি প্রদানের স্থান নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

লিচু বিতরণ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফরিদপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণ ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।