খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে বসুন্ধরা শুভ সংঘের নতুন কমিটির পরিচিতি ও কর্মপরিকল্পনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৫:০৩ পিএম
ফরিদপুরে বসুন্ধরা শুভ সংঘের নতুন কমিটির পরিচিতি ও কর্মপরিকল্পনা সভা

ফরিদপুরে বসুন্ধরা শুভ সংঘের জেলা কার্যনির্বাহী নতুন কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের রাজেন্দ্র কলেজের ক্যান্টিনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির সামনের দিনে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় সংগঠনের উপদেষ্টাবৃন্দ, সভাপতি ও সম্পাদকসহ কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন মতামতের সাথে কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন বক্তারা। সভা শেষে কলেজ চত্বরে শহীদ মিনারের সামনে ভাষার মাসে কমিটির সকলকে নিয়ে ছবি তোলা হয়।

কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, হতদরিদ্র নারীদের সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ, শিশু কিশোরদের সাহিত্য প্রতিযোগিতার আয়োজন, বই পড়ার আয়োজন, অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা, ময়লা-আবর্জনার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষ রোপন, বৃদ্ধাশ্রম বা এতিমখানায় পিঠা উৎসবসহ বিভিন্ন ক্যাম্পেইন করার কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়।

পরিচিতি সভায় সংগঠনের ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি তন্ময় রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোনীয়া সুলতানার সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা প্রফেসর এস এম আব্দুল হালিম, বাংলা নিউজের জেলা প্রতিনিধি হারুন অর রশিদ, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মো. নুর ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনুপম রায়, দপ্তর সম্পাদক তিহান আহমেদ, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিয়া, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক বাসুদেব বিশ্বাস, ক্রীড়া সম্পাদক মহানন্দ দত্ত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আলিম মৃধা, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব বিশ্বাস, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. ফয়সাল, কার্যকরী সদস্য সজল সরকার, মুক্তা খানম, রনি রায় ও অমিত রায় প্রমুখ।

ফরিদপুর জেলা শুভ সংঘের কমিটিতে আরো যাঁরা রয়েছেন তারা হলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সোহেল, উপদেষ্টা নুরুল ইসলাম নুরুল ও আজহারুল ইসলাম, সহসভাপতি আদি শরীফ আমির ও সৈয়দ মাহাবুব সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম আক্তার ও তৌফিক রাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুল হক লিটু, অর্থ সম্পাদক সুজাউজ্জামান, নারী বিষয়ক সম্পাদক সায়মা আজিজ স্বর্না, ইভেন্ট সম্পাদক সাহেল আক্তার, প্রচার সম্পাদক ও নিউজ ২৪ ফোর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সোহাগ জামান, স্বাস্থ্য ও মানব সম্পাদক ডা. আরমান দিপ্ত, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক উম্মে হাবিবা মৌ, শিক্ষা ও পাঠ্যচক্র বিষয়ক সম্পাদক কাকলি সরকার, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক তামান্না আফরোজ, কার্যকরী সদস্য সনত চক্রবর্তী, সম্রাট শেখ, আরজিৎ, মো. মারুফ ও সঞ্জয় রায়।

সংগঠনের সভাপতি তন্ময় রায় এবং সাধারণ সম্পাদক সোনীয়া সুলতানা বলেন, উপদেষ্টাগণের পরামর্শক্রমে নতুন কমিটির পরিচিতি সভায় আমরা বেশ কিছু কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এক একটা করে পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাব। তারা বলে, গঠনের সদস্যদের সাথে নিয়ে শুভ কাজে সাধারণ মানুষদের উদ্বুদ্ধ সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাব।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।