খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দৈনিক ঢাকা টাইমস-এর সিনিয়র রিপোর্টার মো. মুজাহিদুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব। এ ঘটনায় সাংবাদিক মুজাহিদ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের দিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি করা সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করেন। এছাড়াও বর্তমান ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য নুরুল হাসান মিয়ার আপন ছোট ভাই, গণঅভ্যুত্থানের পরে আবির্ভাব হওয়া হাসিবুল হাসান হাসিবকে হঠাৎ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে বসানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার (০৫ নভেম্বর) রাত ৮ টার দিকে হাসিবুল হাসান হাসিব ফেসবুক মেসেঞ্জারে কল দিয়ে এবং একাধিক অডিও বার্তা পাঠিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

জিডিতে মুজাহিদুল উল্লেখ করেন, হাসিব অত্যন্ত অশ্রাব্য ও হুমকিসূচক ভাষায় বলেন, “তুই লেখার কে? আমি আসতেছি তোর হাড্ডি খুলে ঝুলোবানি। প্রত্যেক জয়েন্ট জয়েন্টে আলাদা করে দিবানি। আমি তোকে হুমকি দিচ্ছি না, আমি আইসে তোকে হাড্ডি ভাঙ্গবানি। তুই আমাকে চিনিস? খানকির পোলা ফোন রাখ। তোমার বড় বড় বাপরা আমাকে চিনে। তোমার যে বাজান আছে তাদের কাছে আমার নাম শুনবা। তোমার বাজানরা আমাকে চিনবে। তুমি আমাকে চিনো না। তোমার মত বাড়ার বাল আমার চেনা লাগবে? শালার ভাই শালা। এই শালার ঘরে শালা তুই কি সাংবাদিক? আমি একটা দলের পোস্টধারী লোক। তুই আমার সম্পর্কে হুট করে লিখিস কিভাবে? তুই লেখার কে? তোকে লেখার স্পর্ধা দিছে কে? নুরুল হাসান পালাবে কেন এই বাস্টার্ড? তোর বাড়ি কোথায়? বাড়ার বাল তুই বাংলাদেশের যে প্রান্তে থাকিস সেই প্রান্ত থেকে তোকে ধরে এনে ঝুলাবো। তোরে মেরে পাছার মধ্যে আইক্কাওয়ালা বাঁশ ঢুকিয়ে আলফাডাঙ্গা চৌরাস্তায় ঝুলিয়ে রাখবো। তোর কোন বাপ আছে দেখি কিভাবে ঠেকায়।”

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি আশঙ্কা করছেন যেকোনো মুহূর্তে হাসিবুল হাসান হাসিব বা তার সমর্থকরা তার জীবননাশ করতে পারেন। একজন পেশাজীবী সাংবাদিক হিসেবে এটি তার পেশাগত স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এটিকে সাংবাদিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম জিডিটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভাঙ্গায় এসএসসি ‘ফরম ফ্লাপ’ কাণ্ড: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় এসএসসি ‘ফরম ফ্লাপ’ কাণ্ড: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমির প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার মাত্র তিন দিন আগে বহিরাগতসহ অযোগ্য ২১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ভাঙ্গা উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে এক অভিভাবক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যালয়টির নিয়মিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৩৯ জন। পরে বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে দুই থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য আরও ২৮ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়। এর পর পরীক্ষার মাত্র তিন দিন আগে আরও ২১ জন অযোগ্য ও বহিরাগত শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও এর একটি অংশ মাত্র বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হয়েছে।

এ অনিয়মের কারণে পরীক্ষার শুরু থেকেই প্রতিদিন ২১টি করে প্রশ্নপত্র কম পড়ে যায়। এতে পরীক্ষাকেন্দ্র ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো হলে তিনি অনলাইনে যাচাই করে প্রশ্নপত্র সংকটের সত্যতা পান। এরপর ট্রেজারির মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রশ্নপত্র পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গায় পাঠানো হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ভাঙ্গা গার্লস স্কুলের হল সুপার অরুণ দত্ত বলেন,
“প্রশ্নপত্র কম পড়ার বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। পরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অতিরিক্ত প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হয়।”

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির, সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির, কয়েকজন সহকারী শিক্ষক, কম্পিউটার শিক্ষক মো. শাহআলম এবং অভিভাবক সদস্য সাজিব তালুকদার সজল।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির বলেন, “দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারিনি। আমি ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ করেছি। বাকি ২১ জনের ফরম কীভাবে পূরণ হয়েছে, তা আমি জানি না। আমার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কয়েকজন শিক্ষক এসব কাজ করেছেন। এ নিয়ে আমি বাধাও দিয়েছি। এমনকি আমাকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির বলেন, “প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই ২১ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছে। ফরম পূরণের কিছু টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা হয়েছে। কোচিং ফি বাবদ চার হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে, যা কয়েকজন শিক্ষক ভাগ করে নিয়েছেন।”

বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য সাজিব তালুকদার সজল জানান, “অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখার স্বার্থে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিষয়ে সুপারিশ করেছি। এক নেতার সুপারিশে একজন বহিরাগত পরীক্ষার্থীও নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কে কত টাকা নিয়েছে, তা আমি নিশ্চিত নই।”

এদিকে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, ফরম পূরণের নামে প্রায় ৮ লাখ টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হলেও বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

তাদের অভিযোগ, অযোগ্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ায় বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি লেখাপড়ার মান ও পাসের হারও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমি বিষয়টি এখনই বিস্তারিত জানলাম। যদি কেউ অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিরাপদ সবজি চাষে কৃষকদের দক্ষতা বাড়াতে ফরিদপুরে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
নিরাপদ সবজি চাষে কৃষকদের দক্ষতা বাড়াতে ফরিদপুরে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ফরিদপুরে নিরাপদ সবজি ও ফসল উৎপাদনে কৃষকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ সম্পর্কে গ্রামীণ কৃষকদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতেই এ আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরে সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসডিসি) এর শাখা কার্যালয়ে “নিরাপদ সবজি ও ফসল উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে এসডিসি।

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে কৃষকদের আরও সচেতন হতে হবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে গ্রামীণ এলাকার ২৫ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ সবজি উৎপাদনের আধুনিক কৌশল, সঠিক সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ, বীজ নির্বাচন, মাটি ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন এবং ফসল সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টওয়েস্ট সিড নলেজ ট্রান্সফার ফাউন্ডেশনের টেকনিক্যাল ম্যানেজার ইমাদ মোস্তফা প্রশিক্ষণে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা, সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে সার প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিরাপদ সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন, তেমনি ভোক্তারাও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পাবেন।

এছাড়া এসডিসির কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া হাসান, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজিদ আহমেদ এবং কানাইপুর শাখার ব্যবস্থাপক উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মাঠপর্যায়ে নিরাপদ ফসল উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করেন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের কৃষিকাজে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। নিরাপদ ও লাভজনক চাষাবাদ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে আরও পরিকল্পিতভাবে কৃষিকাজ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসডিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, পিকেএসএফের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মধু খাওয়ার আগে ৫ বিষয় জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
মধু খাওয়ার আগে ৫ বিষয় জেনে নিন

মধু প্রকৃতির অসাধারণ উপহার, যা স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কার্বোহাইড্রেট আর প্রাকৃতিক চিনির সমৃদ্ধ এক উৎস মধু নিরাপদ এবং কার্যকর। তবে খাঁটি মধু ব্যবহার এবং সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধু খাওয়ারে আগে জেনে নিন যে ৫টি বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত—

১. মধুতে প্রাকৃতিক চিনির মাত্রা বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত মধু খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বিশেষ ক্ষতিকর হতে পারে।

২. অনেকে মধু গরম পানিতে মিশিয়ে খেয়ে থাকেন, কিন্তু এটি সঠিক নয়। গরম পানির সঙ্গে মধু মেশালে মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং কিছু ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

৩. যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাদের খালি পেটে মধু খাওয়া উচিত নয়। মধু এসিড উৎপাদন বাড়াতে পারে, যা বুক জ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হতে পারে।

৪. কিছু মানুষ ফুলের পরাগে অ্যালার্জিক হতে পারেন, যেহেতু মধুতে ফুলের পরাগ উপস্থিত থাকতে পারে। যদি অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকে, তাহলে মধু খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

৫. বাজারে অনেক নিম্নমানের ও ভেজাল মধু পাওয়া যায়। খালি পেটে মধু খাওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, মধুটি খাঁটি এবং ভেজালমুক্ত। ভেজাল মধু স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পাঁচ বিষয় মাথায় রেখে খাঁটি মধু সঠিকভাবে খেলে আপনি এর সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে পারেন।