খুঁজুন
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

ফরিদপুরে ইতালি প্রবাসী হত্যাকে ‘রাজনৈতিক মামলা’ বলে প্রত্যাহারের সুপারিশ, ন্যায়বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইতালি প্রবাসী হত্যাকে ‘রাজনৈতিক মামলা’ বলে প্রত্যাহারের সুপারিশ, ন্যায়বিচার দাবি

ফরিদপুরে পাঁচ বছর আগে এক ইতালী প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলা রাজনৈতিক মামলা বলে প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে ন্যায় বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবার। তাঁরা বলছেন, মামলাটি প্রমাণিত ও বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ক্ষমতাশালী লোকের তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক মামলা হিসেবে গণ্য না করে হত্যা মামলা হিসেবে উল্লেখ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২ টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন পরিবারটি। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বৃদ্ধা মা হালিমা বেগমের (৭৫) পক্ষে লিখিত বক্তব্য রাখেন তাঁর ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান।

এ সময় নিহতের স্ত্রী শাহীন আফরোজ রোজা ও পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মাসুদা মেহেরুবা (৫) সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে হালিমা বেগম জানান, ২০০৪ সাল থেকে ১৮ বছর যাবৎ তাঁর ছোট ছেলে মাসুদ রানা (৪৫) ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন। এরপর ২০১৭ সালে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে যান সেখানে। এরমধ্যে ২০২১ সালে দেড়মাসের ছুটিতে দেশে আসেন মাসুদ রানা। তৎকালীন সময়ে তাঁদের গ্রামে দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে তিনি উদ্যোগ নেন। এতে গ্রাম্য মোড়ল ও পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক বাচ্চু গ্রুপ তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। যার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৩ এপ্রিল রাতে ভাঙ্গা উপজেলার নওপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দলবল নিয়ে ধারালো অস্ত্র চাপাতি, রামদা নিয়ে তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় ১৫ এপ্রিল ৩৫ জনকে আসামী করে ভাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি।
এই মামলায় একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর হত্যাকান্ডের বিবরণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও হত্যাকান্ডের ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরির ফরনেসিক প্রতিবেদনসহ ৩৪ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন- তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. ফরহাদ হোসেন।

এছাড়া অভিযোগপত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক বাচ্চুর (৬০) নেতৃত্বে ও নিজেই কুপিয়ে জখম বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফরিদপুর অতিরিক্ত দায়রা জজের ২য় আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে এবং ৯ জনের স্বাক্ষ্য চলমান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারটির উত্থাপিত নথিপত্রে দেখা যায়, আদালতে চলমান মামলাটি চলতি বছরে রাজনৈতিক মামলা উল্লেখ করে প্রত্যাহারের আবেদন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেরস আলী ইছা। এতে তিনি সকল আসামীর নাম উল্লেখ করেছেন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল জেলা ‘বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলাসমূহ প্রত্যাহার সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই’ কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। ওই সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর করেন কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা (সাবেক), সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস, সদস্য ও পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আশরাফুজ্জামান নান্নু।

এছাড়া গত ২৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা স্বাক্ষরিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও  ঢাকা বিভাগীয় কমিশানারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধা হালিমা বেগম ছেলে হত্যার ন্যায়-বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমার দাবি- আমি জীবিত থাকতে যেন ন্যায্য বিচারটা পাই। আমার ছেলের শোকে চার মাস পর আমার স্বামীও স্ট্রোক করে মারা গেছে। এই মামলা কিভাবে রাজনৈতিক মামলা হয়। এই মামলা তদন্ত করে দেখুক, আমার ছেলের কোনো দোষ ছিল কি-না।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সাথে জড়িতও ছিল না এবং বাংলাদেশের ভোটারও ছিল না। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতেন, গরীব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাঁদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতায়ও করতো। তাকে এমনভাবে মারছে যে একটি দোকানে গিয়ে পালিয়েছিল, সেখানে ঢুকে ওই বাচ্চু লোকজন নিয়ে মারছে। এই মামলা কিভাবে রাজনৈতিক মামলা হয়, আমি জানি না।’

এছাড়া নিহতের ভাই আসাদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে যারা কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাঁরা আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মী। তাঁরা সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার ভয়ে বর্তমানে ভোল্ট পাল্টিয়ে ক্ষমতাশালী দলের নেতাদের সাথে মিশে এবং তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে সুপারিশ করিয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক আসামীই আমার ভাই হত্যার সাথে জড়িত রয়েছে, যেটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবেদনকারী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেরছ আলী ইছা বলেন, ‘একজন ভাল-মন্দ বলতেই পারে। আবেদনের পরে এটা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্টের ভিত্তিতেই সুপারিশ করা হয়েছে।’ এছাড়া প্রধান অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতার বিষয়ে বলেন- ‘আমিতো আর সারাদেশের মানুষ চিনি না, কে কোন দল করে।’

এছাড়া যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রথমে একটি লোকাল তদন্ত হয়েছে এবং পরে পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিটির মাধ্যমে সুপারিশ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারটি যদি প্রথমদিকে আমাদের জানাতেন, তাহলে আমরা পুনরায় তদন্তে পাঠাতাম। এখন তাঁরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আপত্তি জানাতে পারেন এবং আপত্তি অনুযায়ী পুনরায় তদন্তে দেয়া হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবার ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর এলাকায় রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ।

মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে স্থানীয়রা মাদক কারবারীদের এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে রামকান্তপুর বাজার স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে স্থানীয়দের পক্ষে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ না হলে আরও কঠোর সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।”

বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা দাবি করেন, এলাকার তরুণদের সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাদকের বিস্তার রোধ করা এখন সময়ের দাবি।

সমাবেশ থেকে রাত ১২টার পর অকারণে এলাকায় ঘোরাফেরা না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে স্থানীয়দের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছে, রামকান্তপুরবাসীও সেই আন্দোলনের অংশ হতে চায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এলাকায় মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘মাদকমুক্ত সমাজ চাই’, ‘তরুণদের বাঁচাতে মাদক রুখতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকসংগীত পরিবেশন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা জনপ্রিয় লোকশিল্পী লাইলী বাউল তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের স্বীকৃতি ও সফলতার জন্য গণমাধ্যমকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন লাইলী বাউল। এ সময় তাঁর ছেলে আপন শেখসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় আবেগঘন বক্তব্যে লাইলী বাউল বলেন, “গান আমার সাধনা, আমার জীবন। ছোটবেলা থেকেই গান গেয়ে আসছি। মানুষের ভালোবাসা, গণমাধ্যমের সহযোগিতা এবং আপনাদের আন্তরিক সমর্থন না পেলে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। আমার এই স্বীকৃতি মূলত সাধারণ মানুষের ভালোবাসারই প্রতিফলন।”

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকগান পরিবেশন করলেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গান ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। এই ভালোবাসা তাঁকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে লাইলী বাউল বলেন, “আমি মানুষের জন্য গান গেয়ে যেতে চাই। সুযোগ পেলে চলচ্চিত্রেও গান গাওয়ার ইচ্ছা আছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সুস্থ থেকে গানকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারি।”

এ সময় বক্তব্য দেন তাঁর ছেলে আপন শেখ। তিনি বলেন, “আমার মা পৃথিবীর সেরা মা। সারা বিশ্বের মানুষ আজ তাঁকে চিনছে, এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন।”

ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুমতী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের গয়েশপুর ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত। এলাকাটি মধুখালী উপজেলা এবং মাগুরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মধুমতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে নড়াইল জেলার বুড়িখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. বেলায়েত মোল্লা (৪৫)কে আটক করা হয়। তিনি মো. হান্নান মোল্লার ছেলে।

পাশাপাশি বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত যন্ত্রপাতি কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত বলেন, “নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। যারা আইন অমান্য করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, মধুখালী উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি দখল, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।