খুঁজুন
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪ মাঘ, ১৪৩২

বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শেখ হাসিনার বাবুর্চি সালথার মোশারফ : দখল করেছেন জমি!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫, ৩:৫১ পিএম
বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শেখ হাসিনার বাবুর্চি সালথার মোশারফ : দখল করেছেন জমি!
দিনমুজুর বাবার ছেলে মো. মোশারফ শেখ (৪৭)। পড়ালেখা না করায় নিজের নামটা পর্যন্ত লিখতে পারেন না। বাবার সম্পত্তির ভাগ পেছেন মাত্র ৫ শতাংশ জমি। ৩০ বছর আগে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন একটি হোটেলে তিনি। তবে হোটেলে চাকরির মাত্র দুই বছর পর তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসার বাবুর্চির চাকরি পান। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মোশারফ এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। গ্রাম থেকে শহরে সব জায়গায় রয়েছে তার বাড়ি-গাড়ি। শুধু তাই নয়, অভিযোগ আছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজ গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী কৃষকের জমি দখলসহ সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করার।
মোশারফ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের বড় কামদিয়া গ্রামের কৃষক রহমান শেখের ছেলে। তিনি ২৭ বছর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসার বাবুর্চি ছিলেন। তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর গা ঢাকা দেন মোশারফ। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ দিয়েছেন বড় কামদিয়া গ্রামের কৃষক মো. চাঁনমিয়া ফকিরের ছেলে মো. সাগর মিয়া। এরপর থেকে বেরিয়ে আসছে মোশারফের নানা অপকর্ম, নিরহ মানুষের ওপর অত্যাচার-জুলুম ও সম্পদের তথ্য।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশারফ হোসেন বড় কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কৃষক চাঁনমিয়া ফকিরের বড় কামদিয়া ৮১ নম্বর মৌজার ৬১৮ নম্বর দাগের ৪৩ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে বাড়ি নির্মাণ করে তিনি। বিভিন্ন সময় ওই জমি ছেড়ে দিতে বললে মোশারফ হুকমি-ধামকি ও মারপিট করে কৃষক চাঁনমিয়া ফকির ও তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করে রাখেন। আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত ১ জুন কৃষক চাঁনমিয়ার পরিবারের দখল করা জমি উদ্ধার করতে গেলে মোশারফ তার লোকজন নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক চাঁনমিয়া ফকিরের ভাতিজা সেন্টু ফকির বলেন, আমার চাচা একজন গরীব কৃষক। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশারফ হোসেন তার ৪২ শতাংশ জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করে। এবং ওই ঘরের চালের ওপর একটি নৌকা তৈরি করে টানিয়ে রাখেন। তখন আমরা পুলিশ-প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। বরং জমি দখল নিয়ে মুখ খুললেই আমাদেরকে মারধর করে ও মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে রাখতেন মোশারফ। শুধু আমাদের পরিবার নয়, মোশারফ শেখ হাসিনার বাবুর্চি হওয়ায় পুরো বড় কামদিয়া গ্রামের সাধারন মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছেন।
মোশারফের প্রতিবেশী মো. জামাল শেখ বলেন, মোশারফের বাবা অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসার হওয়ায় মোশারফ পড়ালেখাও করতে পারেনি। ছোট সময় থেকেই তিনি পাবনা শহরের একটি হোটেলের বাবুর্চির কাজ করতেন। তখন তিনি বাবার সম্পত্তির ভাগ পান মাত্র ৫ শতাংশ জমি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তিনি শেখ হাসিনার বাসার বাবুর্চির চাকরি পাওয়ার পর থেকে যেন আলাউদ্দীনের চেরাগ পেয়েছেন। বর্তমানে কামদিয়া গ্রামে ২ বিঘা জমির ওপর করেছেন বাড়ি। মাঠেও ৩ বিঘা জমি রয়েছে তার।
তিনি আরো বলেন, ফরিদপুরের শহরের হাড়োকান্দী এলাকায় ১২ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি ও রাজবাড়ি রাস্তামোড় এলাকায় ৮ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি রয়েছে তার। এ ছাড়া ঢাকা ও ফরিদপুর শহরে একাধিক ফ্লাট-প্লট ও গাড়ি রয়েছে বলে আমাদের কাছে মোশারফ নিজেই বলেছেন। বর্তমান সরকারেরর গোয়েন্দা সংস্থা যদি অনুসন্ধান করে তাহলে মোশারফের অনেক অজানা তথ্য ও সম্পদের হিসেব বেরিয়ে আসবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বাবুর্চি হওয়ার সুবাদে সম্পদ গড়ার পাশাপাশি  মোশারফ তার নিজ গ্রামের ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করতে চেয়েছিলেন। সাধারন মানুষের ওপর হামলা-মামলা ও তাদেরকে জিম্বি করে জমি দখল ও সালিশ বাণিজ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ওই গ্রামের যুবলীগ নেতা নুর ইসলাম তার প্রতিপক্ষ হওয়ায় তেমন সুবিধা করতে পারেনি তিনি। ২০১৫ সালে যুবলীগ নেতা নুর ইসলামের সমর্থকরা তাকে ধাওয়া দিয়ে এলাকা ছাড়া করে দেন। এরপর তিনি নুর ইসলামের সাথে মিলে ফের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেন।
বড় কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার বলে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন মোশারফ। শুধু গ্রামবাসীর ওপর অত্যাচার করে ক্ষ্যন্ত হননি তিনি, নিজের পরিবারও রেহাই পায়নি তার কাছ থেকে। গত চার বছর আগে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে আটকিয়ে রেখে নিজের স্ত্রীকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন মোশারফ। এখনও তার বাড়িতে স্ত্রী আসার আর সুযোগ পায়নি।
এসব বিষয় বক্তব্য নেওয়ার জন্য শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশারফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায। এমনকি তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসানউজ্জামান বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বাসার একজন বাবুর্চি কত টাকা বেতন পেয়েছেন? বেতন অনুযায়ী তার তো এত সম্পদের মালিক হবার কথা না। নিশ্চিয় তিনি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এখন তার সম্পদের বিষয়টি যেহুত সামনে এসেছে, তাই তার সম্পদের বিষয়টি অবশ্যই সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, জমি দখলের বিষয় নিয়ে মোশারফের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাকিবের কেনা ফ্ল্যাটেই কি নতুন ঠিকানা বুবলীর?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩১ এএম
শাকিবের কেনা ফ্ল্যাটেই কি নতুন ঠিকানা বুবলীর?

সম্প্রতি দ্বিতীয় সন্তানের মা হওয়ার গুঞ্জনে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম বুবলী। ব্যক্তিজীবন নিয়ে বরাবরই আলোচনায় থাকা এই অভিনেত্রীকে ঘিরে এবার নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে তার হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে চলেছেন বুবলী। আর এতেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা। অনেকেই জানতে চাইছেন, তাহলে কি আমেরিকায় গিয়ে শাকিব খানের কেনা ফ্ল্যাটেই উঠবেন তিনি? নাকি এটি শুধুই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণ?

যদিও এ বিষয়ে শবনম বুবলী কিংবা শাকিব খান—দুজনের কেউই এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে গুঞ্জন আর বাস্তবতার পার্থক্য নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। তবে ঢালিউডে শাকিব-বুবলী জুটিকে ঘিরে আগ্রহ যে এখনো তুঙ্গে, তা আবারও প্রমাণ করছে এই আলোচনা।

সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ—দুই প্রসঙ্গ মিলিয়ে শবনম বুবলীকে ঘিরে কৌতূহল যেন আরও বেড়েই চলেছে। সত্যি কী, আর গুঞ্জনই বা কতটা তা জানার অপেক্ষায় ভক্ত ও দর্শকরা।

 

দৈনিক মাথাব্যথা: সাধারণ সমস্যা নাকি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৪ এএম
দৈনিক মাথাব্যথা: সাধারণ সমস্যা নাকি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ?

মাথাব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। কাজের চাপ, ঘুম কম হওয়া, মানসিক দুশ্চিন্তা, চোখের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিক—বিভিন্ন কারণেই মাথাব্যথা হতে পারে। তাই প্রতিদিন মাথাব্যথা মানেই গুরুতর কিছু, এমনটা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা চলতে থাকলে বা ব্যথার ধরন অস্বাভাবিক হলে তা বড় কোনো রোগের লক্ষণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্কে টিউমার থাকলেও মাথাব্যথা হতে পারে, যদিও সব মাথাব্যথা ব্রেন টিউমারের কারণে হয় না। এ বিষয়ে কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

মাথাব্যথা কি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ?

আমেরিকান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকা মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমারের একটি সাধারণ লক্ষণ হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, বেশিভাগ মাথাব্যথার কারণই অন্য কিছু, যা সাধারণত গুরুতর নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং মস্তিষ্কের কোন অংশে চাপ পড়ছে—এসবের ওপর নির্ভর করে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। টিউমার বড় হয়ে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা কেমন হতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কের টিউমারের কারণে হওয়া মাথাব্যথা অনেক সময় মাইগ্রেন বা টেনশনের মাথাব্যথা থেকে আলাদা হয়ে থাকে।

কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো

১. এমন মাথাব্যথা, যা রাতে ঘুম ভেঙে দেয়

২. শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার ধরন বদলে যায়

৩. সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে কাজ না করা

৪. কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে স্থায়ী মাথাব্যথা

৫. ঘন ঘন মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সকালের মাথাব্যথার পেছনে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো অন্য কারণও থাকতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি?

চিকিৎসকদের মতে, নতুন ধরনের বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথা হলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং সাধারণ চিকিৎসায় কমে না, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত—

১. শরীরে আগে থেকেই ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং নতুন করে মাথাব্যথা শুরু হয়েছে

২. মাথাব্যথা ক্রমাগত বাড়ছে এবং দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করছে

৩. মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো

৪. মাথার পেছনে চাপ অনুভব হওয়া

৫. বমি বমি ভাব বা বমির সঙ্গে মাথাব্যথা

৬. খিঁচুনি হওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা

৭. ঝাপসা বা দ্বিগুণ দেখা, এমনকি দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া

৮. ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, অকারণে বিভ্রান্ত হওয়া বা মানসিকভাবে গুটিয়ে যাওয়া

৯. শরীরের একপাশ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়া বা অনুভূতি কমে যাওয়া

সব মাথাব্যথাই কি ভয়ঙ্কর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিভাগ মাথাব্যথা গুরুতর নয় এবং সাধারণ কারণেই হয়ে থাকে। তবে যে কোনো মাথাব্যথা যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং সাধারণ ব্যবস্থায় কমে না, তাহলে তা পরীক্ষা করানো জরুরি। যদি মাথাব্যথার সঙ্গে অস্বাভাবিক উপসর্গ যোগ হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

সূত্র : যশোদা হাসপাতাল

রুই মাছ কি সত্যিই হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়? জানাচ্ছে গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫২ এএম
রুই মাছ কি সত্যিই হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়? জানাচ্ছে গবেষণা

বাংলাদেশের রান্নাঘরে রুই মাছের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। শহর থেকে গ্রাম, প্রায় সব ঘরেই সপ্তাহে অন্তত একদিন রুই মাছ রান্না হয়। স্বাদে পরিচিত এই মাছ পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ, এমনটাই বলছেন পুষ্টিবিদ ও গবেষকেরা।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও পুষ্টিবিষয়ক নিবন্ধে উঠে এসেছে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে, এমনকি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান, চলুন বিস্তারিত জানা যাক।

পুষ্টিগুণে ভরপুর রুই মাছ

রুই মাছ শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও বেশ সমৃদ্ধ। এই মাছের ক্যালোরি তুলনামূলক কম হওয়ায় যাদের অতিরিক্ত ওজন বা মেদ রয়েছে, তারা খাদ্যতালিকায় এটি রাখতে পারেন।

পুষ্টিবিদদের মতে, রুই মাছে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ও, ই,ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং আয়রনসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এ ছাড়া রুই মাছে কোলিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যায়, যা স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা, শরীরের ফ্যাটের বিপাকক্রিয়া এবং পুষ্টি পরিবহণে সহায়তা করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সহায়ক

আমেরিকার স্কুল অব নিউট্রিশনের জার্নাল-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রুই মাছ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এমনকি যাদের ইতোমধ্যে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি সত্যিই কমে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুই মাছের তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই উপাদান রক্তের অণুচক্রিকাকে সহজে জমাট বাঁধতে দেয় না, ফলে রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে।

এ ছাড়া ওমেগা-৩ রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল এলডিএল ও ভিএলডিএল কমাতে সাহায্য করে এবং উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএলের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক। এর ফলে হৃদ্‌যন্ত্রে চর্বি জমার আশঙ্কা কমে।

বিশেষজ্ঞরা তাই মনে করেন, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।

কতটা রুই মাছ খাওয়া উচিত?

পুষ্টিবিদরা সব ক্ষেত্রেই পরিমিত খাবারের ওপর জোর দেন। তাদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক একটি বড় টুকরা রুই মাছই যথেষ্ট। এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

শেষকথা

খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে। নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, মাছ ও সুষম খাবারের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও তা উপকারী হতে পারে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস