খুঁজুন
, ,

‘নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত ফরিদপুর উপহার দিতে চাই ‘ — নায়াব ইউসুফ

মেহেদী সোহেল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
‘নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত ফরিদপুর উপহার দিতে চাই ‘ — নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর- ৩ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেছেন নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত ফরিদপুর উপহার দিতে চাই। এজন্য আমার আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে মাধবদিয়া ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, বিগত দেড়শত বছর যাবত আমার পরিবার এই ফরিদপুরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। মানুষ আমাদের ভালোবেসে ভোট দিয়ে এই নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। বিগত দিনে আমরা কখনো আপনাদের রেখে পালাইনি। কারণ আমরা মনে করি এই নেতৃত্ব দেয়া হলো আমাদের একটি দায়িত্ব। আমরা ক্ষমতা দেখানোর জন্য নেতৃত্বে আসি না, দুর্নীতি করার জন্য নেতৃত্বে আসিনা, আমরা নেতৃত্বে আসি মানুষের সেবা করার জন্য। আমরা নিঃস্বার্থভাবে ফরিদপুরবাসীর সেবা করেছি, এখনো করছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আমিই একমাত্র আপনাদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে পারব। আমি নির্বাচিত হলে আপনাদেরকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত ফরিদপুর উপহার দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সেবা করার সুযোগ পেতে আপনাদের সহযোগিতা আমার দরকার। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া আমি এমপি – মন্ত্রী কোনটাই হতে পারব না। আপনারাই আমার সব। তাই আপনাদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান থাকবে এই বাকি কয়েকটা দিন একটু কষ্ট করে আমার জন্য ধানের শীষের ভোট চাইবেন।

তিনি আরো বলেন, যারা ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করে তারা মুসলমান হতে পারে না। ধর্ম ধর্মের জায়গায়, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। যারা রাজনীতির মধ্যে ধর্মকে টানে তাদেরকে আপনারা প্রতিরোধ করবেন।

আমি আপনাদের সতর্ক করতে চাই, বিগত ষোল বছর আপনারা ভোট দিতে পারেন নাই। আপনাদের সুযোগ এসেছে, এখন যদি আপনারা এদিক-ওদিক যান তাহলে আগামী একশত বছর পরাধীনতার অন্ধকারে দেশের মানুষ ডুবে যাবে। তাই আপনাদের বলছি বিশেষ করে মা বোনেদের, আপনারা বোকার মত কাজ করবেন না, সতর্কতার সাথে ভোট দিবেন, সুযোগ কাজে লাগাবেন। ১২ তারিখ পর্যন্ত এই কয়েকটা দিন আপনারা আমার জন্য কাজ করেন। ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হলে ১২ তারিখের পর থেকে পাঁচ বছর আপনাদের জন্য আমি কাজ করবো। আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবো। কাজেই আপনারা ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়ার মমিন খার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির আয়োজনে জনসভায় সভাপতিত্ব করেন চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মির্জা সাইফুল ইসলাম আজম।

এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দল ফরিদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব শাহরিয়ার শিথিল, চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, মমিন খার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বেপারী, মমিন খার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী প্রবাসী দল ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মির্জা প্রিন্স আলী, জাতীয়তাবাদী প্রবাসী দল ফরিদপুর জেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক কাউসার তালুকদার সহ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দ, বাজারের ব্যবসায়ী-দোকানদার ও সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের কাছ থেকে মেয়েকে ছাড়িয়ে দুধে গোসল করলেন মা, ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের কাছ থেকে মেয়েকে ছাড়িয়ে দুধে গোসল করলেন মা, ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের নির্যাতন থেকে মেয়েকে মুক্ত করে দুধ দিয়ে গোসল করেছেন এক মা। মানত বা ওয়াদা রক্ষায় প্রকাশ্যে স্থানীয় একটি বাজারে ৫ কেজি দুধ দিয়ে গোসল করার এই খবর ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

​শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বড় বাইখীর গ্রামের চৌরাস্তা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে উপজেলার বড় বাইখীর গ্রামের বৃদ্ধ মহাশিন মোল্লার (৭৪) মেয়ে মনিরা খাতুনের (৩০) সঙ্গে একই এলাকার সুমন শেখের (৩২) বিয়ে হয়। মনিরা খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রতিদিন তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তিনি সংসারের ইতি টানতে বাধ্য হন। সম্প্রতি কাজী অফিসে গিয়ে কাবিন রেজিস্ট্রি বাতিলের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় সুমনের সঙ্গে মনিরার বিচ্ছেদ ঘটে।

​মেয়ের মা জুলেখা বেগম (৪৬) জানান, জামাইয়ের ক্রমাগত অত্যাচারে তাঁর মেয়ের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। মেয়েকে এই নির্যাতন থেকে মুক্ত করতে পারলে তিনি দুধ দিয়ে গোসল করবেন বলে ওয়াদা বা মানত করেছিলেন। সেই ওয়াদা রক্ষা করতেই শুক্রবার সকালে বাইখীর চৌরাস্তা বাজারে ৫ কেজি দুধ দিয়ে গোসল করেন তিনি।

​তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমন শেখ। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত নির্যাতন ও নেশা করার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

ফরিদপুর শহরে বেদেপল্লীর নারীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর শহরে বেদেপল্লীর নারীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ পথচারীরা

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে পথচারীদের ঘিরে ধরে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বেদেপল্লীর একদল নারীর বিরুদ্ধে। শহরের আলিপুর মোড়, ১১ তলা ভবন এলাকা, জনতা ব্যাংক মোড় ও চকবাজারসহ ব্যস্ত পয়েন্টগুলোতে দিনের পর দিন এমন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রাম থেকে প্রয়োজনীয় কাজে শহরে আসা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করেই মূলত চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোনো পথচারী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘিরে ধরে পথ আটকে দেওয়া হয়, এমনকি টানাহেঁচড়া করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে সেখান থেকে রক্ষা পান।

​সদর উপজেলার গ্রাম থেকে কাজে আসা ফাহিম শেখ বলেন, “শহরে ঢোকার পরই কয়েকজন নারী আমাকে ঘিরে ধরে টাকা দাবি করে। না দিলে ছাড়ছিল না। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি, এখন বাড়ি ফেরার ভাড়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মমিন খারহাটের রুস্তম ব্যাপারী ও স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল শেখ। রাহুল শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেহেতু তারা নারী, প্রকাশ্যে এসব টানাহেঁচড়া করলে পুরুষের জন্য তা অত্যন্ত বিব্রতকর। বাধ্য হয়েই টাকা দিয়ে পার পেতে হয়।”

​অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সামনেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে। এ বিষয়ে আলিপুর এলাকার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা (টিএসআই) শেখ তুহিন বলেন, “আমাদের সামনেই সাধারণ মানুষকে টেনে-হিঁচড়ে টাকা আদায় করা হয়। আমি নিজে কয়েকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু নিষেধ করলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। যে কারণে অনেক সময় আর কিছু বলা যায় না।”

​তবে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন অভিযুক্ত বেদেপল্লীর নারীরা। মুন্সিবাজার এলাকার বেদেপল্লীর এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়। আমাদের অন্য কোনো কাজের সুযোগ নেই। প্রশাসন যদি পুনর্বাসন বা বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করে, তবে আমরা রাস্তায় এসে টাকা চাওয়া বন্ধ করে দেব।”

​ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, মুন্সিবাজারের বেদে সম্প্রদায়ের মানুষদের সরকারি কোনো সহায়তার আওতায় আনা যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

​অন্যদিকে, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি এখন পর্যন্ত তার জানা ছিল না। তবে টহল টিমকে নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​স্থানীয়দের দাবি, বেদে সম্প্রদায়ের জীবিকার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে দ্রুত বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। একই সাথে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পথচলা নির্বিঘ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নেতৃবৃন্দ।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

​এ সময় ফরিদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আজিজ, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কৃষিবিদ শাহরিয়ার আজম ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. রঞ্জুসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সাক্ষাৎকালে নেতারা ইউএনওর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একই সঙ্গে তারা আলফাডাঙ্গা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।