খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভাঙ্গায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

আব্দুল মান্নান, ভাঙ্গা (ফরিদপুর)
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন-বিক্ষোভ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আওয়ামীলীগ নেতা আরাফাত মনি মোল্লা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন আসামি আবু ফয়সাল মোল্লা দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গ্রামবাসী।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০ টার দিকে ভাঙ্গা -পীরেরচর ফিডার সড়কের শাহ মুল্লদী গ্রামে  এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় গ্রামবাসী মনি মোল্লা ও ফয়সাল মোল্লার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অত্যাচার, নির্যাতন, চাঁদাবাজ, জায়গা দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে শাহ মুল্লকদী গ্রামের ভুক্তভোগী রুবেল মোল্লা বলেন, আলগী ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মনি মোল্লা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা  আবু ফয়সাল মোল্লা ও তার বাবা মুক্তিযুদ্ধা টুকু মোল্লা তারা আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক। বর্তমান ও বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছে। তাদের অত্যাচার ও নির্যাতনে গ্রামবাসী এখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে।
তাদের দুই ভাইয়ের দাপটে আমাদের গ্রামবাসির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি চাঁদাবাজি,  জমি দখল, গরীর এক নারীর দোকান দখল সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাদের অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষা করতে তাদের বিচার দাবি সহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ফরিদপুরে সালিশে কিশোরের অন্ডকোষ চেপে হত্যা চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সালিশে কিশোরের অন্ডকোষ চেপে হত্যা চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি

ফরিদপুরে পূর্ব বিরোধে মারামারির ঘটনায় সালিশ মিমাংসায় রাজিব মৃধা (১৭) নামে এক কিশোরের অন্ডকোষ চেপে ধরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই কিশোর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আশঙ্কামুক্ত রয়েছে ওই কিশোর।

শনিবার (০২ মে) দুপুরে ফরিদপুর জেলা সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর কালিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত কিশোর ওই এলাকার আজাদ মৃধার ছেলে।

জানা যায়, আজাদ মৃধার পরিবারের সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে পূর্ব শত্রুতা রয়েছে প্রতিবেশী বিল্লাল মৃধা ও আনোয়ার মৃধাদের সাথে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ে এই দুই পরিবার। এছাড়া দুই পরিবারের বিরোধ নিয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলাও করা হয়। তাঁদের মধ্যে চলমান বিরোধ মিমাংসায় গতকাল শনিবার দুপুরে স্থানীয় নুরুদ্দিন শেখের বাড়িতে শালিসের আয়োজন করা হয়। ওই শালিসে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম বাদশা মিয়া, ইউপি সদস্য আজিজুর রহমানসগ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ওই শালিসে তাঁদের মধ্যে বিরোধ মিমাংসা করা হয়। তবে শেষের দিকে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে দুই পরিবারের সদস্যরা। এক পর্যায়ে ভোলা মোল্যা নামে এক ব্যক্তি ওই কিশোরের অন্ডকোষ চেপে ধরে। এ সময় ওই কিশোর বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই কিশোরের বাবা আজাদ মৃধা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এজন্য তাঁরা পরিকল্পনা করে আমাদের ওপর একাধিকবার হামলা করেছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। তাঁরা আমাদের গ্রামে থাকতে দিবেনা বলেও হুমকি-ধমকি দিয়ে আসতেছে। তারপরও বিষয়টি নিয়ে শালিসে মিমাংসা হলেও ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ছেলেকে মেরে ফেলার জন্য অন্ডকোষ চেপে ধরে। এখনও আমার ছেলে সুস্থ হয়নি, ওর জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমার ছেলের সাথে যা হয়েছে আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সত্যতা স্বীকার করে অনুতপ্ত প্রকাশ করেন প্রতিপক্ষ বিল্লাল মৃধা। তিনি বলেন, ‘ছেলেটির সাথে যা হয়েছে তা অবশ্যই অন্যায় হয়েছে। শালিসে সবকিছু নিয়ে মিমাংসা হয়ে গিয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যায়ে আমার এক আত্মীয় তর্কবিতর্কের জড়িয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এজন্য আমারও খারাপ লেগেছে, ছেলেটির খোঁজখবরও নিচ্ছি।’

ঘটনার সূত্রপাত তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রায় একমাস আগে আমার ছোট ভাইকে মারধর করে চোখ ফুলিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় ওইদিন মেম্বারের বাড়িতে শালিস হয়। ওই শালিসের সময় রাজিব মৃধা আমার মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেয়। আমি হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছি। এ ঘটনায় থানায় মামলা করি। এরপর আবারও আমাকে জবাই করে হত্যা চেষ্টা করে ওই ছেলে। তা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে মারামারি হয়। এসব বিষয়ে মিমাংসার জন্য গতকাল শালিসও হয়, শালিসে আমি ক্ষতিপূরণও দিয়েছি। তবে শেষ পর্যায়ে কিভাবে ঘটনাটি ঘটে গেল তা আমিও বুঝি নাই।

ঘটনাটি নিশ্চিত করে ইউপি চেয়ারম্যান একেএম বাদশা মিয়া বলেন, ‘দুই পরিবারের বিরোধ মিটাতে শালিস হয় এবং মিমাংসাও হয়ে যায়। এরপর কোলাকুলি করার সময় এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছে, যা দুঃখজনক।’

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

ফরিদপুরে শিশু কবিতা হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশু কবিতা হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা আদর্শ গ্রামে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী আইরিন আক্তার বীনা (ডাকনাম কবিতা) ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সোমবার (০৪ মে) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে ১১ নম্বর গেরদা ইউনিয়নবাসী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানুষ মানুষের জন্য-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মেহেরুন্নেসা স্বপ্না, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজি রিয়াজ, মুখ্য সমন্বয়ক জেবা তাহসিন, গেরদা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. জাকারিয়া, যুবনেতা জুবায়ের হোসেন, যুবদল নেতা কাকন মিয়া, মানবতার কল্যাণে ফরিদপুর সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ সিয়াম, যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল চৌধুরী, এস এম রফিকুল ইসলাম এবং ফরিদপুর সদর থানা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজ্জাজ বিন ইউসুফসহ আরও অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “ছয় বছরের নিষ্পাপ শিশু কবিতার ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড মানবতার জন্য লজ্জাজনক। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।”

নিহত শিশুর মা তাহমিনা বেগম ও বাবা বাঁকা মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তারা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানের বিচার চাই। যেন আর কোনো মা-বাবাকে এভাবে সন্তান হারাতে না হয়।”

বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে মাদক ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত বিচার না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের দাবি জানান তারা।

সালথায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সালথায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

ফরিদপুরের সালথায় কাগদী মুরুটিয়া আলহাজ্ব মো. আব্দুল মজিদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মামুন শরিফের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (০৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। এতে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে দেন।

বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে স্লোগান দেয়। এ সময় পুরো স্কুল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো উপেক্ষা করছেন। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করে।

তবে স্থানীয়রা জানান, শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছেন একপক্ষ। তাছাড়া তেমন কোনো অনিয়ম দেখা যায় না।

কাগদী মুরুটিয়া আলহাজ্ব মো. আব্দুল মজিদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মামুন শরিফ বলেন, অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি সম্পন্ন ভুয়া ও ভিত্তিহীন। আমার সাথে শিক্ষার্থীদের একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। ইউএন স্যারের উদ্যোগে ঘটনাটি মিমাংসা হয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দীন বলেন, প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। আমরা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছি। প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে হিসাব গ্রহণ করে তা যাচাই করা হবে। আশা করি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।