খুঁজুন
, ,

সালথায় আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে তছনছ গ্রাম, আতঙ্কে মানুষ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে তছনছ গ্রাম, আতঙ্কে মানুষ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রাম্য মোড়লের দীর্ঘদিনের বিরোধ ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। হামলা-পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে একের পর এক গ্রাম অশান্ত হয়ে উঠছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর জখম হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

সম্প্রতি গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি বাজার, আড়য়াকান্দী ও মিরের গট্টি এলাকায় টানা সংঘর্ষে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) সকালে মিরের গট্টি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০-২৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও কয়েকটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বর এবং বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এলাকায় তারা দুইজনই প্রভাবশালী গ্রাম্য মোড়ল হিসেবে পরিচিত।

একসময় দু’জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর তারা বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাসে অন্তত ১০টির বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, রোববার (৩ মে) দুপুরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থক আনোয়ার শেখকে মারধর করলে পাল্টা জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক রেজাউলকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে জাহিদ সমর্থকরা নুরু মাতুব্বরের ছেলে রাজিব মাতুব্বরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে নুরু সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহিদের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০-২৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই দুই মোড়লের দ্বন্দ্বে জিম্মি হয়ে পড়েছে গট্টি, বালিয়া, আড়ুয়াকান্দী, মিরের গট্টি ও কানৈড় গ্রামের সাধারণ মানুষ। দলাদলিতে না জড়ালে এলাকায় টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ছে। চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও সহিংসতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও চাকরিজীবী জানান, গ্রাম্য দল না করলে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এই সংঘর্ষকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

এ বিষয়ে নুরু মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, তার সমর্থকদের ওপর বারবার হামলা হলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অন্যদিকে জাহিদ মাতুব্বর দাবি করেন, তিনি বর্তমানে অসুস্থ এবং এসব সংঘর্ষ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চান।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন জানান, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।

এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের আরও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

ফরিদপুরে বাসে দুর্বৃত্তদের আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাসে দুর্বৃত্তদের আগুন

ফরিদপুরে হাইওয়ে থানার পাশে পার্কিং করে রাখা একটি পরিত্যক্ত ও জব্দকৃত বাসে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার নতুন ভবনের সামনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

​খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে বাসটির ভেতরের অধিকাংশ অংশ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। হঠাৎ থানার এত কাছে বাসে আগুনের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন আগে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাসটি জব্দ করে করিমপুর হাইওয়ে থানার নতুন ভবনের সামনের সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা হয়েছিল। রাতে জনশূন্যতার সুযোগ নিয়ে কে বা কারা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ থানার সামনে পার্কিং করা বাসটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

​এদিকে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের প্রতিবাদে আগামী রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় লকডাউনের ডাক দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয়দের ধারণা, ২০ সেপ্টেম্বরের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

​অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং মহাসড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফরিদপুর করিমপুর হাইওয়ে থানা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে রাতের টহলও।

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫

ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রেখা বেগম (৪৫) নামে আরও এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটে এ তথ্য জানানো হয়।

​প্রেস নোটে বলা হয়, গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখা বেগম মারা যান। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার বাসিন্দা। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৫২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৪৪১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

​এদিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।

সদরপুরে জনতার হাতে মাদক ব্যবসায়ী আটক, ব্যাগে মিলল ১ কেজি গাঁজা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
সদরপুরে জনতার হাতে মাদক ব্যবসায়ী আটক, ব্যাগে মিলল ১ কেজি গাঁজা

ফরিদপুরের সদরপুরে এক কেজি গাঁজাসহ কালাম ফকির (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর হাটবাজারে খোকন মৃধার চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আটক কালাম ফকির কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের সালাম ফকিরের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে কালাম ফকির কৃষ্ণপুর বাজার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার খোকন মৃধার চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তার কাছে মাদক রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোহসিন মুন্সী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কালাম ফকিরকে আটক করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ্ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদক কারবারের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।