খুঁজুন
, ,

দোকান বন্ধ করে আর ঘরে ফেরা হলো না নান্নু মিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
দোকান বন্ধ করে আর ঘরে ফেরা হলো না নান্নু মিয়ার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নান্নু মিয়া (৬৫) নামে এক মুদি দোকানির মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি উপজেলার বুড়াইচ নতুন বাজারের মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহত নান্নু মিয়া আলফাডাঙ্গা উপজেলার মালিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওহাব মিয়া মাস্টারের ছেলে। পারিবারিক জীবনে তিনি তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী রেখে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৪ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নান্নু মিয়া প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে বুড়াইচ নতুন বাজার এলাকায় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাক্কার পর মোটরসাইকেলটি তাকে প্রায় ২০ হাত দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৫ মে) সকাল ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল খালিদ শেখ নামে এক যুবক। তার পিতার নাম আবুল শেখ। মোটরসাইকেলে আরও দুইজন আরোহী ছিলেন বলেও জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নান্নু মিয়া ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও সজ্জন মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে বুড়াইচ নতুন বাজারে মুদি ব্যবসা করে আসছিলেন। বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর কাছে তিনি ছিলেন সুপরিচিত ও জনপ্রিয়। তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী মহলসহ এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে।

এদিকে, তিনি আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি ইকবাল হোসেনের মেঝ মামা হওয়ায় সাংবাদিক মহলেও শোকের ছায়া বিরাজ করছে। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে কাঁঠাল গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কাঁঠাল গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলার খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামে বৃষ্টির সময় কাঁঠাল গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে সাব্বির মোল্লা (১৭) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাব্বির মোল্লা খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে সাব্বির তার দুই বন্ধুকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি কাঁঠাল গাছের নিচে বসে ছিল। এ সময় হঠাৎ গাছের পাশেই বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনজনই ছিটকে পড়ে। এতে সাব্বির গুরুতর আহত হলেও তার দুই বন্ধু প্রাণে বেঁচে যায় এবং তারা সুস্থ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত সাব্বিরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “বজ্রপাতে এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার দায়ে মো. লালন মোল্লা (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে পুলিশি প্রহরায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত লালন মোল্লা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০) ছিলেন বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের বাসিন্দা।

২০০৪ সালে সাজেদা বেগমকে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। এটি ছিল লালনের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রীর সংসারে তার এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই মাদক কেনার টাকার জন্য স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দিতে চাপ দিতেন লালন। নির্যাতনের মুখে কয়েক দফায় সাজেদা বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিলেও তা বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ আগস্ট তিনি স্ত্রীর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তাকে একাধিকবার মারধর করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে স্ত্রী সাজেদা বেগমকে হত্যা করেন লালন মোল্লা।

ঘটনার দিনই নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় লালন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করা হয়।

মামলাটির তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে লালন মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতেই আদালত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ রায় সমাজে যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

টানা ৭ দিনের বৃষ্টিতে ফরিদপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০৫ মিমি বৃষ্টিপাত

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
টানা ৭ দিনের বৃষ্টিতে ফরিদপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০৫ মিমি বৃষ্টিপাত

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে টানা সাত দিনের ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে ফরিদপুরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মজীবনেও এর প্রভাব পড়েছে।

ফরিদপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় সর্বোচ্চ ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত সাত দিনে মোট ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে জেলার অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

টানা বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার এলাকা এবং আবাসিক এলাকার নিচু স্থানগুলোতে পানি জমে রয়েছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় রিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষের আয়-রোজগারও কমে গেছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে আমন ধানের বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষেতে পানি জমে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ১৮ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে জলাবদ্ধ এলাকায় চলাচল না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।