খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর পাটক্ষেতে মিলল যুবকের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর পাটক্ষেতে মিলল যুবকের মরদেহ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় তিনদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর তৌহিদ মিয়া (২২) নামে এক যুবকের মরদেহ পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (০৩ জুন) সকালে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভাটপাড়া (দক্ষিণ) গ্রামের দীঘিরপাড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত তৌহিদ মিয়া ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কাইয়ুম মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত তিনদিন আগে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে পরিবার ও স্বজনরা উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা দীঘিরপাড় এলাকার একটি পাটক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে কাছে গিয়ে তৌহিদকে শনাক্ত করেন। পরে বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। তৌহিদের আকস্মিক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বলা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে তৌহিদের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ চলছে।

ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরে ভেজাল কালোজিরা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেনাবেচার সময় সন্দেহ হলে পরীক্ষা চালিয়ে ভেজালের প্রাথমিক প্রমাণ পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে আনুমানিক চার মণ কালোজিরা ফেলেই সটকে পড়েন কথিত এক বিক্রেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধুখালী বাজারের চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ওই কালোজিরাগুলো বিনষ্ট করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আকু বিশ্বাস, মনিরুল বিশ্বাস, ইমামুল বিশ্বাস ইমাম, ইমরান হোসেন ও তৌফিক বিশ্বাসসহ বাজার কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​ব্যবসায়ীরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাটের দিনে কয়েকজন কথিত কৃষক কালোজিরা বিক্রি করতে মধুখালী বাজারে আসেন। তারা মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লটাই বিশ্বাসের ভূষিমালের দোকানে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে যান। মান পরীক্ষা করতে গিয়ে এতে ভেজাল উপাদান মেলানোর সন্দেহ হয় লটাই বিশ্বাসের।

​তিনি কৌশলে ওই বিক্রেতাকে দোকানে বসিয়ে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানান। তবে পুলিশ আসার সুযোগ পেয়ে প্রায় চার মণ কালোজিরা রেখে চতুর বিক্রেতা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

​পরবর্তীতে ভেজাল কালোজিরা বিনষ্ট করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী এবং মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী জানান, দৃশ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কালোজিরায় ভেজাল উপাদান মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজার শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন হাফিজার শেখ। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট সকালে কৌশলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে তিনি প্রথমবার ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত করানো হয়। বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জানালেও তারা কোনো সুরাহা না করায় বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান ভুক্তভোগী।

​পরবর্তীতে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। তদন্ত শেষে মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেন আসামি হাফিজার শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই সাজা দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধে তিন নির্মাণশ্রমিককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাজারপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪০), একই উপজেলার কোদালকাঠি গ্রামের আশরাফুল (৪৫) এবং ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের বাবুল (৪৭)। তাঁরা সবাই এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণকাজের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাথাভাঙ্গা ও মৌলভীরচর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মৌলভীরচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনরত অবস্থায় ওই তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়।

​অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।