খুঁজুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভাঙ্গায় কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা, ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধের পথে

আব্দুল মান্নান, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা, ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধের পথে

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আলগী ইউনিয়নে বড়দিয়া গ্রামে কাদা-পানির রাস্তা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রী ও গ্রামবাসী মানববন্ধন করেছেন।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কাদা-মাটি ও জরাজীর্ণ সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী।

প্রতিদিন চলাচলে অনুপোযোগী রাস্তা দিয়ে বড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়দিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও বড়দিয়া কাওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং পাকা মসজিদের যাতায়াতে ছাত্র-ছাত্রী ও গ্রামবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েন। ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড বড়দিয়া গ্রামে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়দিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রড়দিয়া কাওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাসে পাকা মসজিদ এবং কবরস্থান রয়েছে। কয়েক গ্রামের ছাত্র-ছাত্রী ও গ্রামবাসীদের এই জরাজীর্ণ কাদামাটি রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও গ্রামবাসীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনুপযোগী রাস্তার কারণে কয়েক গ্রামের
কয়েকশত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, গ্রামের প্রধান রাস্তাটি টাকুর মোড় থেকে কাজী বাড়ির মোড় হয়ে বড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলিয়া মাদ্রাসা, ঈদগাহ মাঠ হয়ে বাবু মাাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সমান্য বৃষ্টি হলেই কাঁদা পানি সৃষ্টি হয়ে যাতায়াতে অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। কাঁচা পানির জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ে গিয়ে বই খাতা নষ্ট হয়। যে কারণে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

এ বিষয় ঐতিহ্যবাহী হরিরহাট বাজার কমিটির সভাপতি মো. মোস্তফা মাতুব্বরের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বড়দিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার এবিএম মহিউদ্দিন, মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান, মেরিনা আক্তার সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ও ছাত্র ছাত্রীবৃন্দ।

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, বৃষ্টির ফলে কাঁচা রাস্তাটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন পানি-কাদা পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। বই খাতা ভিজে যাচ্ছে। আমাদের যাতায়াতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী কষ্ট সইতে না পেরে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে মোস্তফা মাতুব্বর বলেন, অনেক দিনে ধরে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এসে পাকা রাস্তা করে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু চলে যাওয়ার পর তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তাটির উপর নির্ভরশীল। এছাড়া বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আমরা অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কারের জোর দাবি জানাই।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য একটা আবেদন পেয়েছি। প্রতি বছর অতি বর্ষণের ফলে সারাদেশে কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই চলতি অর্থ বছরে টিআর, কাবিখা সহ সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের যে অর্থ বরাদ্দ থাকে, সেই অর্থ দিয়ে অতি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী চলাচলের উপযোগী করা হবে।

ফরিদপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রাজু ইসলাম (৩৬)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া এলাকার মাতৃকুঞ্জ নামে একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শেখ রাজু ইসলাম গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মউতলা গ্রামে। তিনি নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হ্যাপি আক্তারের স্বামী। তাদের সংসারে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিচে নামানো হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার জানান, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি বাসায় ফোন করেন। এ সময় তার মেয়েরা জানায়, তাদের বাবা ঘরের ভেতরে গলায় রশি দিয়েছেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় এসে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

নিহতের জমজ ভাই শেখ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মায়ের ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। বাসায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর উপরের তলা থেকে চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

এদিকে নিহতের ছোট মেয়ে আমেনা আক্তার (প্রায় ৪ বছর) জানায়, কিছুক্ষণ আগে তার বাবা তার পাশে শুয়ে ছিলেন। পরে তাকে পাশে না পেয়ে পাশের কক্ষে গিয়ে বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতের সহকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমপি বাবুল সরেজমিনে জমিদার বাড়িটি পরিদর্শন করেন এবং সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এই জমিদার বাড়িটি আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। এটিকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে আমরা এটি অধিদপ্তর-এর আওতায় এনে সংরক্ষণের চেষ্টা করছি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা এই জমিদার বাড়ির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি গুপ্তধনের আশায় বউঘাট খননের ঘটনাও এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শহিদুল ইসলাম বাবুলের এ ঘোষণায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে ৫ প্রাণহানির পরও নিরাপত্তাহীন কাফুরা রেলক্রসিং, নেই গেট-গেটম্যান—ঝুঁকিতে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫ প্রাণহানির পরও নিরাপত্তাহীন কাফুরা রেলক্রসিং, নেই গেট-গেটম্যান—ঝুঁকিতে মানুষ

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলক্রসিংয়ে নেই কোনো লেভেল ক্রসিং গেট, নেই গেটম্যান—ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি এই কাফুরা রেলক্রসিংয়েই ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন, যাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকাগামী একটি ট্রেন রেলগেট অতিক্রম করার সময় একটি মাইক্রোবাস হঠাৎ লাইনের ওপর উঠে পড়লে এ সংঘর্ষ ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি প্রায় ৫০ গজ দূরে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময় সেখানে কোনো গেট বা গেটম্যান না থাকাই বড় কারণ হিসেবে উঠে আসে। এরপর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাফুরা রেলক্রসিংয়ে এখনো নেই কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রেন আসার সময় সতর্কবার্তা বা ব্যারিয়ার না থাকায় হঠাৎ করেই যানবাহন লাইনে উঠে পড়ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদুল ফকির বলেন, “প্রতিদিনই ভয় নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। ট্রেন কখন আসবে, কোনো ধারণা থাকে না। দ্রুত এখানে গেটম্যান নিয়োগ জরুরি।”

অটোরিকশা চালক হামিদ শরীফ বলেন, “হঠাৎ ট্রেন চলে এলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় অল্পের জন্য বেঁচে যাই।”

এলাকার চা দোকানদার হেলাল বেপারি জানান, “ট্রেন এলে আমরা নিজেরাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করি।”

ঝালমুড়ি বিক্রেতা রফিক মোল্যা বলেন, “এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এত মানুষ মারা গেলেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।”

চটপটি বিক্রেতা মো. হায়দার মন্ডল বলেন, “প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। ঝুঁকি থাকলেও যেন কারো নজর নেই—এটা খুবই দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার প্রহলাদ বিশ্বাস ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “গেটম্যান নিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন।”

এ ব্যাপারে রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, এ ব্যাপারে পাকশীতে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখনও এর কোনো সমাধান মিলেনি।

রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোসা. হাসিনা খাতুন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এটি সম্ভবত অননুমোদিত রেলগেট হওয়ায় গেটম্যান নেই। তবে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি। আমরা এলাকাবাসী ও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “জননিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রীঘ্রই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”