খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ভালো কাজের বিনিময়ে পেট ভরে খাওয়া

সোহেল সরওয়ার, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:২২ পিএম
ভালো কাজের বিনিময়ে পেট ভরে খাওয়া

 রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে আছেন নানান বয়সি মানুষ। এক তরুণ প্রত্যেককে দুটি করে প্রশ্ন করছেন আর উত্তরগুলো লিপিবদ্ধ করছেন কাগজে।

 

প্রশ্নগুলো হলো- আপনার নাম কি এবং আজ আপনি কি ভালো কাজ করেছেন? উত্তর নিয়েই বিনামূল্যে প্লেটে তুলে দেওয়া হচ্ছে গরম গরম ভাত-তরকারি।

এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্য চোখে পড়বে প্রতিদিন দুপুরে বন্দরনগর চট্টগ্রামের কলেজ সড়ক এবং সন্ধ্যায় কাজীর দেউড়ি চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামের পাশে, আর এ উদ্যোগের নাম ‘ভালো কাজের হোটেল’।

 

বেশ কয়েক বছর আগে রাজধানী ঢাকায় একদল তরুণ ভালো কাজকে উৎসাহিত করতে খুলে বসেন এ ভ্রাম্যমাণ হোটেলটি। বর্তমান এটি সাংগঠনিক রূপে ‘ইউথ ফর বাংলাদেশ’ নামে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রামে বিভিন্ন স্পটে প্রায় চার হাজারের অধিক দাতা সদস্যের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।

শনি থেকে বৃহস্পতিবার অসহায় মানুষকে অন্তত একটি ভালো কাজের বিনিময়ে খাবার দিয়ে থাকেন তারা। শুক্রবার খাবার নিয়ে ছুটেন বিভিন্ন মসজিদ, এতিমখানা কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে। দৈনিক ১০ জন সদস্য এ কাজে সহায়তা করেন।

সারাদেশে প্রতিদিন প্রায় চার হাজারের বেশি মিলের আয়োজন থাকে এবং চট্টগ্রামে প্রতিদিন সাড়ে চারশ মানুষ তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন তাদের দেওয়া খাবার খেয়ে।

গল্পটা শুরু হয় ২০০৯ সালে। রাজধানী ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কয়েকজন তরুণের মন নাড়া দিয়েছিল অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এরপর গুটি গুটি পায়ে আজ এর অবস্থান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা  ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

চট্টগ্রামে হোটেলটি চালুর প্রথম দিকে মাসে একদিন দিয়ে শুরু হয়, পরবর্তীতে সপ্তাহে ১ দিন করা হয় এবং গত একবছর ধরে সপ্তাহে ৭ দিন দুপুর ও সন্ধ্যায় চলমান হোটেলের কার্যক্রম।

ভালো কাজের হোটেলের স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, তারা প্রত্যেকেই শিক্ষার্থী। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা এখানে ভালো কাজের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে আসেন। খাবার বিতরণে কোনও নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় মাঝে মধ্যে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। রোদ-বৃষ্টি কিংবা আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সমস্যায় পড়তে হয়, বিশেষ করে যেসব জায়গায় খাওয়ানো হয় সেখানে ছাউনি নেই।

তবে সব বাধা উৎরে আলোর গতিতে ছুটছে ভালো কাজের হোটেলের কর্যক্রম। রান্না করার জন্য চট্টগ্রামের সরাইপাড়া এলাকায় রয়েছে কিচেন, বাবুর্চি আর নির্ধারিত কর্মচারী।

ভালো কাজের হোটেল চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক মো. মোরশেদ বলেন, হোটেলটি পরিচালনার জন্য দৈনিক সদস্যদের কাছ থেকে জনপ্রতি দশ টাকা হরে মাসে তিনশ টাকা নেওয়া চাঁদার টাকা একত্রিত করা হয়। বর্তমানে চার হাজারের বেশি সদস্য এবং কিছু দাতা সদস্যের সহযোগিতায় হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নানান কারণে মাসে ত্রিশ দিনে ত্রিশ দিন কর্মসূচি পরিচালনা করতে অসুবিধা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম কিংবা কুড়িগ্রাম নয়, সুযোগ মিললে সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবকরা ছড়িয়ে দিতে চান এ কার্যক্রম। অন্তত একবেলা হলেও কিছু দুখি মানুষকে পেট ভরে খাওয়াতে চান তারা।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।