খুঁজুন
, ,

ভালো কাজের বিনিময়ে পেট ভরে খাওয়া

সোহেল সরওয়ার, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:২২ অপরাহ্ণ
ভালো কাজের বিনিময়ে পেট ভরে খাওয়া

 রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে আছেন নানান বয়সি মানুষ। এক তরুণ প্রত্যেককে দুটি করে প্রশ্ন করছেন আর উত্তরগুলো লিপিবদ্ধ করছেন কাগজে।

 

প্রশ্নগুলো হলো- আপনার নাম কি এবং আজ আপনি কি ভালো কাজ করেছেন? উত্তর নিয়েই বিনামূল্যে প্লেটে তুলে দেওয়া হচ্ছে গরম গরম ভাত-তরকারি।

এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্য চোখে পড়বে প্রতিদিন দুপুরে বন্দরনগর চট্টগ্রামের কলেজ সড়ক এবং সন্ধ্যায় কাজীর দেউড়ি চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামের পাশে, আর এ উদ্যোগের নাম ‘ভালো কাজের হোটেল’।

 

বেশ কয়েক বছর আগে রাজধানী ঢাকায় একদল তরুণ ভালো কাজকে উৎসাহিত করতে খুলে বসেন এ ভ্রাম্যমাণ হোটেলটি। বর্তমান এটি সাংগঠনিক রূপে ‘ইউথ ফর বাংলাদেশ’ নামে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রামে বিভিন্ন স্পটে প্রায় চার হাজারের অধিক দাতা সদস্যের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।

শনি থেকে বৃহস্পতিবার অসহায় মানুষকে অন্তত একটি ভালো কাজের বিনিময়ে খাবার দিয়ে থাকেন তারা। শুক্রবার খাবার নিয়ে ছুটেন বিভিন্ন মসজিদ, এতিমখানা কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে। দৈনিক ১০ জন সদস্য এ কাজে সহায়তা করেন।

সারাদেশে প্রতিদিন প্রায় চার হাজারের বেশি মিলের আয়োজন থাকে এবং চট্টগ্রামে প্রতিদিন সাড়ে চারশ মানুষ তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন তাদের দেওয়া খাবার খেয়ে।

গল্পটা শুরু হয় ২০০৯ সালে। রাজধানী ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কয়েকজন তরুণের মন নাড়া দিয়েছিল অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এরপর গুটি গুটি পায়ে আজ এর অবস্থান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা  ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

চট্টগ্রামে হোটেলটি চালুর প্রথম দিকে মাসে একদিন দিয়ে শুরু হয়, পরবর্তীতে সপ্তাহে ১ দিন করা হয় এবং গত একবছর ধরে সপ্তাহে ৭ দিন দুপুর ও সন্ধ্যায় চলমান হোটেলের কার্যক্রম।

ভালো কাজের হোটেলের স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, তারা প্রত্যেকেই শিক্ষার্থী। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা এখানে ভালো কাজের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে আসেন। খাবার বিতরণে কোনও নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় মাঝে মধ্যে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। রোদ-বৃষ্টি কিংবা আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সমস্যায় পড়তে হয়, বিশেষ করে যেসব জায়গায় খাওয়ানো হয় সেখানে ছাউনি নেই।

তবে সব বাধা উৎরে আলোর গতিতে ছুটছে ভালো কাজের হোটেলের কর্যক্রম। রান্না করার জন্য চট্টগ্রামের সরাইপাড়া এলাকায় রয়েছে কিচেন, বাবুর্চি আর নির্ধারিত কর্মচারী।

ভালো কাজের হোটেল চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক মো. মোরশেদ বলেন, হোটেলটি পরিচালনার জন্য দৈনিক সদস্যদের কাছ থেকে জনপ্রতি দশ টাকা হরে মাসে তিনশ টাকা নেওয়া চাঁদার টাকা একত্রিত করা হয়। বর্তমানে চার হাজারের বেশি সদস্য এবং কিছু দাতা সদস্যের সহযোগিতায় হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নানান কারণে মাসে ত্রিশ দিনে ত্রিশ দিন কর্মসূচি পরিচালনা করতে অসুবিধা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম কিংবা কুড়িগ্রাম নয়, সুযোগ মিললে সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবকরা ছড়িয়ে দিতে চান এ কার্যক্রম। অন্তত একবেলা হলেও কিছু দুখি মানুষকে পেট ভরে খাওয়াতে চান তারা।

‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

আকাশের বুকে কালো মেঘের ঘনঘটা,
শ্রাবণের দিনে যেন আঁধারের ছটা।
রিমঝিম সুর ধরে ঝরে জলধারা,
ঝরাপাতারা যেন হাহাকারে হারা।

​বাতাস বয়ে যায় উদাস পথ ধরে,
গাছের ডালে জল টুপটুপ করে।
কদমের শাখা আজ ফুটেছে সতেজ,
সবুজে সবুজে আঁকা নতুন আবেশ।

​ভেজা কাদা-মাটিতে হাঁটে মেঠো পথ,
বয়ে চলে বর্ষার অবিরাম রথ।
পাখিরা যে নিথর, ডানা দুটি গুটিয়ে,
উষ্ণতার খোঁজে যেন নীড়ে গেছে লুকিয়ে।

​মাঠে মাঠে জমা জল দর্পণের মতো,
ঝাপসা পাহাড়ি ছবি দেখা যায় কত।
মেঘের গর্জনে বুক কাঁপে ধরে,
বিদ্যুৎ ঝলকায় দূর নীলম্বরে।

​শ্রাবণের এই মেঘ মন কেড়ে নেয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণে প্রাণ ভরে দেয়।
ধুয়ে যায় ধুলোবালি ধরা হয় শুভ্র,
মেঘে ঢাকা দিনশেষে প্রকৃতি সুশান্ত।

ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ফরিদপুরে পুলিশের দুই দিন মেয়াদী দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের শহীদ ছালাম সভা কক্ষে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।”

​কোর্সে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আসা ৫০ জন সদস্য অংশ নেন। প্রশিক্ষণে নির্বাচনি দায়িত্বে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা, নিরপেক্ষতা, জনগণের আস্থা অর্জন, আইন প্রয়োগে মানবিকতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

​সমাপনী অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত ২২ বোরের রিভলবারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হামিদুল গাজী (৪২) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন) ওপর একটি খয়েরি রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৩০৮৭) থামান হামিদুল গাজী। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬) নামে এক নারী আরোহী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে এক পথচারীর সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে হামিদুল গাজী গাড়িতে বসেই নিজ রিভলবার দিয়ে ওই পথচারীকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।

​ঘটনাটি নজরে আসার পর ভাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে আসামির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত কুমার মন্ডল বাদী হয়ে অস্ত্র আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন।

​পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি হামিদুল গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা নারী আরোহী শিমু আক্তার তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হামিদুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

​গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল স্বীকার করেন যে, তিনি পিস্তলটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে তাঁর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম লৌহজং উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিভলবারটি উদ্ধার করে।

​ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে।