খুঁজুন
, ,

‘১৭ বছরের রাজমিস্ত্রী পেশা ছেড়ে রিকশায় শাহজাহান’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ
‘১৭ বছরের রাজমিস্ত্রী পেশা ছেড়ে রিকশায় শাহজাহান’

দুপুরের ভাপসা গরম। শহরের ব্যস্ত সড়কে রোদের তাপে যেন পুড়ছে পিচঢালা পথ। মানুষের শরীর দরদর করে ঘামে ভিজে যাচ্ছে। প্রকৃতির গায়ে আজ দখিনা হাওয়ার কোনো ছোঁয়া নেই বললেই চলে।

এমনই এক দুপুরে একটি কাজে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স থেকে সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় যাওয়ার জন্য একটি রিকশায় উঠলাম। রিকশার চালকের নাম শাহজাহান।

বয়স ৫০ ছুঁইছুঁই। প্যাডেলে চাপ দিতে দিতে ঘামে ভিজে যাচ্ছে তার শার্ট। তবুও মুখে ক্লান্তির কোনো অভিযোগ নেই। পথ চলতে চলতেই শুরু হলো গল্প।

শাহজাহানের বাড়ি ফরিদপুর শহরের মুন্সিবাজার এলাকায়। সংসারে রয়েছে চার বছরের একটি ছেলে আর দুই বছরের একটি মেয়ে। ছোট্ট দুটি সন্তানকে ঘিরেই এখন তার সব স্বপ্ন। তাদের পড়ালেখা, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা—এসব ভাবনাই যেন প্রতিদিন তাকে নতুন করে রিকশার প্যাডেলে শক্তি দেয়।

তবে শাহজাহানের জীবন এতটা সহজ ছিল না।

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান তিনি। বাবার মৃত্যুতে শুধু একজন অভিভাবকই হারাননি, হারিয়ে যায় তার পড়ালেখার স্বপ্নও। সংসারের হাল ধরতে বই-খাতা তুলে রাখতে হয়। খুব অল্প বয়সেই নামতে হয় জীবিকার কঠিন লড়াইয়ে।

শুরু করেন রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে।

ইট টানা, বালু তোলা, সিমেন্ট মেশানো—অন্যের নির্দেশে দিনের পর দিন কাজ করেছেন। ধীরে ধীরে শিখেছেন নির্মাণকাজের নানা খুঁটিনাটি। একসময় সহকারী থেকে হয়ে ওঠেন পূর্ণাঙ্গ রাজমিস্ত্রি।

কেটে যায় দীর্ঘ ১৭ বছর।

কিন্তু একসময় সেই পেশার ভেতরের কিছু বাস্তবতা তাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। কাজের জায়গায় ইট, বালু, সিমেন্ট কিংবা শ্রমিকের হিসাব নিয়ে নানা ধরনের অসততা দেখতে দেখতে তার ভেতরে জন্ম নেয় অস্বস্তি।

শেষ পর্যন্ত তিন বছর আগে ছেড়ে দেন ১৭ বছরের পরিচিত পেশা।

তারপর হাতে নেন রিকশার হ্যান্ডেল।

শাহজাহান বললেন, “রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে হলে সেখানে বালু, ইট, সিমেন্ট আর শ্রমিকের কাজে চলে কৌশলী শুভঙ্করের ফাঁকি। এটা যখন বুঝতে পারলাম, তখন পেশাটি ছেড়ে দিলাম। এখন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। কষ্ট হচ্ছে, তবুও আমার টাকাটা হালাল। এটাই আমার শান্তি।”

কথাগুলো বলতে বলতে প্যাডেলে চাপ বাড়ান তিনি।

রিকশাটি এগিয়ে চলে ব্যস্ত শহরের পথে। চারপাশে মানুষের ছুটে চলা, গাড়ির হর্ন, দোকানের ব্যস্ততা। আর সেই ভিড়ের মধ্যেই একজন মানুষ ঘাম ঝরিয়ে চলেছেন নিজের ছোট্ট সংসারটাকে টিকিয়ে রাখতে।

হয়তো এই রিকশার আয় খুব বেশি নয়। প্রতিদিনের আয় দিয়ে চাল, ডাল, সন্তানের দুধ, বাসাভাড়া—সব সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। অসুস্থ হলে আয় বন্ধ। বৃষ্টি হলে যাত্রী কমে যায়। প্রচণ্ড গরমে প্যাডেল ঘোরানোও কষ্টকর হয়ে ওঠে।

তারপরও শাহজাহান ফিরে যেতে চান না আগের পেশায়।

কারণ তার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শুধু বেশি টাকা নয়। তার চেয়েও বড় প্রাপ্তি—স্বচ্ছ বিবেক।

ফরিদপুরের সেই ভাপসা দুপুরে রিকশা থেকে নেমে মনে হলো, শহরের রাস্তায় প্রতিদিন কত মানুষকে আমরা পাশ কাটিয়ে যাই। কারও হাতে রিকশার হ্যান্ডেল, কারও কাঁধে বোঝা, কেউ রোদে দাঁড়িয়ে দিনমজুরি করেন।

তাদের অনেকেরই হয়তো আছে শাহজাহানের মতো না বলা গল্প।

শাহজাহানের গল্পটাও হয়তো খুব সাধারণ। কিন্তু তার কথাগুলো অসাধারণ—

“কষ্ট হচ্ছে, তবুও আমার টাকাটা হালাল। এটাই আমার শান্তি।”

হয়তো জীবন তাকে বড় কোনো সম্পদ দিতে পারেনি। কিন্তু ৫০ ছুঁইছুঁই বয়সে শাহজাহান বুঝে গেছেন—ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে ঘরে ফেরা যায়, কিন্তু অসততার বোঝা নিয়ে শান্তিতে ঘুমানো যায় না।

আর তাই দুপুরের প্রচণ্ড রোদে, ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে ফরিদপুরের পথে পথে প্যাডেল ঘোরানো এই মানুষটির সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি শুধু একজন রিকশাচালক নন।

তিনি একজন সৎ উপার্জনের যোদ্ধা।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

আলফাডাঙ্গায় মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ইছাপাশা এলাকায় অবস্থিত ইছাপাশা কাদেরিয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অভিভাবক সমাবেশ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

​মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সেক্রেটারি ও পাশের কাশিয়ানী উপজেলার জয়নগর কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মুর্তজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সুমন রায়।

​সমাবেশে ডা. সুমন রায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জমে থাকা পানি নিষ্কাশন এবং মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

​ডা. সুমন রায় বলেন, “শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানায় অভ্যস্ত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

​অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার সহসভাপতি ও সমাজসেবক মুন্সী বেলাল হুসাইন বলেন, “শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো। সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি নির্ভর করে শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর। মেধাবীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতিও বিশেষ যত্ন নিতে হবে, যাতে তাদের মাঝে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়।”

​মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় সমাবেশের শেষ অংশে বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিরা এ ধরনের উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত সাড়ে ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত সাড়ে ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুরে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৫৯২ জন সন্দেহজনক হামের রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার দুটি প্রধান হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৯৮ জন।

​শনিবার (১০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৪ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৮ জন। তবে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি কিংবা কেউ ছাড়পত্র পাননি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ হাসপাতালে ১ হাজার ৯৮৬ জন সন্দেহজনক হামের রোগী নথিভুক্ত হয়েছেন।

​অন্যদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৮০ জন রোগী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন এবং আগে থেকেই ভর্তি ছিলেন ৬৬ জন। একই ২৪ ঘণ্টায় এখান থেকে ২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৪ হাজার ৪৭৪ জন হামের রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন।

​স্বাস্থ্য বিভাগের জেলাওয়ারি ও উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বোয়ালমারীতে ২৮, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১৪ জন রোগীর মধ্যে ১০ জন ফরিদপুর জেলার স্থানীয় এবং বাকি চারজন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

​শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

​কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আসিফ উল আলম, উপাধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খান মোহাম্মদ আরিফ এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মৃধা মো. শাহিনুজ্জামান। এতে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক রোগ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করা জরুরি। একইসঙ্গে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

​চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। প্রয়োজনে শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া মানসিক রোগীদের প্রতি যেকোনো ধরনের বৈষম্য পরিহার করে, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।