খুঁজুন
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার: বাংলাদেশকে কি সতর্ক বার্তা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার: বাংলাদেশকে কি সতর্ক বার্তা?

বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ও তাদের অন্য মিশনগুলো থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশকে এক ধরনের কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া এবং চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গত দেড় বছরের বেশি সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

দুই পক্ষে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। দুই দেশেরই রাজনীতিবিদদের একাংশের বক্তব্য পাল্টা বক্তব্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। এমনকি দুই দেশেই হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় হাইকমিশনারদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সবশেষ ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতে আইপিএলে খেলতে না দেওয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে আরো জটিল করেছে।

এরইমধ্যে ভারতের কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে–– তাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরেক দফা অবনতির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে আসলেই এরকম কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের অন্তত দুইজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, অফিসিয়ালি বা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই সিদ্ধান্ত পাননি তারা।

তবে একটি সূত্র বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সতর্কতা হিসেবে ভারতীয় মিশনগুলোয় কর্মরতদের উপর নির্ভরশীলদের ভারতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।

বিবিসি হিন্দির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন বাংলাদেশকে ‘পরিবার-ছাড়া’ বা ‘নন ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। এছাড়াও, তারা তাদের কূটনীতিকদের পরিবারের প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দিয়েছে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশ এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা সুদানের সমান শ্রেণীতে রয়েছে।

বাংলাদেশ কেন ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না–– এই প্রশ্নে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ‘পুরোপুরি দ্বিমত’ পোষণ করে বলেছেন, “আমরা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছি, এমন কোনো এভিডেন্স (প্রমাণ) নেই।”

নন-ফ্যামিলি পোস্টিং কী?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনসহ মোট পাঁচটি মিশন থেকে দেশটির কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে ভারতের সহকারী হাইকমিশন অবস্থিত।

বিবিসি হিন্দিতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে একটি ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং হিসেবে ঘোষণা করে ভারতের সিদ্ধান্ত পহেলা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

ভারতীয় মিশনগুলোর কর্মকর্তাদের তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আট জানুয়ারির মধ্যেই ভারতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো।

যেসব কর্মকর্তাদের সন্তানরা স্কুলে পড়ে তাদের জন্য অতিরিক্ত সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছিলো।

অর্থাৎ পনেরই জানুয়ারির মধ্যে ভারতীয় পাঁচটি মিশনের কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা ঢাকা ত্যাগ করেছে।

যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, “নির্দেশনার ব্যাপারে এখনও আমি কিছু অবগত নয়। মানে এ বিষয়ে কোনো ডিসিশন নেওয়া হলে সেটাতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের যেটা দিল্লিতে তারাই নেবে তো তাদের পক্ষ থেকেই জানানো হবে। যদি কিছু এ বিষয়ে জানানোর থাকে মিডিয়াকে বা সেগুলো এনে প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে সেখান থেকেই।”

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো দেয়নি।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নন-ফ্যামিলি পোস্টিং ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশকে এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান অথবা সুদানের কাতারে রাখা হচ্ছে।

এই বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মি. হোসেন বিবিসির সংবাদদাতা ইশাদ্রিতা লাহিড়ীকে বলেছেন, “যদি ভারত বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সমান স্তরে রাখে, তাহলে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। অবশ্যই এটা দুঃখজনক। কিন্তু আমি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবো না।”

এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভারত অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

‘বন্ধুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নয়’

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেড় বছরে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েই চলেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

দেশ দুটির সম্পর্কের এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ করে আসছে; তা অস্বীকার করছে বাংলাদেশ।

গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবকের হত্যার প্রতিবাদ এবং সামগ্রিকভাবে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন অভিমুখে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বিক্ষোভও করেছে।

সর্বশেষ বাংলাদেশের খেলোয়ার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল থেকে বাদ দেওয়া এবং তার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর এই দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে আইপিএল’এর ম্যাচ না দেখানোর সিদ্ধান্তও এসেছে।

ক্রিকেট ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের অস্থিরতার পটভূমিতে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনগুলোতে ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং নিয়ে খবর নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, “এটা খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নয়, এটা বোঝা যাচ্ছে। তারপরেও সত্যি সত্যি যদি তারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করে তবে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু এটা প্রথম নয়।”

বাংলাদেশ ছাড়াও এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে নানা রকম রাজনৈতিক উত্থান-পতন বা নানা কারণে ভারতের কূটনৈতিক মিশন সরিয়ে নেওয়ার নজির রয়েছে।

মি. আহমেদ জানান,এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির বিষয়টি নিশ্চিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

একইসাথে, এমন সিদ্ধান্তে ভারত বাংলাদেশকে সম্পর্কের বিষয়ে নেতিবাচক একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করেন তিনি।

“ভারতের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশকে যে তোমাদের সাথে সম্পর্ককে আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি না। বরং আরো সংকুচিত করার চিন্তাভাবনা করছি, এরকম একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে হয়তো। একটা এক ধরনের চাপ তৈরি করা” বলেন এই কূটনীতিক।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, কেবল যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা নয়। বরং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময় যখন কূটনীতিকরা নানা নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসে।

ভারত – বাংলাদেশ দুইপক্ষই একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য এবং কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক কূটনীতিক মি. আহমেদ।

“সবসময় যে সত্যি সত্যি নিরাপত্তার অভাব হয়, তা নাও হতে পারে। অনেক সময় এটা একটা কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্যও করা হয়” বলেন মি. আহমেদ।

তিনি মনে করেন, দুই দেশের স্বার্থেই সম্পর্ক উন্নয়ন ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা উচিত।

“বাংলাদেশের এখানে যেটা করা উচিত ভারতের সাথে আলোচনা করে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা উচিত” বলেন মি. আহমেদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের সম্পর্কে ভারতের কূটনীতিকদের আগ্রহ থাকলেও কট্টরপন্থী অংশ বাংলাদেশ সম্পর্কে পরিবর্তিত পরিস্থিতি বুঝতে দিচ্ছে না।

“দিল্লিতে পলিসি মেকারদের মধ্যে আগ্রহ আছে। কিন্তু তাদের চিন্তাধারা প্রকাশ পাচ্ছে না। তাদের মধ্যে কট্টরপন্থী যারা আছে, তারা এটা হতে দিচ্ছে না” বলেন মিজ ইয়াসমিন।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

বাজারে হিমসাগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম পাওয়া যাচ্ছে। আমের এই মৌসুমে সবার বাসায়ই আম থাকে। অনেকে তিন বেলায় প্রিয় ফলটি খেতে ভালোবাসেন। পাকা আম কাটার আগে অনেকেই পানিতে ভিজিয়ে রাখেন না। এটি ভুল। আম কাটার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখার উপকারিতার কথা বলা হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর এক প্রতিবেদনে। 

পাকা আম কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন কেন?

আম পরিষ্কারের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি। শুধু ধুয়ে নিলে খোসায় থাকা জীবাণু পরিষ্কার হয় না। গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য এবং পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। সেগুলো আমের খোসাতে থেকে যায়। আম পানিতে  ভিজিয়ে রাখলে সেই সব কীটনাশক, রাসায়নিক বেরিয়ে যায়।

কীটনাশক সাফ হলেও আমে থাকা অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টও বিপজ্জনক হতে পারে। আমের খোসায় ফাইটিক অ্যাসিড নামের অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। এই ধরনের উপাদান আমের পুষ্টি শোষণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আম খেয়েও এর কোনও পুষ্টিগুণ পাবেন না। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায়। এতে আমের ভিটামিন এবং খনিজ শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।

ফাইটিক অ্যাসিডের পাশাপাশি আমের খোসায় এমন অনেক উপাদান থাকে যেগুলি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া আম খেলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং পেটের গণ্ডগোল দেখা দেয়। আম খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই সমস্যা এড়ানো যায়।

আমের বোঁটা থেকে আঠালো কষ বের হয়। সেগুলো শুধু পানি দিয়ে ধুলে পরিষ্কার হয় না। আবার ওই কষ ত্বকের সংস্পর্শে এলে, ঠোঁটে লাগলে চুলকানি, র‍্যাশ হয়ে থাকে। আবার কষ খেয়ে ফেললে গলা চুলকায়। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ওই কষ সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়ে যায়।

কতক্ষণ আম পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন?

খাওয়ার আগে ১-২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। হাতে কম সময় থাকলে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পানিতে নয়, ঘরের তাপমাত্রায় থাকা পানিতে ভেজানো উচিত।

সূত্র: এই সময়

ভালো থাকতে চাইলে যাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ভালো থাকতে চাইলে যাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলবেন?

আমাদের চারপাশে নানা রকমের মানুষ থাকেন। সবার মন মানসিকতা এক রকম হয় না। কারও কারও সঙ্গ জীবনে অনুপ্রেরণা জোগায়। এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আবার কিছু মানুষের নেতিবাচক আচরণের কারণে মানসিক টানাপোড়ন দেখা দেয়। এসব মানুষের সঙ্গ নিজের অজান্তেই আমাদের ভেতরের শক্তি নষ্ট করে দেয়।

মানসিকভাবে নিজেকে ভালো রাখতে কিছু মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলা খুবই জরুরি। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়ে’র এক প্রতিওবদনে এমনই কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। যেমন-

যারা সব সাফল্যের মধ্যে খুঁত খোঁজেন

কিছু কিছু মানুষ আছে যারা কখনওই কোনও কিছুতে সন্তুষ্ট হন না। তাদের জীবনে সব সময়ই কোনও না কোনও সমস্যা লেগেই থাকে। সাফল্য পেলেও তার খুঁত খোঁজেন। সব কিছু নিয়েই তারা অভিযোগ করেন। কেউ ভালো পরামর্শ দিলেও তারা সেটাকে ভালোভাবে নেন না। এই ধরনের মানুষদের সঙ্গে বেশি সময় কাটালে আপনার নিজের ভিতরের থাকা ইতিবাচক মনোভাবে কমতে থাকবে। জীবনে শান্তি পেতে চাইলে এদের থেকে দূরে থাকাই ভালো।

যারা কখনও ভুল স্বীকার করেন না

মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু অনেকেই আছেন ভুল করলেও স্বীকার করেন না। এমনকী কেউ কেউ কখনও ক্ষমা চায় না। নিজের ভুলের দায় তারা অন্যের উপর চাপাতে পছন্দ করেন। কেউ কষ্ট পেলে কিনা সেটা বোঝার চেষ্টা করে না। এমন মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকলে আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্পর্ক তখন মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বারবার একই আচরণ করলে সম্পর্কের সীমা নির্ধারন করা জরুরি।

যারা সব সময় অন্যকে ছোট করে বা সন্দেহ প্রকাশ করে

কেউ কেউ আছেন যারা অন্যের  কোনও স্বপ্ন বা ইচ্ছাকে কখনওই সমর্থন করেন না। বরং কেউ নতুন কিছু করতে গেলেই তার যোগ্যতার উপর সন্দেহ প্রকাশ করেন। ‘তোমার দ্বারা এটা হবে না’ বা ‘তুমি এই কাজের যোগ্য নও’— এমন নেতিবাচক কথাবার্তা বলে তারা আরেকজনের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করে। এই সমস্ত ব্যক্তিরা পরোক্ষ ভাবে অন্যের ক্ষতি চায়। তাই এই ধরনের মানুষের থেকে দূরে থাকাই ভালো।

পরনিন্দা ও পরচর্চা করা ব্যক্তি

আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছেন যারা অন্য মানুষের বদনাম বা গসিপ করতে পছন্দ করেন। অন্যের জীবনের ভুলত্রুটি নিয়ে আলোচনা করে তারা আনন্দ পান। , মনে রাখবেন—যারা আপনার সামনে অন্যের নামে খারাপ কথা বলছেন, সে অন্যের সামনে আপনার নামেও একই কাজ করতে পারেন। তাই এদের থেকে দূরে থাকাই ভালো।

বিশেষজ্ঞের মতে, সব সম্পর্ক ভেঙে ফেলতে হবে, বিষয়টা এমন নয়। তবে নিজের মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মান রক্ষার জন্য কিছু মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা জরুরি।  প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত পরিসরে সম্পর্কের সীমানা নির্ধারন করুন।

সূত্র : এই সময়

৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ফরিদপুর মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাক্তারদের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ফরিদপুর মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাক্তারদের

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অযৌক্তিক ও চিকিৎসা বিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চিকিৎসক সমাজ ঘোষিত ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতি শুরু করেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের, ইন্টার্ন  ও ট্রেইনি ডাক্তার সহ মেডিক্যাল শিক্ষার্থীবৃন্দ।

 রবিবার (০৭ জুন) সকালে ছয় দফা দাবি নিয়ে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  মিছিল করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  ক্যাম্পাসে। দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি চলবে বলে জানান ইন্টার্নাল ডাক্তার নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কাউন্সিলের সভাপতি ডা. সাকিব হাসান লস্কর জানান, হাসপাতালের সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সাথে সংহতি প্রকাশ করে ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা করেছেন।

আজ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে বেলা সাড়ে ১১ টায় সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ এক যোগে দাবি আদায়ের লক্ষে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন।  মানববন্ধনে সকল মিডলেভেল চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করেন।

তাদের ৬ দফা দাবি সমূহ হলো ১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে। ২. বিএমইউ ও বিসিপিএস-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যে আনতে হবে। ৩. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন নুনতম ৩০,০০০ টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আনুষঙ্গিক ভাতাসহ ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করে প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই পরিশোধ করতে হবে। ৪. স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। ৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় সাধারণ প্রার্থীদের তুলনায় ২ বছর বেশি অর্থাৎ ৩৪ বছর করতে হবে। ৬. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে (শ্রম আইন ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ এবং পে-স্কেলের আদর্শ অনুসরণ করে)।