খুঁজুন
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার: বাংলাদেশকে কি সতর্ক বার্তা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার: বাংলাদেশকে কি সতর্ক বার্তা?

বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ও তাদের অন্য মিশনগুলো থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশকে এক ধরনের কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া এবং চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গত দেড় বছরের বেশি সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

দুই পক্ষে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। দুই দেশেরই রাজনীতিবিদদের একাংশের বক্তব্য পাল্টা বক্তব্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। এমনকি দুই দেশেই হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় হাইকমিশনারদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সবশেষ ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতে আইপিএলে খেলতে না দেওয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে আরো জটিল করেছে।

এরইমধ্যে ভারতের কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে–– তাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরেক দফা অবনতির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে আসলেই এরকম কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের অন্তত দুইজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, অফিসিয়ালি বা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই সিদ্ধান্ত পাননি তারা।

তবে একটি সূত্র বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সতর্কতা হিসেবে ভারতীয় মিশনগুলোয় কর্মরতদের উপর নির্ভরশীলদের ভারতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।

বিবিসি হিন্দির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন বাংলাদেশকে ‘পরিবার-ছাড়া’ বা ‘নন ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। এছাড়াও, তারা তাদের কূটনীতিকদের পরিবারের প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দিয়েছে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশ এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা সুদানের সমান শ্রেণীতে রয়েছে।

বাংলাদেশ কেন ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না–– এই প্রশ্নে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ‘পুরোপুরি দ্বিমত’ পোষণ করে বলেছেন, “আমরা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছি, এমন কোনো এভিডেন্স (প্রমাণ) নেই।”

নন-ফ্যামিলি পোস্টিং কী?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনসহ মোট পাঁচটি মিশন থেকে দেশটির কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে ভারতের সহকারী হাইকমিশন অবস্থিত।

বিবিসি হিন্দিতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে একটি ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং হিসেবে ঘোষণা করে ভারতের সিদ্ধান্ত পহেলা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

ভারতীয় মিশনগুলোর কর্মকর্তাদের তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আট জানুয়ারির মধ্যেই ভারতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো।

যেসব কর্মকর্তাদের সন্তানরা স্কুলে পড়ে তাদের জন্য অতিরিক্ত সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছিলো।

অর্থাৎ পনেরই জানুয়ারির মধ্যে ভারতীয় পাঁচটি মিশনের কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা ঢাকা ত্যাগ করেছে।

যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, “নির্দেশনার ব্যাপারে এখনও আমি কিছু অবগত নয়। মানে এ বিষয়ে কোনো ডিসিশন নেওয়া হলে সেটাতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের যেটা দিল্লিতে তারাই নেবে তো তাদের পক্ষ থেকেই জানানো হবে। যদি কিছু এ বিষয়ে জানানোর থাকে মিডিয়াকে বা সেগুলো এনে প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে সেখান থেকেই।”

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো দেয়নি।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নন-ফ্যামিলি পোস্টিং ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশকে এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান অথবা সুদানের কাতারে রাখা হচ্ছে।

এই বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মি. হোসেন বিবিসির সংবাদদাতা ইশাদ্রিতা লাহিড়ীকে বলেছেন, “যদি ভারত বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সমান স্তরে রাখে, তাহলে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। অবশ্যই এটা দুঃখজনক। কিন্তু আমি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবো না।”

এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভারত অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

‘বন্ধুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নয়’

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেড় বছরে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েই চলেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

দেশ দুটির সম্পর্কের এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ করে আসছে; তা অস্বীকার করছে বাংলাদেশ।

গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবকের হত্যার প্রতিবাদ এবং সামগ্রিকভাবে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন অভিমুখে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বিক্ষোভও করেছে।

সর্বশেষ বাংলাদেশের খেলোয়ার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল থেকে বাদ দেওয়া এবং তার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর এই দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে আইপিএল’এর ম্যাচ না দেখানোর সিদ্ধান্তও এসেছে।

ক্রিকেট ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের অস্থিরতার পটভূমিতে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনগুলোতে ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং নিয়ে খবর নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, “এটা খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নয়, এটা বোঝা যাচ্ছে। তারপরেও সত্যি সত্যি যদি তারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করে তবে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু এটা প্রথম নয়।”

বাংলাদেশ ছাড়াও এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে নানা রকম রাজনৈতিক উত্থান-পতন বা নানা কারণে ভারতের কূটনৈতিক মিশন সরিয়ে নেওয়ার নজির রয়েছে।

মি. আহমেদ জানান,এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির বিষয়টি নিশ্চিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

একইসাথে, এমন সিদ্ধান্তে ভারত বাংলাদেশকে সম্পর্কের বিষয়ে নেতিবাচক একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করেন তিনি।

“ভারতের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশকে যে তোমাদের সাথে সম্পর্ককে আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি না। বরং আরো সংকুচিত করার চিন্তাভাবনা করছি, এরকম একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে হয়তো। একটা এক ধরনের চাপ তৈরি করা” বলেন এই কূটনীতিক।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, কেবল যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা নয়। বরং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময় যখন কূটনীতিকরা নানা নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসে।

ভারত – বাংলাদেশ দুইপক্ষই একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য এবং কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক কূটনীতিক মি. আহমেদ।

“সবসময় যে সত্যি সত্যি নিরাপত্তার অভাব হয়, তা নাও হতে পারে। অনেক সময় এটা একটা কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্যও করা হয়” বলেন মি. আহমেদ।

তিনি মনে করেন, দুই দেশের স্বার্থেই সম্পর্ক উন্নয়ন ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা উচিত।

“বাংলাদেশের এখানে যেটা করা উচিত ভারতের সাথে আলোচনা করে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা উচিত” বলেন মি. আহমেদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের সম্পর্কে ভারতের কূটনীতিকদের আগ্রহ থাকলেও কট্টরপন্থী অংশ বাংলাদেশ সম্পর্কে পরিবর্তিত পরিস্থিতি বুঝতে দিচ্ছে না।

“দিল্লিতে পলিসি মেকারদের মধ্যে আগ্রহ আছে। কিন্তু তাদের চিন্তাধারা প্রকাশ পাচ্ছে না। তাদের মধ্যে কট্টরপন্থী যারা আছে, তারা এটা হতে দিচ্ছে না” বলেন মিজ ইয়াসমিন।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন ঋণে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সুখবর?

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন ঋণে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সুখবর?

মধ্যবিত্তদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সহজ করতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

একই সঙ্গে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে (১০ শতাংশের নিচে) দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু এবং বিশেষ হাউজিং তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা।

রোববার (৭ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর একটি প্রতিনিধি দল।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান সংকট, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে রিহ্যাব নেতারা বলেন, প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে গৃহঋণের ব্যবস্থা করা গেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ হবে। একইসঙ্গে দেশের অন্যতম বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এই খাত নতুন গতি পাবে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু করা গেলে আবাসন খাত যেমন উপকৃত হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য নিজস্ব বাসস্থান অর্জনও সহজ হবে।

অন্যদিকে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য স্বল্পসুদের হাউজিং ঋণের সুযোগ সারা দেশে সম্প্রসারণ করতে হবে।

জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নে আবাসন খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, হাউজিং খাতের ঋণ ব্যাংকিং খাতের অন্যতম নিরাপদ ঋণ হওয়ায় অন্যান্য অনেক খাতের তুলনায় এর সুদের হার তুলনামূলক কম থাকে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আবাসন ঋণের সুদের হার অন্যান্য ঋণের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে বলেও তিনি জানান।

গভর্নর জানান, দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের জোগান বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য গৃহঋণ গ্রহণ আরও সহজ হবে।

বৈঠকে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ.এফ.এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং পরিচালক তাসনোভা মাহবুব সালাম উপস্থিত ছিলেন।

 

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। প্রতিদিন এ প্ল্যাটফর্মে বিপুল পরিমাণ বার্তা, ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথি আদান-প্রদান করা হয়। তবে ফোন হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া বা নতুন ডিভাইসে পরিবর্তনের সময় এসব তথ্য হারানোর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ করে তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করেন।

তবে কখনও কখনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ বা রিস্টোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

প্রথমেই ফোনটি রিস্টার্ট করে দেখতে পারেন, কারণ অনেক সাময়িক ত্রুটি এভাবে দূর হয়ে যায়। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্বল ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক বা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়া ফোনে পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও পর্যাপ্ত চার্জ থাকা জরুরি। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি করতে হবে এবং ফোন চার্জে রাখতে হবে। সমস্যা অব্যাহত থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি ‘ফোর্স স্টপ’ করে পুনরায় চালু করা যেতে পারে। ডুয়াল সিম ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত নম্বরের সিমটি সক্রিয় আছে কি না সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল প্লে সার্ভিসেস আপডেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ব্যবস্থা গুগল ড্রাইভের সঙ্গে সংযুক্ত। পুরোনো সংস্করণের কারণে ব্যাকআপে সমস্যা দেখা দিলে সেটিংস থেকে গুগল প্লে সার্ভিসেস সর্বশেষ সংস্করণে হালনাগাদ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করার পরামর্শও দেওয়া হয়।

ব্যাকআপের সময় কোনো ত্রুটি বার্তা দেখা দিলে অ্যাপের প্রয়োজনীয় পারমিশনগুলো সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে স্টোরেজ বা ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের অনুমতি চালু থাকা জরুরি। পাশাপাশি গুগল অ্যাকাউন্ট সিঙ্ক করে নেওয়া যেতে পারে। তাতেও কাজ না হলে গুগল অ্যাকাউন্টটি ফোন থেকে সরিয়ে আবার যুক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপে পুনরায় সেটআপ করতে হবে।

সবশেষে, কোনো কারণে ব্যাকআপ ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত বা ‘করাপ্টেড’ হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে। সাধারণত ব্যাকআপ চলাকালে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়া, অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ক্ষতিকর ফাইলের কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তাই ব্যাকআপ নেওয়ার সময় সবসময় স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র : যুগান্তর

 

আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

বাজারে হিমসাগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম পাওয়া যাচ্ছে। আমের এই মৌসুমে সবার বাসায়ই আম থাকে। অনেকে তিন বেলায় প্রিয় ফলটি খেতে ভালোবাসেন। পাকা আম কাটার আগে অনেকেই পানিতে ভিজিয়ে রাখেন না। এটি ভুল। আম কাটার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখার উপকারিতার কথা বলা হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর এক প্রতিবেদনে। 

পাকা আম কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন কেন?

আম পরিষ্কারের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি। শুধু ধুয়ে নিলে খোসায় থাকা জীবাণু পরিষ্কার হয় না। গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য এবং পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। সেগুলো আমের খোসাতে থেকে যায়। আম পানিতে  ভিজিয়ে রাখলে সেই সব কীটনাশক, রাসায়নিক বেরিয়ে যায়।

কীটনাশক সাফ হলেও আমে থাকা অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টও বিপজ্জনক হতে পারে। আমের খোসায় ফাইটিক অ্যাসিড নামের অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। এই ধরনের উপাদান আমের পুষ্টি শোষণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আম খেয়েও এর কোনও পুষ্টিগুণ পাবেন না। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায়। এতে আমের ভিটামিন এবং খনিজ শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।

ফাইটিক অ্যাসিডের পাশাপাশি আমের খোসায় এমন অনেক উপাদান থাকে যেগুলি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া আম খেলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং পেটের গণ্ডগোল দেখা দেয়। আম খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই সমস্যা এড়ানো যায়।

আমের বোঁটা থেকে আঠালো কষ বের হয়। সেগুলো শুধু পানি দিয়ে ধুলে পরিষ্কার হয় না। আবার ওই কষ ত্বকের সংস্পর্শে এলে, ঠোঁটে লাগলে চুলকানি, র‍্যাশ হয়ে থাকে। আবার কষ খেয়ে ফেললে গলা চুলকায়। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ওই কষ সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়ে যায়।

কতক্ষণ আম পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন?

খাওয়ার আগে ১-২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। হাতে কম সময় থাকলে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পানিতে নয়, ঘরের তাপমাত্রায় থাকা পানিতে ভেজানো উচিত।

সূত্র: এই সময়