খুঁজুন
, ,

বাবার ডাকেও সাড়া মেলেনি, পরে ঘরে মিলল ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
বাবার ডাকেও সাড়া মেলেনি, পরে ঘরে মিলল ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের গোয়ালপোতা গ্রামে মো. ফারুক মাতুব্বর (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নিজ বসতঘর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফারুক মাতুব্বর গোয়ালপোতা গ্রামের মজনু মাতুব্বরের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফারুক নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর বাবা খাবার খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার ওপর দিয়ে তাকিয়ে দেখেন, ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে আছেন তাঁর ছেলে।

এ দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি নগরকান্দা থানায় জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে নগরকান্দা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. নাজমুল ও ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুল রাজ্জাক ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

নগরকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুল রাজ্জাক বলেন, “মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

‘সংসদ আর রাবারস্ট্যাম্প নয়, এখন গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র’— ডেপুটি স্পিকার

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
‘সংসদ আর রাবারস্ট্যাম্প নয়, এখন গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র’— ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেছেন, “দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদ জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করেনি। একসময় সংসদকে ‘রাবারস্ট্যাম্প’ বা ‘মাস্টার ভয়েস’ হিসেবে পরিচালিত করা হয়েছে। কিন্তু এখন জাতীয় সংসদ গণতন্ত্র চর্চার কার্যকর মঞ্চে পরিণত হয়েছে। সরকারি দল ও বিরোধী দল নিজ নিজ বক্তব্য স্বাধীনভাবে উপস্থাপন করতে পারছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।”

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের সাওতিকান্দা গ্রামে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, “স্বাধীনতার পর বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হয়েছে, সেই সংসদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আমরাও সেই প্রত্যাশার গুরুত্ব উপলব্ধি করি। এই সংসদ বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।”

তিনি আরও বলেন, “যে ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে দেশে নতুন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং বিরোধী দলের নেতার সহযোগিতায় আমরা দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সংসদকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছি। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যেই সংসদ পরিচালিত হচ্ছে।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়াম, ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজোয়ান দিপু, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, শহিদুল ইসলাম মিরু মুন্সী, জাহাঙ্গীর মাতুব্বর, অ্যাডভোকেট জহুরুল হক মিঠু, মোসারেফ হোসেন, আলমগীর মাতুব্বরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ফরিদপুরে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

ফরিদপুরের সালথায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাহিরদিয়া গ্রামের বাদশা মোল্লার ছেলে এনামুল মোল্লা (২৫) ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কাউকেই ইতালিতে পাঠাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তাদের দাবি, অভিযুক্ত চক্রটি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে অর্থ আদায় করে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের কাছে জিম্মি করে মুক্তিপণের নামে আরও অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, এখনও কয়েকজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুরুল মোল্লা এই চক্রের অন্যতম দালাল হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। এছাড়া চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

ভুক্তভোগী হুসাইন সর্দার বলেন, এনামুল ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে আমাকে লিবিয়ায় একটি অজানা ঘরে আটকে রাখে। পরে আরও টাকার দাবিতে আমার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। আমি কান্নাকাটি করে বাড়িতে ফোন দিলে পরিবার অতিরিক্ত টাকা পাঠায়। এরপর দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আরেক ভুক্তভোগী ওসমান মোল্লা বলেন, আমাকে ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ায় একটি ঘরে আটকে রেখে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যা করে সাগরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত এবং মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত মঞ্জুরুল মোল্যা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গ্রাম্য দলাদলির জের ধরে একটি পক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আমাদের কেবল লিবিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে কথা হয়েছিল। বর্তমানে তারা লিবিয়ায় চাকরি করছেন। তবে আমার ছোট ভাই এনামুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার সাথে কার কার কি কথা হয়েছে জানিনা।

অভিযুক্ত এনামুল মোল্যা বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করার তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে এটিকে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। সেই সাথে পুলিশের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে যাতে করে এই পন্থায় কেউ বিদেশে না যায়।

ফরিদপুরে গাভীর দুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে লাথিতে প্রাণ গেল বৃদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গাভীর দুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে লাথিতে প্রাণ গেল বৃদ্ধার

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আশফরদী গ্রামে গাভীর দুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে গাভীর লাথিতে গুরুতর আহত হয়ে আছিয়া বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত আছিয়া বেগম আশফরদী গ্রামের মৃত জব্বার তালুকদারের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের গবাদিপশুর দেখভাল করতেন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালেও নিজ বাড়ির গোয়ালঘরে গাভীর দুধ সংগ্রহ করতে যান। এ সময় হঠাৎ গাভীটি উত্তেজিত হয়ে তাকে জোরে লাথি মারে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, গবাদিপশুর আচরণ হঠাৎ পরিবর্তিত হলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে দুধ দোহনের সময় পশু অস্থির হয়ে উঠলে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। আছিয়া বেগমের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে নগরকান্দা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে বিষয়টি যেহেতু গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুর ঘটনায় রূপ নেয়, তাই সংশ্লিষ্ট আইনগত কার্যক্রম মুকসুদপুর থানা পুলিশ পরিচালনা করছে।

নগরকান্দা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, গাভীর লাথিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।