খুঁজুন
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শতবর্ষের ঐতিহ্যকে শ্রেষ্ঠত্বের তকমা: ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
শতবর্ষের ঐতিহ্যকে শ্রেষ্ঠত্বের তকমা: ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজকে গৌরবময়ভাবে “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” ঘোষণা করা হয়েছে। ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করে রাজেন্দ্রকে এ বছর শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

দীর্ঘ ঐতিহ্য, শিক্ষাগত উৎকর্ষতা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের কারণে এই স্বীকৃতি পেয়ে কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম এর নেতৃত্বে কলেজটি নতুন দিকনির্দেশনা ও অগ্রগতির দিকে আরও দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান আর সমাজসেবীর দৃঢ় প্রেরণা:

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পুরনো ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাত। এর ইতিহাস ১৯১৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত ফিরে যায়, যখন বিখ্যাত কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এই কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ফরিদপুরে উচ্চশিক্ষার সুব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।

কলেজের স্থপনা তহবিল সংগ্রহে ফরিদপুর জেলার বাইশরশির জমিদার রমেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করেন। তিনি তাঁর পিতা রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০,০০০ টাকা অর্থদানে সম্মত হন, যার ফলে কলেজের নামকরণ ‘রাজেন্দ্র কলেজ’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে মাধ্যমিক পাশ শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজটি খোলা হলেও দ্রুতই এটি সমগ্র অঞ্চলের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ফজলুল হক, দেবেন্দ্র নাথ দত্তসহ বরেণ্য শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান শুরু করেন।১৯২১ সালে বিএ (BA), ১৯২৩ সালে আই‌এস‌সি ও পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ চালু করা হয়।

সরকারী কলেজে রূপান্তর:

১৯৬৮ সালে কলেজটি সরকারিভাবে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ হিসেবে ঘোষিত হয়। এরপর থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রী ও অনার্স পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয় এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে কলেজে প্রায় ৩০,০০০ শিক্ষার্থী ও ১৬০ জন শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি:

কলেজের বিভিন্ন বিভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষা প্রদান করছে। বিশেষ করে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও উচ্চ পর্যায়ের গবেষণা ও অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থাপত্য হিসেবে কলেজ শহর ও বায়তুল আমান নামে দুটি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত।

নায়ক—অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম:

বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিমের দক্ষ নেতৃত্বে, কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন জীবনীশক্তি প্রবাহিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন নতুন শিক্ষা উদ্যোগ, কর্মশালা, সেমিনার ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রেক্ষাপট:

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ একটি সবার সম্মিলিত উদ্যোগ, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্য, কাযর্ক্রম ও সমাজকল্যাণমূলক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মূল্যায়িত হয়। এ বছর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” নির্বাচিত হওয়া এই সপ্তাহকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। শিক্ষা সপ্তাহে কলেজটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী ও সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড:

শুধু পাঠ্যক্রমেই নয়, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সমাজসেবায়ও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ভূমিকা প্রতিভাবান। রক্তদান শিবির, পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি, সমাজসেবা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো কর্মকাণ্ডে কলেজের ক্লাব ও সংগঠনগুলি সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা:

এ কলেজ ভবিষ্যতে আরও উন্নত মানের শিক্ষা প্রদান, নতুন নতুন গবেষণা ক্ষেত্রসহ শিক্ষার আধুনিকীকরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আত্মপ্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, ডিজিটাল শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও প্রযুক্তি শিক্ষার উন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিক্ষা, ঐতিহ্য ও অনুপ্রেরণার এক অনন্য সংমিশ্রণ। দীর্ঘ শতবর্ষের ইতিহাসে আজও এটি শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে যাচ্ছে, আর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ এ “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” নির্বাচিত হয়ে সেই গৌরব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম আব্দুল হালিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত হওয়া আমাদের জন্য অসাধারণ গৌরবের বিষয়। কলেজটির শতবর্ষের ঐতিহ্য, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এই অর্জনের মূল ভিত্তি। আমরা শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দিই না, বরং শিক্ষার্থীদের মননশীল, দায়িত্ববান এবং সমাজ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করি।”

তিনি বলেন, “জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ এর এই স্বীকৃতি আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য প্রতিটি সম্ভাব্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। আমার আশা, এই অর্জন আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে, যাতে তারা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও শিক্ষার মান ও মর্যাদা তুলে ধরে।”

৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ফরিদপুর মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাক্তারদের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ফরিদপুর মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাক্তারদের

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অযৌক্তিক ও চিকিৎসা বিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চিকিৎসক সমাজ ঘোষিত ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতি শুরু করেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের, ইন্টার্ন  ও ট্রেইনি ডাক্তার সহ মেডিক্যাল শিক্ষার্থীবৃন্দ।

 রবিবার (০৭ জুন) সকালে ছয় দফা দাবি নিয়ে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  মিছিল করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  ক্যাম্পাসে। দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি চলবে বলে জানান ইন্টার্নাল ডাক্তার নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কাউন্সিলের সভাপতি ডা. সাকিব হাসান লস্কর জানান, হাসপাতালের সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সাথে সংহতি প্রকাশ করে ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা করেছেন।

আজ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে বেলা সাড়ে ১১ টায় সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ এক যোগে দাবি আদায়ের লক্ষে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন।  মানববন্ধনে সকল মিডলেভেল চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করেন।

তাদের ৬ দফা দাবি সমূহ হলো ১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে। ২. বিএমইউ ও বিসিপিএস-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যে আনতে হবে। ৩. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন নুনতম ৩০,০০০ টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আনুষঙ্গিক ভাতাসহ ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করে প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই পরিশোধ করতে হবে। ৪. স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। ৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় সাধারণ প্রার্থীদের তুলনায় ২ বছর বেশি অর্থাৎ ৩৪ বছর করতে হবে। ৬. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে (শ্রম আইন ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ এবং পে-স্কেলের আদর্শ অনুসরণ করে)।

ফরিদপুরে সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ব্যবসা, ফের ইয়াবাসহ র‍্যাবের জালে সামাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ব্যবসা, ফের ইয়াবাসহ র‍্যাবের জালে সামাদ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া মো. সামাদ খান (৪১) কেবল একজন মাদক ব্যবসায়ীই নন, তার বিরুদ্ধে রয়েছে দীর্ঘদিনের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, সাংবাদিকতার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তারের পর আবারও আলোচনায় এসেছে তার অতীত কর্মকাণ্ড।

রবিবার (৭ জুন) র‍্যাব-১০ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শনিবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মধুখালী উপজেলার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. সামাদ খানকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা।

র‍্যাব জানিয়েছে, সামাদ খান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে মধুখালী থানায় আগে থেকেই দুটি মাদক মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার তপন কর্মকার বলেন, সামাদের কাছে সাংবাদিকতার আইডি কার্ড পাওয়া গেছে। সে বলেছে (সামাদ) তিনি একটি পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করেন। তবে তার কথাবার্তায় বুঝেছি তিনি পেশাদার সাংবাদিক নন। তিনি মাদকসহ ৬টি মামলার আসামি।

তিনি আরও বলেন, একজন মাদক কারবারি কোন পেশার সেটা বিবেচ্য নয়, আমরা অপরাধীকে অপরাধের ধরণ হিসেবে বিবেচনা করি।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “র‍্যাব আটককৃত ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের কাছে সামাদের পরিচয় শুধু একজন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নয়। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ফরিদপুর জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে তার অপরাধ জগতের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। তখন জানানো হয়, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট র‍্যাব-৮ ফরিদপুর অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে ৩ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা, এক বোতল ফেন্সিডিল, দুই বোতল বিদেশি মদ এবং ৬৯০টি যৌন উত্তেজক বড়ি উদ্ধার করে।

ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি ছিল প্রতারণার মামলা। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত ব্যারেট ক্যাপ ও কালো বুট জুতা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রতারণা করতেন।

শুধু মাদক নয়, নারী নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে নিজের শ্যালিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। পরে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, এক সময় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন সামাদ। তিনি ঢাকাভিত্তিক একটি পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়।

মধুখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান মুন্নু বলেন, “সাংবাদিকতা পেশাকে ব্যবহার করে কেউ যদি অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে, সেটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। সামাদ কোনো প্রেসক্লাবের সদস্য নন। পরে তিনি নিজেই একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেন। এ ধরনের লোকদের কারণে সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধীর আশ্রয়স্থল হতে পারে না। কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকদেরও যাচাই-বাছাই করে পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

ফরিদপুরে কর্মরত একাধিক সাংবাদিক জানান, সামাদের মতো ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সমাজে প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনের নজর এড়ানো এবং নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেন। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে র‍্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানিয়েছেন, মাদক, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

এর আগে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর তাদের দুজনকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।এর আগে ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করা হয়। মাত্র চার কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান।পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।