খুঁজুন
, ,

মাদকের আগ্রাসনে বিপন্ন পরিবার ও সমাজ : রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মাদকের আগ্রাসনে বিপন্ন পরিবার ও সমাজ : রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়

একজন বাবা নিজের সন্তানকে হত্যা করেছেন। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্ষ থেকে পৌঁছে গেছেন পুনর্বাসন কেন্দ্রে। একজন মা শেষ সম্বল জমি বিক্রি করেও ছেলেকে নেশার অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায়, আদালতের নথিতে, হাসপাতালের বেডে কিংবা অসংখ্য পরিবারের নিভৃত কান্নায় ফিরে ফিরে আসে একই শব্দ মাদক।

২৬ জুন, আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শুধু সেমিনার, ব্যানার আর র‍্যালি কি এই ভয়াবহ সংকট মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট? কারণ মাদক এখন আর কেবল একজন ব্যক্তির নেশা নয়; এটি একটি সামাজিক মহামারি, যা ধীরে ধীরে গ্রাস করছে পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি এবং জাতির ভবিষ্যৎ।

মাদক নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই আমরা সংখ্যা শুনি লাখ লাখ আসক্ত, কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য, শত শত মামলা কিংবা অসংখ্য উদ্ধার অভিযান। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি মানুষের গল্প, একটি পরিবারের বেদনা, একটি অপূর্ণ স্বপ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তরুণদের সম্পৃক্ততা।

কিশোর, শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী তরুণ, এমনকি বিদ্যালয়গামী অনেক শিক্ষার্থীও মাদকের ঝুঁকিতে রয়েছে। যে প্রজন্ম দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ হওয়ার কথা, সেই প্রজন্মের একটি অংশ ধীরে ধীরে নেশার জালে আটকে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত মাদক হলো ইয়াবা, যা মূলত মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের সংমিশ্রণে তৈরি। অল্প সময়ের জন্য এটি কৃত্রিম উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ক ও শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। এর পাশাপাশি ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, আইস (ক্রিস্টাল মেথ), কোকেইন, এলএসডি, বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং নতুন প্রজন্মের কিছু সিনথেটিক মাদকও দেশে প্রবেশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক ব্যবসায়ীরা সময়ের সঙ্গে কৌশল বদলাচ্ছে। আগে যেখানে সীমান্তভিত্তিক সরবরাহ বেশি ছিল, এখন অনলাইন যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গোপন ডেলিভারি নেটওয়ার্কও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একদিকে যেমন বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের কাছেও এটি একটি সংবেদনশীল অঞ্চল। দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলকে বহুবার মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা এবং অন্যান্য মাদক প্রবেশের ঘটনাও বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে উঠে এসেছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মাদক চক্র বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, কনটেইনার পরিবহন, কুরিয়ার সার্ভিস এবং ট্রানজিট ব্যবস্থাকেও ব্যবহার করার চেষ্টা করে। ফলে মাদক সমস্যাকে শুধুমাত্র একটি অপরাধ হিসেবে নয়, বরং সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র এবং অর্থনৈতিক অপরাধের সমন্বিত চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখতে হবে।

কেন তরুণরা মাদকের দিকে ঝুঁকছে? এ প্রশ্নের উত্তর একমাত্রিক নয়। বন্ধুমহলের চাপ, কৌতূহল, হতাশা, বেকারত্ব, সম্পর্কের ব্যর্থতা, পারিবারিক অশান্তি, মানসিক চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা সবকিছু মিলেই একজন তরুণকে মাদকের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অনেকেই প্রথমে মনে করে, “একবার চেষ্টা করলে ক্ষতি কী?” কিন্তু নেশার জগতের সবচেয়ে বড় প্রতারণা হলো এটি শুরু করা সহজ, কিন্তু বেরিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন।

চিকিৎসকদের মতে, মাদক মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। দীর্ঘদিন ইয়াবা বা অন্যান্য উত্তেজক মাদক গ্রহণের ফলে দেখা দিতে পারে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোকের ঝুঁকি, কিডনি ও লিভারের জটিলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, স্নায়বিক সমস্যা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। মানসিকভাবে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। একজন আসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা, হ্যালুসিনেশন, অনিদ্রা এবং আক্রমণাত্মক আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি বাস্তবতা ও কল্পনার পার্থক্য হারিয়ে ফেলেন।

মাদকের সবচেয়ে বড় ট্র‍্যাজেডি ঘটে পরিবারের ভেতরে। যে বাবা একদিন সন্তানের হাত ধরে স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই বাবাই নেশার ঘোরে পরিবারকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলছেন। যে সন্তান একদিন বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল, সে-ই হয়ে উঠছে পরিবারের দুঃস্বপ্ন। সংসারের অর্থ চলে যাচ্ছে নেশার পেছনে। বিক্রি হয়ে যাচ্ছে জমি, গয়না, সঞ্চয়। বাড়ছে কলহ, নির্যাতন ও বিচ্ছেদ। দেশে বিভিন্ন সময়ে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মাদকাসক্ত ব্যক্তির হাতে সন্তান, স্ত্রী কিংবা পরিবারের সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনা শুধু অপরাধ নয়; এগুলো মানবিক মূল্যবোধের ভাঙনের নির্মম প্রতিচ্ছবি।

একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির কারণে শুধু একজন মানুষ নয়, পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মাদকাসক্তি ও অপরাধের সম্পর্ক নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। নেশার অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, প্রতারণা ও সহিংসতায়। কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি, এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাস এবং নানা অপরাধ কর্মকান্ডের পেছনেও মাদকের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যখন সমাজের একটি অংশ মাদকের প্রভাবে নৈতিক বোধ হারিয়ে ফেলে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় সামাজিক আস্থা, নিরাপত্তা এবং মানবিক সম্পর্ক।

মাদকের কারণে একজন কর্মক্ষম মানুষ ধীরে ধীরে উৎপাদনশীলতা হারায়। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বাড়ে, দক্ষতা কমে যায়, কর্মজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিচারিক কার্যক্রম এবং অপরাধ দমনে রাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, মাদকের কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয়, তার বড় অংশই সরাসরি হিসাবের বাইরে থেকে যায়। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে জাতীয় উন্নয়ন, মানবসম্পদ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর।

এ অবস্থায় মাদকবিরোধী অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু গ্রেপ্তার ও উদ্ধার অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক সচেতনতা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, সহজলভ্য পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থা, পরিবারে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে নয়, চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন একজন মানুষ হিসেবেও দেখতে হবে।

এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার…মাদক একটি মানুষকে ধ্বংস করে। একটি পরিবারকে ভেঙে দেয়। একটি সমাজকে দুর্বল করে। একটি জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়।

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে আমাদের প্রশ্ন করা উচিত আমরা কি শুধু দিবস পালন করব, নাকি সত্যিই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য কাজ করব? কারণ মাদক একটি টান দিয়ে শুরু হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় স্বপ্ন, সম্পর্ক, সম্মান, সম্ভাবনা এবং জীবনকে। আসুন, মাদককে না বলি। জীবনকে হ্যাঁ বলি। প্রজন্মকে বাঁচাই, পরিবারকে বাঁচাই, দেশকে বাঁচাই। মাদকমুক্ত বাংলাদেশই হোক আমাদের আগামী দিনের অঙ্গীকার। মাদকমুক্ত দেশ গড়তে চাই সামাজিক প্রতিরোধের জাগরণ এবং প্রতিরোধেই মুক্তির পথ।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

প্রতিদিন টক দই খেলে মিলতে পারে যে ১০ উপকার?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
প্রতিদিন টক দই খেলে মিলতে পারে যে ১০ উপকার?

সুস্থ থাকতে সুষম খাবারের বিকল্প নেই। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখা জরুরি, যাতে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পায়। এ ক্ষেত্রে টক দই হতে পারে একটি ভালো খাবার।

দুধ থেকে তৈরি হলেও টক দই অনেকের কাছে তুলনামূলক সহজপাচ্য। দুধে থাকা ল্যাকটোজ ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় আংশিকভাবে ভেঙে যায়। ফলে যাঁদের দুধ খেলে অস্বস্তি হয়, তাঁদের কেউ কেউ টক দই তুলনামূলক ভালোভাবে সহ্য করতে পারেন। তবে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে সবার ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া হবে, এমন নয়।

টক দইয়ে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, রাইবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি৬ ও বি১২সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক হতে পারে।

তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টক দই রাখার সম্ভাব্য উপকারগুলো কী?

১. দুধের বিকল্প হতে পারে

অনেকেরই দুধ খেলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হয়। বিশেষ করে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে দুধের পরিবর্তে টক দই অনেকের জন্য তুলনামূলক সহনীয় হতে পারে। কারণ দই তৈরির সময় ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় দুধের কিছু ল্যাকটোজ ভেঙে যায়।

তবে কারও ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বেশি হলে দই খাওয়ার আগেও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

২. হজমে সহায়তা করতে পারে

টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুসমষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের হজমের সমস্যা, পেটের অস্বস্তি বা অনিয়মিত মলত্যাগের ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে।

তবে দই কোনো হজমের রোগের চিকিৎসা নয়। দীর্ঘদিনের গ্যাস, অম্বল বা পেটের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে

টক দইয়ে থাকা পুষ্টি উপাদান এবং প্রোবায়োটিক শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারে। অন্ত্রের সুস্থতা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তবে টক দই খেলেই সর্দি-জ্বর বা অন্য কোনো রোগ থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পাওয়া যায়, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

৪. হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী

ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টক দইয়ে এই দুই ধরনের খনিজ পাওয়া যায়। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে টক দই খেলে শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে টক দই একা কোনো ম্যাজিক খাবার নয়। তবে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া টক দই প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার হওয়ায় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য টক দইয়ের পাশাপাশি মোট ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে

টক দইয়ে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কম লবণযুক্ত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে টক দই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে শুধু দই খেয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত চিকিৎসা মেনে চলতে হবে।

৭. হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ

কম চর্বিযুক্ত টক দই সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।

তবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমানো জরুরি।

৮. মানসিক চাপ কমাতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের কার্যক্রমের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে। প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার যেমন টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হওয়ায় সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে টক দই সরাসরি স্ট্রেস বা উদ্বেগের চিকিৎসা করে, এমন বৈজ্ঞানিক দাবি করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৯. শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন জোগাতে পারে

টক দইয়ে ভালো মানের প্রোটিন থাকে। শরীরের পেশি, কোষ ও বিভিন্ন টিস্যুর স্বাভাবিক গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় টক দই প্রোটিনের একটি উৎস হিসেবে রাখা যেতে পারে।

১০. ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করা হয়

টক দই ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করেন। তবে মুখে দই, লেবুর রস বা অন্য উপাদান মিশিয়ে লাগানোর আগে সতর্ক থাকা দরকার। লেবুর রস বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

ত্বকের কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

কীভাবে খাবেন টক দই?

টক দই খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া দই। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবারের সঙ্গে কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে এটি খাওয়া যায়। ফল, ওটস বা বাদামের সঙ্গে টক দই মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

তবে বাজারের অনেক ফ্লেভারড বা মিষ্টি দইয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত খাওয়ার জন্য দই কেনার সময় পুষ্টি উপাদানের লেবেল দেখে নেওয়া ভালো।

সব মিলিয়ে টক দই পুষ্টিকর একটি দুগ্ধজাত খাবার। এতে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রোবায়োটিক শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারই সুস্থ থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। নিয়মিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে খাদ্যতালিকায় পরিমিত টক দই রাখলেই মিলতে পারে সবচেয়ে ভালো ফল।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টা মানবিক সেবায় আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করলো “টীম ফরিদপুর”

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টা মানবিক সেবায় আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করলো “টীম ফরিদপুর”

প্রবাসে কিংবা দূরে থাকা সন্তানদের বয়স্ক বাবা-মা, অসুস্থ এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের কাছে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম।

​রোববার (১৬ আগস্ট) ফরিদপুর থেকে মানবিক সেবার এই নতুন উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

​সংগঠকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দূর-দূরান্তে থাকা সন্তানদের পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও জরুরি প্রয়োজনে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই উদ্যোগটির প্রধান লক্ষ্য। ‘মানুষের প্রয়োজনে আমরা থাকব মানুষের পাশে’—এই অঙ্গীকার নিয়ে মানবিক সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবেন তারা।

​উদ্যোগটির টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খাইরুল ইসলাম রোমান। এতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন জাহিদুজ্জামান জাহিদ এবং সদস্য হিসেবে আছেন নীলয় চৌধুরীর রেজা।

​টিমের অন্যান্য সক্রিয় সদস্যরা হলেন— মো. ইয়াসিন, মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ, সাইদুল ইসলাম সাঈদ, মো. মনির খান, মো. আবু সাঈম (অমি), তাসলিম হুসাইন নাহিদ, তরিকুল ইসলাম মাহফুজ, সাইফুল ইসলাম সাইফ, রবিউল ইসলাম, মো. আকিবুল ইসলাম, মোফাসসিল হোসাইন, সৌরভ বারুই, মো. লিমন তালুকদার, মো. আলামিন, সাঈদ আব্দুল বাপ্পি, সাব্বির মোল্লা, এস এম রাকিবুল ইসলাম, সিয়াম আহমেদ সালমান, বাহারুল ইসলাম রবিন, কামরুজ্জামান (জসিম), শাহরিয়ার রাব্বি, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ মিয়া, আশরাফুল ইসলাম রাজু, এস এম সালমান, রিফাত আহমেদ ও আবির বনিক।

​স্বেচ্ছাসেবী এই দলের প্রতিনিধিরা জানান, মানবতার সেবায় নিবেদিত এ উদ্যোগে তারা সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া প্রত্যাশা করছেন, যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে অসহায় মানুষের সেবা দিয়ে যেতে পারেন।

ভাদ্রের প্রথম সকাল : বর্ষার ভেজা পথ পেরিয়ে শরতের আগমন

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২১ পূর্বাহ্ণ
ভাদ্রের প্রথম সকাল : বর্ষার ভেজা পথ পেরিয়ে শরতের আগমন

বর্ষার শেষ প্রহর পেরিয়ে আজ বাংলা পঞ্জিকার পাতায় উঠবে ভাদ্রের প্রথম দিন। ঋতুচক্রের নিয়মে শুরু হবে শরৎ। প্রকৃতির এই পরিবর্তন অবশ্য ক্যালেন্ডারের পাতায় একদিনে ঘটে না। বর্ষার মেঘ, বৃষ্টির জল, সিক্ত মাটি আর ঘন সবুজের বুক চিরেই শরৎ ধীরে ধীরে নিজের উপস্থিতির জানান দেয়। আকাশের নীল একটু একটু করে গাঢ় হয়, মেঘের ভাঁজে আসে শুভ্রতার আভাস, বাতাসের চলনে বদলে যায় ঋতুর ভাষা।

ভাদ্র তাই এক অর্থে দুই ঋতুর সীমানায় দাঁড়ানো একটি মাস। বর্ষার বিদায়ী সুর তখনও শোনা যায়, আবার শরতের আগমনী বাঁশিও বেজে ওঠে। কখনো কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়, কখনো রৌদ্রের ঝিলিক, আবার হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দেয় পথঘাট। এই অনিশ্চয়তা ভাদ্রের স্বভাব; তার সৌন্দর্যও যেন এই বৈচিত্র‍্যরে মধ্যেই।

ভোরের ভাদ্র অন্যরকম কোমল। রাতের বৃষ্টির পর মাটির বুক থেকে উঠে আসে সোঁদা গন্ধ। পাতার ডগায় জমে থাকা জলকণা সকালের আলোয় ছোট ছোট মুক্তোর মতো ঝলমল করে। কোথাও কোথাও শিউলির শুভ্র পাপড়ি জানান দিতে শুরু করে শরতের আগমন। গ্রাম বাংলার উঠোনে ফুল কুড়ানোর ব্যস্ততা, দূরের পাখির ডাক আর হালকা বাতাস মিলে তৈরি করে এক শান্ত সকাল। শহরেও ভোরের আকাশে চোখ রাখলে বোঝা যায়Ñবর্ষার ভার কিছুটা হালকা হয়েছে।

সূর্য ওপরে উঠলে শরতের আরেক রূপ প্রকাশ পায়। ভাদ্রের দুপুরকে একেবারে কোমল বলা যাবে না; রোদের তেজ যথেষ্ট থাকে, বাতাসে আর্দ্রতাও কমে না। কখনো নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, আবার মুহূর্তেই মেঘের ঘনঘটা, প্রকৃতি যেন নিজের ক্যানভাসে বারবার ছবি বদলায়। নদী-নালা ও জলাভূমিতে বর্ষার সঞ্চিত জল তখনও প্রকৃতিকে সজীব রাখে। মাঠে আমন ধানের সবুজ, গাছপালার সতেজতা এবং জলভরা নিম্নভূমি বাংলার ভূ-দৃশ্যকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

এই সময় মানুষের জীবনযাপনেও প্রয়োজন কিছু সচেতনতা। গরম ও আর্দ্রতার কারণে হালকা, আরামদায়ক ও বাতাস চলাচল করে এমন পোশাক স্বস্তি দেয়। সুতি পোশাক এ আবহাওয়ায় উপযোগী। বাইরে বের হলে ছাতা সঙ্গে রাখা ভালো, কারণ ভাদ্রের আকাশের মন বোঝা কঠিন। পর্যাপ্ত পানি পান, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত শুকনো পোশাক পরা দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যাভ্যাসেও চাই ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্য। তাজা শাকসবজি, মৌসুমি ফল, দেশীয় মাছ, ডাল ও সহজপাচ্য খাবার শরীরকে স্বস্তি দিতে পারে। ভাদ্রের আর্দ্র আবহাওয়ায় খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে বাসি বা দীর্ঘক্ষণ খোলা অবস্থায় রাখা খাবার এড়ানো উচিত। নিরাপদ পানি পান এবং খাবার ঢেকে রাখার মতো সাধারণ সতর্কতাও এ সময় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

দুপুরের উত্তাপ পেরিয়ে বিকেল নামলেই ভাদ্র যেন তার সবচেয়ে চিত্রময় মুখটি খুলে বসে। খোলা মাঠে বাতাসের দোল, নদীর জলে সূর্যের শেষ আলো আর দূরের কাশবনের শুভ্রতা মিলে তৈরি হয় শরতের নিজস্ব দৃশ্যপট। কাশফুলের নরম দোলা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়; বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতেও এটি শরতের অন্যতম প্রতীক। নদীর পাড়ে দাঁড়ালে মনে হয়, জল আর আকাশের মাঝখানে প্রকৃতি নিজেই একটি সাদা স্বপ্ন এঁকে দিয়েছে।

বিকেলের শেষে আসে সন্ধ্যা। দিনের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়। কৃষক মাঠ থেকে ফেরেন, গৃহস্থের উঠোনে আলো জ্বলে, শহরের ব্যস্ত মানুষও কিছুক্ষণের জন্য আকাশের দিকে তাকানোর অবকাশ পান। বর্ষার দীর্ঘ অস্থিরতার পর এই সন্ধ্যায় প্রকৃতি যেন একটু শান্ত হতে শেখায়।

আর শরতের রাতে তার নিজস্ব এক মায়া আছে। মেঘ সরে গেলে জ্যোৎস্না নেমে আসে উঠোনে, ছাদে, নদীর জলে। চাঁদের আলোয় গাছের ছায়া দীর্ঘ হয়, দূরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যায়। গরমের অস্থিরতা আর শীতের কনকনে অনুভূতি; দুটির মাঝামাঝি এক আরামদায়ক আবহ তৈরি হয়। যদিও ভাদ্রের আর্দ্রতা ও বৃষ্টির প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় প্রতিটি রাত সমান নির্মল হয় না।

প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভাদ্র কিছু বাস্তব সতর্কতাও মনে করিয়ে দেয়। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। প্রচন্ড রোদে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ছাতা বা অন্যান্য সুরক্ষা নেওয়া এবং শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে না দেওয়াও দরকার।

ভাদ্রের সঙ্গে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনও ধীরে ধীরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শরতের আগমন মানেই সামনে শারদীয় উৎসবের প্রস্তুতি। এখনো দূরে কোথাও ঢাকের আওয়াজ শোনা না গেলেও মন্ডপ তৈরির ব্যস্ততা, বাজারে নতুন পোশাকের আনাগোনা কিংবা ঘর গোছানোর আয়োজন জানান দেয় উৎসব আসছে। প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের মনও তখন নতুন আনন্দের অপেক্ষায় থাকে।

তবু ভাদ্রের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য কোনো একক দৃশ্যে নয়; তার সৌন্দর্য পরিবর্তনের ভেতর। বর্ষার ঘন সবুজকে সঙ্গে নিয়ে সে এগিয়ে যায় শরতের নীল আকাশের দিকে। কখনো মেঘলা, কখনো রৌদ্রোজ্জ্বল, কখনো বৃষ্টিস্নাত প্রতিটি মুহূর্তে তার আলাদা রূপ।

ভাদ্র আমাদের তাই শুধু একটি নতুন মাস উপহার দেয় না; দেয় একটু থামার উপলক্ষ। ব্যস্ততার বাইরে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখার, নদীর স্রোত শোনার, কাশফুলের দোলায় চোখ রাখার এবং বুঝে নেওয়ার সুযোগ দেয় প্রকৃতি কখনো একই থাকে না, অথচ তার প্রতিটি পরিবর্তনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সৌন্দর্য।
কাল ভাদ্রের প্রথম সকাল। হয়তো আকাশে মেঘ থাকবে, হয়তো রোদ উঠবে, হয়তো হঠাৎ বৃষ্টিও নামবে। তবু সেই পরিবর্তনশীল আকাশের নিচেই শরৎ তার প্রথম পদচিহ্ন রাখবে।

শরৎ কোনো ঘোষণা দিয়ে আসে না, সে আসে বাতাসের স্বরে, আকাশের নীলে, কাশফুলের শুভ্রতায় এবং মানুষের মনে নতুন ঋতুর অদৃশ্য আনন্দ হয়ে। স্বাগতম ভাদ্র। স্বাগতম শরৎ।

লেখক: সহ-সম্পাদক,সমাজকল্যাণ বিভাগ, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।