খুঁজুন
, ,

কিশোর অপরাধে সামাজিক মাধ্যম

আরিফুল ইসলাম রাফি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
কিশোর অপরাধে সামাজিক মাধ্যম

কিশোর অপরাধ আজ আর বিচ্ছিন্ন কোনো পারিবারিক বা ব্যক্তিগত ব্যর্থতার গল্প নয়; এটি ক্রমেই একটি সামাজিক বাস্তবতা, যার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা কিশোরদের হাতে যে বিপুল ক্ষমতা তুলে দিয়েছে, তা যেমন তাদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও বিশ্বদৃষ্টিকে প্রসারিত করেছে, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত ও অসম্পাদিত এ ডিজিটাল জগৎ তাদের মানসিক গঠনে তৈরি করেছে নানা জটিলতা।

কৈশোর এমন একটি সময়, যখন মানুষ নিজেকে খুঁজতে চায়, স্বীকৃতি পেতে চায়, ভিড়ের মধ্যে আলাদা হয়ে উঠতে চায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ চাহিদাকে আরও উসকে দেয়। লাইক, শেয়ার, ভিউ আর কমেন্টের সংখ্যাই যেন হয়ে ওঠে জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের মানদণ্ড। এই প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা অনেক কিশোরকে ঠেলে দেয় ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে, যেখানে অপরাধও কখনো কখনো হয়ে ওঠে হিরো হওয়ার শর্টকাট পথ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংস ভিডিও, অপরাধের গল্প, গ্যাং কালচার কিংবা তথাকথিত ‘বোল্ড’ জীবনযাপনের প্রদর্শন কিশোরদের কাছে এক ধরনের রোমাঞ্চকর বাস্তবতা তৈরি করে। বাস্তব জীবনের পরিণতি, আইনি জটিলতা বা নৈতিক দায়বদ্ধতা সেখানে প্রায় অনুপস্থিত থাকে। ফলে অপরাধকে অনেক সময় তারা অপরাধ হিসেবেই দেখতে শেখে না; বরং এটিকে দেখে ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে। ভার্চুয়াল জগতে কোনো অপরাধমূলক ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে অপরাধীকে ঘিরে তৈরি হয় আলোচনার ঝড়। এ আলোচনাই কিশোর মনে বপন করে ভ্রান্ত বার্তা যে অপরাধ মানেই পরিচিতি। বিশেষ করে যেসব কিশোর পারিবারিক নজরদারির বাইরে থাকে, যাদের জীবনে আবেগগত শূন্যতা বা হতাশা কাজ করে, তারা এ ভ্রান্ত আকর্ষণের ফাঁদে দ্রুত জড়িয়ে পড়ে।

সাইবার বুলিং, অনলাইন গ্যাং গঠন, মাদক বা অস্ত্রের প্রচার—এসবও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কিশোর অপরাধকে সংগঠিত ও ত্বরান্বিত করছে। আগে যেখানে অপরাধ করতে হলে সরাসরি যোগাযোগ ও সাহসের প্রয়োজন হতো, এখন সেখানে একটি মেসেজ, একটি গ্রুপ বা একটি পোস্টই যথেষ্ট। গোপন গ্রুপে পরিকল্পনা, চ্যাটে হুমকি, লাইভে অপমান; এগুলো কিশোরদের মানসিকতায় সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তুলছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান বা প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ নিতেই কিশোররা জড়িয়ে পড়ে সহিংস অপরাধে। বাস্তব জীবনের ক্ষোভ ও আক্রোশ তারা ঝাড়ে ভার্চুয়াল জগতের প্ররোচনায়, যার পরিণতি গিয়ে পড়ে রাস্তায়, স্কুলে কিংবা পাড়ায়।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভুয়া তথ্য ও বিকৃত কনটেন্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সত্য-মিথ্যার সীমারেখা অস্পষ্ট। কিশোররা অনেক সময় যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিশ্বাস করে নানা গুজব, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা সহিংস মতাদর্শ। এ বিভ্রান্তি তাদের চিন্তাশক্তিকে দুর্বল করে এবং সহজেই প্রভাবিত করে অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠীর দ্বারা। কেউ কেউ আবার অনলাইন গেমিং বা চ্যালেঞ্জের নামে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, যেখানে সাহস প্রমাণের তাগিদই মুখ্য, বিবেচনা নয়।

তবে এর দায় এককভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার গভীরে যাওয়া হয় না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সামগ্রিক ভূমিকার দুর্বলতাও এখানে বড় কারণ। যখন পরিবারে সময় দেওয়ার অভাব, স্কুলে নৈতিক শিক্ষা ও মানসিক সহায়তার ঘাটতি থাকে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই হয়ে ওঠে কিশোরদের প্রধান আশ্রয়। সেখানে সে যা দেখে, যা শোনে তাই তাকে গড়ে তোলে। নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারে এ মাধ্যম যেমন ক্ষতিকর, তেমনি সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে এটি হতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাতিয়ার। সমস্যা তখনই প্রকট হয়, যখন দিকনির্দেশনা ছাড়া কিশোরকে একা ছেড়ে দেওয়া হয় ডিজিটাল জঙ্গলে।

কিশোর অপরাধ কমাতে হলে তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে শত্রু নয়, বরং একটি শক্তিশালী বাস্তবতা হিসেবে বুঝতে হবে। অভিভাবকদের প্রযুক্তিভীতি নয়, প্রযুক্তিজ্ঞান দরকার; যাতে তারা সন্তানদের অনলাইন জগৎ বুঝতে পারেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল লিটারেসি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় জরুরি, যাতে কিশোররা ভালো-মন্দের পার্থক্য শিখতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব রয়েছে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, বয়সভিত্তিক সুরক্ষা ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করার।

শেষ পর্যন্ত কিশোর অপরাধের মূল লড়াইটি মানসিকতা ও মূল্যবোধের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সে মানসিকতাকে হয় গঠন করছে, নয় ভাঙছে। কোন পথে যাবে তা নির্ভর করে আমাদের সম্মিলিত সচেতনতার ওপর। কিশোরদের যদি আমরা শুধু অপরাধী হিসেবে দেখি, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না; তাদের মানুষ হিসেবে বুঝে, পথ দেখিয়ে, ডিজিটাল জগতের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা দুটোই শেখাতে পারলেই শুধু এ অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী মাধ্যমকে ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গী করা সম্ভব।

আরিফুল ইসলাম রাফি, শিক্ষার্থী
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”