খুঁজুন
, ,

২০২৬-২৭ সালের বাজেট কতটা জনমুখী, কতটা অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত?

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
২০২৬-২৭ সালের বাজেট কতটা জনমুখী, কতটা অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত?

জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়নের রূপরেখা এবং নাগরিকের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ২০২৬- ২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উচ্চ প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির লক্ষ্য সামনে এনেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তব অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান কতটা কমাতে পারবে এই বাজেট?

প্রতিটি জাতীয় বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। এটি শুধু সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা নয়; বরং রাষ্ট্র কোন খাতকে অগ্রাধিকার দেবে, কীভাবে রাজস্ব সংগ্রহ করবে, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তুলবে তারই একটি সামগ্রিক নীতিপত্র।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট এমন এক সময়ে কার্যকর হলো, যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি, বেসরকারি বিনিয়োগের মন্থর গতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু অর্থনীতির একটি মৌলিক সত্য হলো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ তুলনামূলক সহজ; সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন, দক্ষ প্রশাসন এবং নীতির ধারাবাহিকতা।

জনপ্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা:

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বাজেট নিয়ে প্রত্যাশা খুব জটিল নয়। তারা চায়-

* নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমুক

* কর্মসংস্থান বাড়ুক

* চিকিৎসা ও শিক্ষা আরও সহজলভ্য হোক

* করের বোঝা যেন অসহনীয় না হয়

* এবং ব্যবসা-বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হোক

অন্যদিকে সরকারের সামনে বাস্তবতা ভিন্ন। একদিকে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ, অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো, ঋণের সুদ এবং সরকারি পরিচালন ব্যয়, সবকিছুই অর্থের দাবি রাখে। ফলে সরকারকে একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও সেই দ্বৈত বাস্তবতা স্পষ্ট।

বাজেটের আকার বাড়ানো হয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণেও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে মূল প্রশ্নটি অন্যত্র।
রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা যদি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে উন্নয়ন পরিকল্পনার বড় অংশই কাগজে সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়।

বাংলাদেশে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা প্রায়ই পূরণ হয় না। ফলে বছরের মাঝামাঝি উন্নয়ন ব্যয় কমাতে হয় অথবা ঋণ নির্ভরতা বাড়াতে হয়। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।

অর্থনীতির ভাষায়, একটি বাজেটের সফলতা তার আকারে নয়; বরং বাস্তবায়নের দক্ষতায়। কেননা জনগণ শেষ পর্যন্ত বাজেটের ভাষণ মনে রাখে না, তারা মনে রাখে বাজারের চাল-ডাল, চিকিৎসার খরচ, সন্তানের চাকরি এবং নিজের ক্রয়ক্ষমতার বাস্তব অভিজ্ঞতা।

বাজেটের সামগ্রিক মূল্যায়ন : লক্ষ্য যত বড়, বাস্তবায়ন তত বড় চ্যালেঞ্জ

একটি বাজেটের সাফল্য তার আকারে নয়, বরং তার বাস্তবায়নে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উচ্চাভিলাষী। প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা এতে লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু অর্থনীতির বাস্তবতা বলছে, এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য কেবল অর্থ বরাদ্দ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং নীতির ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়নের একটি দীর্ঘদিনের দুর্বলতা হলো বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান। উন্নয়ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি, প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এবং অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত সুফল সময়মতো জনগণের কাছে পৌঁছায় না। ফলে বড় বাজেট সবসময় বড় ফলাফল নিশ্চিত করে না।

রাজস্ব ও করনীতি : শুধু কর বাড়ানো নয়, করের ভিত্তি বাড়ানো জরুরি। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান শক্তি রাজস্ব। কিন্তু বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কম। প্রতি বছর উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে করব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত তিনটি-

প্রথমত, করের আওতা বাড়ানো।

দ্বিতীয়ত, কর আদায়ে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

তৃতীয়ত, সৎ করদাতাকে উৎসাহিত করা এবং কর ফাঁকি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে ব্যবসার ব্যয় বাড়ে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ে। তাই করনীতি এমন হওয়া উচিত, যা একদিকে সরকারের রাজস্ব বাড়াবে, অন্যদিকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিবেশও বজায় রাখবে।

মূল্যস্ফীতি : জনগণের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ
সাধারণ মানুষের কাছে বাজেটের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটি-বাজারে কি স্বস্তি ফিরবে? গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষয় করেছে। খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহন ব্যয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কেবল আর্থিক নীতির বিষয় নয়, এটি সরবরাহব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন, আমদানি ব্যবস্থাপনা, বাজার তদারকি এবং মুদ্রানীতির সমন্বিত ফল। তাই শুধু বাজেটে লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না; সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ : একটি অর্থনীতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার তরুণ জনগোষ্ঠী উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সীমিত হয়ে পড়বে। এই প্রেক্ষাপটে বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতি আরও কার্যকর প্রণোদনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বিনিয়োগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। তাই বিনিয়োগবান্ধব নীতি, সহজ ব্যবসা পরিবেশ, স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি: টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। শিল্প ও সেবাখাতের প্রসার সত্ত্বেও কৃষি এখনও খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই বাজেটে কৃষিকে শুধু ভর্তুকি নির্ভর খাত হিসেবে নয়, একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী অর্থনৈতিক খাত হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল, সবজি, আলু, চিংড়ি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিকমান, কোল্ডচেইন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও লজিস্টিকসের সীমাবদ্ধতা আমাদের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে দিচ্ছে না। বাজেটে এসব অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ হলে কৃষি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরও শক্তিশালী খাতে পরিণত হতে পারে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য : ব্যয় নয়, বিনিয়োগ

যে রাষ্ট্র শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে ব্যয় হিসেবে দেখে, সে দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নের গতি হারায়। দক্ষ মানবসম্পদই একটি দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সম্পদ। বাজেটে শিক্ষা খাতে শুধু অবকাঠামো নয়, গবেষণা, কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা এবং শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া জরুরি। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, জেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত সেবা, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।

সামাজিক নিরাপত্তা : সহায়তা থেকে সক্ষমতায়

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে দীর্ঘমেয়াদে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া কঠিন। এর লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলা। বিশেষ করে প্রবীণ, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়বর্ধক উদ্যোগ যুক্ত করা হলে রাষ্ট্রের সামাজিক ব্যয় আরও কার্যকর হবে। বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কূটনীতি বাংলাদেশ ধীরে ধীরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা কমে আসতে পারে। তাই এখন থেকেই রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। একটি আধুনিক অর্থনীতি শুধু উৎপাদন দিয়ে নয়; আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা দিয়েও মূল্যায়িত হয়।

অর্থনীতির দৃষ্টিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সতর্ক আশাবাদের বাজেট বলা যেতে পারে। এতে উচ্চাকাক্সক্ষা রয়েছে, উন্নয়নের রূপরেখা রয়েছে, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন বাস্তবায়নের সক্ষমতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা। যদি রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশামতো না বাড়ে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয় এবং সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা নিশ্চিত না হয়, তবে এই বাজেটের অনেক ইতিবাচক লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত-

> করের আওতা সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল করব্যবস্থা জোরদার করা।

> মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি ও সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা।

>  ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও খেলাপি ঋণ কমাতে কার্যকর সংস্কার।

> ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

> কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

> শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার।

> স্বাস্থ্যসেবায় গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি।

> উন্নয়ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর জবাবদিহি।

> বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ।

> তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং স্বাধীন মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রসার।

জাতীয় বাজেট কোনো জাদুকাঠি নয়;  এটি সম্ভাবনার একটি নকশা। সেই নকশা বাস্তবে রূপ দেয় মানুষের পরিশ্রম, সুশাসন, দক্ষ প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে, যদি ঘোষণাগুলো বাস্তবায়নের দৃঢ়তা থাকে, যদি ব্যয়ের প্রতিটি টাকার জবাবদিহি নিশ্চিত হয় এবং যদি নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। জনগণ শেষ পর্যন্ত বাজেটের ভাষণ মনে রাখে না; তারা মনে রাখে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম, সন্তানের কর্মসংস্থান, কৃষকের ন্যায্য মূল্য, উদ্যোক্তার বিনিয়োগের পরিবেশ এবং চিকিৎসার নিশ্চয়তা।

তাই একটি সফল বাজেটের প্রকৃত পরিচয় কাগজে নয়, মানুষের জীবনে। প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যকার ব্যবধান যত কমবে, ততই শক্তিশালী হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং ততই অর্থবহ হয়ে উঠবে জাতীয় বাজেট। সবশেষে বলা যায়, এই বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষণার ওপর নয়; বরং বাস্তবায়নের দক্ষতার ওপর। জনগণ বাজেটের আকার নয়, তার বাস্তব প্রভাব অনুভব করতে চায়।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ফরিদপুরে সরকারি দামে মিলছে না সার, বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সরকারি দামে মিলছে না সার, বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে সার সরবরাহ করছে। সরকারি তালিকায় নির্ধারিত রয়েছে প্রতিটি সারের দামও। কিন্তু ফরিদপুরের মাঠ ও বাজারের চিত্রে সেই হিসাব যেন মিলছে না। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি মূল্যের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়েই কিনতে হচ্ছে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার।

কোথাও ডিলারের কাছে সার না থাকার কথা বলা হলেও খুচরা বাজারে একই সার মিলছে বাড়তি দামে। আবার কোথাও সরকারি মূল্যের রশিদ দেওয়া হলেও এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সারের সঙ্গে অন্য কোম্পানির পণ্য কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও করেছেন কৃষকেরা।

ফলে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা শেষ পর্যন্ত কৃষকের হাতে কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরে বরাদ্দ বিবেচনায় ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের সংকট নেই। জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসির মোট ১৪৪ জন সার ডিলার রয়েছেন।

সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য অনুযায়ী, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি ১ হাজার টাকায় বিক্রি করার কথা।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ডিএপি নিয়ে। সরকারি মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও কোথাও কোথাও এক বস্তা ডিএপি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

মধুখালী উপজেলার জাহাপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, কয়েক দিন আগে তিনি জাহাপুর বাজার থেকে এক বস্তা ডিএপি ১ হাজার ৭৫০ টাকা এবং এক বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৪৫০ টাকা দিয়ে কিনেছেন।

তিনি বলেন, “সরকারি দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় সারের সঙ্গে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনের সার নিতে গেলে এসব পণ্যও ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে সারের বাড়তি দামের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনেও খরচ বাড়ছে।”

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরের কৃষক লিয়াকত শেখ বলেন, “আমরা জমিতে ফসল ফলাই, কিন্তু সার কিনতে গেলেই বাড়তি টাকার চিন্তা করতে হয়। সরকার যে দামে সার দেওয়ার কথা বলছে, সেই দামে না পেলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। ফসলের দাম কম হলে তখন লোকসান সামলানো কঠিন।”

সালথা উপজেলার কৃষক মহসিন ব্যাপারী বলেন, “সার ছাড়া চাষ করা সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজনের সময় বেশি দাম হলেও কিনতে বাধ্য হই। আমরা চাই সরকারি দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হোক।”

বোয়ালমারীর সাতৈর এলাকার কৃষক রুস্তুম শেখের অভিযোগ, সাতৈর বাজারের মেসার্স স্বপ্ন কৃষি ভান্ডারে সার কিনতে গেলে অনেকটা জিম্মি অবস্থায় বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

শুধু কৃষকরাই নন, কয়েকজন খুচরা সার ব্যবসায়ীও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাড়তি দামে সার কেনার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, বিএডিসির ডিলারদের কাছ থেকে অনেক সময় বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে সার কিনতে হয়। ফলে খুচরা পর্যায়ে সরকারি মূল্যে সার বিক্রি করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলার সার নেই বলে জানালেও একই সার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কোথাও কোথাও ডিলারের কাছ থেকে সার নেওয়ার সময় কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আবার কিছু ক্ষেত্রে সরকারি মূল্যের রশিদ দেওয়া হলেও রশিদের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। এতে ডিলারের কাছ থেকে সরকারি দামে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে খুচরা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

ডিলারদের একটি অংশ অবশ্য এসব বাড়তি দামের দায় নিজেদের ওপর নিতে নারাজ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলার দাবি করেন, সার উত্তোলনের সময় সরকারি রসিদের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।

তাঁদের অভিযোগ, আঞ্চলিক সার গুদাম থেকে সার উত্তোলনের সময় বস্তাপ্রতি আলাদা অর্থ নেওয়া হলেও সেই অর্থের কোনো রশিদ বা চালান দেওয়া হয় না। পরে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে সেই বাড়তি অর্থের প্রভাব পড়ে বাজারদরে।

কয়েকজন ডিলার আরও দাবি করেন, মৌসুমে চাহিদা বেড়ে গেলে যশোরের নওয়াপাড়া থেকেও সার সংগ্রহ করতে হয়। পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচের কারণে বাইরে থেকে আনা সারের দাম বেশি পড়ে।

তবে কৃষকদের প্রশ্ন, পরিবহন বা অন্য খরচ থাকলেও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কত টাকা নেওয়ার বৈধতা রয়েছে এবং সেই বাড়তি অর্থের হিসাবই বা কোথায়?

ডিলারদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে সার বিক্রি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদপুর সার ডিলারদের সংগঠন ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সালাম মিয়া (বাবু)।

তিনি বলেন, “ফরিদপুর জেলায় বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার রয়েছে। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী ডিলাররা সব ধরনের সার সংগ্রহ করছেন। জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসিসহ মোট ১৪৪ জন সার ডিলার রয়েছেন।”

তিনি বলেন, পেঁয়াজ চাষের মৌসুমে একসঙ্গে অনেক কৃষক সার ব্যবহার করায় বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অনেক কৃষক জমির প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডিএপি ব্যবহার করেন।

তবে সার সংকট নেই দাবি করে তিনি বলেন, “আমার জানামতে বর্তমানে কোনো সারের সংকট নেই।”

ডিলারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রশিদের বাইরে টাকা নেওয়া এবং সারের সঙ্গে অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই ধরনের বিষয়ে আমি অবগত নই।”

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর সারের গুদামের উপসহকারী পরিচালক এম এ জাকির বলেন, “আমি এই বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে পারব না। আমাদের সহকারী পরিচালক কাইয়ুম মল্লিক স্যারের নিষেধ আছে। আমি শুধু মেমো কেটে দিই এবং হিসাব ঠিকঠাক রাখি।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর অঞ্চলের বিএডিসি সার বিভাগের টেপাখোলা গুদামের সহকারী পরিচালক মো. কাইয়ুম মল্লিকের বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি রাজবাড়ীতে জরুরি মিটিংয়ে থাকার কথা জানান। দুপুর গড়িয়ে বিকেলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে তিনি প্রতিবেদককে ফোন করেন।

তখন কাইয়ুম মল্লিক বলেন, “এই বিষয়টি নিয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে উপসহকারী পরিচালক এম এ জাকির সম্ভবত মিথ্যা কথা বলেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “ফরিদপুর জেলায় কোনো প্রকার সারের সংকট নেই। নিয়মিত মাঠপর্যায়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। আমাদের একাধিক কর্মকর্তা সব সময় খবরাখবর রাখছেন। কোনো ডিলার এ ধরনের কাজে জড়িত থাকলে বা কোনো কৃষক অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় অবস্থান করছি। এখানেও খোঁজখবর নিতে পারেন। কোনো কৃষক কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিও দেখতে পারবেন। প্রতিটি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। ডিলারদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।”

সার কেনার সময় কৃষকদের রশিদ দেওয়া এবং তাঁদের মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কৃষি বিভাগের দাবি, জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং নিয়মিত মনিটরিংও হচ্ছে। সার ডিলার সমিতিও সংকটের কথা অস্বীকার করছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকের অভিযোগ, খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য এবং কয়েকজন ডিলারের দেওয়া তথ্য—সব মিলিয়ে সরকারি দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগটি নতুন করে সামনে এসেছে।

বিশেষ করে রশিদের বাইরে টাকা নেওয়া, সারের সঙ্গে অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য করা এবং গুদাম পর্যায়েই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি বরাদ্দ থেকে শুরু করে গুদাম থেকে সার উত্তোলন, ডিলার পর্যায়ে বিতরণ এবং খুচরা বাজারে বিক্রি—প্রতিটি ধাপে প্রকৃত মূল্য ও লেনদেনের হিসাব পর্যালোচনা করা হলে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগের উৎস বেরিয়ে আসতে পারে।

কৃষকেরা বলছেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে যে সার দিচ্ছে, সেটি যদি নির্ধারিত দামে মাঠপর্যায়ের কৃষকের হাতে না পৌঁছায়, তাহলে ভর্তুকির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা।

কতক্ষণ ঘুমানো ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
কতক্ষণ ঘুমানো ভালো?

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

তাই শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান, নিয়মিত জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্রিয়তার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
দীর্ঘদিন ধরে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন হলে, ঘুম থেকে ওঠার পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে বা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমঘুম ভাব থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপনও জরুরি।
সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।

তবে ঘুমের ঘাটতি যেমন শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তেমনি নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুম এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও ডেকে আনতে পারে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই সতর্কবার্তা উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং একই সঙ্গে শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকেন, তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমানোর পাশাপাশি যারা অলস জীবনযাপন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা যুক্ত হলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে অসংক্রামক রোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তাই ঘুমের সময়ের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও সক্রিয় জীবনযাপনও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত ঘুমে যেসব সমস্যা হতে পারে

বিষণ্ণতা ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘুম বিষণ্ণতার সরাসরি কারণ—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কর্মক্ষমতা কমতে পারে

অতিরিক্ত ঘুমের ফলে ঘুম থেকে ওঠার পরও অনেকের মধ্যে অলসতা, ঝিমুনি ও ক্লান্তি থাকতে পারে। এতে দৈনন্দিন কাজের প্রতি আগ্রহ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন জীবনযাপন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ওজন বাড়ার আশঙ্কা

দীর্ঘ সময় ঘুমানো এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের ফলে দৈনন্দিন ক্যালরি খরচ কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস যুক্ত হলে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে শুধু বেশি ঘুমের কারণেই ওজন বাড়ে-এমন সরল সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে

নিয়মিত দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় নন, তাদের মধ্যে হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।

অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে

বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণাগুলোর সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের মধ্যে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হতে পারে।

তবে গবেষণাগুলো মূলত সম্পর্ক বা association দেখায়; অতিরিক্ত ঘুমই যে সরাসরি অকালমৃত্যুর কারণ, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। দীর্ঘ ঘুমের পেছনে বিষণ্ণতা, স্থূলতা, হৃদরোগ, ঘুমের ব্যাধি বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে।

সালথার সেই সোহেলের অন্ধকার ঘরে আশার আলো, নতুন ঘর দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
সালথার সেই সোহেলের অন্ধকার ঘরে আশার আলো, নতুন ঘর দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন

ফরিদপুরের সালথায় অন্ধকার গোয়ালঘরসদৃশ কক্ষে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই সোহেলের জন্য অবশেষে নতুন ঘরের কাজ শুরু হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আটঘর গ্রামে নতুন ঘর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

এর আগে সোহেলের দুর্দশার চিত্র নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। সরেজমিনে সোহেলের পরিবারের অবস্থা দেখে ইউএনও তাঁদের জন্য একটি ঘর নির্মাণ এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন।

নতুন ঘরের কাজ শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সোহেলের পরিবারে এখন বইছে আনন্দের হাওয়া।

খুশি হয়ে সোহেল বলেন, “গোয়ালঘরের মতো ছোট্ট একটি ঘরে পরিবার নিয়ে কত কষ্টে দিন কাটিয়েছি, তা বলে বোঝাতে পারব না। নিজের কোনো জমি-ঘর নেই বলে সবসময় একটা ভয় কাজ করত। এখন ইউএনও স্যার আমাদের জন্য ঘর করে দিচ্ছেন। নতুন ঘর পাওয়ার আশা কখনো করিনি। আমি ও আমার পরিবার খুব খুশি। এই সহযোগিতা আমাদের নতুন করে বাঁচার সাহস দিয়েছে।”

সোহেলের স্ত্রী বলেন, “অসুস্থ শরীর নিয়ে এই ঘরে অনেক কষ্টে থেকেছি। বৃষ্টি হলে, রাতে ঘুমানোর সময়ও চিন্তা হতো। সন্তানদের নিয়ে খুব অসহায় লাগত। নতুন ঘর হবে শুনে মনে হচ্ছে আমাদেরও একটি নিরাপদ ঠিকানা হবে। ইউএনও স্যার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “সোহেলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্টে ছিল। এমন একটি পরিবারের পাশে প্রশাসন দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু ঘর নয়, তাঁদের জীবিকা নির্বাহের জন্য দোকানের ব্যবস্থা করা হলে পরিবারটি স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।”

ইউএনও দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সোহেলের পরিবারের বাস্তব অবস্থা দেখে আমরা তাঁদের জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থাও করা হবে। পরিবারটি যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

নতুন ঘরের কাজ শুরু হওয়ায় সোহেলের পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসানের পথ তৈরি হয়েছে। অন্ধকার গোয়ালঘরসদৃশ কক্ষ থেকে এবার একটি নিরাপদ ঘরে যাওয়ার অপেক্ষায় পরিবারটি।