খুঁজুন
, ,

ফেসবুককে বিচারক বানিয়ে ফেলছি না তো!

ড. ইকবাল আহমেদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
ফেসবুককে বিচারক বানিয়ে ফেলছি না তো!

ডিজিটাল মানব হওয়ার দৌড়ে আমরা এখন আর শুধু মানুষ নই, আমরা এখন কনটেন্ট। আর সেই কনটেন্টের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী হলো আমাদের প্রিয় সামাজিক মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক। একসময় যাকে বলা হতো ‘ভার্চুয়াল স্পেস’, আজ তা এতটাই বাস্তব হয়ে উঠেছে যে, পাবলিক আর প্রাইভেটের মাঝখানের সীমারেখা প্রায় মুছে গেছে। প্রশ্ন জাগে, আমরা কি ফেসবুক ব্যবহার করছি, নাকি ফেসবুকই আমাদের ব্যবহার করছে? এ দেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও কৌতুককর ও একই সঙ্গে উদ্বেগজনক। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই আগে আয়নায় মুখ দেখা হয় না, দেখা হয় ফেসবুকের নিউজফিডে। কে কী খেল, কে কোথায় গেল, কার সংসারে ঝামেলা, কার বাচ্চা আজ কী খেয়েছে—সবই এখন ‘পাবলিক নলেজ’। ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো যেন আর ব্যক্তিগত নেই; বরং লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের মাপকাঠিতে তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হয়।

একসময় ব্যক্তিগত দুঃখ ছিল ঘরের চার দেয়ালের ভেতর সীমাবদ্ধ। এখন দুঃখও স্ট্যাটাস হয়—‘মনটা আজ খুব খারাপ’—এরপর অপেক্ষা, কে কতটা সমবেদনা জানাল। কেউ যদি কমেন্ট না করে, তাহলে দুঃখটা যেন আরও বৈধতা হারায়। সুখের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। বিয়ে, জন্মদিন, সন্তান জন্ম; এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবরও এখন ‘লাইভ আপডেট’। মনে হয়, ফেসবুক ছাড়া এসব ঘটনা ঘটলেই-বা তার অস্তিত্ব কী?

এ দেশের বাস্তবতায় ফেসবুক এখন আর নিছক একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক আদালত। একটি স্ট্যাটাস, একটি পুরোনো ছবি বা পাঁচ বছর আগের কোনো মন্তব্য—এ সবকিছু মিলিয়ে একজন মানুষকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার পূর্ণাঙ্গ উপকরণ তৈরি হয়ে যায়। কে দেশপ্রেমিক, কে দেশদ্রোহী; কে প্রগতিশীল, কে প্রতিক্রিয়াশীল; এসব রায় অনেক সময় দেওয়া হয় একটি স্ক্রিনশটের ওপর ভিত্তি করে। প্রমাণের দরকার নেই, প্রসঙ্গ বোঝার প্রয়োজন নেই; দরকার শুধু ভাইরাল হওয়ার মতো একটি বাক্য।

ব্যঙ্গের বিষয় হলো, আমরা নিজেরাই এ বিচারব্যবস্থার স্বেচ্ছাসেবী জজ! সকালে ঘুম থেকে উঠে কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে আমরা কারও চরিত্র বিশ্লেষণ করে ফেলি, ‘এই লোক তো ফেসবুকে এটা লিখেছে, নিশ্চয়ই ওর মানসিকতা এমনই।’ বাস্তব জীবনে তার কাজ, অবদান, আচরণ—এসব গৌণ। ফেসবুক স্ট্যাটাসই হয়ে ওঠে মানুষের পূর্ণাঙ্গ সিভি। ফলে সমাজে তৈরি হয় এক ধরনের ডিজিটাল লেবেলিং কালচার, যেখানে মানুষকে বোঝার চেয়ে ট্যাগ লাগানোই সহজ।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এ প্রবণতা আরও বিপজ্জনক। একটি রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ মানেই এখন ঝুঁকি নেওয়া। স্ট্যাটাসের শব্দচয়ন ঠিক না হলে আপনি রাতারাতি ‘বিপজ্জনক’, ‘বিকৃত’ বা ‘এজেন্ডাবাজ’ হয়ে উঠতে পারেন। রাজনৈতিক বিতর্কের জায়গায় যুক্তি নয়, চলে ব্যক্তিগত আক্রমণ। মতের সঙ্গে দ্বিমত করার বদলে মানুষকে হেয় করাই যেন প্রধান কৌশল। গণতন্ত্রের মৌলিক চর্চা হচ্ছে সহনশীলতা—এ ডিজিটাল কোলাহলে হারিয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন আসে, উন্নত দেশগুলো কি সত্যিই ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র চালায়, বিচার করে? উত্তরটা খুব সোজা—না। সেখানে সামাজিক মাধ্যম আছে, বিতর্ক আছে; এমনকি তীব্র মতবিরোধও আছে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা, নাগরিক মূল্যায়ন বা নীতিনির্ধারণের ভিত্তি কখনোই ফেসবুক পোস্ট নয়। উন্নত দেশগুলোতে নীতিনির্ধারণ হয় গবেষণা, তথ্য, পরিসংখ্যান এবং প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে। সামাজিক মাধ্যম সেখানে মতপ্রকাশের একটি মাধ্যম মাত্র—রাষ্ট্রের বা বিচারব্যবস্থার বিকল্প নয়।

তাদের পার্থক্যটা এখানেই। সেখানে নাগরিকের প্রাইভেট স্পেসকে আইন ও সামাজিক রীতিনীতি দুভাবেই সম্মান করা হয়। একজন মানুষ কী ভাবছে, তা জানার অধিকার সবার আছে; কিন্তু সে ভাবনাকে টেনে এনে জনসমক্ষে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বানানো হয় না—যতক্ষণ না তা আইন ভাঙছে। আমাদের দেশে সেই সূক্ষ্ম পার্থক্যটাই বারবার উপেক্ষিত হয়। ফলে ফেসবুক হয়ে ওঠে সামাজিক উত্তেজনা তৈরির কারখানা।

এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায় শুধু ব্যবহারকারীর নয়; নীতিনির্ধারকদেরও বড় ভূমিকা আছে। প্রথমত, ডিজিটাল লিটারেসিকে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিক ও সামাজিক মাত্রা যোগ করতে হবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়েই শেখাতে হবে—কী শেয়ার করা উচিত, কী ব্যক্তিগত থাকা জরুরি এবং অনলাইনে ভিন্নমতকে কীভাবে সম্মান করতে হয়। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল অধিকার ও প্রাইভেসি নিয়ে স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। আইন এমন হতে হবে, যা অপব্যবহার রোধ করবে, কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করবে না। অস্পষ্ট ও ভীতিকর আইন মানুষকে দায়িত্বশীল করে না; বরং তাকে আরও আক্রমণাত্মক বা আত্মসংযত—দুই চরমে ঠেলে দেয়। তৃতীয়ত, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেসবুকের বাইরে শক্তিশালী যোগাযোগ কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সব ব্যাখ্যা, সব সিদ্ধান্ত যদি ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই এ প্ল্যাটফর্মকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে দেয়। উন্নত দেশগুলো এখানেই সচেতন যে, সোশ্যাল মিডিয়া সহায়ক, বিকল্প নয়।

সবশেষে আমাদের ব্যক্তিগতভাবেও একটি প্রশ্ন করা জরুরি, ‘আমরা কি সত্যিই ডিজিটাল মানব হতে চেয়েছিলাম, নাকি শুধু অনিরাপদ এক দর্শক, যে অন্যের জীবন স্ক্রল করতে করতে নিজের বিবেক হারিয়ে ফেলেছে?’ ফেসবুক আমাদের হাতিয়ার হতে পারত; কিন্তু আমরা তাকে বিচারক বানিয়ে ফেলেছি। পাবলিক আর প্রাইভেট স্পেসের এ ব্লারিং চলতে থাকলে একদিন হয়তো আবিষ্কার করব—আমাদের সমাজ খুবই কানেক্টেড, কিন্তু ভীষণভাবে বিভক্ত!!

লেখক: অধ্যাপক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

ফরিদপুরে সাত দফা দাবিতে দলিল লেখকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাত দফা দাবিতে দলিল লেখকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে জেলা দলিল লেখক সমিতি।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দলিল লেখকদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

​ফরিদপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন, গোলাম মহিউদ্দিন, ফরিদ হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ইলিয়াস খান ও আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এ বি মুস্তাফিজুর রহমান।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের রাজস্ব আদায়ে দলিল লেখকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চললেও তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে এই পেশা বন্ধের চক্রান্ত করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এর সঙ্গে জড়িত বিপুলসংখ্যক পরিবার চরম অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

​অবিলম্বে সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১০ অক্টোবর ফরিদপুরে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।

​দলিল লেখক সমিতির মূল দাবিগুলো হলো- রেজিস্ট্রেশন আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, ​প্রতি দলিলের জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা নির্ধারণ, ​লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কারও তৈরি দলিল দাখিলের সুযোগ বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি, ​বিভিন্ন কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স না দেওয়া, ​থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে বসার ব্যবস্থা ও প্রার্থনাকক্ষ নির্মাণ, ​পেশাগত কাজের কারণে দলিল লেখকদের আসামি না করা এবং দ্রুত ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের অনুমতি প্রদান।

ভাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৩

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাওয়া-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়েতে ব্যাটারি বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়েছে। এতে ট্রাকের চালক, হেলপার ও এক মোটরসাইকেল আরোহীসহ মোট ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে মালীগ্রাম ফ্লাইওভারের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন—হবিগঞ্জের সোহেল মিয়ার ছেলে ট্রাকচালক রফিক (২৮) ও একই জেলার আজিজ মিয়ার ছেলে হেলপার মমিন আলী (২৬)। আহত অন্যজন এক মোটরসাইকেল আরোহী, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাটারি বোঝাই ট্রাকটি ঢাকা যাচ্ছিল। পথে মালীগ্রাম ফ্লাইওভারের ওপর পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের পাশের শক্তিশালী রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় ট্রাকের সামনের অংশ ভেঙে খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা ব্যাটারিগুলো ছিটকে বেশ কিছু দূরে গিয়ে পড়ে। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের প্রভাবে পাশের এক মোটরসাইকেল আরোহীও আহত হন।

​দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চালক ও হেলপারের অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবচর হাইওয়ে থানার এসআই মুনতাসীর জানান, দুর্ঘটনায় ট্রাকটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুরে একদিনে আরও ১০ জন হামে আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একদিনে আরও ১০ জন হামে আক্রান্ত

ফরিদপুরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে হামের প্রাদুর্ভাব। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮১৪ জনে।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামজনিত কারণে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ফলে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।

​উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের তথ্যে দেখা গেছে—আলফাডাঙ্গায় ২৮, বোয়ালমারীতে ২৫, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

​হাসপাতালগুলোর চিত্রে দেখা যায়, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭২৪ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিগত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি না হলেও বর্তমানে হাসপাতালটিতে ২২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​অন্যদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে সেখানে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৫ জনে। প্রতিষ্ঠানটিতে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৯৫৮ জন হাম রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটি থেকে সুস্থ হয়ে ২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

​স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুর জেলার ৭ জন এবং পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার ৩ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছে। বর্তমানে জেলাজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।