খুঁজুন
, ,

রাজনীতিতে ‘পরিকল্পিত প্রতারণা’ ও আগামীর প্রত্যাশা

মাহবুব আজীজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
রাজনীতিতে ‘পরিকল্পিত প্রতারণা’ ও আগামীর প্রত্যাশা

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ রাজনৈতিক বাস্তবতায় বহু সীমাবদ্ধতার পরও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ক্রমেই স্বতন্ত্র জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছে। ‘বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত’ হিসেবে সমালোচনা থাকলেও গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের উপস্থিতির কারণে দলটির প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। যদিও তরুণ নেতৃবৃন্দ দলের নীতি- আদর্শ এখনও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারেননি। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও এনসিপি এখনও করেনি। বলছে, আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়ার আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না তারা। এ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও সুস্পষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়েছে দলটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংস্কার, গণভোটসহ যাবতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় জামায়াত ও এনসিপির ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু জুলাই সনদে এনসিপি স্বাক্ষর না করলেও জামায়াতের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পুরো প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে। এর কঠোর সমলোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রোববার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অধীন সংস্কারের বিষয়ে জামায়াত আকস্মিক যে অনুমোদন দিয়েছে, সেটি সংস্কার আকাঙ্ক্ষার ফল নয়; বরং একটি কৌশলগত অনুপ্রবেশ। সংস্কারবাদের ছদ্মবেশে এটি একটি রাজনৈতিক নাশকতা’ (সমকাল, ২০ অক্টোবর ২০২৫)। 

ইংরেজিতে দীর্ঘ পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘জামায়াতের কথিত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) আন্দোলন একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।’
নাহিদ অভিযোগ করেছেন, ‘আমরা মৌলিক সংস্কার এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদের আইনি কাঠামো তৈরি করার জন্য অন্দোলন গড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াত ও তার সহযোগীরা এটি ছিনতাই করেছে। এটিকে তারা দলীয় ক্ষুদ্র স্বার্থ উদ্ধারের দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।’

নাহিদের কঠোর অবস্থানের কারণ সম্পর্কে এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের পাঁচজন নেতা জানিয়েছেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরসহ জামায়াতের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে বিশ্বাসভঙ্গের বোধ তৈরি হয়েছে। সে কারণেই ‘রাজনৈতিক দ্বিচারিতার বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসতে চাইছেন তারা’ (প্রথম আলো, ২০ অক্টোবর, ২৫)।

২.
উচ্চকক্ষে পিআর, প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাসসহ সংবিধানকে আরও গণতান্ত্রিক করবার সংস্কার প্রস্তাবে শুরু থেকেই নিরলস এনসিপি। বিএনপির বেশ কয়েকটি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সত্ত্বেও এনসিপির দাবি, সংস্কার প্রস্তাবকে গণভোটের মাধ্যমে পাস করিয়ে আইনি কাঠামো দিতে হবে। জামায়াত বরাবর এই দাবির সঙ্গে থেকে আচমকা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে বসেছে। উপরন্তু আরও সাতটি ইসলামিক দলসহ উচ্চ ও নিম্নকক্ষে পিআর, জুলাইয়ের আইনি কাঠামোর দাবিতে রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দিয়েছে!
জামায়াতের রাজনৈতিক দ্বিচারিতা নতুন নয়। মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল দলটি; পরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তৃণমূলে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও বিএনপির প্রশ্রয়ে প্রভাব বাড়িয়ে এক পর্যায়ে সরকারের অংশী হয়। ইসলামিক শাসন পদ্ধতি তাদের অন্বিষ্ট; কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে দেশে শরিয়া আইন প্রবর্তনের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করে না। আবার গত ৫০ বছরে উচ্চারণ না করলেও এখন পিআর পদ্ধতি প্রচলনের দাবিতে তারা আন্দোলনরত। সমীকরণ মেলানো সম্ভব– আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির সুযোগে বিএনপির সমান্তরালে জামায়াতও নিজেকে বড় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠায় মরিয়া। জুলাই সনদের আইনি কাঠামোর সম্মিলিত দাবির মাঝপথে এনসিপিকে একলা রেখে জামায়াতের সনদে স্বাক্ষর এরই পরিষ্কার ইঙ্গিত!

৩.
এনসিপির রাজনীতিকরা তরুণ, অনভিজ্ঞ; তবে গণঅভ্যুত্থানের অমিত সাহসে প্রাণবন্ত। তাই স্পষ্টভাবে জামায়াতের দ্বিচারী আচরণকে রাজনৈতিক প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছেন। এখন এই তরুণ নেতৃত্বকে আরও গভীরে ভাবতে হবে। প্রতিটি বিষয় আরও সূক্ষ্মভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে।

সংস্কার নিশ্চয়ই চলমান প্রক্রিয়া; তারপরও তরুণ নেতৃত্বকে ভাবতে হবে– যে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে জুলাই সনদ প্রস্তুত হয়েছে, এতে মুক্তিযুদ্ধের বেশ কয়েকটি আকাঙ্ক্ষা অপসৃয়মাণ হবার আশঙ্কায়। বাহাত্তরের সংবিধানের মূল চার স্তম্ভ বাদ যাচ্ছে কাদের স্বার্থে? কেন? ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বাতিল করে যুক্ত হচ্ছে– সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা। এ দেশে ৯০ শতাংশ মুসলমান; অন্য ধর্মাবলম্বীরা সহাবস্থান নিশ্চয়ই করবেন। কিন্তু সুশাসন না থাকলে বৃহদাকার হস্তীর পাশে ক্ষুদ্রকায় পিপীলিকার সহাবস্থানের পরিণতি হতে পারে। কাজেই রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে। আর ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়; সকল ধর্মের বিষয়ে রাষ্ট্রের অবস্থান হবে নৈর্ব্যক্তিক ও গণতান্ত্রিক– নাগরিকরা যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন।

পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল ধর্মের নামে; ধর্মের দোহাই দিয়ে ২৩ বছর ধরে তারা পূর্ব পাকিস্তানকে নিপীড়ন করেছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ষাট দশকের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ– সবই অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরির লক্ষ্যে পরিচালিত। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। ৫ আগস্টের আগে টানা কয়েকদিন উত্তাল রাজপথে নারী-পুরুষ, নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে কণ্ঠে তুলে নিয়েছিলেন অবিনাশী দেশের গান– ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’। তখন কার পোশাক কেমন, কারও ভ্রুক্ষেপ ছিল না; সকলে ছিলেন একে অপরের সহযোদ্ধা। এই অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের ছবি চূর্ণ হতে দেখি গণঅভ্যুত্থানের পর।

দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙা, মাজার ভাঙা, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরসহ অজস্র ঐতিহাসিক নিদর্শন ভাঙা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল না। বরং এগুলোকে রাজনীতিতে ক্রমাগত ডানপন্থা ও উগ্রবাদের উত্থান-চিহ্ন হিসেবেই চিহ্নিত করতে হবে। তারই সঙ্গে সম্পর্কিত জুলাই সনদে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়া; ৭ মার্চের ভাষণকে বাতিল করা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সোপান। এই ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের অপরাপর স্মৃতি, চিহ্ন কোনো দল বা ব্যক্তির একক সম্পত্তি নয়। অনেকে বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয় সম্পত্তি বানিয়েছিল। যদি সেই বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অগ্রাহ্য হয়; তাহলে তা আওয়ামী লীগের সম্পত্তি হিসেবেই স্বীকার করে নেওয়ার শামিল। এই জাতির অনন্য বিজয়গাথা কোনো দলের সম্পত্তি হতে পারে না; মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে দেখবার প্রয়াস দেশের মানুষের ধারাবাহিক সংগ্রামকেই অস্বীকার করা; এতে সাম্প্রদায়িক শক্তিই কেবল লাভবান হয়। এ দেশের মানুষ কোনো রাষ্ট্রেরই দাসত্ব করতে পারে না। যেমন ভারতের দাসত্ব করতে পারে না, তেমনি পারে না পাকিস্তানের বাহুডোরে ধরা দিতে উৎসাহী হতে। স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকবে; সব বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমান মর্যাদা ও স্বার্থের সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রেখে।

অসাম্প্রদায়িকতা, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ– এ দেশের মানুষের আবহমানকালের সম্পদ। এনসিপির আহ্বায়ক রাজনৈতিক দলের প্রতারণা সম্পর্কে উচ্চকিত হয়েছেন; অভ্যুত্থানের বিজয়ী তারুণ্য একইভাবে স্বদেশের মৌলিক নিজস্বতায় অবিচল থেকে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করবার কাজে ব্রতী হবেন। এই লক্ষ্যে দলীয় আদর্শ ও লক্ষ্য জাতির সামনে পেশ করতে হবে। সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ। তবে আমরা কায়মনোবাক্যে প্রত্যাশা করি, গণঅভ্যুত্থানের তরুণদের একটিই পক্ষ– ‘বাংলাদেশ’; অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তবুদ্ধির, উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। যে কোনো রাজনৈতিক প্রতারণার বিরুদ্ধে তারা সুস্পষ্ট অবস্থান নেবে। অন্ধকার তাড়িয়ে আলো আনা প্রজন্মের কাছে আমাদের এই আকাঙ্ক্ষা।

মাহবুব আজীজ: উপসম্পাদক, সমকাল; সাহিত্যিক
mahbubaziz01@gmail.com

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”